কর্মজীবী মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে? মা-বাবা দুজনের জন্য সহজ উপায়
ছোট করে উত্তর
কর্মজীবী মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে? ঘণ্টার হিসাবের চেয়ে মনোযোগ বেশি জরুরি: প্রায় প্রতিদিন ফোন ছাড়া ১০ মিনিট, সকালে শান্ত বিদায়, সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে প্রথম ১০ মিনিট, আর ছুটির দিনে একটা নিজস্ব অভ্যাস। যাঁরা বাচ্চাকে দেখেন তাঁদের সঙ্গে রুটিন এক রাখুন, মা-বাবা দুজনে কাজ ভাগ করে নিন, আর কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চাকে অসুখী মনে হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- কর্মজীবী মা ও বাবা, যাঁদের সন্তানের বয়স ০–১২ বছর; লম্বা অফিস, শিফটের কাজ বা সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করেন যাঁরা, তাঁরাও
- মূল কথা
- কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানও সমান কাছের আর নিরাপদ বোধ করতে পারে; সবচেয়ে জরুরি হলো স্থির, যত্নের দেখাশোনা আর রোজ এমন কিছু সময়, যা পরিষ্কারভাবে শুধু তার।
- মাঝে মাঝে লম্বা বেড়ানোর চেয়ে ছোট, নিয়মিত অভ্যাস প্রায়ই বেশি কাজে দেয়: সকালের বিদায়, বাসায় ফিরে প্রথম ১০ মিনিট, ঘুমের আগের গল্প।
- অপরাধবোধ খুব সাধারণ, কিন্তু খুব কমই কাজে আসে; অপরাধবোধ থেকে উপহার বা দেরিতে ঘুমানোর বদলে মনোযোগ আর স্থির রুটিন দিন।
- এখানে বাবার ভূমিকাও মায়ের সমান: সন্ধ্যার কাজ ভাগ করে নিলে মা-বাবা দুজনেই বাচ্চার সঙ্গে সময় পান।
কর্মজীবী মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে, এই প্রশ্ন যদি আপনার মাথায় ঘোরে, হয়তো বাচ্চা ঘুম থেকে ওঠার আগেই বেরিয়ে যান, ফেরেন অন্ধকার নামার পর, তখনো রান্না, হোমওয়ার্ক আর অফিসের মেইল বাকি। অনেক কর্মজীবী মা আর বাবা দুশ্চিন্তা করেন, বাচ্চা কিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কি না; এই দুশ্চিন্তাই বোঝায় আপনি কতটা যত্ন করেন।
কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানও কাছের, আত্মবিশ্বাসী আর নিরাপদ হয়ে বড় হতে পারে। সবচেয়ে জরুরি বলে মনে হয় দুটো জিনিস: আপনি না থাকলে স্থির, যত্নের দেখাশোনা, আর রোজ মা-বাবা প্রত্যেকের সঙ্গে এমন কিছু সময়, যা পরিষ্কারভাবে শুধু তার। নিচে পাবেন: দোষারোপ ছাড়া অপরাধবোধের কথা, ১০ মিনিটের অভ্যাস, সকাল, সন্ধ্যা, ছুটির দিন, নানা-দাদি আর গৃহকর্মী, বাবার ভূমিকা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
কর্মজীবী মায়ের অপরাধবোধ: খারাপ লাগা মানেই আপনি ব্যর্থ নন
কর্মজীবী মায়ের অপরাধবোধ বাবা-মায়েদের সবচেয়ে চেনা অনুভূতিগুলোর একটা, আর বাবারাও এটা অনুভব করেন। এটা প্রায়ই আসে তুলনা, আত্মীয়দের মন্তব্য, বা ‘ভালো মা-বাবা সবসময় পাশে থাকেন’ এই ধারণা থেকে। কিন্তু বাচ্চার আপনার সব ঘণ্টা দরকার নেই। দরকার নির্ভরযোগ্য দেখাশোনা, আর আপনার সঙ্গে এমন কিছু সময়, যার ওপর সে ভরসা রাখতে পারে।
