১১ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ: বয়ঃসন্ধি, বন্ধু, পড়া আর কোনটা স্বাভাবিক
ছোট করে উত্তর
১১ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ: এই বয়সে বাচ্চা সাধারণত শৈশব থেকে প্রি-টিন বয়সে পা রাখে; অনেক মেয়ের বয়ঃসন্ধি চলছে, অনেক ছেলের শুরু হচ্ছে, মেজাজ আর তর্ক বাড়ে, বন্ধুর গুরুত্ব বাড়ে, আর অনেকে ক্লাস সিক্সে নতুন স্কুলে যায়। বেশির ভাগের ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি মন খারাপ থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
লেখাটি শুনুন
১৮ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ১১ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তান সাধারণত ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে পড়ে
- মূল কথা
- ১১ বছরে অনেক মেয়ের বয়ঃসন্ধি চলছে আর অনেক ছেলের শুরু হচ্ছে; ঘামের গন্ধ, ব্রণ আর হঠাৎ লম্বা হওয়া খুব সাধারণ আর স্বাভাবিক।
- ১১ বছরে মেজাজ, চোখ উল্টানো আর মুখে মুখে তর্ক সাধারণত বাড়ে; লম্বা উপদেশের চেয়ে শান্ত সীমা আর রোজ অল্প সময়ের গল্প বেশি কাজে দেয়।
- ক্লাস সিক্স মানে অনেক সময় নতুন স্কুল, বেশি বিষয় আর বেশি কোচিং; বেশির ভাগ বাচ্চা সময় আর সহায়তা পেলে মানিয়ে নেয়।
- বেশির ভাগ ১১ বছরের বাচ্চার দরকার ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম আর দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ; আর যেকোনো স্মার্টফোনের আগে মোবাইলের নিয়ম ঠিক করে নেওয়া।
১১ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ নিয়ে অনেক বাবা-মা অবাক হন: যে বাচ্চা কদিন আগেও হাসিখুশি গল্প করত, সে এখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে, জোরে দরজা বন্ধ করে, আর গোসলখানায় অনেকক্ষণ কাটায়। এগারো প্রায়ই সেই বছর, যখন শৈশব প্রি-টিন বয়সের দিকে বাঁক নেয়: শরীর বদলায়, বন্ধু আর গ্রুপ চ্যাটের গুরুত্ব বাড়ে, আর অনেকে ক্লাস সিক্সে নতুন স্কুলে যায়। এই ভাবভঙ্গির নিচে বেশির ভাগ ১১ বছরের বাচ্চা এখনো আপনাকে কাছে চায়।
প্রত্যেক বাচ্চা নিজের গতিতে বড় হয়, তাই এই লেখাকে পরীক্ষা নয়, গাইড হিসেবে পড়ুন। নিচে পাবেন: ১১ বছরে বিকাশ আর বয়ঃসন্ধি, মেজাজ আর ভাবভঙ্গি, বন্ধু আর ভালো লাগা, ক্লাস সিক্সে ওঠা, ঘুম আর মোবাইল, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
১১ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ: এই বয়সে কী কী বদলায়?
এগারো বছরের বেশির ভাগ বিকাশ মানে নতুনভাবে ভাবতে শেখা আর নিজের অনেক কিছু নিজে সামলানো, ঠিক যখন শরীরও বদলাতে শুরু করে। এগুলো মোটামুটি ধারণা; এক দিকে এগিয়ে আর আরেক দিকে একটু পিছিয়ে থাকা সাধারণত চিন্তার নয়।
| দিক | বেশির ভাগ ১১ বছরের বাচ্চা যা করে | আপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন |
|---|---|---|
| শরীর | হঠাৎ লম্বা হওয়া, প্রায়ই মেয়েদের আগে; খুব খিদে; ঘামের গন্ধ, তৈলাক্ত ত্বক আর ব্রণ; হাত-পা দ্রুত বাড়ায় একটু আনাড়ি ভাব | রোজ গোসল, নিয়মিত খাবার, আর দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ |
| ভাবনা | বিমূর্ত ভাবনা ধরতে শুরু করে, সাদা-কালোর মাঝখানটা দেখে, নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে, আর বড়দের কথা-কাজের অমিল ধরে ফেলে | নিজের কারণ বুঝিয়ে বলুন, ওর মত জানতে চান, খাবার টেবিলে সত্যিকারের বিষয় নিয়ে কথা বলুন |
| পড়াশোনা | বেশি বিষয় আর লম্বা প্রজেক্ট সামলায়, কিন্তু পরিকল্পনা আর জিনিসপত্রের খেয়াল রাখার দক্ষতা এখনো তৈরি হচ্ছে | সপ্তাহের একটা পরিকল্পনা, স্কুলব্যাগের নির্দিষ্ট জায়গা, আর ভুলে গেলে ধৈর্য |
| বন্ধু | দলে মানিয়ে চলা বেশি জরুরি; গ্রুপ চ্যাট শুরু; কাউকে প্রথম ভালো লাগা, আর তা নিয়ে ক্ষেপানো | ওর বন্ধুদের চিনুন, গ্রুপ চ্যাটের নিয়ম ঠিক করুন, ভালো লাগা নিয়ে কখনো ঠাট্টা নয় |
| অনুভূতি | মেজাজ বেশি ওঠানামা করে; চেহারা নিয়ে সচেতন; লোকজনের সামনে বাবা-মাকে নিয়ে লজ্জা, অথচ আড়ালে এখনো কাছে থাকতে চায় | শান্ত থাকুন, গোপনীয়তা দিন, রোজ শুধু আপনাদের দুজনের একটা মুহূর্ত রাখুন |
| স্বাধীনতা | জামা, সময় আর টাকা নিয়ে নিজের মত বেশি চায়; যেখানে নিরাপদ, সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে চেনা জায়গায় অল্প সময়ের জন্য বের হতে পারে | একটা একটা ধাপে স্বাধীনতা বাড়ান, সঙ্গে খোঁজ দেওয়ার পরিষ্কার নিয়ম |
আগের বছরটা দেখুন আপনার ১০ বছরের সন্তান লেখায়, আর ৯ থেকে ১২ বছরের পুরো সময়টা দেখুন প্রি-টিন বয়সী সন্তান লেখায়।
১১ বছরে বয়ঃসন্ধি: শরীরের পরিবর্তন, পরিচ্ছন্নতা আর কী বলবেন
মেয়েদের বয়ঃসন্ধি সাধারণত শুরু হয় মোটামুটি ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে, আর ছেলেদের ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে; তাই ১১ বছরের ছেলেমেয়ের পরিবর্তন এখন চোখে পড়ার মতো: অনেক মেয়ের বয়ঃসন্ধি চলছে, অনেক ছেলের শুরু হচ্ছে। এই সময়ের সাধারণ পরিবর্তন:
- মেয়েদের: স্তন বড় হওয়া, হঠাৎ লম্বা হওয়া, বগলে লোম, অন্তর্বাসে সাদা স্রাব, আর কারও কারও প্রথম পিরিয়ড। অনেক মেয়ের পিরিয়ড শুরু হয় মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
- ছেলেদের: অণ্ডকোষ আর লিঙ্গ বড় হতে শুরু করে, তারপর শরীরে লোম; গলার স্বর ভাঙা আর বড় করে লম্বা হওয়া সাধারণত পরে আসে, আর স্বপ্নদোষ প্রায়ই শুরু হয় ১২–১৩ বছরের দিক থেকে।
- দুজনেরই: ঘাম আর গায়ের গন্ধ বাড়া, তৈলাক্ত চুল আর ত্বক, ব্রণ, খুব খিদে, আর বেশি ক্লান্তি।
এই বছরের সবচেয়ে কাজের বিষয় হলো পরিচ্ছন্নতা। রোজ গোসল, রোজ পরিষ্কার জামা আর অন্তর্বাস, চাইলে ডিওডোরেন্ট, আর আলতো করে মুখ ধোয়া গন্ধ আর ব্রণে সাহায্য করে, আত্মবিশ্বাসেও। কথাটা নরমভাবে আর আড়ালে বলুন; গন্ধ বা ব্রণ নিয়ে ঠাট্টা করলে বাচ্চা লুকাতে শেখে।
কী বলবেন, তার ভাষা পাবেন মেয়ের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলা আর ছেলের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলা লেখায়।
১১ বছরের শিশুর স্বাভাবিক আচরণ: মেজাজ, ভাবভঙ্গি আর তর্ক
