মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখা কখন নিরাপদ? বাবা-মায়ের জন্য প্রস্তুতির চেকলিস্ট

ছোট করে উত্তর

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখার নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই, তবে অনেক বাচ্চা মোটামুটি ১১–১২ বছরের আগে অল্প সময়ের জন্যও একা থাকার মতো প্রস্তুত হয় না। বয়সের চেয়ে প্রস্তুতি বেশি জরুরি: প্রস্তুত বাচ্চা নিয়ম মানে, শান্ত থাকে, আপনাকে ফোন করতে জানে আর দরকারে ৯৯৯-এ কল করতে পারে। দিনের আলোয় অল্প সময় দিয়ে শুরু করুন। ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, আর ছোট্ট শিশুর সঙ্গেও একা নয়।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ৮–১৪ বছরের সন্তানের বাবা-মা, বিশেষ করে কর্মজীবী বাবা-মা, যাঁরা স্কুল ছুটির পরের সময়টা নিয়ে ভাবছেন
মূল কথা
  • নির্দিষ্ট কোনো সঠিক বয়স নেই: অনেক বাচ্চা মোটামুটি ১১–১২ বছরের আগে একা থাকার মতো প্রস্তুত হয় না, কারও আরও সময় লাগে।
  • প্রস্তুতি বোঝা যায় আচরণে: আপনি না দেখলেও নিয়ম মানা, শান্ত থাকা, আর দরজা, চুলা ও জরুরি অবস্থায় কী করতে হবে তা জানা।
  • আগে পরিষ্কার নিয়ম ঠিক করুন: দরজা বন্ধ, গ্যাসের চুলা বন্ধ, রান্না নয়, বারান্দা বা ছাদে নয়, ফোনে চার্জ, দরজার পাশে নম্বর, জরুরি অবস্থায় ৯৯৯।
  • দিনের আলোয় অল্প সময় দিয়ে শুরু করুন, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ান। ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, আর ছোট্ট শিশুর সঙ্গেও একা নয়।

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখা কখন নিরাপদ, এই প্রশ্ন অনেক কর্মজীবী বাবা-মায়ের মনে আসে, যখন অফিস ছুটির অনেক আগেই স্কুল ছুটি হয়ে যায়। হয়তো গৃহকর্মী চলে গেছেন, দাদা-দাদি বা নানা-নানি বাসায় নেই, বা আপনাকে মাত্র ২০ মিনিটের জন্য বাজারে যেতে হবে। সত্যি উত্তর হলো, এটা জন্মদিনের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভর করে বাচ্চার ওপর, আর প্রস্তুতি ধাপে ধাপে গড়ে তোলা যায়।

এই লেখা নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ পরামর্শ, আইনি পরামর্শ নয়। স্কুল থেকে ফিরে বাসায় একা থাকা নিয়ে নিচে পাবেন: প্রস্তুতি কীভাবে বুঝবেন, একটা চেকলিস্ট, আগে থেকে যে নিয়ম ঠিক করবেন, অপরিচিত মানুষ আর জরুরি অবস্থা নিয়ে কী বলবেন, কীভাবে অল্প দিয়ে শুরু করবেন, ভাইবোন আর ছোট্ট শিশু, আমাদের ফ্ল্যাটের বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন অপেক্ষা করবেন।

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখা কখন নিরাপদ? বয়সের চেয়ে প্রস্তুতি জরুরি

সব জায়গায় খাটে এমন কোনো একটা আইনি বয়স নেই, আর এমন কোনো বয়সও নেই যখন সব বাচ্চা প্রস্তুত। শিশু-নিরাপত্তার নির্দেশনায় প্রায়ই ধরা হয়, অনেক বাচ্চা মোটামুটি ১১–১২ বছরের আগে অল্প সময়ও একা সামলাতে পারে না, কারও আরও সময় লাগে। নিচের টেবিলটা মোটামুটি ধারণা হিসেবে নিন, নিয়ম হিসেবে নয়:

বাসায় একা থাকা: বয়স অনুযায়ী মোটামুটি ধারণা (আগে বাচ্চার প্রস্তুতি)
বয়স (মোটামুটি)সাধারণত যা নিরাপদযা অনুশীলন করাবেন
মোটামুটি ৮ বছরের কমকখনো বাসায় একা নয়, আপনি নিচে নামলেও কয়েক মিনিটের জন্যও নয়পুরো ঠিকানা আর আপনার ফোন নম্বর; কখনো দরজা না খোলা
মোটামুটি ৮–১০ বছরবেশিরভাগের এখনো বাসায় বড় কাউকে লাগে; আপনি অন্য ঘরে বা খুব কাছে থেকে অনুশীলন করানফোন, দরজার নিয়ম, ঠান্ডা নাশতা, বিদ্যুৎ চলে গেলে কী করবে
মোটামুটি ১১–১২ বছরপ্রস্তুত অনেক বাচ্চা দিনের বেলায় অল্প সময় দিয়ে শুরু করতে পারে, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ানোফোনে খোঁজ দেওয়া, গ্যাস আর চুলার নিয়ম, ৯৯৯-এ ফোন, কিছু গোলমাল হলে শান্ত থাকা
মোটামুটি ১৩–১৪ বছরপ্রস্তুত কিশোর-কিশোরী প্রায়ই দিনের বেলায় আরও বেশি সময় সামলাতে পারে; রাতভর নয়প্রাথমিক চিকিৎসার মূল কথা, অতিথি বা ফোন সামলানো, চুলা ছাড়া সহজ খাবার

রাতভর একা রাখা একেবারে আলাদা ব্যাপার: বাচ্চা বা কম বয়সী কিশোর-কিশোরীকে রাতে একা রাখা উচিত নয়। ছোট ভাইবোনকে দেখে রাখাও একা থাকার চেয়ে বড় দায়িত্ব; এ নিয়ে নিচে আলাদা অংশ আছে।

বাচ্চা কি বাসায় একা থাকার মতো প্রস্তুত? প্রস্তুতির চেকলিস্ট

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখা কখন নিরাপদ, তার সবচেয়ে কাজের উত্তর এই চেকলিস্ট। সৎভাবে মিলিয়ে দেখুন, সম্ভব হলে স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে বসে; প্রথমবার একা রাখার আগে বেশিরভাগ লাইনের উত্তর পরিষ্কার “হ্যাঁ” হওয়া দরকার:

  • বাচ্চা নিজে চেষ্টা করতে চায়, আর ভাবনাটা তাকে ভয় পাইয়ে দেয় না।
  • কোনো বড় মানুষ না দেখলেও জরুরি নিয়মগুলো মানে।
  • ফ্ল্যাট নম্বর, রাস্তা আর পরিচিত একটা চিহ্নসহ পুরো ঠিকানা, আর আপনার ফোন নম্বর মুখস্থ জানে।
  • আপনাকে আর ভরসার আরেকজন বড় মানুষকে ফোন করতে পারে, আর জানে কখন ৯৯৯-এ ফোন করতে হয়।
  • কিছু গোলমাল হলে, যেমন বিদ্যুৎ চলে গেলে বা পানি পড়ে গেলে, মোটামুটি শান্ত থাকে।
  • কেউ দরজায় নক করলে, বেল বাজালে বা ফোন করলে কী করতে হবে, জানে।
  • চুলা ছাড়াই ঠান্ডা নাশতা আর পানি নিয়ে খেতে পারে, আর হোমওয়ার্ক, বই বা খেলায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারে।
  • নিয়ম ভাঙলেও কী হয়েছিল, সত্যি করে বলে।

৯ বা ১০ বছরে কয়েকটার উত্তর “এখনো না” হওয়া স্বাভাবিক। এর মানে কিছু গোলমাল নয়, বরং কী অনুশীলন করাতে হবে তার ইঙ্গিত। আগে যে রোজকার দক্ষতাগুলো লাগে, তা আছে বাচ্চাকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো লেখায়।

প্রথমবার একা রাখার আগে যে নিয়মগুলো ঠিক করবেন

একসঙ্গে বসে ছোট একটা নিয়মের তালিকা করুন, একটা কার্ডে লিখে রাখুন, আর আপনি বাসায় থাকতেই অনুশীলন করান:

  1. দরজা: বন্ধ রাখবে, আর কারও জন্যই খুলবে না, এমনকি কেউ যদি বলে গ্যাস বা বিদ্যুৎ অফিস থেকে এসেছে, কুরিয়ার, আত্মীয়, বা “তোমার আম্মু পাঠিয়েছে”। কেউ আসার কথা থাকলে আপনি আগেই ফোন করে জানাবেন।
  2. গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকবে: রান্না নয়, চুলা জ্বালানো নয়, ইস্ত্রি নয়, মশার কয়েল নয়, মোমবাতি নয়। লোডশেডিং হলে চার্জার লাইট বা টর্চ।
  3. গ্যাসের গন্ধ পেলে: কোনো সুইচ ছোঁবে না, কিছু জ্বালাবে না, লিফটে উঠবে না। ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে পাশের বাসায় বা দারোয়ানের কাছে যাবে, তারপর সেখান থেকে আমাকে ফোন করবে। আগুন লাগলে বা কেউ আঘাত পেলে ৯৯৯-এ ফোন করবে।
  4. বারান্দা, ছাদ আর জানালা: বারান্দা আর ছাদে যাবে না, জানালা দিয়ে ঝুঁকবে না, আর গ্রিলের কাছে আসবাবে উঠবে না।
  5. ফোন: চার্জ দিয়ে কাছে রাখবে। দরজার পাশে নম্বরের একটা কার্ড থাকবে: আপনার, আরেকজন বড় মানুষের, প্রতিবেশীর, বিল্ডিংয়ের দারোয়ানের, আর ৯৯৯।
  6. খোঁজ দেওয়া: বাসায় ঢুকে আর কিছু বদলালে আপনাকে ফোন বা মেসেজ করবে। আগে থেকে ঠিক না থাকলে বাইরে যাবে না, বন্ধুদেরও ডাকবে না।
  7. অনলাইনে আর ফোনে: কাউকে বলবে না যে একা আছ, আর কোথায় আছ তা পোস্ট করবে না। অনলাইনের অপরিচিত মানুষ নিয়ে আরও আছে অনলাইনে শিশুর নিরাপত্তা লেখায়।

নিরাপত্তার কথা: অপরিচিত মানুষ আর জরুরি অবস্থা নিয়ে যা বলবেন

ভয়ের গল্পের চেয়ে শান্ত আলোচনা আর তারপর অনুশীলন সাধারণত বেশি কাজে দেয়। জিজ্ঞেস করুন “যদি এমন হয়, তুমি কী করবে?”, বাচ্চাকে উত্তর দিতে দিন, তারপর দরজায় নক বা একটা ফোন কলের অভিনয় করে দেখুন। শুধু অপরিচিত মানুষই ঝুঁকি নয়: কেউ যদি বাচ্চাকে আপনার কাছে কিছু গোপন রাখতে বলে, বা তাকে অস্বস্তিতে ফেলে, সেই মানুষের কথাও আপনাকে জানাতে হবে। এ নিয়ে কীভাবে কথা বলবেন, তা আছে গুড টাচ ব্যাড টাচ শেখানো লেখায়।

যা বলতে পারেন

  • কেউ দরজায় নক করলে দরজা খুলবে না। বলতে পারো, “পরে আসুন,” তারপর আমাকে ফোন করবে।
  • কেউ যদি বলে আমি পাঠিয়েছি, তবুও খুলবে না। আমি সবসময় আগে তোমাকে ফোন করব।
  • কেউ ফোন করে আমাকে চাইলে বলবে আমি ব্যস্ত আছি, পরে ফোন করতে। একা আছ, এটা বলবে না।
  • গ্যাসের গন্ধ পেলে বা ধোঁয়া দেখলে আগে ফ্ল্যাট থেকে বের হবে, তারপর আমাকে ফোন করবে।
  • ভয় লাগলে বা কিছু ঠিক মনে না হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে ফোন করবে। এর জন্য তুমি কোনো বকা খাবে না।
  • আগুন লাগলে আগে সিঁড়ি দিয়ে বের হয়ে যাবে, লিফটে নয়, তারপর ৯৯৯-এ ফোন করবে। কেউ গুরুতর আঘাত পেলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ ফোন করবে।

সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসার দুটো সহজ ধাপও শেখান। পুড়ে গেলে: পোড়া জায়গা মোটামুটি ২০ মিনিট কলের ঠান্ডা পানির নিচে রাখবে; টুথপেস্ট, তেল বা বরফ লাগাবে না, তারপর আপনাকে ফোন করবে। কেটে গেলে: পরিষ্কার কাপড় দিয়ে জোরে চেপে ধরবে, তারপর আপনাকে ফোন করবে।

