মূল কনটেন্টে যান

বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে প্রভাব ফেলে কীভাবে? কী করবেন, কীভাবে মিটমাট দেখাবেন

ছোট করে উত্তর

বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সব মতবিরোধ ক্ষতিকর নয়: শান্তভাবে দ্বিমত করে শেষে মিটমাট করলে বাচ্চা শেখে কীভাবে সমস্যার সমাধান হয়। সাধারণত সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ঘন ঘন, ভয় ধরানো ঝগড়া আর কোনো এক পক্ষ নিতে বাধ্য হওয়া। পরে বাচ্চাকে আশ্বস্ত করুন, আর ওর চোখের সামনেই মিটমাট করুন। মারধর, হুমকি বা ঘরে ভয়ের পরিবেশ ‘ঝগড়া’ নয়: কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যে বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তান দেখেছে বা শুনেছে, যেকোনো বয়সে, যৌথ পরিবারসহ
মূল কথা
  • সব বয়সের বাচ্চাই ঘরের টানাপোড়েন টের পায়, বন্ধ দরজার ওপাশ থেকেও; আর ছোট বাচ্চারা প্রায়ই নিজেকেই দোষী ভাবে।
  • শান্ত মতবিরোধ, যার শেষে মিটমাট হয়, বাচ্চাকে সমস্যা মেটাতে শেখাতে পারে; ক্ষতি করে মূলত ঘন ঘন, ভয় ধরানো ঝগড়া।
  • ঝগড়ার পরে বাচ্চাকে বলুন এতে ওর কোনো দোষ নেই, আপনারা মিটিয়ে নিচ্ছেন, আর ওকে মিটমাটটা দেখতে দিন।
  • মারধর, হুমকি বা ঘরে ভয়ের পরিবেশ ঝগড়া নয়: আপনার আর আপনার সন্তানের নিরাপত্তাই আগে; কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

বাচ্চার সামনে ঝগড়া করে ফেলার পরে রাতে ঘুম আসেনি, দুশ্চিন্তা হয়েছে: এমন হলে আপনি একা নন। কখনো না কখনো বেশির ভাগ পরিবারেই বাচ্চার সামনে বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়। সবচেয়ে জরুরি হলো কত ঘন ঘন হচ্ছে, কতটা জোরে আর ভয় ধরানো, আর তারপরে কী হচ্ছে।

বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে প্রভাব কতটা ফেলে, তা অনেকটাই নির্ভর করে এই বিষয়গুলোর ওপর। নিচে পাবেন: প্রতিটা বয়সে বাচ্চা কী টের পায়, মতবিরোধ আর ঝগড়ার পার্থক্য, ঝগড়া শুরু হলে কী করবেন, বাচ্চার সামনে কীভাবে মিটমাট দেখাবেন, যৌথ পরিবারের টানাপোড়েন, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন ঘরের পরিবেশ আর নিরাপদ নয়।

বাবা-মা ঝগড়া করলে বাচ্চা কী টের পায়?

বাবা-মা যতটা ভাবেন, বাচ্চারা তার চেয়ে অনেক বেশি টের পায়: বন্ধ দরজার ওপাশে উঁচু গলা, খাবার টেবিলে থমথমে চুপচাপ ভাব, বাথরুমে কারও কান্না। কোলের শিশুও আশপাশের উত্তেজিত গলায় সাড়া দেয়। বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে প্রভাব কেমন ফেলবে, তা অনেকটাই বয়সের ওপর নির্ভর করে:

