মূল কনটেন্টে যান

মোবাইল ছাড়া বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার উপায়: ছোট ফ্ল্যাটে ৫০টি সহজ খেলা ও কাজ

ছোট করে উত্তর

মোবাইল ছাড়া বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার উপায় খুব সহজ হতে পারে: ছবি আঁকা, কুশন বা বাক্স দিয়ে কিছু বানানো, রান্নাবাটি, লুডু আর ক্যারম, নাচ, রান্নাঘরে টুকটাক সাহায্য, আর বিদ্যুৎ চলে গেলে টর্চের আলোয় গল্প। বাচ্চার বয়স আর ঘরের জায়গা বুঝে বেছে নিন, স্ক্রিন টাইম শেষ হওয়ার আগেই একটা ঝুড়ি তৈরি রাখুন, আর একটু একঘেয়েমি থেকেই খেলা শুরু হতে দিন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
২–১২ বছর বয়সী বাচ্চার বাবা-মা, যাঁদের ফ্ল্যাটে জায়গা কম, আর বৃষ্টির দিন বা লোডশেডিংয়ে যাঁরা বিপাকে পড়েন
মূল কথা
  • স্ক্রিন বন্ধের আগেই বদলের কাজটা ঠিক রাখুন: মাথার ভেতরের তালিকার চেয়ে হাতের কাছে সাজানো একটা ঝুড়ি বেশি কাজে দেয়।
  • সবচেয়ে ভালো ধারণাগুলোর বেশিরভাগেই টাকা লাগে না: কুশন, হাঁড়ি-পাতিল, বাক্স, কাগজ, একটা বল আর আপনার সময়।
  • সবার আগে নিরাপত্তা: পানির খেলা শুধু অল্প পানির চওড়া গামলায়, বড় কেউ একদম পাশে থেকে; ছাদে শুধু উঁচু দেয়াল থাকলে আর বড় কেউ সঙ্গে থাকলে; আর ৩ বছরের কম বয়সীদের নাগালের বাইরে ছোট জিনিস।
  • একটু একঘেয়েমিতে ক্ষতি নেই; কয়েক মিনিট অস্থির থাকার পরেই বাচ্চারা প্রায়ই নিজের সবচেয়ে ভালো খেলাটা খুঁজে পায়।

মোবাইল ছাড়া বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার উপায় দরকার হয় ঠিক তখনই, যখন বৃষ্টির বিকেল, বিদ্যুৎ নেই, আর বাচ্চা এর মধ্যেই তিনবার ফোন চেয়ে ফেলেছে। এর জন্য বাগান, দামি খেলনা বা অফুরন্ত শক্তি লাগে না। ছোট একটা ফ্ল্যাট আর ঘরের সাধারণ কিছু জিনিসই যথেষ্ট।

নিচে বয়স অনুযায়ী ৫০টি খেলা ও কাজ পাবেন: কী লাগবে আর কোথায় করা যায়, সঙ্গে বৃষ্টির দিন, লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা আর চুপচাপ সময়ের ধারণা। দাদা-দাদি আর গৃহকর্মীকে কীভাবে সঙ্গে নেবেন, সেটাও আছে, যাতে আপনি ব্যস্ত থাকলে ফোনই একমাত্র উপায় না হয়।

ছোট ফ্ল্যাটে মোবাইল ছাড়া বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার উপায়: শুরুটা কীভাবে

ধারণার তালিকা তখনই কাজে লাগে, যখন প্রথম ধাপটা সহজ হয়। এই অভ্যাসগুলো ব্যস্ত দিনেও স্ক্রিন ছাড়া সময় কাটানো সহজ করে:

  1. দিনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের জন্য একটা খেলার ঝুড়ি বানান, যেমন রান্নার সময় বা স্কুল থেকে ফেরার পর।
  2. স্ক্রিন শেষ হওয়ার আগেই বদলের কাজটা ঠিক করে রাখুন, যাতে বন্ধ হওয়ামাত্র পরের কাজটা হাতের কাছে থাকে।
  3. প্রথম পাঁচ মিনিট বাচ্চার সঙ্গে শুরু করুন, তারপর সরে এসে ওকে নিজে চালিয়ে যেতে দিন।
  4. খেলনা পালা করে দিন: অর্ধেক তুলে রাখুন, প্রতি সপ্তাহে বদলে দিন, তাহলে পুরোনো জিনিসও নতুন লাগে।
  5. এক জায়গায় একটু এলোমেলো হতে দিন: মেঝেতে একটা পুরোনো চাদর বা মাদুর পেতে দিলেই সেটা খেলার জায়গা।
  6. প্রতিদিন একই সময় স্ক্রিন ছাড়া রাখুন, যেমন স্কুল থেকে ফেরার পর, রাতের খাবারের আগে আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা।

