মূল কনটেন্টে যান

ফ্ল্যাটে বাচ্চার খেলাধুলা ও শরীরচর্চা: মাঠ ছাড়াই নড়াচড়ার ৩০টির বেশি উপায়

ছোট করে উত্তর

ফ্ল্যাটে বাচ্চার খেলাধুলা ও শরীরচর্চার মূল কথা: দিনজুড়ে ছোট ছোট সময় নড়াচড়া, যেমন কুশন দিয়ে বাধার পথ, নাচ, দড়িলাফ, বড় কারও সঙ্গে সিঁড়ি ভাঙা, আর উঁচু দেয়াল ঘেরা ছাদে শুধু বড় কারও সঙ্গে খেলা। ৩–৪ বছরের বাচ্চার দিনে অন্তত ১৮০ মিনিট নড়াচড়া দরকার; ৫–১৭ বছরে দিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলা।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
বাইরে খেলার জায়গা কম বা একেবারেই নেই, এমন ফ্ল্যাটে থাকা ৩–১৫ বছরের বাচ্চার বাবা-মা
মূল কথা
  • ৩–৪ বছরের বাচ্চার দিনে অন্তত ১৮০ মিনিট নড়াচড়া দরকার, আর ৫–১৭ বছরে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলা; ছোট ছোট সময় যোগ হয়েই হয়।
  • খালি করা একটা ঘরেই বাধার পথ, নাচ, পশুর মতো হাঁটা আর দড়িলাফ চলে; বড় কারও সঙ্গে সিঁড়িও কাজে লাগে।
  • ছাদে খেলা শুধু উঁচু, শক্ত দেয়াল থাকলে আর সঙ্গে বড় কেউ থাকলে; ছোটদের বারান্দায় খেলা নয়; ছাদ থেকে ঘুড়ি ওড়ানো নয়।
  • গরমে খেলুন সকাল সকাল বা বিকেলে, পানি আর ছায়াসহ; বর্ষায় ছোট একটা ব্যায়ামের চক্র ঘরের ভেতরে নিয়ে আসুন।

ফ্ল্যাটে বাচ্চার খেলাধুলা ও শরীরচর্চা নিয়ে ভাবছেন? শহুরে জীবনে এটা খুব সাধারণ প্রশ্ন: বাগান নেই, কাছে খেলার মাঠ নেই, বাইরে ব্যস্ত রাস্তা, আর সন্ধ্যা হতেই বাচ্চা সোফায় লাফাচ্ছে। ফ্ল্যাটে থাকা মানে খেলাধুলা বন্ধ নয়। বাচ্চার যতটা নড়াচড়া দরকার, তার বেশির ভাগই ছোট ছোট সময়ে, ঘরে আর আশপাশেই হতে পারে।

নিচে পাবেন: বয়স অনুযায়ী কতটা নড়াচড়া দরকার, জায়গা অনুযায়ী সাজানো ৩০টির বেশি খেলা, সিঁড়ি আর ছাদের নিরাপত্তা, বৃষ্টি আর গরম, সাইকেল আর রাস্তার নিরাপত্তা, আর ৭ দিনের একটা পরিকল্পনা।

বাচ্চার প্রতিদিন কতক্ষণ খেলাধুলা দরকার?

বাচ্চার প্রতিদিন নড়াচড়া দরকার, আর বেশির ভাগ শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা এর পরিষ্কার লক্ষ্য দেয়, যা একবারে পূরণ করতে হয় না:

বয়স অনুযায়ী প্রতিদিনের নড়াচড়া, আর ফ্ল্যাটে তা কেমন হতে পারে
বয়সপ্রতিদিনের লক্ষ্যফ্ল্যাটে যেমন হতে পারে
৩–৪ বছরদিনে অন্তত ১৮০ মিনিট নড়াচড়া, সারাদিন মিলিয়ে, তার কিছুটা জোরালোঅনেকগুলো ছোট ছোট সময়: নাচ, কুশন বেয়ে ওঠা, সাবানের বুদবুদ ধরা, আপনার সঙ্গে সিঁড়ি ভাঙা
৫–১২ বছরদিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলামোটামুটি ২০ মিনিট করে তিনবার: বাধার পথ, দড়িলাফ, বড় কারও সঙ্গে ছাদে ব্যাডমিন্টন
১৩–১৫ বছরদিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলাঘরে ব্যায়াম, দড়িলাফ, নাচ, স্কুলে খেলাধুলা, পার্কে সাইকেল