| অপরাধবোধের ভাবনা | আরও কাজের ভাবনা |
|---|---|
| ‘আমি কখনো ওর পাশে থাকি না।’ | ‘আমি রোজ সকালের নাশতা আর ঘুমের সময় থাকি, আর ও সেটা জানে।’ |
| ‘খেলনা দিয়ে ওকে পুষিয়ে দেওয়া উচিত।’ | ‘নতুন খেলনার চেয়ে আমার ১০ মিনিটের মনোযোগ বেশি দামি।’ |
| ‘সারাদিন বাইরে ছিলাম, এখন আর না বলতে পারি না।’ | ‘উষ্ণ, স্থির নিয়ম ওকে নিরাপদ বোধ করায়, দেরিতে ফেরার দিনেও।’ |
| ‘অন্য মায়েরা তো সব সামলায়।’ | ‘প্রতিটা পরিবার আলাদাভাবে সামলায়। আমার বাচ্চার কী দরকার?’ |
অনেকে প্রশ্ন করেন, সন্তান আগে না ক্যারিয়ার? বেশির ভাগ পরিবারের জন্য এটা ‘হয় এটা, নয় ওটা’ নয়: অনেকে কাজ করেন কারণ সংসারের দরকার, আর অনেকে দেখেন কাজটা তাঁদের নিজেদের জন্যও ভালো। যে মা-বাবা বাসায় থাকেন, তাঁরাও অপরাধবোধে ভোগেন। দুটো সিদ্ধান্তই ভালোবাসার হতে পারে, আর নিচের পরিকল্পনা দুই ক্ষেত্রেই কাজে লাগে।
অফিস থেকে ফিরে সন্তানের সঙ্গে সময়: ১০ মিনিটের যে অভ্যাসগুলো কাজে দেয়
পরিমাণের চেয়ে মান, এর মানে এই নয় যে সময়ের পরিমাণ একেবারে গুরুত্বহীন; মানে হলো, আপনার হাতে যেটুকু সময় আছে, তা নিয়মিত আর ফোন ছাড়া হলে বেশি কাজে দেয়। নিচের এক-দুটো বেছে নিন, আর বেশির ভাগ দিন চালিয়ে যান:
- দশ মিনিটের বিশেষ সময়: খেলা বাছবে বাচ্চা, আপনার ফোন থাকবে অন্য ঘরে, আর আপনি ওর দেখানো পথে খেলবেন। ধাপে ধাপে বুঝিয়ে বলা আছে সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার উপায় লেখায়।
- দরজায় জড়িয়ে ধরা: বাসায় ফিরে প্রথম ১০ মিনিট বাচ্চার, ফোন, খবর বা রান্নাঘরের আগে।
- ঘুমের আগের গল্প: ‘আজ দিনের সবচেয়ে ভালো অংশ কোনটা ছিল? আর সবচেয়ে কঠিন?’ অনেক বাচ্চা অন্ধকারেই সবচেয়ে বেশি কথা বলে।
- একসঙ্গে রান্না: রুটি বেলা, ফল ধোয়া বা শরবতের জন্য লেবু চিপে দেওয়া, বয়সের সঙ্গে মানানসই একটা কাজ দিয়ে।
- একটা চিরকুট বা ছবি: টিফিন বক্সে দুই লাইন লিখে দেওয়া, বা বাচ্চার আঁকা ছবি আপনার বালিশে রেখে যাওয়া।
- দেরি হওয়ার দিনে নির্দিষ্ট সময়ে একটা ফোন, ২ মিনিটের হলেও, যাতে বাচ্চা জানে কখন আপনার গলা শুনবে।
অফিসে যাওয়ার আগের সকাল: শান্ত শুরু আর সহজ বিদায়
- আগের রাতেই গুছিয়ে রাখুন: জামাকাপড়, স্কুলব্যাগ, টিফিন বক্স আর আপনার নিজের ব্যাগ দরজার পাশে।
- যতটা দরকার তার চেয়ে ১০ মিনিট আগে উঠুন, বিছানায় একটু আদর বা একসঙ্গে বসে নাশতার জন্য।
- বিদায় ছোট রাখুন, আর রোজ একই রকম: জড়িয়ে ধরা, একই কথা, দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়া। চুপিচুপি বেরিয়ে যাবেন না; এতে প্রায়ই পরের বিদায় আরও কঠিন হয়।
- কখন ফিরবেন, বাচ্চার বোঝার মতো করে বলুন: ‘তোমার দুপুরের ঘুমের পর’, ‘অন্ধকার হলে’।
বাচ্চা যখন বলে, ‘অফিসে যেও না!’