ঘরে ঝগড়া হলে বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে
বয়সযা টের পায় বা ভাবেযা চোখে পড়তে পারে
০–২ বছরউঁচু গলা, থমথমে মুখ আর তাড়াহুড়ো করে কোলে নেওয়া; কথাগুলো বোঝে নাবেশি কান্না আর আঁকড়ে থাকা, শান্ত করা কঠিন, ঘুমে বদল
৩–৬ বছরজোরে কথা আর রাগ; প্রায়ই ভাবে সে-ই কারণ: ‘আমি দুষ্টুমি করেছি বলে’জেদ আর কান্নাকাটি, আবার বিছানা ভেজানো বা আধো আধো কথা, ঝগড়া থামানোর চেষ্টা, ঘুমের সময় ভয়
৭–১২ বছরকথাগুলো আর তার মানে; কেউ চলে যাবে কি না, সেই ভয়; বাবা আর মায়ের মাঝে টানাপোড়েন অনুভব করেপেট ব্যথা, পড়ায় মন বসাতে না পারা, কারও পক্ষ নেওয়া, ‘খুব ভালো’ হয়ে থাকা বা উল্টো দুষ্টুমি
১৩–১৮ বছরকে ‘ঠিক’; মনে হতে পারে বাবা বা মাকে, বা ছোট ভাইবোনকে রক্ষা করা ওর দায়িত্বচুপ হয়ে যাওয়া, রাগ, দেরি করে বাসায় ফেরা, একজনের পক্ষ নিয়ে লড়া, টাকা-পয়সা বা পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা

একবার বড় ঝগড়ার পরে এর কয়েকটা প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক; কয়েক সপ্তাহ ধরে কী হচ্ছে, সেটাই বেশি জরুরি। বাচ্চা দুশ্চিন্তা বা রাগে ভেসে যাচ্ছে মনে হলে দেখুন শিশুর বড় বড় অনুভূতি সামলানো লেখাটি।

বাবা-মায়ের ঝগড়ায় শিশুর ক্ষতি হয় কি? মতবিরোধ আর ঝগড়ার পার্থক্য

সব মতবিরোধ বাচ্চার ক্ষতি করে না। শান্ত মতবিরোধ, যেখানে দুজনের কথাই শোনা হয় আর একটা মীমাংসা হয়, বাচ্চাকে দেখাতে পারে যে ভালোবাসার মানুষদের মধ্যেও মতের অমিল হয়, তবু সবাই নিরাপদ থাকে। কিন্তু সন্তানের সামনে ঝগড়া যদি ঘন ঘন হয়, ভয় ধরানো হয়, বাচ্চাকে নিয়ে হয়, বা কখনো না মেটে, তাহলে বাচ্চা আরও দুশ্চিন্তায় থাকতে পারে, সহজে ভেঙে পড়তে পারে, আর স্কুলে মন বসাতে কষ্ট হতে পারে।

যে মতবিরোধ শেখায়, আর যে ঝগড়া ক্ষতি করে
যে মতবিরোধ শেখাতে পারেযে ঝগড়া সাধারণত ক্ষতি করে
গলা মোটামুটি শান্ত থাকে, দুজনই কথা শেষ করতে পারেনচিৎকার, দরজা আছড়ানো, জিনিস ছুড়ে ফেলা
সমস্যা নিয়ে কথা: টাকা-পয়সা, নানুর বাসায় যাওয়া, স্ক্রিনের নিয়মমানুষটাকে নিয়ে আক্রমণ: অপমান, গালি, ঠাট্টা-বিদ্রূপ
শেষ হয় সিদ্ধান্তে, বিরতিতে, বা পরে কথা বলার পরিকল্পনায়কখনো শেষ হয় না, বা কয়েক দিনের কথা বন্ধে শেষ হয়
বাচ্চাকে এর বাইরে রাখা হয়বাচ্চাকে শুনতে, খবর আনা-নেওয়া করতে বা কোনো পক্ষ নিতে বাধ্য করা হয়
মিটমাট হয়, আর বাচ্চা তার কিছুটা দেখেমিটমাট হয় না, বা ‘সরি’ বলা হয় কিন্তু কিছু বদলায় না

বাচ্চাকে নিয়ে ঝগড়া ওর জন্য সবচেয়ে কঠিন, কারণ বাচ্চা সাধারণত শোনে ‘সব আমার দোষ’। শাসন নিয়ে মতের অমিল আড়ালে মেটান; দুজন মিলে একটা পরিকল্পনা ঠিক করতে দেখুন সন্তান পালনে বাবা-মায়ের মতের অমিল লেখাটি।

