মূল কনটেন্টে যান

সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার উপায়: প্রতিদিনের সহজ অভ্যাস, সব বয়সে

ছোট করে উত্তর

যেকোনো বয়সে সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার উপায় আসলে রোজকার ছোট অভ্যাস: প্রতিদিন কয়েক মিনিট মোবাইল সরিয়ে পুরো মনোযোগ দিন, আর বাচ্চা যা বেছে নেয় তা-ই একসঙ্গে করুন। ছোট ছোট রীতি যোগ করুন, যেমন ঘুমের আগে গল্প বা শুক্রবারের হাঁটা; উপদেশের চেয়ে বেশি শুনুন; আর রাগারাগির পরে শান্তভাবে মিটমাট করুন। ছোট্ট শিশুর দরকার কোল আর খেলা; কিশোরের দরকার পাশাপাশি সময়।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যেকোনো বয়সের সন্তানের বাবা-মা আর দেখাশোনাকারী, ছোট্ট শিশু থেকে কিশোর পর্যন্ত, ব্যস্ত কর্মজীবী বাবা-মাসহ
মূল কথা
  • মাঝে মধ্যে বড় কোনো বেড়ানোর চেয়ে প্রতিদিন কয়েক মিনিটের মোবাইল-ছাড়া পুরো মনোযোগ প্রায়ই সম্পর্কের জন্য বেশি কাজে দেয়।
  • একান্ত সময়ে নেতৃত্বটা বাচ্চার হাতে ছেড়ে দিন: যা দেখছেন বলুন, ওর সঙ্গে তাল মেলান, উপভোগ করুন; শেখানো বা ভুল ধরা নয়।
  • ঘুমের আগে গল্প, একসঙ্গে রান্না বা শুক্রবারের হাঁটার মতো ছোট রীতি ব্যস্ত সপ্তাহেও বাচ্চাকে ভরসার একটা জায়গা দেয়।
  • সব সম্পর্কেই টানাপোড়েন আসে; রাগারাগির পরে শান্তভাবে দুঃখ প্রকাশ আর নতুন করে শুরু বাচ্চাকে শেখায়, ঝগড়ার পরেও ভালোবাসা থাকে।

সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার উপায় খুঁজছেন মানে আপনি এমনিতেই যত্নশীল বাবা বা মা; চিন্তা হয়, অফিস, স্কুলে আনা-নেওয়া, হোমওয়ার্ক আর মোবাইলের ভিড়ে শুধু একসঙ্গে থাকার সময়টাই হারিয়ে যাচ্ছে। গভীর সম্পর্ক সাধারণত বড় বেড়ানো বা দামি উপহার থেকে আসে না। আসে বারবার ফিরে আসা ছোট মুহূর্ত থেকে: কয়েক মিনিটের পুরো মনোযোগ, বাচ্চা ভরসা করতে পারে এমন কোনো রীতি, আর রাগারাগির পরে শান্তভাবে আবার কাছে আসা।

নিচে পাবেন: ভালো সম্পর্ক দেখতে কেমন, দশ মিনিটের একান্ত সময়, ছোট্ট শিশু থেকে কিশোর পর্যন্ত বয়স অনুযায়ী আইডিয়া, পারিবারিক রীতি, ব্যস্ত কর্মজীবী বাবা-মা, যৌথ পরিবার, রাগারাগির পরে মিটমাট, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।

সন্তান ও বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভালো হলে কেমন দেখায়?

ভালো সম্পর্ক মানে বাচ্চা আপনার কাছে নিরাপদ বোধ করে, জানে আপনি তাকে বোঝেন, আর টের পায় তার সঙ্গ আপনি উপভোগ করেন। এর মানে এই নয় যে কখনো তর্ক হবে না, বা বাবা-মা সবসময় হাতের কাছে থাকবেন। যে বাচ্চা বাবা বা মায়ের সঙ্গে নিজেকে কাছের মনে করে, সে প্রায়ই সহজে শান্ত হয়, নিয়ম মেনে নেয়, আর কিছু খারাপ হলে তার কাছেই আসে।

ব্যস্ত সময়ে সম্পর্কে চুপচাপ দূরত্বও তৈরি হতে পারে: নতুন ভাইবোনের আগমন, পরীক্ষা, লম্বা অফিস, বাসা বদল। বাচ্চা বাবা-মায়ের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, এমন কিছু লক্ষণ:

  • মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা বেড়ে যাওয়া, খারাপভাবে হলেও: ঘ্যানঘ্যান, ভাঁড়ামি, বা ঠিক আপনার সামনেই নিয়ম ভাঙা।
  • আপনাকে কম বলা। ‘ভালো’ ছাড়া আর কিছু শুনতে না পেলে দেখুন বাচ্চার মুখে শুধু ‘ভালো’ ছাড়াও কথা শোনার উপায়।
  • আঁকড়ে থাকা, বা উল্টো দূরে ঠেলে দেওয়া, বিশেষ করে বিদায়ের সময় আর ঘুমের সময়।
  • ছোটখাটো বিষয়ে বেশি ঝগড়া, বা মন খারাপ হলে আর আপনার কাছে না আসা।

এই লক্ষণগুলোর অন্য কারণও থাকতে পারে, যেমন ক্লান্তি, স্কুলের দুশ্চিন্তা বা বন্ধুত্বের ঝামেলা। সেগুলো খেয়াল রাখার পাশাপাশি সম্পর্কটা আরও কাছের করার চেষ্টা দিয়েই প্রায়ই ভালো শুরু হয়।

প্রতিদিন দশ মিনিট: বাচ্চার সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কীভাবে কাটাবেন

অনেক পরিবার দেখে, মাঝে মাঝে লম্বা বেড়ানোর চেয়ে রোজকার ছোট, নির্দিষ্ট একান্ত সময় বেশি কাজে দেয়; একে অনেকে ‘স্পেশাল টাইম’ বলেন। এটা একটা পদ্ধতি, জাদুর সমাধান নয়: বেশির ভাগ দিন মোটামুটি দশ মিনিট, যেখানে নেতৃত্ব বাচ্চার, আর আপনি শুধু সঙ্গ দেন।

  1. এমন একটা সময় বেছে নিন যা বেশির ভাগ দিন রাখতে পারবেন: স্কুলের পরে, রাতের খাবারের আগে, বা ঘুমের সময়।
  2. মোবাইল অন্য ঘরে রেখে আসুন, টিভি বন্ধ করুন।
  3. কী করবে, নিরাপদ সীমার মধ্যে বাচ্চাকেই বেছে নিতে দিন: ব্লক, আঁকা, লুডু, গল্প, বা আপনার সঙ্গে ছাদে বল লোফালুফি।
  4. ওর সঙ্গে তাল মেলান। যা দেখছেন মুখে বলুন (‘তুমি তো অনেক উঁচু করে বানাচ্ছ’), ওর মতো করে খেলুন, আর উপভোগ করুন।
  5. শেখানো, ভুল ধরা আর প্রশ্নের পর প্রশ্ন বাদ দিন। হোমওয়ার্ক বা আদব-কায়দার সময় এটা নয়।
  6. শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে জানিয়ে দিন, জড়িয়ে ধরে বা হাতে তালি দিয়ে শেষ করুন, আর বলে দিন পরেরটা কবে।

যা বলতে পারেন

  • এখন আমাদের সময়। কী করব, তুমি ঠিক করো।
  • তুমি সব লাল টুকরো একসঙ্গে রাখছ।
  • তোমার সঙ্গে এটা করতে আমার খুব ভালো লাগে।
  • আর দুই মিনিট, তারপর রাতের খাবার। কাল আবার এই সময়ে।
  • যে খেলাটার কথা বলছিলে, আমাকে একটু দেখাবে?

বয়স অনুযায়ী সন্তানকে সময় দেওয়া: ছোট্ট শিশু থেকে কিশোর

বাচ্চা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাছে আসার ধরনও বদলায়: ছোট্ট শিশুর দরকার কোল, গলার স্বর আর খেলা, আর কিশোরের দরকার সম্মান আর পাশাপাশি সময়।

