মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা পড়া মনে রাখতে পারে না: মনে রাখার সহজ কৌশল

ছোট করে উত্তর

বাচ্চা পড়া মনে রাখতে পারে না? এর কারণ সাধারণত দুর্বল স্মৃতিশক্তি নয়, পড়ার ধরন। ছোট ছোট সময়ে পড়া, বই বন্ধ করে নিজেকে যাচাই, এক দিন আর এক সপ্তাহ পরে আবার রিভিশন, কাউকে পড়াটা বুঝিয়ে বলা আর যথেষ্ট ঘুম প্রায়ই বারবার পড়ার চেয়ে বেশি কাজে দেয়। রোজকার কথাও ভুলে গেলে, বা হঠাৎ বদল দেখলে ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৭–১৬ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাঁদের সন্তান ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে, তবু পরদিনই ভুলে যায় বা পরীক্ষার হলে গিয়ে সব গুলিয়ে ফেলে
মূল কথা
  • শেখার কিছুদিনের মধ্যে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক: বারবার মনে না করলে স্মৃতি ফিকে হয়ে যায়। যে বাচ্চা পড়া মনে রাখতে পারে না, তার সাধারণত বেশি ঘণ্টা নয়, রিভিশনের অন্য একটা ধরন দরকার।
  • বই বন্ধ করে নিজেকে যাচাই করা আর কয়েক দিনে ভাগ করে রিভিশন দেওয়া সাধারণত বারবার পড়া বা পরীক্ষার আগের রাতে সব একসঙ্গে পড়ার চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেয়।
  • দিনে যা শেখা হয়, তার অনেকটাই ঘুমের মধ্যে মনে গেঁথে যায়: ৬–১২ বছরের বাচ্চার দিনে-রাতে মিলিয়ে ৯–১২ ঘণ্টা, আর কিশোরদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার।
  • বাচ্চা রোজকার কথাও ভুলে গেলে বা হঠাৎ বদলে গেলে ডাক্তার দেখান। মাসের পর মাস পড়াশোনা কঠিন থাকলে স্কুল আর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, চোখ আর কান পরীক্ষা করান।

বাচ্চা পড়া মনে রাখতে পারে না, এই দৃশ্য হয়তো আপনি অনেকবার দেখেছেন: এক ঘণ্টা টেবিলে বসা, রাতে পুরো অধ্যায় গড়গড় করে বলা, আর সকালে বা পরীক্ষার হলে গিয়ে সব উধাও। দোষটা অলসতা বা দুর্বল স্মৃতিশক্তির ঘাড়ে চাপানো সহজ। কিন্তু সাধারণত কারণটা এর কোনোটাই নয়।

বেশির ভাগ ভুলে যাওয়ার পেছনে থাকে পড়ার ধরন: বারবার একই পাতা পড়া, না বুঝে মুখস্থ, পরীক্ষার আগের রাতে সব একসঙ্গে পড়া আর কম ঘুম। পড়ার ধরনে কয়েকটা বদল আনলে অনেক সময় একটা বাড়তি ঘণ্টা ছাড়াই বড় পার্থক্য হতে পারে। নিচে পাবেন: মনে রাখা কীভাবে কাজ করে, পড়া কেন ভুলে যায়, সাতটি কৌশল, ঘুম, কোন বয়সে কী কাজে দেয়, বাসায় মুখস্থের অভ্যাস, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।

পড়া মনে থাকে কীভাবে? সহজ ভাষায় স্মৃতির কাজ

পড়া মনে রাখার কাজটা হয় তিন ধাপে, আর যেকোনো ধাপেই পড়া হারিয়ে যেতে পারে:

  1. খেয়াল করা। আগে মন দিতে হয়। আধখানা চোখ মোবাইলে রেখে, বা দুশ্চিন্তা নিয়ে পড়লে, পড়াটা অনেক সময় মনে ঢোকেই না।
  2. ধরে রাখা। নতুন তথ্য অল্প সময়ের জন্য থাকে একটা ছোট “কাজের স্মৃতিতে”, যেন একটা নোটপ্যাড, যাতে মাত্র কয়েক লাইন ধরে। একসঙ্গে বেশি ঢোকালে আগের লাইনগুলো মুছে যায়।
  3. জমা রাখা আর আবার মনে করা। বাচ্চা যতবার স্মৃতি থেকে কোনো পড়া টেনে বের করে, সেখানে পৌঁছানোর পথটা ততই পোক্ত হয়। যে পড়া আর কখনো মনে করা হয় না, তা ফিকে হয়ে যায়।

বেশির ভাগ বাচ্চা এই শেষ ধাপটাই বাদ দেয়। বারবার পড়লে মনে হয় শেখা হচ্ছে, কারণ শব্দগুলো চেনা লাগে; কিন্তু পাতা দেখে চেনা আর বই বন্ধ করে মনে করতে পারা এক জিনিস নয়। যা কাজে দেয় তা হলো ঠিক সময়ে পড়াটা আবার মনে করা, এক বসায় বেশিবার পড়া নয়।

বাচ্চা পড়া ভুলে যায় কেন?

“পড়া মুখস্থ হয় না”, “পড়ে এসে সব ভুলে যায়”: অভিযোগ এক হলেও সব বাচ্চা একই কারণে ভোলে না। কখন আর কীভাবে ভুলে যায়, খেয়াল করুন; এই ধরনটাই প্রায়ই কারণ দেখিয়ে দেয়, আর কী করে দেখবেন তাও:

ভুলে যাওয়ার সাধারণ ধরন, পেছনে কী থাকতে পারে, আর কী করে দেখবেন
যা চোখে পড়েপেছনে যা থাকতে পারেযা করে দেখবেন
রাতে পারে, সকালে সব ফাঁকাশুধু বারবার পড়ে শেখা, কখনো যাচাই হয়নি; কম ঘুমঘুমের আগে আর ঘুম থেকে উঠে ছোট্ট একটা যাচাই; ঘুম ঠিক রাখা
উত্তর গড়গড় করে বলতে পারে, কিন্তু বুঝিয়ে বলতে পারে না, বা প্রশ্ন ঘুরিয়ে দিলে পারে নানা বুঝে মুখস্থআগে নিজের ভাষায় একটা উদাহরণসহ বুঝিয়ে বলা
অধ্যায়ের শুরুটা মনে থাকে, শেষটা থাকে নাএক বসায় অনেক বেশি পড়াছোট ছোট সময়ে ভাগ করে, একবারে অল্প অংশ, মাঝে বিরতি
বাসায় পারে, পরীক্ষার হলে গিয়ে মাথা ফাঁকাদুশ্চিন্তায় মনে পড়ে না; বই ছাড়া উত্তর দেওয়ার অনুশীলন হয়নিবাসায় বই বন্ধ রেখে, হালকা সময় বেঁধে প্রশ্নের উত্তর লেখার অনুশীলন
কোচিং বা লম্বা দিনের পর সব ভুলে যায়ক্লান্তি আর খিদে; এক পড়ার ওপর আরেক পড়া চাপা পড়াআগে নাশতা আর একটু বিরতি; ৫ মিনিট দিনের পড়াগুলো মনে করা
শুধু পড়া নয়, নির্দেশ, জিনিসপত্র, গতকাল কী হয়েছিল, সবই ভুলে যায়মনোযোগ, ঘুম, চোখ, কান, দুশ্চিন্তা বা কোনো শারীরিক সমস্যা হতে পারেডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন (শেষ অংশ দেখুন)

সমস্যাটা যদি মূলত টেবিলে বসে মন ধরে রাখায় হয়, শুরু করুন পড়ায় মনোযোগ বাড়ানোর উপায় দিয়ে। আর মূলত পরীক্ষার আগের দুশ্চিন্তা হলে দেখুন পরীক্ষার ভয় ও চাপ।