বাচ্চার সামনে ঝগড়া শুরু হয়ে গেলে কী করবেন

গলা একবার চড়ে গেলে মাঝপথে ঝগড়া থামানো কঠিন, তাই দরকার হওয়ার আগেই বিরতির পরিকল্পনা করে রাখুন।

  1. রাগ চড়ছে, টের পান: গলা উঁচু হচ্ছে, মুখ গরম হয়ে উঠছে, জেতার জেদ চাপছে। ঠিক তখনই থামুন, গতি কমান।
  2. গলা নামান আর বসে পড়ুন; বসে বসে চিৎকার করা কঠিন।
  3. আগে থেকে ঠিক করা একটা কথা দিয়ে বিরতি নিন, যেমন ‘বাকিটা রাতে কথা বলি।’
  4. কথাটা বাচ্চার সামনে থেকে সরিয়ে নিন, আর কেন সরাচ্ছেন বলুন: ‘আমরা পাশের ঘরে কথা বলব। তুমি নিরাপদ, আর এটা তোমাকে নিয়ে না।’
  5. বাচ্চাকে কখনো খবর আনা-নেওয়ার মানুষ, বিচারক বা দর্শক বানাবেন না।
  6. দুজনে শান্ত হলে আবার কথা বলুন, আর মিটিয়ে নিন বা পরের ধাপ ঠিক করুন।

তখন যা বলতে পারেন

  • আমার খুব রাগ হচ্ছে। বাচ্চারা ঘুমালে বাকিটা কথা বলি?
  • আমি জিততে চাই না। তোমার সঙ্গে মিটিয়ে নিতে চাই।
  • আমরা একে অন্যের ওপর রেগে আছি, তোমার ওপর না।
  • বড়দেরও মাঝে মাঝে মতের অমিল হয়। আমরা মিটিয়ে নেব।

ঝগড়ার পর সন্তানকে কী বলবেন: বাচ্চার সামনে কীভাবে মিটমাট দেখাবেন

বাচ্চার এমন বাবা-মা দরকার নেই, যাঁরা কখনো ঝগড়া করেন না। দরকার এটা দেখা যে সম্পর্কে ফাটল ধরলেও তা জোড়া লাগে। ঝগড়াটা বাচ্চার সামনে হয়ে থাকলে মিটমাটের কিছুটাও ওর সামনেই হোক।

  1. আগে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করুন, অন্তত এতটা যাতে একসঙ্গে শান্ত থাকতে পারেন।
  2. তারপর বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন, পারলে দুজন একসঙ্গে, অল্প কথায়, শান্তভাবে।
  3. ও যা দেখেছে, তা বলুন: ‘কাল রাতে তুমি আমাদের চিৎকার শুনেছ।’
  4. বলুন এতে ওর কোনো দোষ নেই, আর আপনারা মিটিয়ে নিচ্ছেন; বড়দের খুঁটিনাটি বাদ দিয়ে।
  5. মিটমাটটা দেখান: একে অন্যের কাছে দুঃখ প্রকাশ, স্বাভাবিকভাবে একসঙ্গে খাওয়া, নিজেদের মধ্যে একটু হাসিঠাট্টা।
  6. ওর কেমন লেগেছিল জিজ্ঞেস করুন, আর ওর অনুভূতি নিয়ে তর্ক না করে শুনুন।

ঝগড়ার পরে বাচ্চাকে যা বলতে পারেন

  • আমরা চিৎকার করছিলাম, ভয় লাগারই কথা। আমরা দুঃখিত। এখন আমরা ঠিক আছি।
  • এতে তোমার কোনো দোষ নেই। তোমার কোনো কাজের জন্য আমাদের ঝগড়া হয়নি।
  • টাকা-পয়সা নিয়ে আমাদের মতের অমিল হয়েছিল। আমরা কথা বলেছি, একসঙ্গে মিটিয়ে নিচ্ছি।
  • তোমাকে কারও পক্ষ নিতে হবে না। তুমি আমাদের দুজনকেই ভালোবাসতে পারো।
  • আমরা ঠিকভাবে সামলাইনি। এসব তোমার শোনার কথা ছিল না।
  • তোমার কেমন লেগেছিল, আমাদের বলতে চাও?