যা বলতে পারেন

  • ফোন এখন বিশ্রাম নিচ্ছে। চলো, ঝুড়ি থেকে কিছু একটা বেছে নিই।
  • তুমিই বলো: ছবি আঁকবে, না কিছু বানাবে?
  • প্রথমে আমি তোমার সঙ্গে শুরু করছি, তারপর রান্না করতে যাব। কী বানালে, ডেকে দেখিয়ো।
  • বোর লাগছে? ঠিক আছে। বোর লাগলেই নতুন বুদ্ধি আসে।

২–৪ বছরের বাচ্চার জন্য স্ক্রিন ছাড়া খেলা

ছোট বাচ্চারা ভরতে, ঢালতে, বাজাতে, বেয়ে উঠতে আর আপনাকে নকল করতে ভালোবাসে। চোখের সামনে রাখুন, আর ৩ বছরের কম বয়সীদের নাগাল থেকে এমন সব জিনিস সরিয়ে রাখুন, যা টয়লেট পেপারের রোলের ভেতর দিয়ে গলে যায়, কারণ তারা এখনো সবকিছু মুখে দেয়। এই বয়সের বাচ্চার সঙ্গে খেলার আরও উপায় পাবেন বাচ্চার সঙ্গে ঘরে কী খেলবেন লেখায়।

২–৪ বছরের জন্য ১৪টি ধারণা
খেলাযা লাগবেকোথায়
হাঁড়ি-চামচের বাজনাস্টিলের হাঁড়ি, ঢাকনা আর কাঠের চামচরান্নাঘরের মেঝে, আপনার কাছেই
পানি ঢালাঢালিঅল্প পানির একটা চওড়া গামলা আর প্লাস্টিকের কাপ; বড় কেউ একদম পাশে, বালতি কখনো নয়ঘরের মেঝেতে তোয়ালে পেতে, আপনার সঙ্গে
আটার খামিরআটা, পানি আর এক ফোঁটা তেল; বেলা আর চটকানোর জন্যটেবিল বা মাদুর
বাক্সে চিঠি ফেলাফুটো করা জুতার বাক্স, আর ফেলার জন্য পুরোনো কার্ড বা শক্ত কাগজের টুকরোমেঝে
কুশনের পাহাড়মেঝেতে সোফার কুশন, বেয়ে ওঠা আর গড়াগড়ির জন্যবসার ঘর
মোজা মেলানোরং মিলিয়ে জোড়া বানানোর জন্য এক গাদা পরিষ্কার মোজাবিছানা বা মেঝে
টুকি আর খেলনা লুকানোএকটা ওড়না আর প্রিয় একটা খেলনাযে কোনো জায়গায়
ছোট্ট সাহায্যকারীবাটিতে আলু ধোয়া, টেবিল মোছা, চামচ নিয়ে আসারান্নাঘর, আপনার সঙ্গে, চুলা থেকে দূরে
বড় কাগজে আঁকিবুঁকিপুরোনো খবরের কাগজ বা ক্যালেন্ডারের উল্টো পিঠে মোম রংমেঝে
হাত নেড়ে ছড়াবাংলা আর ইংরেজি ছড়া, সঙ্গে হাততালিযে কোনো জায়গায়
ছবির বইয়ে খোঁজাএকটা ছবির বই, আর “বিড়ালটা কোথায়?”বিছানা বা মাদুর
বল গড়ানোনরম একটা বল, গড়িয়ে দেওয়া আর ফেরত আনাকরিডোর
বাক্সের গাড়িভেতরে বসা যায় এমন বড় কার্ডবোর্ডের বাক্স, কেউ ঠেলে দেবেমেঝে
কাপের টাওয়ারপ্লাস্টিকের কাপ বা ছোট স্টিলের বাটি, সাজিয়ে আবার ফেলে দেওয়ামেঝে

৫–৮ বছরের বাচ্চার জন্য স্ক্রিন ছাড়া খেলা

মোটামুটি ৫ বছর থেকে বাচ্চারা নিয়মের খেলা, কল্পনার জগৎ আর সত্যিকারের কাজ পছন্দ করে। দুই বয়সের দুই বাচ্চা থাকলে এগুলোর অনেকগুলোই একসাথে চলে, বড়জন দায়িত্বে থাকলে।