- তুমি চাও আমি থাকি। আমারও থাকতে ইচ্ছে করে। তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
- আমি অফিসে যাচ্ছি, অন্ধকার হলে ফিরব। তারপর তোমার বইটা পড়ব।
- নানু তোমার সঙ্গে আছেন। দুপুরে খাওয়ার সময় তোমাকে ফোন দেব।
- একটা বড় করে জড়িয়ে ধরা, একটা চুমু, আর হাত নাড়া। সন্ধ্যায় দেখা হবে!
প্রতিবার বিদায়ের সময় বাচ্চা খুব কাঁদলে ছোট, স্থির একটা রুটিন সাধারণত কাজে দেয়; বিদায়ের পুরো পরিকল্পনা আছে বাচ্চা মাকে ছাড়তে চায় না লেখায়।
কর্মজীবী মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে: অফিস থেকে ফিরে সন্ধ্যার রুটিন
বাসায় ফেরার পরের ঘণ্টাটাই প্রায়ই সবচেয়ে কঠিন: সবাই ক্লান্ত আর ক্ষুধার্ত, কাজের তালিকাও লম্বা। সহজ একটা সন্ধ্যার রুটিন এই সময়টাকে শান্ত রাখে:
- বাসায় ঢোকার আগে: সিঁড়িতে বা রিকশায় ধীরে একটা শ্বাস, একটু নাশতা আর এক গ্লাস পানি, আর ফোন সাইলেন্ট।
- প্রথম ১০ মিনিট: মেঝেতে বসুন, জড়িয়ে ধরুন, আর বাচ্চাকে কিছু বলতে বা দেখাতে দিন। কাপড় বদলান তার পরে।
- সম্ভব হলে একসঙ্গে রাতের খাবার, টিভি বন্ধ রেখে; বাচ্চা খাওয়ার সময় পাশে বসে থাকাটাও গোনায় ধরে।
- হোমওয়ার্ক: মাথার ওপর দাঁড়িয়ে নয়, পাশে বসুন; ছোট আর শান্ত রাখুন।
- প্রতি রাতে একইভাবে গোসল আর ঘুম, সঙ্গে একটা গল্প, একটু গল্পগুজব, বা আপনার পরিবারে চল থাকলে একটা দোয়া।
- যতটা পারেন, ঘরের কাজ আর অফিসের মেইল বাচ্চা ঘুমানোর পরে।
ঘুমের জন্য যথেষ্ট আগে শোয়ার সময় রাখুন: ৩–৫ বছরের বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় মোটামুটি ১০–১৩ ঘণ্টা ঘুম দরকার, আর ৬–১২ বছরে ৯–১২ ঘণ্টা। ঘুম থেকে ওঠার সময় ধরে পিছিয়ে এসে মানানসই ঘুমের সময় বের করে দেয় স্কুলের দিনের পরিকল্পনা। শিফটে বা রাতে কাজ করলে ‘সন্ধ্যার’ অভ্যাসটা হতে পারে সকালের নাশতা, বা স্কুল ছুটির পরের এক ঘণ্টা।
ছুটির দিন: ঠাসা পরিকল্পনা ছাড়া পরিবারের সময়
কর্মজীবী মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে, তার বড় সুযোগ ছুটির দিন। অনেক বাংলাদেশি পরিবারে শুক্রবারই পুরো একসঙ্গে কাটানোর একমাত্র দিন, আর বাজার, দাওয়াত আর বেড়াতে যাওয়ায় তা দ্রুত ভরে যায়; তাই এর একটু অংশ আলাদা করে রাখুন:
- একটা ছোট অভ্যাস রাখুন, যা সবসময় আপনাদের: শুক্রবারের পরোটা, পার্কে হাঁটা, বাবার সঙ্গে মাছের বাজার, নানুর বাসায় চা।
- প্রতিটা বাচ্চাকে আলাদা করে একটু সময় দিন, ২০ মিনিট হলেও; প্রত্যেকে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে ভাইবোনের মিলমিশ প্রায়ই ভালো থাকে।
- কিছুটা সময় পরিকল্পনা ছাড়াই রাখুন। বিছানায় শুয়ে গল্প করা, বা কুশন দিয়ে ঘর বানানো, এগুলোও কোয়ালিটি টাইম।
- বাচ্চাকে অপেক্ষায় বসিয়ে ঘরের কাজ না করে, সাধারণ কাজে সঙ্গে নিন, যেমন গাছে পানি দেওয়া বা কাপড় ভাঁজ করা।
- বিশ্রামও জরুরি: অন্য কোনো বড় মানুষ বাচ্চাদের দেখার সময় এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নিলে বাকি দিনটা আপনি প্রায়ই আরও ভালো সঙ্গী হন।