পড়া মনে রাখার কৌশল: ৭টি উপায়

এই কৌশলগুলো মোটামুটি ৭ বছর বয়স থেকে বেশির ভাগ বাচ্চার জন্য উপযোগী, আর কতক্ষণ পড়ছে তার চেয়ে কীভাবে পড়ছে সেটাই বেশি জরুরি। একসঙ্গে সাতটা নয়, একটা-দুটো দিয়ে শুরু করুন:

  1. আগে বোঝা, তারপর মুখস্থ। হুবহু মুখস্থের আগে বাচ্চা বিষয়টা নিজের ভাষায় একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলবে। হুবহু মুখস্থ রাখুন শুধু যেখানে দরকার: কবিতা, সংজ্ঞা, সূত্র।
  2. বই বন্ধ করে মনে করা। একটা অংশ পড়ার পর বাচ্চা বই বন্ধ করে যা মনে আছে সব লিখবে বা বলবে, তারপর মিলিয়ে দেখবে কী বাদ পড়ল। এভাবে মনে করা বারবার পড়ার চেয়ে কঠিন লাগে, আর এই কষ্টটুকুই স্মৃতিকে পোক্ত করে।
  3. ভাগ করে রিভিশন। এক সন্ধ্যায় পাঁচবার না পড়ে, নতুন পড়াটা পরের কয়েক দিনে কয়েকবার ফিরিয়ে আনুন (নিচের সময়সূচি দেখুন)।
  4. অন্যকে পড়িয়ে শেখা। ছোট ভাইবোন, দাদি-নানি, এমনকি সারি করে রাখা পুতুলকে পড়া বুঝিয়ে বললে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় বাচ্চা আসলে কতটা জানে: যেখানে আটকে যায়, ফাঁকটা সেখানেই।
  5. পড়ার মধ্যে মানে খুঁজে দেওয়া। নতুন বিষয়টাকে জানা কিছুর সঙ্গে জুড়ে দিন, ছবি এঁকে ফেলুন, তালিকাকে ছড়া বা গল্প বানান, বা জিজ্ঞেস করুন “কেন?”। যে পড়ার মানে আছে, পরে তা খুঁজে পাওয়া সহজ।
  6. মিশিয়ে অনুশীলন। কয়েকটা বিষয় শেখা হয়ে গেলে এক বসায় বিভিন্ন অধ্যায় থেকে মিশিয়ে প্রশ্ন করুন, বিশেষ করে গণিত আর বিজ্ঞানে, যাতে বাচ্চা কোন প্রশ্নে কোন নিয়ম খাটবে তা বেছে নেওয়ার অনুশীলন পায়।
  7. ছোট ছোট সময়, মোবাইল দূরে। মাঝে বিরতি দিয়ে ছোট ছোট মনোযোগী সময়ে পড়া, মোবাইল অন্য ঘরে রেখে: মোটামুটি ৮–১০ বছরে ২০ মিনিট, ১১–১৩ বছরে ২৫–৩০ মিনিট, আর ১৪ বছর থেকে ৩০–৪৫ মিনিট।

রিভিশনের নিয়ম: নতুন পড়া ভাগ করে ফিরিয়ে আনার সহজ সময়সূচি

নতুন পড়া কখন আবার ফিরিয়ে আনবেন (মোটামুটি হিসাব, কড়া নিয়ম নয়)
কখনকী করবেনকতক্ষণ
সেদিনইবই বন্ধ করে মূল কথাগুলো মনে করা, কী বাদ পড়ল মিলিয়ে দেখামোটামুটি ৫–১০ মিনিট
পরদিনআগে আবার মনে করা; শুধু ফাঁকগুলো আবার পড়ামোটামুটি ৫ মিনিট
৩–৪ দিন পরেকয়েকটা প্রশ্ন, বা কাউকে পড়াটা বুঝিয়ে বলামোটামুটি ১০ মিনিট
মোটামুটি এক সপ্তাহ পরেঅন্য বিষয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ছোট্ট একটা কুইজমোটামুটি ১০ মিনিট
পরীক্ষার আগেবই বন্ধ করে প্রশ্নের উত্তর লেখা, তারপর মিলিয়ে দেখাশেষ এক-দুই সপ্তাহে ভাগ করে