বাচ্চার সঙ্গে রাগারাগির পরেও মিটমাট একইভাবে কাজ করে; কী বলবেন আর রোজকার অভ্যাস দেখুন সন্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার উপায় লেখায়।

সন্তানকে কেন কখনো কোনো পক্ষ নিতে বাধ্য করবেন না

বাচ্চা বাবা আর মা দুজনকেই ভালোবাসে। ঠাট্টা করে হলেও কাউকে বেছে নিতে বললে ও অসম্ভব একটা জায়গায় পড়ে যায়, আর অনেক বাচ্চা সেই ভার অনেক দিন বয়ে বেড়ায়।

  • কে ঠিক, বা কাকে বেশি ভালোবাসে, জিজ্ঞেস করবেন না।
  • ওর মাধ্যমে খোঁচা দিয়ে খবর পাঠাবেন না: ‘যাও, তোমার বাবাকে বলো খাবার দেওয়া হয়েছে, ওনার যদি সময় হয়।’
  • বাচ্চার কাছে অন্যজনের, বা তাঁর পরিবারের নিন্দা করবেন না।
  • দাম্পত্যের কষ্টের কথা বলে বাচ্চার কাছে সান্ত্বনা খুঁজবেন না; এর জন্য অন্য কোনো বড় মানুষের কাছে যান।
  • বাচ্চা নিজে থেকে কারও পক্ষ নিলে আলতো করে ওকে এই ভার থেকে মুক্তি দিন: ‘এটা আমাদের বড়দের ব্যাপার। তোমাকে এটা ঠিক করতে হবে না।’

বাংলাদেশি পরিবারে: যৌথ পরিবার, শ্বশুরবাড়ি আর পাতলা দেয়াল

যৌথ পরিবারে আর ছোট বাসায় ঝগড়া খুব কমই আড়ালে থাকে, তাই বাচ্চার সামনে ঝগড়া পুরোপুরি এড়ানো কঠিন। বাচ্চা শুধু বাবা-মায়ের নয়, বাবা-মা আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের, জমিজমা নিয়ে চাচা-জ্যাঠাদের, বা দাদি আর ফুপুর ঝগড়াও শোনে। এর কিছু টানাপোড়েন মেটানো আপনার হাতে নেই, কিন্তু সবচেয়ে খারাপটা থেকে বাচ্চাকে আগলে রাখতে পারেন।

  • কঠিন কথাবার্তা বাচ্চাদের থেকে দূরে বলুন: ছাদে, হাঁটতে হাঁটতে, বা ওরা ঘুমানোর পরে; পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার টেবিলে নয়।
  • আত্মীয়রা বাচ্চার সামনে ঝগড়া করলে শান্তভাবে মাঝে আসুন: ‘এটা নিয়ে পরে কথা বলি; বাচ্চারা এখানে আছে।’
  • দাদা-দাদি আর বাবা-মায়ের মধ্যে, বা পরিবারের দুই পক্ষের মধ্যে বাচ্চাকে মাঝখানে রাখবেন না।
  • বয়স অনুযায়ী সহজ সত্যিটা বলুন: ‘জমি নিয়ে চাচা আর আব্বুর মতের অমিল হয়েছে। এটা বড়দের সমস্যা, ওনারা মিটিয়ে নেবেন।’
  • পরীক্ষার সময় পড়ার জায়গা আর ঘুম আগলে রাখুন; পরীক্ষার আগের রাতের ঝগড়া পরদিন সকালেও বাচ্চার মাথায় ঘুরতে পারে।
  • ঘরে টানাপোড়েন চললেও রুটিন ঠিক রাখুন: খাওয়া, ঘুম আর স্কুল আগের মতোই।

ঘরে শান্তভাবে মতবিরোধ সামলানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা

বাচ্চার সামনে ঝগড়া যদি অভ্যাস হয়ে গিয়ে থাকে, দুজনে মিলে এটা করে দেখুন। দিনে একটা ধাপ নিন, কী হলো লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন। এই পরিকল্পনা রোজকার মতের অমিলের জন্য; বাসায় কেউ ভয়ে থাকলে আগে নিচের নিরাপত্তার অংশটা দেখুন।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। দুজনেই লিখে রাখুন কখন উত্তেজনা বেড়েছিল, কী নিয়ে, আর বাচ্চারা তখন সামনে ছিল কি না।
  2. দিন ২: এমন একটা কথা ঠিক করুন যা দুজনের যে কেউ বলে বিরতি নিতে পারবেন, যেমন ‘বাকিটা রাতে কথা বলি’, আর কথা বলার একটা জায়গা।
  3. দিন ৩: কঠিন বিষয় নিয়ে কথা বলার একটা নিয়মিত সময় ঠিক করুন, যেমন বাচ্চারা ঘুমানোর পরে।
  4. দিন ৪: বাচ্চা সবশেষ যে ঝগড়াটা দেখেছে, তা নিয়ে ওপরের কথাগুলো দিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলুন।
  5. দিন ৫: বাচ্চাকে ছোট একটা মিটমাট দেখতে দিন: একটা ধন্যবাদ, একটু হাসিঠাট্টা, অন্যজনের জন্য বানানো এক কাপ চা।
  6. দিন ৬: বাসার বড়দের সঙ্গে পারিবারিক ঝগড়ার একটা নিয়মে একমত হোন: ‘বাচ্চাদের সামনে নয়।’
  7. দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া কি কমেছে? শেষটা কি আগের চেয়ে শান্ত? যা কাজে দিয়েছে রাখুন।

যখন এটা আর ঝগড়া নয়: আগে নিরাপত্তা, আর কখন সাহায্য নেবেন

মারধর, ধাক্কা দেওয়া, জোর করে চেপে ধরা, হুমকি, ভয় দেখাতে জিনিস ভাঙা, বা সঙ্গীর রাগের ভয়ে দিন কাটানো, এগুলো ‘ঝগড়া’ নয়। এগুলো নির্যাতন, আর যে বাচ্চা এসব দেখে বা শোনে, তারও ক্ষতি হতে পারে। আপনার আর আপনার সন্তানের নিরাপত্তাই সবার আগে।

এমন হলে সাহায্য নিন

  • বাসায় কাউকে মারা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে বা আঘাত করা হচ্ছে, বা এমন হবে বলে ভয় পাচ্ছেন: কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • বাচ্চা আঘাত পেয়েছে, বা বাসার কোনো বড় মানুষকে, বাবা বা মাকেও, ভয় পায়: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, ওকে সেই মানুষটার কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। স্থানীয় থানায় জানাতে পারেন; বাচ্চা এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • সঙ্গীকে ভয় পাচ্ছেন: একজন ডাক্তার বা বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলুন, আর জরুরি অবস্থায় আপনি আর বাচ্চারা কোথায় যেতে পারবেন, যেমন কোনো আত্মীয়ের বাসা, তা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
  • প্রায় প্রতিদিন ঝগড়া হয় বা লম্বা কথা বন্ধে শেষ হয়, আর কয়েক সপ্তাহ ধরে বাচ্চার ঘুম, পড়াশোনা বা মন ভালো নেই: বাচ্চার জন্য, আর নিজেদের জন্যও, ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
  • বাচ্চা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কথা বলে: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

নিজের রাগ যদি নিজেকেই ভয় পাওয়ায়, বা মনে হয় কাউকে আঘাত করে ফেলতে পারেন, এখনই সরে যান, সবাই নিরাপদে আছে কি না নিশ্চিত করুন, আর সেদিনই নিজের জন্য ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন। কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind-এ প্রতিদিন বাচ্চার ঘুম, মেজাজ আর আচরণ লিখে রাখতে পারেন, যাতে এক সপ্তাহে বোঝা যায় ও কেমন সামলে উঠছে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

সন্তানের সামনে ঝগড়া করলে কী হয়? এটা কি একেবারেই ঠিক না?