আমাদের বাসায়: নানা-দাদি, গৃহকর্মী আর লম্বা যানজট
বাংলাদেশে কর্মজীবী মায়ের সন্তান লালন-পালন খুব কমই একা হয়। অনেকে বাচ্চাকে নানা-নানি, দাদা-দাদি, কোনো আত্মীয় বা গৃহকর্মীর কাছে রেখে যান, আর অনেককে লম্বা যানজট আর সপ্তাহে ছয় দিনের অফিস সামলাতে হয়। এই দেখাশোনা একটা আশীর্বাদ, আর সবাই একই অল্প কয়েকটা নিয়ম মানলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
- যিনি দেখবেন, তাঁকে বুঝিয়ে বলুন আর ধন্যবাদ দিন: খাওয়া, ঘুম, স্ক্রিনের নিয়ম, আর বাচ্চার মন খারাপ হলে কী করবেন। পুরো চেকলিস্ট পাবেন গৃহকর্মীর কাছে বাচ্চা রেখে অফিস লেখায়।
- রোজ একটা ছোট খবর চেয়ে নিন, যেমন দুই লাইনের মেসেজ বা দুপুরের খাবারের একটা ছবি, যাতে সন্ধ্যায় বাচ্চার দিন নিয়ে কথা বলতে পারেন।
- ঠিক করে নিন, ছোট বাচ্চাকে কখনো একা, বা কোলের শিশুর সঙ্গে একা রাখা হবে না, কেউ রান্না করতে বা দোকানে গেলে কয়েক মিনিটের জন্যও না।
- রোজকার এক-দুটো কাজ নিজের হাতে রাখুন, যেমন ঘুম পাড়ানো বা ছুটির দিনের গোসল। যে বাচ্চা নানু বা গৃহকর্মীকে খুব ভালোবাসে, তারও আপনাকে দরকার, আর কয়েকজন বড় মানুষকে ভালোবাসা বাচ্চার জন্য ভালো।
- লম্বা যানজট: বেশির ভাগ দিন বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ার পর বাসায় ফিরলে, বাচ্চাকে রাত জাগিয়ে না রেখে সকাল বা একটা ভিডিও কলকেই রোজকার অভ্যাস বানান।
- আত্মীয়রা যদি বলেন, মায়ের বাসায় থাকা উচিত, যত্নের জন্য ধন্যবাদ দিন, আর উত্তর ছোট রাখুন: ‘আমরা আমাদের পরিবারের জন্য মানানসই একটা পরিকল্পনা করেছি।’
কর্মজীবী বাবা: সময় আর বাসার কাজ ভাগ করে নেওয়া
অনেক বাসায় মা অফিসের পর বাসায় আরেক দফা কাজ করেন, আর বাবার সঙ্গে বাচ্চার সময় ছোট হতে হতে শুধু ছুটির দিনে এসে ঠেকে। সন্ধ্যার কাজগুলো ভাগ করে নিলে মা-বাবা দুজনেই বাচ্চার সঙ্গে সময় পান, আর মা-বাবা দুজনের সঙ্গেই গভীর বন্ধন বাচ্চার জন্য ভালো।
- বেশির ভাগ দিন সন্ধ্যার একটা কাজ নিজের করে নিন: গোসল, হোমওয়ার্ক বা ঘুম পাড়ানো।
- রোজ এমন একটা মুহূর্ত বেছে নিন, যা আপনি রাখতে পারবেন, যেমন সকালের নাশতা বা স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, আর সেটাকে ফোন থেকে আগলে রাখুন।
- লম্বা সময় বাসা থেকে দূরে কাজ করলে রোজ একই সময়ে একটা ফোন সম্পর্কের সুতোটা ধরে রাখে।
- কাজ কীভাবে ভাগ হবে, তা নিয়ে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মতের অমিল হলে শুরু করুন দুজন বাবা-মা, এক পরিকল্পনা দিয়ে।
কর্মব্যস্ত সপ্তাহে কাছাকাছি থাকার ৭ দিনের পরিকল্পনা
ছোট ছোট বদলের একটা সপ্তাহই প্রায়ই রোজকার দিনে সন্তানকে সময় দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায়। একবারে একটা বদল বেছে নিন, বাচ্চার সাড়া কেমন লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পর মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ১: খেয়াল করুন। লিখে রাখুন আজ আসলে কখন বাচ্চার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন, আর বিদায় ও বাসায় ফেরা কেমন গেল।