পড়ার সময় যা বলতে পারেন

  • বইটা বন্ধ করো, যা মনে আছে আমাকে বলো। তারপর দুজনে মিলিয়ে দেখব।
  • এমনভাবে আমাকে পড়াও, যেন আমি এটা কখনো শুনিইনি।
  • ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। এর মানে এখন আবার মনে করার সময়, তুমি পারো না তা নয়।
  • এখন ৫ মিনিট মনে করে দেখো, তারপর ঘুম। ঘুম পড়াটা মনে গেঁথে রাখতে সাহায্য করে।

পড়া মনে রাখতে ঘুম কেন এত জরুরি

দিনে যা শেখা হয়, তার অনেকটাই ঘুমের মধ্যে গুছিয়ে জমা হয়; তাই রাতে কম ঘুম লম্বা সন্ধ্যার পড়াকেও নষ্ট করে দিতে পারে। ৬–১২ বছরের বাচ্চার দিনে-রাতে মিলিয়ে ৯–১২ ঘণ্টা আর ১৩–১৮ বছরের কিশোরদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার, পরীক্ষার সময়েও ঠিক ততটাই।

  • ঘুমানোর ঠিক আগে কাগজে, স্ক্রিনে নয়, ছোট্ট একটা যাচাই, তারপর বাতি নেভানো; সকালে আরেকবার ঝটপট মনে করা।
  • ঘুমের আগের এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন নয়, আর রাতে মোবাইল শোবার ঘরের বাইরে।
  • পরীক্ষার আগে সারা রাত জাগা নয়: ক্লান্ত মাথা সাধারণত ভালো করে শেখা জিনিসও কম মনে করতে পারে।
  • দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলা, যা প্রায়ই ঘুমেও সাহায্য করে।

বাচ্চা অনেক রাত পর্যন্ত পড়লে, যথেষ্ট ঘুম রেখে কখন শুতে যাবে তা দেখুন রাত জেগে পড়া না ভোরে উঠে পড়া লেখায়।

বয়স অনুযায়ী মনে রাখার কৌশল: ৭ থেকে ১৬ বছর

বয়স অনুযায়ী মনে রাখা আর রিভিশন (মোটামুটি হিসাব)
বয়সমনে রাখতে সবচেয়ে কাজে দেয়বাবা-মা যেভাবে সাহায্য করতে পারেন
৭–৯ বছরজোরে বলা, ছবি আঁকা, ছড়া আর খেলা; প্রতিটা ছোট অংশের পরপরই অল্প একটু মনে করাকাছাকাছি বসা; জিজ্ঞেস করা “আজ একটা কী শিখলে বলো তো”; চাপ নয়, মজা করে প্রশ্ন
১০–১২ বছরফ্ল্যাশকার্ড, বই বন্ধ করে মনে করা, ছোট ভাইবোনকে পড়ানো, সহজ করে ভাগ করে রিভিশনসপ্তাহের রিভিশনের তালিকা বানাতে সাহায্য করা; বাচ্চা যাকে পড়াবে, সেই “ছাত্র” হওয়া
১৩–১৬ বছরপ্রশ্নের অনুশীলন, আগের বছরের প্রশ্ন, কয়েকটা বিষয় মিশিয়ে রিভিশন, নিজের বানানো সময়সূচিকত ঘণ্টা পড়ল নয়, পরিকল্পনাটা কী জানতে চাওয়া; ঘুম আর শান্ত পরিবেশ আগলে রাখা; ওকেই সামনে থাকতে দেওয়া

আমাদের বাসায় পড়া মনে রাখা: মুখস্থ, কোচিং আর লম্বা দিন

আমাদের দেশে অনেক বাচ্চা মুখস্থ করে শেখে: উত্তর জোরে জোরে পড়তে থাকে, বই ছাড়া বলতে পারা পর্যন্ত। অনেক বাবা-মাও এভাবে শিখেছেন, আর কিছু জিনিসের জন্য এটা কাজেও দেয়। কিন্তু যে বাচ্চা পড়া মনে রাখতে পারে না, সে প্রায়ই মানে না বুঝে শুধু শব্দগুলো মুখস্থ করেছে; আর যে প্রশ্নে বিষয়টা বুঝিয়ে বলতে বা কাজে লাগাতে হয়, শুধু মুখস্থ দিয়ে তার উত্তর দেওয়া কঠিন।