মাঝারি মানে শ্বাস একটু দ্রুত হয়, কিন্তু কথা বলা যায়; জোরালো মানে এতটা হাঁপিয়ে ওঠা যে কয়েকটা শব্দের বেশি বলা যায় না। লাফানো, বেয়ে ওঠা আর দড়িলাফের মতো খেলা, যাতে পেশি আর হাড় খাটে, সপ্তাহে কয়েক দিন থাকলে ভালো। পড়া বা স্ক্রিনের সামনে একটানা লম্বা সময় বসে থাকাটাও মাঝে মাঝে ভেঙে দিন; সীমাগুলো আছে বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম লেখায়।

প্রতিদিনের নড়াচড়া প্রায়ই বাচ্চাকে ভালো ঘুমাতে, পড়ায় মন বসাতে আর বড় অনুভূতি সামলাতে সাহায্য করে, আর হাড় ও পেশি মজবুত করে। গ্রামের উঠান বা বড় মাঠের তুলনায় ফ্ল্যাটে শুধু একটু বেশি পরিকল্পনা লাগে।

ছোট জায়গায় দৌড়ঝাঁপের খেলা: ফ্ল্যাটের জন্য ৩০টির বেশি ধারণা

ফ্ল্যাটে বাচ্চার খেলাধুলা শুরু হয় সাধারণত খালি করা একটা কোনা দিয়ে। একটু জায়গা খালি করুন, ধারালো কোনা বা কাচের জিনিস সরিয়ে রাখুন, আর এই সপ্তাহের জন্য দুই-তিনটা খেলা বেছে নিন। বেশির ভাগ খেলায় কুশন, একটা বল, টেপ বা দড়ি ছাড়া কিছুই লাগে না। বয়সগুলো মোটামুটি, আর ছোটদের সব খেলাতেই কাছে একজন বড় মানুষ থাকা দরকার।

বসার ঘরে বা শোবার ঘরে

ঘরের ভেতরে বাচ্চার ব্যায়াম: খালি করা একটা ঘরের জন্য ১২টি খেলা
খেলাকীভাবেবয়স
কুশনের বাধার পথটেবিলের নিচ দিয়ে হামাগুড়ি, কুশনের ওপর দিয়ে, চাদরের সুড়ঙ্গ পেরিয়ে, তারপর লাফিয়ে দরজা পর্যন্ত৩+
নাচ আর স্ট্যাচুগানের তালে নাচ; গান থামলেই সবাই স্থির৩+
পশুপাখির মতো হাঁটাভালুকের মতো হামাগুড়ি, ব্যাঙের মতো লাফ, কাঁকড়ার মতো হাঁটা, আর বকের মতো এক পায়ে দাঁড়ানো৩+
মোজার বাস্কেটবলগোল করে পাকানো মোজা বালতি বা কাপড়ের ঝুড়িতে ছোড়া, তারপর দৌড়ে কুড়িয়ে আনা৩+
গোছানোর দৌড়একটা গান শেষ হওয়ার আগেই খেলনা জায়গামতো রাখা৩+
‘রাজা বলেছে’“রাজা বলেছে লাফাও!” বা “রাজা বলেছে এক পায়ে দাঁড়াও!” শুনলে তবেই নড়বে৪+
বেলুন মাটিতে পড়বে নাহাত, মাথা আর হাঁটু দিয়ে বেলুন শূন্যে রাখা; কাছে বড় কেউ থাকবেন, আর ফাটা টুকরো সঙ্গে সঙ্গে তুলে ফেলবেন৪+
মেঝেতে লাভামেঝের এক কুশন থেকে আরেক কুশনে পা ফেলা; জানালার পাশের খাট বা সোফায় কখনো নয়৪+
টেপ দিয়ে এক্কা-দোক্কামাস্কিং টেপ দিয়ে মেঝেতে ঘর এঁকে লাফিয়ে লাফিয়ে পার হওয়া৪+
পশুপাখির মতো যোগব্যায়ামগাছ, বিড়াল আর সাপের ভঙ্গিতে স্থির থাকা, ধীরে শ্বাস নিয়ে; জোরালো খেলার পর শান্ত হতে ভালো৪+
রুমাল চুরিগোল হয়ে বসা; একজন কারও পেছনে রুমাল ফেলে দৌড়ায়, সে উঠে তাড়া করে৫+
স্টার জাম্প আর দেয়ালে পুশ-আপএকসাথে গুনে গুনে; বড়রা চাইলে প্ল্যাঙ্ক বা স্কোয়াট যোগ করতে পারে৬+