প্রতিটা বয়সে কাছে আসার উপায় (আইডিয়া, নিয়ম নয়)
বয়সযা ওদের কাছের মনে করায়যা করে দেখতে পারেন
০–২ বছরকোলে নেওয়া, খাওয়ানো আর সান্ত্বনা; মুখ, গলার স্বর আর খেলা; কাঁদলে তাড়াতাড়ি সাড়া পাওয়াখাওয়ানো, গোসল আর কাপড় বদলানোর সময় কথা বলুন, ছড়া বা গান শোনান; টুকি খেলা; আদর; বাবা-মা আর দাদা-দাদি সবাই পালা করে নিন
৩–৬ বছরখেলা, দুষ্টুমি আর আদর; ওর বানানো জিনিস দেখে আপনার খুশিরোজ বাচ্চার নেতৃত্বে একান্ত সময়; ঘুমের আগে গল্প; রান্না বা বাজারে আপনাকে সাহায্য; সাবধানে একটু হুটোপুটি
৭–১২ বছরএকই শখ, ন্যায্যতা, ওর কথাকে গুরুত্ব দেওয়া; ভাইবোন ছাড়া আলাদা সময়বোর্ড গেম, একসঙ্গে ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টন, রান্না, সপ্তাহে একদিন বাবা বা মায়ের সঙ্গে একা বেড়ানো; শুধু নম্বর নয়, বন্ধুদের কথা জিজ্ঞেস করুন
১৩–১৮ বছরসম্মান, নিজের জায়গা, মুখোমুখি নয়, পাশাপাশি সময়; উপদেশ ছাড়া কেউ কথা শুনুকগাড়ি বা রিকশায় একসঙ্গে যাওয়া, রাতের নাশতা, ওর গান বা গেম, ওকে দিয়ে আপনাকে কিছু শেখানো; জেরা নয়, ছোট ছোট খোঁজখবর

কিশোর বয়সে সন্তান প্রায়ই বাবা-মাকে কম চায় বলে মনে হয়, অথচ দরকার ঠিক আগের মতোই। আপনার সন্তান চুপ হয়ে গেলে দেখুন কিশোর সন্তান কথা বলে না, কী করবেন।

পারিবারিক রীতি: ঘুমের আগে গল্প, শুক্রবারের বেড়ানো আর একসঙ্গে রান্না

সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার উপায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহজ হলো ছোট ছোট রীতি: এমন কিছু কাজ, যা একইভাবে বারবার করা হয়, যাতে বাচ্চা সেটার অপেক্ষায় থাকতে পারে। ব্যস্ত সপ্তাহেও এগুলো সম্পর্ককে স্থির রাখে।

  • ঘুমের আগে গল্প, অন্ধকারে শুয়ে দিনের সবচেয়ে ভালো মুহূর্তের কথা, বা একসঙ্গে একটা দোয়া। শান্ত আধা ঘণ্টায় এটা কীভাবে রাখবেন, দেখুন শিশুর ঘুমের রুটিন লেখায়।
  • শুক্রবারের বেড়ানো: পার্কে হাঁটা, বাবার সঙ্গে মাছের বাজারে যাওয়া, নানুর বাসায় চা, বা কোনো তাড়া ছাড়া রিকশায় একটু ঘোরা।
  • একসঙ্গে রান্না: রুটি বেলা, শীতে পিঠা বানানো, শরবতের জন্য লেবু চিপে দেওয়া। হাত ব্যস্ত থাকলে বাচ্চারা প্রায়ই বেশি কথা বলে।
  • স্কুলে আনা-নেওয়ার পথে: প্রতিদিন একই ছোট প্রশ্ন, যেমন ‘আজ কী নিয়ে হাসলে?’
  • লোডশেডিংয়ের গল্প: কারেন্ট চলে গেলে অন্ধকারে বসে না থেকে টর্চ জ্বেলে একটা গল্প।
  • যা দেখছেন তা মুখে বলা: প্রতিদিন বাচ্চার একটা ভালো কাজ খেয়াল করে মুখে বলুন। আরও দেখুন বাচ্চার প্রশংসা কীভাবে করবেন।

ব্যস্ত বাবা-মা সন্তানকে সময় দেবেন কীভাবে: কর্মজীবী বাবা আর মা

লম্বা অফিস, ঢাকার যানজট আর সপ্তাহে ছয় দিন কাজ, সব মিলিয়ে অনেক বাবা-মায়ের হাতে সপ্তাহের দিনে সময় খুব কম থাকে। বাচ্চার মনে প্রায়ই কত ঘণ্টা পাশে ছিলেন তার চেয়ে বেশি থাকে, যতটুকু সময় ছিলেন, সেটুকু সত্যিই মন দিয়ে ছিলেন কি না।