কখনো কখনো ঠিক আছে। শান্ত মতবিরোধ, যার শেষে একটা সমাধান আসে, বাচ্চাকে দেখাতে পারে ভালোবাসার মানুষেরা কীভাবে সমস্যা মেটায়। ক্ষতি করে মূলত সেই ঝগড়া, যা ঘন ঘন হয়, চিৎকার, অপমান বা ভয়ে ভরা, বা বাচ্চাকে নিয়ে। বড় বা ব্যক্তিগত বিষয়ের ঝগড়া আড়ালে রাখুন, আর মিটমাটটা বাচ্চাকে দেখতে দিন।

ঝগড়ার পর সন্তানকে কী বলব?

বয়স অনুযায়ী ছোট আর সত্যি কথা বলুন: আপনারা একে অন্যের ওপর রেগে ছিলেন, এতে ওর কোনো দোষ নেই, আর আপনারা মিটিয়ে নিচ্ছেন। শুধু ঝগড়ার জন্য নয়, চিৎকারের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করুন। বড়দের খুঁটিনাটি বাদ দিন, আর অন্যজনকে দোষ দেবেন না। তারপর বাচ্চাকে দেখতে দিন আপনারা আবার একে অন্যের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেন।

বাবা-মায়ের ঝগড়ায় কি বাচ্চার দুশ্চিন্তা বা ভয় তৈরি হয়?

হতে পারে। ঘরে ঘন ঘন, ভয় ধরানো ঝগড়া হলে বাচ্চা আরও দুশ্চিন্তায় থাকতে পারে, সহজে ভেঙে পড়তে পারে, ঘুম বা পড়াশোনায় সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে যদি নিজেকে দোষী ভাবে। ঝগড়া শান্ত হলে, বাচ্চার থেকে দূরে রাখলে আর পরে মিটমাট করলে বাচ্চা সাধারণত অনেক ভালোভাবে সামলে নেয়। দুশ্চিন্তার লক্ষণ আর কী করলে সাহায্য হয়, দেখুন শিশুর দুশ্চিন্তা লেখায়।

সব ঝগড়া কি বাচ্চার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা উচিত?

না, আর সেটা খুব কমই সম্ভব: চিৎকারের মতোই থমথমে চুপচাপ ভাবও বাচ্চারা স্পষ্ট টের পায়। ভালো হলো শান্তভাবে দ্বিমত করা, উত্তপ্ত বা বড়দের বিষয়, যেমন টাকার দুশ্চিন্তা বা শ্বশুরবাড়ির সমস্যা, আড়ালে নিয়ে যাওয়া, আর বাচ্চাকে দেখতে দেওয়া যে মতবিরোধের শেষ আছে। বাচ্চার সবচেয়ে বেশি জানা দরকার, সে নিরাপদ আর এতে তার দোষ নেই।

আমরা ঝগড়া করলে বাচ্চা থামাতে আসে, কী করব?

ঝগড়া থামান, আর বাচ্চাকে ধন্যবাদ দিন যে ও চিন্তা করছে। তারপর আলতো করে দায়িত্বটা ওর কাঁধ থেকে নামিয়ে দিন: ‘বড়দের সমস্যা মেটানো তোমার কাজ না। আমরা মিটিয়ে নেব।’ যে বাচ্চা বারবার থামাতে আসে, সে হয়তো ভয় পাচ্ছে বা নিজেকে দায়ী ভাবছে; তাই পরে শান্তভাবে কথা বলুন, আর দেখুন ওর সামনে কত ঘন ঘন ঝগড়া হচ্ছে।

কোলের শিশুর সামনে ঝগড়া করলে কি ওর ওপর প্রভাব পড়ে?

কোলের শিশু কথাগুলো বোঝে না, কিন্তু উঁচু গলা আর উত্তেজিত হাতে কোলে নেওয়ায় সাড়া দেয়: বেশি কাঁদতে পারে, আঁকড়ে থাকতে পারে, বা ঘুম খারাপ হতে পারে। শিশুর কাছে গলা নিচু রাখুন, শিশুকে শান্ত কোনো বড় মানুষের কোলে দিন বা ঝগড়াটা অন্য ঘরে নিয়ে যান, আর পরে শিশুকে আদর করে শান্ত করুন। একটা খারাপ সন্ধ্যার চেয়ে রোজকার শান্ত, উষ্ণ যত্ন অনেক বেশি জরুরি।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।