কীভাবে শুরু করবেন: আগে অল্প সময়, তারপর ধীরে ধীরে বাড়ানো

  1. আপনি বাসায় থেকেই অনুশীলন: আপনি আধা ঘণ্টা অন্য ঘরে থাকুন, আর বাচ্চা এমনভাবে দরজা, ফোন আর নাশতা সামলাক যেন সে একা।
  2. প্রথম আসল চেষ্টা: দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য বাইরে যান, যেমন ১৫–৩০ মিনিট মোড়ের দোকানে বা প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে, ফোন চালু রেখে।
  3. প্রথম কয়েকবার মাঝপথে একবার ফোন করুন; পরে বাচ্চাকেই আপনাকে ফোন করতে দিন।
  4. পরে কথা বলুন: কী ভালো গেল, কী অদ্ভুত লাগল, কোন নিয়ম মানতে কষ্ট হলো।
  5. কয়েকবার শান্তভাবে পার হওয়ার পরই কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান, আর শুরুতে দিনের আলো আর সন্ধ্যার শুরুর মধ্যেই রাখুন।
  6. কিছু গোলমাল হলে এক ধাপ পিছিয়ে যান। এটা ব্যর্থতা নয়, শুধু আরেকটু অনুশীলন।

ভালো যাচ্ছে বোঝার লক্ষণ: কথামতো ফোন করে, দরজা আর চুলার নিয়ম মানে, আর পরে শান্ত, এমনকি একটু গর্বিত মনে হয়।

ভাইবোন, ছোট্ট শিশু, আর বাসায় কাকে বড় মানুষ ধরবেন

  • ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, আর ছোট্ট শিশুর সঙ্গেও একা নয়। ছোট ভাইবোনের যত্নে হাত লাগানো সুন্দর, কিন্তু দেখে রাখার দায়িত্ব বড়দের।
  • স্কুলে পড়া ছোট ভাই বা বোনের দায়িত্ব নেওয়া একা থাকার চেয়ে বড় ধাপ। এটা সাধারণত মানায় বড়, দায়িত্বশীল কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে, যে আগে একা ভালোভাবে সামলেছে; তাও দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য, আর ঝগড়া নিয়ে পরিষ্কার নিয়ম রেখে।
  • বাসায় দাদা-দাদি বা নানা-নানি থাকলে তাঁকে বড় মানুষ ধরা যায় তখনই, যখন তিনি দরজার শব্দ শুনতে, ফোন করতে আর জরুরি অবস্থায় ব্যবস্থা নিতে পারেন। তিনি দুর্বল বা অসুস্থ হলে উল্টো বাচ্চাকেই হয়তো তাঁর দেখাশোনা করতে হবে।
  • গৃহকর্মীর সঙ্গে থাকা বাচ্চা একা নয়, তবু একই নিয়ম ঠিক করুন আর যোগাযোগ রাখুন; এ নিয়ে আছে গৃহকর্মী ও বাসায় শিশুর দেখাশোনা লেখায়।
  • নিচ থেকে দারোয়ান, ড্রাইভার বা প্রতিবেশীর “খেয়াল রাখা” আর বাসায় বড় কেউ থাকা এক কথা নয়। এটাকে বাড়তি ভরসা ধরুন, দেখাশোনা নয়।

আমাদের ফ্ল্যাটে: দারোয়ান, প্রতিবেশী, লোডশেডিং আর লিফট

ঢাকার ফ্ল্যাটে, বা দেশের যেকোনো শহরে, কিছু নিজস্ব বিষয় আগে থেকে ভেবে রাখতে হয়:

  • বিল্ডিংয়ের দারোয়ান: মূল গেট বন্ধ রাখতে, আর কাউকে আপনার ফ্ল্যাটে ওঠার আগে আপনাকে ফোন করতে বলুন।
  • ভরসার একজন প্রতিবেশী: পাশের ফ্ল্যাটের একজন খালা বা আঙ্কেল, যিনি জানেন বাচ্চা বাসায় থাকতে পারে, আর বিপদে বাচ্চা যাঁর কাছে ছুটে যেতে পারে, সত্যিকারের ভরসা।
  • লোডশেডিং: অন্ধকারে বাচ্চা খুঁজে পায় এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া চার্জার লাইট বা টর্চ রাখুন; মোমবাতি বা কুপি নয়। ঘরের ভেতরেই থেকে বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষা করবে।
  • লিফট: লোডশেডিংয়ের সময় সিঁড়ি ব্যবহার করবে বা অপেক্ষা করবে। লিফট আটকে গেলে অ্যালার্ম চাপবে, আপনাকে বা দারোয়ানকে ফোন করবে, আর জোর করে দরজা না খুলে শান্তভাবে অপেক্ষা করবে।
  • গ্যাস: বের হওয়ার আগে নিজে চুলার নব আর গ্যাসের লাইন দেখে নিন। গ্যাস নিয়ে বাচ্চার একটাই কাজ: বের হয়ে যাওয়া আর ফোন করা।
  • অফিসের দিন: বাবা-মা অফিসে থাকলে বাচ্চা একা স্কুল থেকে ফিরলে প্রায়ই নাশতা, বিশ্রাম আর হোমওয়ার্কের একটা নির্দিষ্ট রুটিন দরকার হয়। একসঙ্গে সন্ধ্যা কাটানোর উপায় আছে কর্মজীবী বাবা-মা ও সন্তানের সঙ্গে মানসম্মত সময় লেখায়।