  • জোরে পড়া: থাকুক, কিন্তু একটা ধাপ যোগ করুন। একটা অংশ জোরে পড়ার পর বাচ্চা বই বন্ধ করে নিজের ভাষায় বলবে; পড়াটা ইংরেজিতে হলে আগে বাংলায়।
  • গাইড বই আর কোচিংয়ের শিট: উত্তর মুখস্থের জন্য নয়, নিজের উত্তর মিলিয়ে দেখার জন্য ব্যবহার করুন। আগে নিজে উত্তর লিখে তারপর মিলিয়ে দেখলে সাধারণত বেশি শেখা হয়।
  • লম্বা দিন: স্কুল, কোচিং আর বাসার টিউটর মিলে এক পড়ার ওপর আরেক পড়া এমনভাবে চাপে যে কিছুই মনে বসে না। হোমওয়ার্কের আগে ৫ মিনিট দিনের পড়াগুলো মনে করলে প্রায়ই আরও এক ঘণ্টা নতুন পড়ার চেয়ে বেশি কাজ হয়।
  • দাদা-দাদি, নানা-নানি যখন ছাত্র: নানু বা দাদু যদি বাচ্চার “পড়ানো” মন দিয়ে শোনেন, তাতে পড়া মনে রাখতে সাহায্য হয়, দুজনের সম্পর্কও গাঢ় হয়।
  • লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা: বাতি চলে গেলে মুখে মুখে কুইজ খেলুন। চেষ্টা ছাড়াই এটা হয়ে যায় বই বন্ধ করে মনে করার অনুশীলন। টর্চ বা চার্জার লাইট ব্যবহার করুন, আর মোমবাতি বিছানা ও পর্দা থেকে দূরে রাখুন।
  • “মেধা বাড়ানোর” টনিক: বাচ্চার স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর উপায় বলে বিক্রি হওয়া টনিক, বিশেষ খাবার বা সাপ্লিমেন্ট এই অভ্যাসগুলোর বিকল্প নয়। নিয়মিত খাবার, পানি, ঘুম আর খেলাধুলাই বেশি জরুরি; কোনো সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বাচ্চা পড়া মনে রাখতে পারে না? ৭ দিনের পরিকল্পনা

রিভিশনের কৌশলগুলো একবারে একটা করে চেষ্টা করাই সহজ: একটা কঠিন বিষয় বেছে নিন, প্রতিদিন একটা জিনিস বদলান, প্রতি সন্ধ্যায় এক লাইনে লিখুন বাচ্চা কী মনে করতে পারল, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন। কিছু না বদলে বাচ্চাকে বই বন্ধ রেখে গতকালের পড়াটা মনে করতে বলুন, আর মোটামুটি কতটা মনে ছিল লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: আগে বোঝা। নতুন কিছু মুখস্থের আগে বাচ্চা আপনাকে নিজের ভাষায় একটা উদাহরণসহ বুঝিয়ে বলবে।
  3. দিন ৩: বই বন্ধ। প্রতিটা ছোট পড়ার পর বাচ্চা খালি কাগজে যা মনে আছে লিখবে, তারপর মিলিয়ে দেখবে।
  4. দিন ৪: ফিরিয়ে আনুন। নতুন কিছু ধরার আগে ৫ মিনিট দিন ২ আর দিন ৩-এর পড়া মনে করে নিন।
  5. দিন ৫: কাউকে পড়াক। এই সপ্তাহের পড়াটা বাচ্চা ভাইবোন, দাদা-দাদি বা আপনাকে বুঝিয়ে পড়াবে।
  6. দিন ৬: ঘুম আগলে রাখুন। ঘুমের আগে ছোট্ট করে মনে করা, ঠিক সময়ে বাতি নেভানো, মোবাইল শোবার ঘরের বাইরে।
  7. দিন ৭: মিলিয়ে দেখুন। বই বন্ধ রেখে আবার দিন ১-এর পড়াটা জিজ্ঞেস করুন। আগের চেয়ে বেশি মনে পড়ছে? যা কাজে দিয়েছে রাখুন, আর পরের সপ্তাহে আরেকটা কৌশল যোগ করুন।