যে বাবারা অনেকক্ষণ বাইরে কাজ করেন

  • রোজ এমন একটা মুহূর্ত নিজের করে নিন যা রাখতে পারবেন: একসঙ্গে নাশতা, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, বা দেরি হলেও ঘুমের সময়টা।
  • বাসায় ফিরে প্রথম দশ মিনিট দিন বাচ্চাকে, মোবাইল বা খবরের আগে।
  • শুধু আপনাদের দুজনের একটা রীতি রাখুন, যেমন শুক্রবার সকালের পরোটা, বা একসঙ্গে ছাদের গাছে পানি দেওয়া।
  • যেদিন থাকতে পারবেন না, প্রতি সন্ধ্যায় একই সময়ে ছোট একটা ফোন যোগাযোগের সুতোটা ধরে রাখে।

কর্মজীবী মায়েদের জন্য

অনেক কর্মজীবী মা অফিসের পরে বাসায় আরেক দফা কাজ সামলান, সঙ্গে অনেক অপরাধবোধ। বাচ্চার আপনার সব ঘণ্টা লাগে না; লাগে কিছু সময়, যা শুধু ওর। ঘরের কাজ স্বামী-স্ত্রী ভাগ করে নিন, যাতে একজন শুধু কাজ আর আরেকজন শুধু খেলা, এমন না হয়; দুজনেই যেন বাচ্চার সঙ্গে সময় পান। কীভাবে করবেন তা নিয়ে মতের অমিল হলে আগে দেখুন দুজন বাবা-মা, এক পরিকল্পনা।

বাংলাদেশি পরিবারে: দাদা-দাদি, গৃহকর্মী আর অনেকের আদর

অনেক বাংলাদেশি বাচ্চা অনেক মানুষের আদরে বড় হয়: দাদা-দাদি, নানা-নানি, খালা-ফুপু, কাজিন আর গৃহকর্মী। এটা আশীর্বাদ। তবে বাবা-মায়ের অনেক সময় মনে হয় তাঁরা একপাশে সরে গেছেন, বিশেষ করে যখন খাওয়ানো আর গোসলের বেশির ভাগটা দাদি-নানি বা গৃহকর্মীই করেন।

  • রোজকার এক-দুটো কাজ নিজের হাতে রাখুন: ঘুম পাড়ানো, রাতের খাবার, বা ছুটির দিনের গোসল।
  • দাদা-দাদিকে তাঁদের আদরের জন্য ধন্যবাদ দিন, আর প্রতিযোগিতা না করে নিজের সময়টা চেয়ে নিন: ‘আম্মা, আজ রাতে ওকে আমি ঘুম পাড়াই? আমাদের গল্পটা খুব মিস করছি।’
  • একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেককে আলাদা সময় দিন, দশ মিনিট হলেও; প্রত্যেকে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলে ভাইবোনের ঝগড়া প্রায়ই কমে। দেখুন ভাইবোনের ঝগড়া মেটানোর উপায়।
  • ধর্মীয় রীতিও পারিবারিক সময় হতে পারে: অনেক পরিবার একসঙ্গে নামাজের সময়, একসঙ্গে পড়া, বা রমজানে ইফতারে কাছাকাছি আসে।
  • ঘর ভাগাভাগি করা ছোট বাসায় দোকান পর্যন্ত একটু হেঁটে যাওয়াই বড় বাচ্চার সঙ্গে একান্ত আলাপের সুযোগ হতে পারে।

রাগারাগির পরে সন্তানের সঙ্গে কীভাবে মিটমাট করবেন

সব বাবা-মা-ই কখনো না কখনো চিৎকার করেন, আর সব বাচ্চাই কখনো দরজা আছড়ে দেয়। সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখে মিটমাট: আবার কাছে আসা, নিজের ভুলটুকু স্বীকার করা, আর নতুন করে শুরু করা। শান্তভাবে দুঃখ প্রকাশ করলে আপনার কর্তৃত্ব কমে না; বরং বাচ্চা দেখে, বড়রা কীভাবে নিজের ভুল শোধরায়।

  1. আগে নিজে শান্ত হোন, যতক্ষণ না গলা স্বাভাবিক হয়।
  2. বাচ্চার কাছে যান। ছোট বাচ্চা হলে ওর সমান উচ্চতায় বসুন, কিশোর হলে পাশে বসুন।
  3. কী হয়েছিল আর তাতে আপনার ভুল কোথায়, তা বলুন, কোনো ‘কিন্তু’ ছাড়া।
  4. ওর কেমন লেগেছিল, শুনুন।
  5. আবার কাছে আসুন: জড়িয়ে ধরা, একসঙ্গে একটু নাশতা, একটা খেলা। কিশোর সন্তানের বেলায় এক কাপ চা আর সাধারণ গল্পই প্রায়ই যথেষ্ট।
  6. পরের বার দুজনে কী করবেন, ঠিক করুন, আর সেটা মেনে চলুন।