সিঁড়িতে, করিডোরে আর বিল্ডিংয়ের আশপাশে

  • বড় কারও সঙ্গে সিঁড়ি ভাঙা: একসাথে কয়েক তলা ওঠানামা, রেলিং ধরে, ধাপ গুনে গুনে।
  • করিডোরে বোলিং: প্লাস্টিকের বোতল সাজিয়ে নরম বল গড়িয়ে ফেলা, যখন কেউ যাতায়াত করছে না।
  • চওড়া করিডোরে বা নিচতলার লবিতে ফাঁকা সময়ে দড়িলাফ, কাচ, সিঁড়ি আর গ্যারেজ থেকে দূরে।
  • লম্বা প্যাসেজে স্পঞ্জের নরম বল দিয়ে ফুটবল, দুই মাথায় দুটো নরম গোলপোস্ট।
  • সিঁড়ি দিয়ে একসাথে বাজার ওঠানো, প্রত্যেকের হাতে একটা হালকা ব্যাগ।
  • ঝাড়ু আর মোছার দৌড়: ঝটপট করা ঘরের কাজও নড়াচড়ার মধ্যে পড়ে।
  • কাছের ছোটখাটো কাজে রিকশার বদলে বড় কারও সঙ্গে হেঁটে যাওয়া।

ছাদে: শুধু উঁচু, শক্ত দেয়াল থাকলে আর সঙ্গে বড় কেউ থাকলে

  • সকাল সকাল বা বিকেলে, বাতাস কম থাকলে, ব্যাডমিন্টন।
  • দড়িলাফ আর হুলাহুপ।
  • চক দিয়ে কুতকুত আর এক পায়ে লাফানোর দৌড়।
  • চোর-পুলিশ বা ছোঁয়াছুঁয়ি, পানির ট্যাংক, পাইপ আর ছাদের কিনারা থেকে দূরে।
  • নরম বলে ক্রিকেট বা লোফালুফি; বল দেয়ালের ওপারে গেলে সিঁড়ি দিয়ে নেমে আনবে, কখনো ঝুঁকে নয়।
  • দাদা-দাদির সঙ্গে ছাদে চক্কর দিয়ে হাঁটা, আর বাচ্চারা এক কোনা থেকে আরেক কোনায় দৌড়।

বাইরে: পার্ক, মাঠ আর নিরিবিলি গলি

  • কাছের পার্ক বা লেকের পাড়ে সকাল সকাল বা বিকেলে পরিবার মিলে হাঁটা বা দৌড়।
  • স্কুল অনুমতি দিলে ছুটির দিনে বা স্কুলের পরে স্কুলের মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, দৌড়ের প্রতিযোগিতা।
  • কাজিনদের সঙ্গে মাঠের পুরোনো খেলা, যেমন গোল্লাছুট, বউচি, দাঁড়িয়াবান্ধা, হা-ডু-ডু আর কানামাছি; বড় কেউ নজর রাখবেন।
  • পার্কে, ঘেরা উঠানে বা নিরিবিলি গলিতে সাইকেল, হেলমেট পরে, বড় কারও সঙ্গে।
  • যেখানে সুইমিংপুল আছে, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের কাছে সাঁতার শেখা: দারুণ শরীরচর্চা, আবার জীবন বাঁচানোর দক্ষতাও। যে কোনো পানির কাছে বড় কেউ প্রতিটা মুহূর্ত চোখ রাখবেন।
  • খোলা মাঠ বা পার্কে, বিদ্যুতের তার থেকে দূরে ঘুড়ি ওড়ানো; ছাদ থেকে কখনো নয়।
  • সামর্থ্য আর সময় থাকলে কোনো খেলা, নাচ বা মার্শাল আর্টের ক্লাস।