- দিন ২: আগের রাতেই সকালের জিনিস গুছিয়ে রাখুন, আর একসঙ্গে নাশতার জন্য ১০ মিনিট আগে উঠুন।
- দিন ৩: দরজায় জড়িয়ে ধরার অভ্যাস শুরু করুন: বাসায় ফিরে প্রথম ১০ মিনিট বাচ্চার, ফোন সাইলেন্ট।
- দিন ৪: ১০ মিনিটের বিশেষ সময় শুরু করুন, খেলা বাছবে বাচ্চা।
- দিন ৫: জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সন্ধ্যার একটা করে কাজ ভাগ করে নিন, আর যিনি বাচ্চাকে দেখেন, তাঁকে একই রুটিন বুঝিয়ে বলুন।
- দিন ৬: ছুটির দিনের জন্য একটা ছোট অভ্যাসের পরিকল্পনা করুন, আর বাচ্চাকে আগেই জানিয়ে রাখুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: উষ্ণ মুহূর্ত কি বেড়েছে? বিদায় আর ঘুমের সময় কি সহজ হয়েছে? যা কাজে দিয়েছে রাখুন, যা দেয়নি বাদ দিন।
কখন বাচ্চার জন্য, বা নিজের জন্য সাহায্য নেবেন
কর্মজীবী বাবা-মা ও শিশুর মন খারাপ নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক, আর বেশির ভাগ ওঠানামা কেটে যায়। ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন, যদি:
কখন সাহায্য নেবেন
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন বাচ্চাকে অসুখী, চুপচাপ বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মনে হয়, বা আগে যা খুব ভালোবাসত তাতে আর আনন্দ পায় না।
- মোটামুটি ৩ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চার ক্ষেত্রে, এক মাস স্থির রুটিনের পরও বেশির ভাগ দিন বিদায়ের সময় লম্বা, তীব্র কান্না।
- বাচ্চা হঠাৎ কোনো দেখাশোনাকারীকে ভয় পায়, এড়িয়ে চলে, বা এমন আঘাত দেখা যায় যার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, তাকে ওই মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন, দরকার হলে চিকিৎসা করান। বাচ্চা আঘাত পেয়ে থাকলে স্থানীয় থানায় জানান, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- ঘুমের সময় এত পিছিয়ে গেছে যে বেশির ভাগ সকালে বাচ্চা স্কুলের জন্য ক্লান্ত থাকে।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন আপনার মন খারাপ, ক্লান্ত, অসাড় বা অস্থির লাগছে। আপনারও সহায়তা দরকার; নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে সেদিনই ডাক্তার দেখান, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
কর্মজীবী মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে ছোট ছোট, বারবার ফিরে আসা মুহূর্তে; ব্যস্ত বাবা-মায়ের সন্তানের সঙ্গে বন্ধন এভাবেই গড়ে ওঠে, আর নিখুঁত না হওয়া সপ্তাহও গোনায় ধরে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কোন সন্ধ্যা কাছাকাছি কাটল আর কোনটা তাড়াহুড়োয়, যাতে এক সপ্তাহে ধরনগুলো দেখতে পান; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
মা-বাবা দুজনেই চাকরি করলে কি বাচ্চার ক্ষতি হয়?