মিটমাটের কথা

  • আমি চিৎকার করেছি, আমি দুঃখিত। তোমার সঙ্গে এভাবে কথা বলা আমার ঠিক হয়নি।
  • আমার রাগ হয়েছিল, কিন্তু রাগ সামলানো আমার কাজ, তোমার নয়।
  • আমরা দুজনেই রেগে গিয়েছিলাম। আবার শুরু করি?
  • ঝগড়া হলেও তোমাকে আমি ঠিক আগের মতোই ভালোবাসি।
  • পরের বার এত রাগ হলে কথা বলার আগে এক মিনিট সময় নেব।

ঝগড়াটা যদি বাচ্চার সামনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হয়ে থাকে, তখনও মিটমাট ঠিক ততটাই জরুরি; দেখুন বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে কী প্রভাব ফেলে।

সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা

ব্যস্ত সময়ের পরে আবার কাছে আসতে চাইছেন? একবারে একটা অভ্যাস বেছে নিন, প্রতিদিন বাচ্চা কীভাবে সাড়া দিচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। আজ বাচ্চার সঙ্গে একটা মধুর মুহূর্ত আর একটা টক্কর, দুটোই লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: দশ মিনিটের একান্ত সময়ের জন্য একটা সময় ঠিক করুন, আর বাচ্চাকে জানিয়ে দিন।
  3. দিন ৩: প্রথম একান্ত সময় কাটান: মোবাইল দূরে, নেতৃত্ব বাচ্চার, কোনো শেখানো নয়।
  4. দিন ৪: একটা রীতি যোগ করুন: ঘুমের আগে গল্প, স্কুলের পথে একটা প্রশ্ন, বা স্কুলের পরে একসঙ্গে নাশতা।
  5. দিন ৫: বাচ্চার একটা ভালো কাজ খেয়াল করে মুখে বলুন।
  6. দিন ৬: একটা বাচ্চাকে নিয়ে শুক্রবার বা ছুটির দিনে ছোট একটা বেড়ানোর পরিকল্পনা করুন: পার্ক, বাজার, বা নানুর বাসা।
  7. দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। মধুর মুহূর্ত কি বেড়েছে? টক্কর কি কমেছে? যা কাজে দিয়েছে রাখুন, আর একান্ত সময়টা চালিয়ে যান।

সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কখন সাহায্য নেবেন

বয়স আর জীবনের চাপের সঙ্গে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কখনো বাড়ে, কখনো কমে। তবু নিচের কোনোটা হলে ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন:

এমন হলে সাহায্য নিন

  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন বাচ্চা চুপচাপ, মন খারাপ, বা আগে যা ভালোবাসত তাতে আগ্রহ নেই।
  • বাচ্চা হঠাৎ নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা জায়গা এড়িয়ে চলে, বা হঠাৎ এমনভাবে বদলে যায় যে আপনার দুশ্চিন্তা হয়: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • নিজের শিশু বা সন্তানের প্রতি কোনো টান অনুভব করছেন না, বা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা অসাড় লাগছে। সন্তান জন্মের পরে এটা প্রায়ই হয়, আর এর জন্য সাহায্য পাওয়া যায়: দেরি না করে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার চিন্তা মাথায় এলে সেদিনই ডাক্তার দেখান, আর কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • ওপরের ধাপগুলো চেষ্টা করার পরও বেশির ভাগ দিন চিৎকার বা মারধরে শেষ হয়: ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন। বাচ্চাকে আঘাত করে ফেলতে পারেন বলে ভয় হলে বাচ্চা নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, নিজে সরে যান, আর সেদিনই সাহায্য নিন; কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • বাচ্চা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কথা বলে: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ParentMind-এ প্রতিদিনের ছোট মুহূর্তগুলো লিখে রাখতে পারেন, যেমন একটা ভালো আলাপ বা একটা কঠিন সন্ধ্যা, যাতে এক সপ্তাহে বোঝা যায় কোন জিনিস আপনাদের কাছে আনে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাচ্চাকে প্রতিদিন কতটা সময় দেওয়া দরকার?