৫–৮ বছরের জন্য ১৪টি ধারণা
খেলাযা লাগবেকোথায়
নিজের দিন এঁকে গল্প বলাকাগজ, পেনসিল আর রংটেবিল
লুডু আর সাপলুডুবোর্ড আর ছক্কামেঝে বা টেবিল
চাদরের তাঁবুদুটো চেয়ারের ওপর একটা চাদর, ভেতরে টর্চ আর বইবসার ঘর
গুপ্তধন খোঁজাযারা পড়তে পারে না তাদের জন্য ছবির সূত্র, যারা পারে তাদের জন্য লেখা সূত্রপুরো ফ্ল্যাট
দোকান-দোকান খেলাপুরোনো প্যাকেট, কাগজের টাকা আর খেলনা দাঁড়িপাল্লাঘরের এক কোণ
কাগজের নৌকা আর উড়োজাহাজপুরোনো খবরের কাগজ বা খাতার পাতাঘরের ভেতর
সহজ রান্নাফলের চাট, পাউরুটিতে মাখন লাগানো, রুটি বেলারান্নাঘর, আপনার সঙ্গে
কুতকুতমেঝেতে মাস্কিং টেপ, বা ছাদে চককরিডোর, বা উঁচু, নিরাপদ দেয়াল ঘেরা ছাদ, বড় কারও সঙ্গে
স্ট্যাচু খেলাএকসাথে গান; গান থামলেই সবাই স্ট্যাচুবসার ঘর
কানামাছিনরম কাপড়ে চোখ বাঁধা, ফাঁকা করা ঘর, আর বড় কেউ নজর রাখবেফাঁকা করা বসার ঘর
বাক্স দিয়ে বানানোকার্ডবোর্ডের বাক্স আর টেপ; কাঁচি শুধু আপনার সঙ্গেমেঝে
সত্যিকারের কাজকাপড় ভাঁজ করা, টেবিল সাজানো, গাছে পানি দেওয়াপুরো বাসায়
ছায়ার খেলাটর্চ, হাত আর ফাঁকা একটা দেয়ালসন্ধ্যায়, যে কোনো ঘরে
নিজের বানানো জিগস পাজলপুরোনো ক্যালেন্ডারের ছবি, বড় বড় টুকরো করে কাটাটেবিল

৯–১২ বছরের বাচ্চার জন্য স্ক্রিন ছাড়া কাজ ও খেলা

বড় বাচ্চারা চায় চ্যালেঞ্জ, দক্ষতা আর একটু স্বাধীনতা। সত্যিকারের জিনিসপত্র আর সত্যিকারের ফল আছে, বড়দের মতো লাগে এমন কাজই স্ক্রিনের সঙ্গে সবচেয়ে ভালো পাল্লা দেয়।

৯–১২ বছরের জন্য ১২টি ধারণা
খেলাযা লাগবেকোথায়
ক্যারম বা দাবার টুর্নামেন্টবোর্ড আর পরিবারের স্কোর লেখার কাগজবসার ঘর
ব্যাডমিন্টন, ফুটবল বা দড়িলাফব্যাডমিন্টনের ব্যাট, বল বা দড়িউঁচু, নিরাপদ দেয়াল ঘেরা ছাদ, সঙ্গে একজন বড় মানুষ
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা রান্নাডিম ভাজি, স্যান্ডউইচ বা লেবুর শরবতরান্নাঘর, কাছেই একজন বড় মানুষ
বইয়ের সিরিজ বা কমিকসস্কুল, আত্মীয় বা লাইব্রেরি থেকে আনা বইপড়ার একটা কোণ
নিজের কমিক বা পরিবারের পত্রিকা বানানোকাগজ, কলম আর স্ট্যাপলারটেবিল
বারান্দায় বাগানটবে মরিচ, পুদিনা বা ধনেপাতা, রোজ পানি দেওয়াবারান্দা
হাতের কাজ শেখাঅরিগামির কাগজ, উল-কাঁটা বা সুই-সুতাযে কোনো জায়গায়
রান্নাঘরের বিজ্ঞানকোনটা ভাসে আর কোনটা ডোবে, কাগজের সেতু, স্ট্রয়ের রকেটটেবিল
কার্ডবোর্ডের বল-গড়ানো পথটয়লেট রোলের খালি নল, টেপ আর একটা টেবিল টেনিস বলদেয়াল বা দরজায় লাগিয়ে
বাজারের হিসাববাজারের লিস্ট লেখা আর আপনার সঙ্গে দাম যোগ করাটেবিল
ছোট ভাইবোন বা কাজিনকে শেখানোভালো জানে এমন যে কোনো খেলা বা ছড়াযে কোনো জায়গায়
পরিবারের কুইজবাচ্চার নিজের লেখা প্রশ্নবসার ঘর