যা বলতে পারেন

  • ট্যাব নেওয়ার আগে চলো, বাধার পথটা দুবার পার হই। রেডি... এক, দুই, তিন!
  • রান্নাঘর পর্যন্ত ব্যাঙ হয়ে লাফিয়ে যেতে পারবে?
  • চলো, আমাদের তলা পর্যন্ত সিঁড়ি গুনে গুনে উঠি। রেলিং ধরো, আমি ঠিক পেছনেই আছি।
  • গান তুমি বাছো, নাচের ভঙ্গি আমি বাছব।
  • এখন ছাদে অনেক রোদ। বিকেলে রোদ পড়লে যাব।
  • হাঁপিয়ে গেছ! তার মানে তোমার হার্ট আর পা খুব খাটছে।

সিঁড়ি, ছাদ আর বারান্দা: খেলাধুলা নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

বিল্ডিংয়ের ভেতরে দৌড়ঝাঁপে কিছু সত্যিকারের ঝুঁকি আছে। এই নিয়মগুলো খেলাকে নিরাপদ রাখে:

  • সিঁড়ি: ছোটদের সঙ্গে সবসময় বড় কেউ, রেলিং ধরে, ভালো আলোয়, শুকনো সিঁড়িতে; নামার সময় হেঁটে, কখনো দৌড়ে নয়।
  • ছাদ: শুধু উঁচু, শক্ত দেয়াল থাকলে আর সঙ্গে বড় কেউ ছাদে থাকলে। বৃষ্টি, ঝড় বা বজ্রপাতের সময় কখনো নয়; পানির ট্যাংক, খোলা কিনারা বা নড়বড়ে রেলিংয়ের কাছে নয়। ব্যবহার না হলে ছাদের দরজায় তালা দিন।
  • ছাদে ঘুড়ি ওড়ানো নয়: আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা বাচ্চা পিছু হটতে হটতে কিনারায় চলে যেতে পারে। ঘুড়ি ওড়ান খোলা মাঠে, বিদ্যুতের তার থেকে দূরে।
  • বারান্দা ছোট বাচ্চার খেলার জায়গা নয়। চেয়ার, মোড়া আর বাক্স রেলিং ও গ্রিল থেকে দূরে রাখুন, যাতে কোনোটা বেয়ে ওঠার ধাপ না হয়ে যায়।
  • ঘরের ভেতর: কাচের টেবিল সরিয়ে রাখুন, ধারালো কোনায় কিছু মুড়ে দিন, উঁচু তাক আর টিভি দেয়ালের সঙ্গে আটকে দিন যাতে উল্টে না পড়ে, আর জানালার গ্রিল তালাবন্ধ রাখুন।
  • লিফট, জেনারেটর রুম আর বিল্ডিংয়ের গ্যারেজ খেলার জায়গা নয়; পেছনে যাওয়া গাড়ি থেকে বাচ্চাকে দেখা না-ও যেতে পারে।
  • খেলার সময় ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, বা একা কোনো ছোট শিশুর সঙ্গে রেখে যাবেন না।

বর্ষা আর গরমে বাচ্চা কীভাবে সক্রিয় থাকবে?

বৃষ্টির দিনের শরীরচর্চা

বর্ষায় পরিকল্পনাটা ঘরের ভেতরে নিয়ে আসুন। ১০ মিনিটের একটা সহজ চক্র বেশির ভাগ বয়সে চলে: এক মিনিট করে স্টার জাম্প, ব্যাঙ-লাফ, ভালুক-হামাগুড়ি, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে লাফানো আর দেয়ালে পুশ-আপ, তারপর আবার। গান চালান, পালা করে একেকজন ‘কোচ’ হোক, আর শেষে পশুপাখির মতো যোগব্যায়াম করে শান্ত হোন।