কখন ভুলে যাওয়া নিয়ে সাহায্য নেবেন?

অভ্যাস বদলালে আর যথেষ্ট ঘুম হলে বেশির ভাগ ভুলে যাওয়া কমে আসে। তবে কিছু ধরন ডাক্তার বা স্কুলের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার:

এমন হলে ডাক্তার বা স্কুলের সঙ্গে কথা বলুন

  • শুধু পড়া নয়, রোজকার কথাও ভুলে যায়: এক মিনিট আগে কী বললেন, গতকাল কী হয়েছিল, বা আগে যা নিজে পারত তা কীভাবে করতে হয়। শিগগির ডাক্তার দেখান।
  • হঠাৎ বদল: আগে ঠিকঠাক পারত, এখন অনেক কিছু ভুলে যায়, বিভ্রান্ত বা খুব ঘুম ঘুম লাগে, নতুন করে মাথাব্যথা হয়, বা মাথায় আঘাত পাওয়ার পর থেকে বদলে গেছে। শিগগির ডাক্তার দেখান। পড়ে গিয়ে বা মাথায় আঘাতের পর বাচ্চা ঝিমিয়ে পড়লে, বমি করলে বা স্বাভাবিক আচরণ না করলে, কিংবা জ্বর বা ঘাড় শক্ত হওয়ার সঙ্গে বিভ্রান্ত দেখালে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • এসব বদলের পরও কয়েক মাস ধরে পড়া মনে রাখতে কষ্ট হচ্ছে, বা পড়া, লেখা বা অঙ্কে সহপাঠীদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকছে। ক্লাস টিচার আর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন; শেখার কোনো সমস্যা আছে কি না, তাঁরা দেখে নিতে পারবেন।
  • চোখ বা কানের লক্ষণ: বোর্ড দেখতে চোখ কুঁচকানো, বই খুব কাছে ধরা, পড়ার পর মাথাব্যথা, প্রায়ই ভুল শোনা বা বারবার “কী?” বলা। চোখ আর কান পরীক্ষা করান।
  • হঠাৎ স্থির তাকিয়ে থাকা: কয়েক সেকেন্ডের জন্য বাচ্চা যেন “হারিয়ে যায়”, প্রায়ই দিনে অনেকবার, ডাকলে সাড়া দেয় না, তারপর যেন কিছুই হয়নি এমনভাবে চলতে থাকে। শিগগির ডাক্তার দেখান।
  • ভুলে যাওয়ার সঙ্গে মন খারাপ, ঘুমের সমস্যা, স্কুলে যেতে না চাওয়া, বা বুলিং কিংবা নির্যাতনের কোনো লক্ষণ: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা বললে: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন, এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।

পড়ার ধরনে বদলের ফল প্রায়ই ধীরে আসে, দিনে নয়, সপ্তাহে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো, যেমন বাচ্চা কতটা মনে করতে পারল আর কেমন ঘুমাল, তা নোট করতে আর ধরন দেখতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

পড়ে এসে সব ভুলে যায়, পরদিন কিছু মনে থাকে না, এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, এটা খুব সাধারণ। নতুন পড়া আবার মনে না করলে এক-দুই দিনের মধ্যে তার অনেকটাই সবাই ভুলে যায়, আর সাধারণত এর মানে পড়াটা শুধু বারবার পড়া হয়েছে, মনে করে দেখা হয়নি। সেদিন সন্ধ্যায় আর পরদিন ৫ মিনিট করে বই বন্ধ রেখে মনে করলে প্রায়ই স্পষ্ট পার্থক্য হয়। বাচ্চা রোজকার কথাও ভুলে গেলে ডাক্তার দেখান।

পড়া মনে রাখতে বাচ্চাকে কীভাবে সাহায্য করব?