বৃষ্টির দিনে বাচ্চার খেলা আর লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা: বিদ্যুৎ ছাড়া যা করা যায়

বিদ্যুৎ আর ওয়াই-ফাই চলে গেলেও সন্ধ্যাটা দিনের সবচেয়ে ভালো সময় হতে পারে। ছোট বাচ্চারা যেখানে খেলে, সেখানে মোমবাতির বদলে টর্চ বা চার্জার লাইট ব্যবহার করুন, আর ছাদে যান শুধু শুকনো দিনে।

  • টর্চের আলোয় গল্প: পালা করে সবাই একটা করে লাইন যোগ করে বানানো গল্প।
  • ধাঁধা আর জিভে জড়িয়ে যায় এমন ছড়া, বিশেষ করে দাদা-দাদি বা নানা-নানির ছোটবেলার গুলো।
  • গানের কলি: একজন একটা গানের লাইন গায়, পরেরজন সেই লাইনের শেষ অক্ষর দিয়ে নতুন গান শুরু করে (৭ বছর থেকে)।
  • নাম-দেশ-ফুল-ফল, যারা লিখতে পারে তাদের জন্য: একটা অক্ষর বেছে নিন, তারপর কে আগে সব ঘর পূরণ করে।
  • গরম সন্ধ্যার জন্য কাগজের হাতপাখা: ভাঁজ করুন, সাজান, তারপর পুরো পরিবারের ওপর পরীক্ষা।
  • বৃষ্টিতে কাগজের নৌকা: জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখুন, তারপর অল্প পানির গামলায় নৌকা ভাসান; ছোটদের একদম পাশে বড় কেউ থাকবে।

চুপচাপ সময়ের খেলা: ছোট বাচ্চা আর ক্লান্ত দুপুরের জন্য

কখনো কখনো খেলার চেয়ে বেশি দরকার বিশ মিনিটের চুপচাপ সময়। চুপচাপ খেলাও হবে আপনার চোখের সামনে: ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, আর বাবুর কাছেও একা রেখে যাবেন না।

  • শুধু চুপচাপ সময়ের জন্য আলাদা একটা ঝুড়ি: মোটা পাতার বই, নরম খেলনা, ছোট খাতা আর রং।
  • মালা গাঁথা: জুতার ফিতায় বড় পাস্তা বা সুতার খালি রিল; ৩ বছরের বেশি বয়সী, যারা আর জিনিস মুখে দেয় না, তাদের জন্য।
  • শব্দ খোঁজা: একসাথে শুয়ে পড়ুন, আর যত শব্দ শোনা যায় সবগুলোর নাম বলুন, প্রেশার কুকারের সিটি থেকে কাকের ডাক পর্যন্ত।
  • বাছাইয়ের ট্রে: বড় ঢাকনা, চামচ আর ব্লক, রং বা আকার দেখে আলাদা করা।

বাংলাদেশের বাসায়: দাদা-দাদি, গৃহকর্মী, ছাদ আর ভাইবোন

বাংলাদেশের অনেক বাসায় একাধিক বড় মানুষ বাচ্চাকে দেখেন, আর জায়গাও কম। ছোট কয়েকটা বোঝাপড়া থাকলে সবার জন্যই স্ক্রিন ছাড়া সময় কাটানো সহজ হয়:

  • দাদা-দাদি, নানা-নানি প্রায়ই সবচেয়ে ভালো খেলার সঙ্গী। তাঁদের ছোটবেলার খেলা আর ছড়া শেখাতে বলুন, যেমন কানামাছি, লুডু আর পুরোনো ধাঁধা।
  • রান্না করতে করতে যে গৃহকর্মী বাচ্চাকে দেখেন, তাঁর জন্য সহজ উপায় দরকার। খেলার ঝুড়িটা আর তিনটা খেলার ছোট একটা তালিকা দিন, আর কখন ফোন দেওয়া যাবে, কখন যাবে না, তা ঠিক করে নিন।
  • ছাদ: শুধু উঁচু, শক্ত দেয়াল থাকলে আর সঙ্গে একজন বড় মানুষ থাকলে; বৃষ্টি বা ঝড়ে কখনো নয়। ছাদে কেউ না থাকলে, পারলে ছাদের দরজায় তালা দিয়ে রাখুন।
  • বারান্দা ছোট বাচ্চাদের খেলার জায়গা নয়। চেয়ার, টুল আর বাক্স রেলিং বা গ্রিল থেকে দূরে রাখুন, যাতে কোনোটাই বেয়ে ওঠার সিঁড়ি না হয়ে যায়।
  • দুই বয়সের ভাইবোন: বড়জনকে একটা দায়িত্ব দিন, যেমন দোকানদার, রেফারি বা শিক্ষক; আর ছোটটা আশপাশে থাকলে এমন খেলা বাছুন, যাতে ছোট জিনিস নেই।
  • রমজানের বিকেল: বাচ্চারা ইফতারের আয়োজনে হাত লাগাতে পারে, শরবতের লেবু চিপে দেওয়া, খেজুর সাজানো, প্লেট বিছানো।
  • শুক্রবার: প্রতি সপ্তাহে একসাথে বেছে নেওয়া স্ক্রিন ছাড়া একটা বেড়ানো বা খেলা, যার জন্য সবাই অপেক্ষা করে থাকে।

স্ক্রিন ছাড়া সময় বাড়াতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হলো লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন। কোন বয়সে কতটুকু স্ক্রিন টাইম মানায়, তা দেখে নিন বয়স অনুযায়ী শিশুর স্ক্রিন টাইম লেখায়।

  1. দিন ১: বাচ্চা কখন স্ক্রিন চায় আর তখন কী চলছে, লিখে রাখুন: বোর লাগছে, ক্লান্ত, অপেক্ষা করছে, নাকি খিদে পেয়েছে।
  2. দিন ২: দিনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের জন্য একটা খেলার ঝুড়ি বানান, ওপরের তালিকা থেকে চার-পাঁচটা জিনিস দিয়ে।
  3. দিন ৩: বাচ্চাকে যাঁরা দেখেন, সবাইকে পরিকল্পনাটা জানান, আর ঝুড়িটা দেখিয়ে দিন।
  4. দিন ৪: শুরু করুন। স্ক্রিন শেষ হওয়ার আগেই বদলের কাজটা দেখান, আর প্রথম পাঁচ মিনিট একসাথে খেলুন।
  5. দিন ৫: ছোটাছুটির একটা কাজ যোগ করুন: নাচ, কুশনের পাহাড়, বা বড় কারও সঙ্গে ছাদে।
  6. দিন ৬: দাদা-দাদি, বড় ভাইবোন বা গৃহকর্মীকে একটা খেলার দায়িত্ব দিন।
  7. দিন ৭: ফিরে দেখুন। কোন খেলা সবচেয়ে বেশিক্ষণ চলল? ফোন চাওয়া কি একটু কমেছে? ঝুড়ির জিনিস বদলে আবার চালিয়ে যান।

কখন এটা শুধু একঘেয়েমি নয়? সাহায্য নেওয়ার লক্ষণ

ফোনের জন্য কাঁদে এমন বেশিরভাগ বাচ্চার শুধু সময় আর একটা নিয়মিত রুটিন দরকার। প্রথম তিনটার কোনোটি খেয়াল করলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর শেষের দুটিতে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন:

কখন সাহায্য নেবেন

  • কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চার কোনো খেলা, মানুষ বা খাবারে আগ্রহ নেই, শুধু স্ক্রিন; বা বেশিরভাগ দিন মন খারাপ থাকে।
  • নিয়মিত রুটিন রাখার পরও প্রায় প্রতিদিন স্ক্রিন বন্ধ করলে রাগ অনেকক্ষণ চলে বা মারধরে গড়ায়; দেখুন শিশুর মোবাইল আসক্তি।
  • ছোট বাচ্চা আপনার সঙ্গে খুব কমই খেলে, নাম ধরে ডাকলে খুব কমই সাড়া দেয়, বা খুব কম শব্দ বলে: স্ক্রিন টাইম যা-ই হোক, বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়ে নিন।
  • গলায় কিছু আটকে বাচ্চা শ্বাস নিতে, কাশতে বা কাঁদতে পারছে না: ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর জানা থাকলে গলায় কিছু আটকানোর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করুন।
  • উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গেলে বা মাথায় জোরে আঘাত লাগলে, বাচ্চা যদি ঝিমিয়ে পড়ে, বমি করে বা স্বাভাবিক আচরণ না করে, ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী ঘটছে, যেমন স্ক্রিন টাইম, খেলা আর মেজাজ, তা লিখে রাখতে আর এক সপ্তাহ পরে ধরনটা দেখতে সাহায্য করে। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাচ্চা বোর হলে মোবাইল না দিয়ে কী করবেন?