নিরাপদে শুরু করতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

এক সপ্তাহ সময় নিন প্রস্তুতি আর অনুশীলনের জন্য, আর বাচ্চা প্রস্তুত হলে প্রথমবার অল্প সময় একা রাখার জন্য। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: বাচ্চা কী ভালো পারল, আর কী কঠিন লাগল।

  1. দিন ১: একসঙ্গে প্রস্তুতির চেকলিস্ট মিলিয়ে দেখুন, প্রতিটা লাইনে “হ্যাঁ” বা “এখনো না” লিখুন।
  2. দিন ২: বাসার নিয়ম ঠিক করুন, কার্ড লিখে দরজার পাশে লাগিয়ে দিন।
  3. দিন ৩: দরজা আর ফোনের অনুশীলন: আপনি নক করুন, বেল বাজান বা ফোন করুন, আর বাচ্চা কথামতো উত্তর দিক।
  4. দিন ৪: গ্যাস আর আগুনের পরিকল্পনা, আর পোড়া ও কাটার প্রাথমিক চিকিৎসা অনুশীলন করুন, আর একসঙ্গে হেঁটে প্রতিবেশী বা দারোয়ানের কাছে যান।
  5. দিন ৫: আপনি ৩০ মিনিট অন্য ঘরে থাকুন, আর বাচ্চা এমনভাবে চলুক যেন সে একা।
  6. দিন ৬: বাচ্চা প্রস্তুত হলে দিনের আলোয় প্রথমবার অল্প সময় চেষ্টা করুন, ১৫–৩০ মিনিট, মাঝে একবার ফোনে খোঁজ নিয়ে।
  7. দিন ৭: একসঙ্গে কথা বলুন। নিয়ম মেনেছে তো, ঠিকঠাক লেগেছে তো? পরের সপ্তাহে আবার অল্প সময় চেষ্টা করুন, নয়তো আবার অনুশীলনে ফিরে যান।

কখন অপেক্ষা করবেন, আর কখন সাহায্য নেবেন

আরও অপেক্ষা করা সবসময়ই ঠিক আছে। নিচের কোনোটি দেখলে থামুন, বা সাহায্য নিন:

এসব দেখলে অপেক্ষা করুন বা সাহায্য নিন

  • বাচ্চা একা থাকতে ভয় পায়, আপনাকে যেতে না দেওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি করে, বা পরে শান্ত হতে পারে না: অপেক্ষা করুন, আর আপনি কাছে থেকে অনুশীলন চালিয়ে যান।
  • বাচ্চা একাধিকবার জরুরি কোনো নিয়ম ভাঙে, যেমন দরজা খোলা বা চুলা জ্বালানো: আবার চেষ্টার আগে অনুশীলনে ফিরে যান।
  • বাচ্চা হঠাৎ বাসা, বিল্ডিং বা নির্দিষ্ট কোনো মানুষকে ভয় পেতে শুরু করলে: নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • অনলাইনে বা ফোনে কেউ জানতে চায় বাচ্চা একা কি না, বা দেখা করার ব্যবস্থা করতে চায়: সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান, আর বাচ্চা দেখা করতে চলে গেলে, তাকে খুঁজে না পেলে বা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • জরুরি অবস্থা, যেমন আগুন, গ্যাসের গন্ধের সঙ্গে কেউ অসুস্থ বোধ করা, গুরুতর আঘাত, বা কেউ জোর করে ঢুকতে চাওয়া: ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • লম্বা সময় একা থাকার পর বাচ্চাকে একাকী, মন খারাপ বা সারাক্ষণ স্ক্রিনে ডুবে থাকতে দেখলে: একা থাকার সময় কমান, সঙ্গের ব্যবস্থা করুন, আর দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখা কখন নিরাপদ, এর উত্তর প্রতিটা পরিবারে একটু আলাদা, আর প্রস্তুতি বাড়ে ছোট ছোট ধাপে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন প্রথম কয়েকটা বিকেল একা কেমন গেল, আর বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

১০ বছরের বাচ্চা একা থাকতে পারবে কি?