নির্দিষ্ট কোনো পরিমাণ নেই। অনেক পরিবার দেখে, প্রতিদিন মোটামুটি দশ মিনিট মোবাইল ছাড়া পুরো মনোযোগ, সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া আর শান্ত একটা ঘুমের সময়, বাচ্চাকে কাছের মনে করায়। মাঝে মাঝে লম্বা সময়ের চেয়ে রোজকার ছোট মুহূর্ত প্রায়ই বেশি জরুরি, আর একসঙ্গে রান্না বা দোকানে হেঁটে যাওয়ার মতো সাধারণ কাজও গোনায় ধরা হয়।

অনেকক্ষণ অফিস করলে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে ভালো রাখব?

রোজ এমন একটা মুহূর্ত বেছে নিন যা সবসময় রাখতে পারবেন, যেমন নাশতা, স্কুলে পৌঁছে দেওয়া বা ঘুমের সময়, আর তখন পুরো মনোযোগ দিন। বাসায় ফিরে প্রথম দশ মিনিট মোবাইলের আগে বাচ্চাকে দিন। যেদিন থাকতে পারবেন না, একই সময়ে ফোন করুন। ছুটির দিনে শুধু আপনাদের দুজনের একটা ছোট রীতি রাখুন।

কিশোর সন্তানের সঙ্গে কি এখন আর সম্পর্ক গড়া যায়?

অবশ্যই যায়। দূরত্ব চাইছে মনে হলেও কিশোর সন্তানের বাবা-মাকে দরকার। কিশোরদের সঙ্গে কাছে আসা সাধারণত হয় পাশাপাশি থেকে: গাড়ি বা রিকশায়, রাতের নাশতায়, বা ওর গান আর গেমের মধ্য দিয়ে। উপদেশের চেয়ে বেশি শুনুন, খোঁজখবর ছোট রাখুন, আর সময় দিন; আস্থা প্রায়ই ধীরে ধীরে ফেরে।

বাচ্চাকে বকাঝকা করার পরে কীভাবে আবার কাছে আসব?

আগে নিজে শান্ত হোন, তারপর বাচ্চার কাছে যান, ওর সমান উচ্চতায় বসে বলুন আপনি কী করেছেন: ‘আমি চিৎকার করেছি, আমি দুঃখিত।’ কোনো ‘কিন্তু’ নয়। ওর কেমন লেগেছিল শুনুন, তারপর জড়িয়ে ধরে বা দুজনের পছন্দের কিছু করে আবার কাছে আসুন, আর পরের বার কী করবেন ঠিক করুন। মিটমাট আন্তরিক হলে বাচ্চারা প্রায়ই তাড়াতাড়ি ক্ষমা করে দেয়।

বাচ্চা অন্যদের চেয়ে আমার সঙ্গেই কেন বেশি খারাপ আচরণ করে?

প্রায়ই কারণ, আপনিই ওর সবচেয়ে নিরাপদ মানুষ। অনেক বাচ্চা স্কুলে বা আত্মীয়দের সামনে নিজেকে সামলে রাখে, তারপর বাসায় এসে যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে, তার কাছে ক্লান্তি আর বড় অনুভূতি উগরে দেয়। এটা সাধারণত দুর্বল সম্পর্কের লক্ষণ নয়। শান্ত আর স্থিরভাবে নিয়ম ধরে রাখুন, আর রোজ একান্ত সময় যোগ করুন।

একাধিক সন্তান থাকলে প্রত্যেককে আলাদা সময় দেব কীভাবে?

ছোট আর নিয়মিত রাখুন: প্রত্যেকের জন্য দশ মিনিট, আলাদা দিনে বা আলাদা সময়ে, যখন বাকিদের সঙ্গে অন্য একজন বড় মানুষ থাকেন, বা তারা কাছেই শান্ত কোনো কাজে ব্যস্ত থাকে। কী করবে, প্রত্যেককে নিজে বেছে নিতে দিন। ঘুমের আগের গল্প, দোকানে হেঁটে যাওয়া বা আপনার সঙ্গে রান্নায় হাত লাগানো, সবই দিনে বাড়তি ঘণ্টা ছাড়াই একান্ত সময় হতে পারে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।