গরম আর রোদ

  • বাইরে বা ছাদে খেলুন সকাল সকাল বা বিকেলে, দুপুরের রোদে নয়।
  • খেলার আগে, মাঝে আর পরে পানি দিন; ভ্যাপসা গরমের দিনে আরও বেশি।
  • হালকা, ঢিলেঢালা সুতির কাপড় আর মাথায় টুপি; বিরতি ছায়ায়।
  • গরমে কাহিল হওয়ার লক্ষণ খেয়াল করুন: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, খুব বেশি ক্লান্তি বা চামড়া খুব গরম। খেলা থামান, ঠান্ডা জায়গায় নিন, পানি দিন, আর ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ঠান্ডা করুন।
  • গরমে বাচ্চা যদি এলোমেলো কথা বলে, অজ্ঞান হয়ে যায় বা স্বাভাবিক আচরণ না করে, ৯৯৯-এ ফোন করুন, আর অপেক্ষার সময় শরীর ঠান্ডা করতে থাকুন।

শহরে বাচ্চা কীভাবে নিরাপদে সাইকেল চালাবে আর হাঁটবে?

সাইকেল চালানো আর হাঁটা প্রতিদিনের সবচেয়ে ভালো ব্যায়ামগুলোর মধ্যে পড়ে, আর শহরের রাস্তায় এগুলোর ঝুঁকিও বেশি। মোটা দাগে:

  • প্রতিবার মাপমতো হেলমেট, আর ব্রেক নিয়মিত দেখে নেওয়া।
  • ছোট বাচ্চা সাইকেল চালাবে শুধু পার্কে, ঘেরা উঠানে বা নিরিবিলি গলিতে, বড় কারও সঙ্গে; বাস, রিকশা আর সিএনজির ভিড়ে কখনো নয়।
  • বড় বাচ্চা ব্যস্ত রাস্তায় চালাবে শুধু তখনই, যখন রাস্তার নিয়ম জানে, যানবাহন বুঝে চলতে পারে, আর আপনার সঙ্গে পথটা অনুশীলন করেছে।
  • চোখে পড়ার মতো থাকা: উজ্জ্বল রঙের জামা, আর সন্ধ্যার পর লাইট ও রিফ্লেক্টর।
  • হাঁটার সময় যানবাহনের কাছে ছোটদের হাত ধরুন, জেব্রা ক্রসিং আর ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করুন, আর পার হওয়ার আগে থামুন, দেখুন, শুনুন।
  • রাস্তা পার হওয়ার সময় ফোন আর ইয়ারফোন পকেটে, বড়দেরও।

ঢাকার ফ্ল্যাটে বাচ্চার খেলাধুলা ও শরীরচর্চা: মাঠ নেই, প্রতিবেশী আর কোচিং

ঢাকা আর অন্য শহরে অনেক বাচ্চার কাছে খেলার মাঠ নেই, আর স্কুল-কোচিং মিলিয়ে দিন লম্বা। ঢাকায় বাচ্চার খেলার জায়গা কম বলেই বাসায় কয়েকটা ছোট বোঝাপড়া কাজে দেয়:

  • নিচের তলার প্রতিবেশী। বাচ্চারা যেখানে লাফায়, সেখানে মোটা মাদুর বা কার্পেট দিন, জোরে শব্দের খেলা দিনের বেলায় রাখুন, আর সন্ধ্যার শুরুতেই থামুন।
  • যে দাদা-দাদি ঘাম, ঠান্ডা লাগা বা পড়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তা করেন। এমন হালকা খেলা দিয়ে শুরু করুন, যাতে তাঁরাও যোগ দিতে পারেন, যেমন বল গড়ানো বা ছাদে চক্কর দিয়ে হাঁটা; আর বুঝিয়ে বলুন, খেলার পর ঘামা স্বাভাবিক।
  • মেয়ে আর ছেলে, দুজনই। দুজনেরই দৌড়, লাফ, বল খেলা আর সাইকেল দরকার; মেয়েও যেন ছেলের মতোই সুযোগ পায়।
  • যে গৃহকর্মী বাচ্চাকে দেখেন। নিরাপদ তালিকাটা জানিয়ে দিন: কোন খেলা, কোথায়, আর ছাদ বা সিঁড়ি মানেই পাশে একজন বড় মানুষ।
  • কোচিংয়ে ঠাসা দিন। স্কুল, কোচিং আর হোমওয়ার্কের ফাঁকে ১০ মিনিট করে নড়াচড়া; কাছে আর নিরাপদ হলে হেঁটে কোচিংয়ে যাওয়াও হিসাবে ধরা যায়।
  • রমজান। খেলাধুলা প্রায়ই দিনের ঠান্ডা সময়ে সরে যায়, আর যে বাচ্চা রোজা রাখছে, তার জন্য হালকা খেলাই ভালো।