না, নিজে থেকে নয়। কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানও সমান কাছের, নিরাপদ আর হাসিখুশি হতে পারে। সবচেয়ে জরুরি হলো আপনি না থাকলে স্থির, উষ্ণ দেখাশোনা, নিয়মিত রুটিন, আর রোজ মা-বাবা প্রত্যেকের সঙ্গে এমন কিছু সময়, যা পরিষ্কারভাবে শুধু তার। বাচ্চা যদি স্থির থাকে, ঠিকমতো বাড়ে আর আনন্দে খেলে, সাধারণত সে ভালোই আছে।
অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরে বাচ্চাকে কীভাবে সময় দেব?
ছোট আর নিয়মিত রাখুন। ঢোকার আগে ধীরে একটা শ্বাস নিন, কিছু খেয়ে নিন। প্রথম ১০ মিনিট ফোন সরিয়ে বাচ্চাকে দিন, তারপর রুটিনই সন্ধ্যাটা এগিয়ে নিক: রাতের খাবার, গোসল আর একটা গল্প। অন্যমনস্ক এক ঘণ্টার চেয়ে মন দিয়ে দেওয়া ১০ মিনিট বাচ্চার কাছে প্রায়ই বেশি দামি।
অফিসে যাওয়ার সময় বাচ্চা কাঁদে, কী করব?
বিদায় ছোট, উষ্ণ আর রোজ একই রকম রাখুন: জড়িয়ে ধরা, একই কথা, আর চুপিচুপি বেরিয়ে যাওয়া নয়। কখন ফিরবেন, বাচ্চার বোঝার মতো করে বলুন, যেমন ‘তোমার দুপুরের ঘুমের পর’। অনেক বাচ্চা মা-বাবা বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শান্ত হয়ে যায়। মোটামুটি ৩ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চার এক মাস স্থির বিদায়ের পরও বেশির ভাগ দিন তীব্র কান্না চললে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
অফিস থেকে ফিরে দেখা করার জন্য কি বাচ্চাকে রাত জাগিয়ে রাখব?
সাধারণত না রাখাই ভালো। ৬–১২ বছরের বাচ্চার মোটামুটি ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার, আর ছোটদের আরও বেশি; তাই দেরিতে ঘুমালে সকালগুলো প্রায়ই ক্লান্ত আর কঠিন হয়। বদলে ঘুমের আগে ছোট একটা ভিডিও কল, বা সকালের জন্য বালিশের নিচে একটা চিরকুট রাখুন, কিংবা একসঙ্গে সকালের নাশতাকেই রোজকার অভ্যাস বানান।
বাচ্চা নানু বা গৃহকর্মীকে বেশি পছন্দ করলে কি তা স্বাভাবিক?
হ্যাঁ। বাচ্চারা প্রায়ই রোজ যিনি দেখাশোনা করেন, তাঁর প্রতি খুব টান অনুভব করে, আর কয়েকজন বড় মানুষকে ভালোবাসা তাদের জন্য ভালো। এটা আপনার সঙ্গে বন্ধনের জায়গা নিয়ে নেয় না। রোজকার এক-দুটো কাজ নিজের হাতে রাখুন, যেমন ঘুম পাড়ানো বা ছুটির দিনের গোসল, আর তখন পুরো মনোযোগ দিন। চারপাশের বড়রা মিলেমিশে থাকলে বাচ্চা সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে।
কর্মজীবী মায়ের অপরাধবোধ কীভাবে সামলাব?
অপরাধবোধ টের পান, কিন্তু তার কথায় চলবেন না। ভাবুন বাচ্চার আসলে কী দরকার: সাধারণত নির্ভরযোগ্য দেখাশোনা, স্থির রুটিন আর রোজ আপনার সঙ্গে কিছু সময়, সব ঘণ্টা নয়। অপরাধবোধ থেকে উপহার দেওয়ার বদলে ১০ মিনিটের মনোযোগ দিন, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কাজ ভাগ করুন, আর তুলনা বাদ দিন। অপরাধবোধ যদি দুই সপ্তাহ বা তার বেশি প্রায় প্রতিদিনের মন খারাপে গড়ায়, ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।