প্রতিটা ছোট অংশের পর থামতে বলুন, বই বন্ধ করে নিজের ভাষায় আপনাকে বলতে বলুন সেখানে কী ছিল। তারপর কী বাদ পড়ল মিলিয়ে দেখতে দিন। একই অংশ পরদিন আর কয়েক দিন পরে আবার ফিরিয়ে আনুন। ছবি এঁকে ফেলা, চেনা কিছুর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া আর কাউকে বুঝিয়ে বলা, সবই পড়া মনে রাখতে সাহায্য করে।

মুখস্থ করে পড়া কি বাচ্চার জন্য খারাপ?

সবসময় নয়। কিছু জিনিস হুবহু মুখস্থ করা কাজের, যেমন কবিতা, নামতা, সংজ্ঞা আর সূত্র। সমস্যা হয় যখন মুখস্থ বোঝার জায়গা নিয়ে নেয়: বাচ্চা উত্তর গড়গড় করে বলতে পারে, কিন্তু বুঝিয়ে বলতে বা নতুন প্রশ্নে কাজে লাগাতে পারে না। আগে বুঝে তারপর মুখস্থ করলে সাধারণত বেশি দিন মনে থাকে।

বাসায় সব পারে, কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে ভুলে যায় কেন?

প্রায়ই দুশ্চিন্তার কারণে মনে করা কঠিন হয়, আর বাসায় বই কাছে থাকায় বাচ্চা উত্তরগুলো আসলে মনে করেনি, শুধু চিনেছে। বাসায় বই বন্ধ রেখে হালকা সময় বেঁধে প্রশ্নের উত্তর লেখার অনুশীলন কাজে দেয়। পরীক্ষার শুরুতে কয়েকবার ধীরে শ্বাস নেওয়া আর আগের রাতে ভালো ঘুমও সাহায্য করে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর টনিক বা বিশেষ খাবারে কি পড়া মনে থাকে?

কোনো ওষুধ, টনিক বা বিশেষ খাবার ভালো স্মৃতির শর্টকাট নয়। যা কাজে দেয় তা হলো নিয়মিত খাবার, বিশেষ করে স্কুলের আগে সকালের নাশতা, যথেষ্ট পানি, যথেষ্ট ঘুম আর প্রতিদিন খেলাধুলা, সঙ্গে রিভিশনের ভালো উপায়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বাচ্চাকে কোনো সাপ্লিমেন্ট বা টনিক দেবেন না।

একটা পড়া মনে রাখতে কতবার রিভিশন দিতে হয়?

নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই, আর কতবার তার চেয়ে কখন সেটাই বেশি জরুরি। এক-দুই সপ্তাহে ভাগ করে কয়েকবার ছোট করে মনে করা, যেমন সেদিন, পরদিন, কয়েক দিন পরে আর এক সপ্তাহ পরে, সাধারণত এক সন্ধ্যায় বহুবার পড়ার চেয়ে বেশি কাজে দেয়। প্রতিবার শুরু হোক বই বন্ধ রেখে।

চোখে কম দেখা বা কানে কম শোনার কারণে কি বাচ্চা পড়া ভুলে যেতে পারে?

বাইরে থেকে তেমনই মনে হতে পারে। যে বাচ্চা বোর্ড পরিষ্কার দেখতে পায় না বা শিক্ষকের কথা ঠিকমতো শোনে না, সে হয়তো পড়াটা ঠিকমতো মাথায় নিতেই পারেনি, তাই মনে রাখার মতো তেমন কিছু থাকে না। চোখ কুঁচকানো, বই কাছে ধরা, পড়ার পর মাথাব্যথা বা প্রায়ই “কী?” বলা খেয়াল করুন, আর চোখ ও কান পরীক্ষা করান।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।