একই ছোট ফ্ল্যাটের জন্য শান্ত, স্ক্রিন ছাড়া খেলার ধারণা পাবেন মোবাইল ছাড়া বাচ্চাকে ব্যস্ত রাখার উপায় লেখায়; ছোটদের জন্য দেখুন ঘরে বাচ্চার সঙ্গে খেলা।

বাচ্চার নড়াচড়া বাড়াতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

একবারে একটা পরিবর্তন আনুন, বাচ্চা কতটা নড়াচড়া করল, কেমন ঘুমাল আর মেজাজ কেমন ছিল লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: বাচ্চা মোটামুটি কত মিনিট সত্যিই নড়াচড়া করল, আর কখন, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: খেলার জন্য একটা জায়গা খালি করুন, আর ধারালো, কাচের বা সহজে উল্টে পড়া জিনিস সরিয়ে দিন।
  3. দিন ৩: নির্দিষ্ট সময়ে ১০ মিনিটের একটা দফা যোগ করুন, যেমন স্কুলের আগে নাচ।
  4. দিন ৪: বিকেলের ঠান্ডায় একসাথে সিঁড়ি ভাঙুন, বা বড় কারও সঙ্গে ছাদে যান।
  5. দিন ৫: বাচ্চার সঙ্গে মিলে বাধার পথ বানান, আর পথটা কেমন হবে, ওকেই ঠিক করতে দিন।
  6. দিন ৬: ছুটির দিনে পার্ক বা মাঠে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন, কাজিন বা প্রতিবেশীদেরও ডাকুন।
  7. দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: নড়াচড়ার মিনিট, ঘুম আর মেজাজ। যা কাজে লেগেছে তা রাখুন, আর পরের সপ্তাহে আরেকটা দফা যোগ করুন।

নড়াচড়া নিয়ে কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন

জায়গা আর সঙ্গী পেলে বেশির ভাগ বাচ্চাই নড়াচড়া ভালোবাসে। নিচের কোনোটা দেখলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন:

কখন সাহায্য নেবেন

  • বাচ্চা অন্যদের চেয়ে অনেক আগেই হাঁপিয়ে যায়, খেলার সময় শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ হয় বা কাশে, বা বুকে ব্যথা হয়। অজ্ঞান হয়ে গেলে বা ঢলে পড়লে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • কোনো একটা গিরায় বা হাতে-পায়ে ব্যথা, খুঁড়িয়ে হাঁটা বা ফুলে যাওয়া কয়েক দিনের বেশি থাকলে। সঙ্গে জ্বর থাকলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • বাচ্চা সমবয়সীদের চেয়ে অনেক বেশি আনাড়ি, খুব ঘন ঘন পড়ে যায়, বা আগে পারত এমন দক্ষতা, যেমন দৌড়ানো বা বেয়ে ওঠা, হারিয়ে ফেলে।
  • পড়ে যাওয়ার বা মাথায় আঘাতের পর বাচ্চা ঝিমিয়ে পড়ে, বমি করে বা স্বাভাবিক আচরণ করে না: ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • কয়েক মাস ধরে বাচ্চা এত বেশি ছটফট করে যে বাসা আর স্কুল দুই জায়গাতেই সমস্যা হচ্ছে; কী কাজে দেয় আর কখন দেখাবেন, তা আছে খুব চঞ্চল বাচ্চা লেখায়।

ParentMind-এ প্রতিদিনের নড়াচড়া, ঘুম আর মেজাজ লিখে রাখতে পারেন, আর এক-দুই সপ্তাহে কোনো ধরন চোখে পড়ছে কি না দেখতে পারেন। ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

ঘরের ভেতরে বাচ্চাকে কীভাবে সক্রিয় রাখব?