লম্বা তালিকা নয়, দুটো বিকল্প দিন: “আঁকবে, না কিছু বানাবে?” সাধারণ জিনিসের একটা ঝুড়ি তৈরি রাখুন, কয়েক মিনিট বাচ্চার সঙ্গে শুরু করুন, তারপর সরে আসুন। কিছুক্ষণ একঘেয়েমি থাকলেও সমস্যা নেই; ফোন আসছে না জানলে অনেক বাচ্চা কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজের খেলা বানিয়ে ফেলে।

রান্নার সময় ছোট বাচ্চাকে কীভাবে ব্যস্ত রাখব?

রান্নাঘর থেকে চোখে দেখা যায় কিন্তু চুলা থেকে দূরে, এমন জায়গায় নিরাপদ হাঁড়ি, ঢাকনা আর চামচের একটা নিচু তাক বা ঝুড়ি দিন, বা ছোট একটা কাজ দিন, যেমন বাটিতে আলু ধোয়া। রান্না করতে করতে ওর সঙ্গে কথা বলুন। ছুরি, গরম কড়াই আর গ্যাসের চুলা নাগালের বাইরে রাখুন, আর ছোট বাচ্চাকে কখনো রান্নাঘরে একা রাখবেন না।

লোডশেডিংয়ের সময় বাচ্চারা কী করতে পারে?

অন্ধকারকেই খেলা বানিয়ে ফেলুন: টর্চের আলোয় গল্প, দেয়ালে হাতের ছায়ার খেলা, ধাঁধা, একটু বড়দের জন্য গানের কলি, আর যারা লিখতে পারে তাদের জন্য নাম-দেশ-ফুল-ফল। ছোট বাচ্চাদের কাছে মোমবাতির বদলে টর্চ বা চার্জার লাইট ব্যবহার করুন, আর পরের লোডশেডিংয়ের জন্য এসব জিনিসের একটা ছোট বাক্স তৈরি রাখুন।

বাচ্চার একঘেয়ে লাগা কি খারাপ?

না, একটু একঘেয়েমি স্বাভাবিক, আর প্রায়ই কাজেরও। এর তাগিদেই বাচ্চারা নিজে কিছু বানায়, খুঁজে দেখে, নিজে নিজে খেলে, আর ধৈর্যও তৈরি হয়। প্রতিটা মিনিট ভরিয়ে দিতে হবে না। লক্ষ্য হলো দিনে খানিকটা ফাঁকা সময় থাকা, এমন দিন নয় যেখানে প্রতিটা ফাঁক স্ক্রিন ভরিয়ে দেয়।

ছোট ফ্ল্যাটে বাচ্চাদের জন্য ঘরের ভেতরে কী কী খেলা ভালো?

ছোট জায়গায় শরীর নাড়ানোর খেলা বাছুন: কুশন দিয়ে বাধা পেরোনোর খেলা, স্ট্যাচু নাচ, মাস্কিং টেপে কুতকুত, করিডোরে নরম বল আর প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বোলিং, বা একসাথে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা। সঙ্গে আঁকা, বানানো আর বোর্ড গেমের মতো শান্ত খেলাও রাখুন, যাতে শক্তি বের হওয়ার পথ পায়।

বাচ্চার দিনে কতটা সময় স্ক্রিন ছাড়া থাকা উচিত?

দিনের বেশিরভাগটাই। শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা বলে, ১৮ মাসের কম বয়সে পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কল ছাড়া কোনো স্ক্রিন নয়, আর ২–৫ বছরে দিনে বড়জোর ১ ঘণ্টা ভালো মানের কিছু। ৩–৪ বছরের বাচ্চার দিনে অন্তত ১৮০ মিনিট নড়াচড়া দরকার, আর ৫ বছর থেকে দিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো ছোটাছুটি; সঙ্গে স্ক্রিন ছাড়া খাওয়া আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।