অনেক ১০ বছরের বাচ্চা এখনো প্রস্তুত নয়, আর অনেক বাচ্চা মোটামুটি ১১–১২ বছরের আগে একা থাকার মতো প্রস্তুত হয় না। বয়স নয়, প্রস্তুতির চেকলিস্ট দেখে ঠিক করুন। ১০ বছরে দক্ষতাগুলো অনুশীলন করান: আগে আপনি অন্য ঘরে, তারপর আপনি খুব কাছে থাকতে কয়েক মিনিট, যেমন প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটে। ১০ বছরের বাচ্চার কাছে কখনো ছোট্ট শিশু বা ছোট ভাইবোনকে রেখে যাবেন না।

বাচ্চাকে বাসায় একা রাখার কি কোনো আইনি বয়স আছে?

সব জায়গায় খাটে এমন একটা আইনি বয়স নেই, আর এই লেখা আইনি পরামর্শ নয়। বিদেশে থাকলে সেখানকার নিয়ম দেখে নিন। বাসায় সবচেয়ে জরুরি হলো প্রস্তুতি: বাচ্চা নিয়ম মানে, শান্ত থাকে, আপনার নম্বর আর ঠিকানা জানে, আর জরুরি অবস্থায় ৯৯৯-এ ফোন করতে পারে।

১১ বছরের বাচ্চাকে কতক্ষণ একা রাখা যায়?

অল্প দিয়ে শুরু করুন: দিনের আলোয় ১৫–৩০ মিনিট, মাঝে একবার ফোনে খোঁজ নিয়ে। কয়েকবার শান্তভাবে পার হলে আর বাচ্চা নিয়ম মানলে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে সময় বাড়ান, হয়তো দিনের বেলায় এক-দুই ঘণ্টা পর্যন্ত। শুরুতে সন্ধ্যার সময়টা ছোট রাখুন, রাতভর কখনো নয়, আর বাচ্চাকে দুশ্চিন্তায় বা একাকী মনে হলে আবার সময় কমান।

বড় ভাই বা বোন কি ছোট ভাইবোনকে দেখে রাখতে পারে?

ছোট্ট শিশু বা হাঁটতে শেখা ছোট ভাইবোনের সঙ্গে কোনো বাচ্চাকে একা রাখবেন না; তাদের দেখাশোনা বড়দের কাজ। স্কুলে পড়া ছোট ভাই বা বোনের দায়িত্ব নেওয়া একা থাকার চেয়ে বড় ধাপ। এটা সাধারণত মানায় বড়, দায়িত্বশীল কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে, যে আগে একা ভালোভাবে সামলেছে; তাও দিনের বেলায় অল্প সময়ের জন্য, ঝগড়া আর দরজা নিয়ে পরিষ্কার নিয়ম রেখে।

একা থাকার সময় কেউ দরজায় নক করলে বাচ্চা কী করবে?

কেউ আসবে বলে আপনি আগে ফোন করে না জানালে, যে-ই হোক, দরজা খুলবে না। বাচ্চা চুপ থাকতে পারে, বা একা আছে না বলে দরজার ভেতর থেকে বলতে পারে “পরে আসুন”, তারপর আপনাকে ফোন করবে। কেউ জোর করে ঢুকতে চাইলে বাচ্চা আগে ৯৯৯-এ, তারপর আপনাকে ফোন করবে।

একা থাকার আগে বাচ্চাকে কী শেখাবেন?

পুরো ঠিকানা আর আপনার নম্বর, দরজার নিয়ম, গ্যাসের চুলা বন্ধ থাকবে, গ্যাসের গন্ধ পেলে কী করবে, কখন ৯৯৯-এ ফোন করবে, আর পোড়া ও কাটার সহজ প্রাথমিক চিকিৎসা শেখান। আপনি বাসায় থাকতেই অভিনয় করে প্রতিটা অনুশীলন করান, তারপর দিনের বেলায় অল্প সময় চেষ্টা করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

প্রি-টিন (১০–১২ বছর): আরও গাইড

প্রি-টিন: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।