একটানা লম্বা সময়ের বদলে ছোট ছোট দফা রাখুন: কুশনের বাধার পথ, নাচ আর স্ট্যাচু, পশুপাখির মতো হাঁটা, মোজার বাস্কেটবল, করিডোরে দড়িলাফ আর বড় কারও সঙ্গে সিঁড়ি। একটা নিরাপদ জায়গা খালি রাখুন, আর বল, দড়ি আর টেপের একটা ঝুড়ি তৈরি রাখুন। দিনে কয়েকবার ১০-২০ মিনিট করে হলেই যোগ হয়ে অনেকটা হয়।

৫ বছরের বাচ্চার প্রতিদিন কতক্ষণ খেলা দরকার?

৫ বছর থেকে বেশির ভাগ শিশু-স্বাস্থ্য নির্দেশনা দিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলার কথা বলে: এমন খেলা, যাতে শ্বাস দ্রুত হয়, যেমন দৌড়, লাফ, দড়িলাফ বা নাচ। এটা ছোট ছোট ভাগে হতে পারে। আরও ছোট, ৩–৪ বছরের বাচ্চার দিনে অন্তত ১৮০ মিনিট নড়াচড়া দরকার। অন্য ধাপগুলোর জন্য দেখুন বয়স অনুযায়ী শিশুর বিকাশ।

ছাদে বাচ্চার খেলা কি নিরাপদ?

সঠিক ছাদ আর সঙ্গে বড় কেউ থাকলে হতে পারে। চারদিকে উঁচু, শক্ত দেয়াল থাকলে আর একজন বড় মানুষ ছাদে সঙ্গে থাকলে তবেই বাচ্চা ছাদে খেলবে; বৃষ্টি, ঝড় বা বজ্রপাতের সময় কখনো নয়। পানির ট্যাংক আর কিনারা থেকে দূরে রাখুন, ঘুড়ি ওড়ান পার্কে, আর ব্যবহার না হলে ছাদের দরজায় তালা দিন।

বাসার কাছে খেলার মাঠ না থাকলে কী করব?

যা আছে তা-ই কাজে লাগান: খালি করা একটা ঘর, বড় কারও সঙ্গে সিঁড়ি, ফাঁকা সময়ে করিডোর, আর উঁচু দেয়াল ঘেরা ছাদ, সঙ্গে বড় কেউ। সপ্তাহে একবার একটু দূরে যান: পার্ক, লেকের পাড়, ছুটির দিনে স্কুলের মাঠ, বা আত্মীয়ের বাসার উঠান। অনেক পরিবার দেখেছে, সপ্তাহের একটা নির্দিষ্ট বেড়ানো থাকলে অভ্যাসটা হারিয়ে যায় না।

স্ক্রিনের বদলে বাচ্চাকে কীভাবে খেলাধুলায় আনব?

যে সময় সাধারণত স্ক্রিন আসে, ঠিক তখনই নড়াচড়াকে সহজ আর মজার বিকল্প করুন: ট্যাবের পরে নয়, আগে একটা নাচ বা বাধার পথ। প্রথম কয়েক মিনিট নিজেও যোগ দিন, দুটো খেলার মধ্যে বেছে নিতে দিন, আর খেলাটা ছোট আর হাসিখুশি রাখুন। স্ক্রিনের সময় আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন, যাতে খেলা শেষে ফোন নিয়ে ঝগড়া না হয়।

ঘরের কাজ কি বাচ্চার শরীরচর্চার মধ্যে পড়ে?

কিছুটা পড়ে, যদি তাতে ঝটপট নড়াচড়া হয়: ঝাড়ু দেওয়া, মোছা, সিঁড়ি দিয়ে হালকা বাজার তোলা, বা গোছানোর দৌড়। এতে দায়িত্ববোধও তৈরি হয়। তবে খেলার সঙ্গে মিলিয়ে নিন, কারণ দৌড়, লাফ আর বল খেলায় হার্ট, পেশি আর হাড় যে বাড়তি পরিশ্রম পায়, তা বাচ্চার দরকার।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।