১১ বছরের সন্তান কেন এমন করে? অনেক বাবা-মায়ের কাছে ১১ বছর ১০-এর চেয়ে কঠিন লাগে। হরমোন, ক্লান্তি, স্বাধীনতার বাড়তি ইচ্ছা, আর এমন একটা মস্তিষ্ক যা অনুভূতি তীব্রভাবে টের পায় কিন্তু সামলাতে এখনো শিখছে, সব একসঙ্গে আসে। এগুলো খুব সাধারণ, আর সাধারণত ভয়ের কিছু নয়:
- চোখ উল্টানো, দীর্ঘশ্বাস, ‘তুমি বুঝবে না’, আর শোবার ঘরের বন্ধ দরজা।
- সবকিছু নিয়ে তর্ক, আর আপনি নিজের নিয়ম ভাঙলে প্রতিবার ধরিয়ে দেওয়া।
- ছোট ব্যাপারে হঠাৎ কান্না বা রাগ, প্রায়ই ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত অবস্থায়।
- হোমওয়ার্ক ভুলে যাওয়া, জিনিস হারানো, কাজ আধা ফেলে রাখা, কারণ ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে পরিকল্পনার দক্ষতা এখনো তাল মেলাচ্ছে।
- লোকজনের সামনে বাবা-মাকে নিয়ে লজ্জা, আবার ঘুমের আগে কাছে থাকার ইচ্ছা।
১১ বছরের বাচ্চা যখন রেগে উত্তর দেয় বা দরজা জোরে বন্ধ করে
- প্রথমবার সুর নয়, কথাটার জবাব দিন: ‘মনে হচ্ছে আজকের দিনটা খারাপ গেছে।’
- অভদ্র হয়ে গেলে শান্তভাবে সীমাটা বলুন: ‘রাগ করতেই পারো। কিন্তু আমার সঙ্গে এভাবে কথা বলা চলবে না।’
- কিছুক্ষণ দরজা বন্ধই থাকুক; রাগের মুহূর্তে কথা বলা সবচেয়ে কঠিন।
- পরে সহজ কিছু নিয়ে ফিরে আসুন, যেমন একটু নাশতা, আর মুখোমুখি নয়, পাশাপাশি বসে কথা বলুন।
- ঝগড়ার পরে সম্পর্কটা জোড়া দিন: ‘আমি চেঁচিয়েছি, সরি’ বলাটা যেকোনো উপদেশের চেয়ে বেশি শেখায়।
যা বলতে পারেন
- বুঝতে পারছি তুমি মন খারাপ করে আছ। যখন কথা বলতে চাইবে, আমি আছি।
- আমার ওপর রাগ করতেই পারো। কিন্তু বেয়াদবি করতে পারো না।
- আমার সাহায্য চাও, নাকি শুধু শুনব?
- ভুলে যাওয়া সবারই হয়। চলো, তোমার জন্য কাজে দেয় এমন একটা উপায় বের করি।
- আমাদের মত না মিললেও আমি তোমাকে ভালোবাসি।
১১ বছরে বন্ধু, ভালো লাগা আর গ্রুপ চ্যাট
১১ বছরে দলে মানিয়ে চলাটাই যেন সবকিছু মনে হয়। বন্ধুদের দল বদলায়, গ্রুপ চ্যাট শুরু হয়, আর একটা কষ্টের মেসেজ বা কোনো পরিকল্পনা থেকে বাদ পড়া পুরো সপ্তাহটা খারাপ করে দিতে পারে। কাউকে প্রথম ভালো লাগাও এই বয়সে খুব সাধারণ, আর তা নিয়ে ক্ষেপানোও। নতুন স্কুলে যাওয়ার সময়টায় ক্ষেপানো অনেক সময় বুলিংয়ে গড়ায়।
- বন্ধুত্বের ঝামেলার কথা তাড়াহুড়ো করে সমাধান না দিয়ে শুনুন, তারপর জিজ্ঞেস করুন: ‘তুমি কী চাও, কী হোক?’
- ভালো লাগার কথা শান্তভাবে নিন: ‘কাউকে ভালো লাগা স্বাভাবিক। এ নিয়ে কিছু করতেই হবে, এমন না।’ কখনো ঠাট্টা করবেন না, আর আত্মীয়দেরও ক্ষেপাতে মানা করুন।
- গ্রুপ চ্যাটের নিয়ম ঠিক করুন: কে ওকে যোগ করতে পারবে, অন্যের ছবি শেয়ার নয়, আর কোনো চ্যাট খারাপ দিকে গেলে বেরিয়ে আসা।
- ক্ষেপানো যদি রোজকার, গায়ে হাত তোলা বা অনলাইনে ছড়ানো পর্যন্ত গড়ায়, এটাকে বুলিং হিসেবেই দেখুন: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন; ধাপগুলো পাবেন স্কুলে বুলিং নিয়ে লেখায়।
ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্স: নতুন স্কুল, কোচিং আর রুটিন
অনেক বাংলাদেশি বাচ্চার জন্য ১১ বছর মানে ক্লাস ফাইভের শেষ বা ক্লাস সিক্সের শুরু। ক্লাস সিক্সে প্রায়ই নতুন স্কুল, বেশি বিষয় আর শিক্ষক, বেশি হোমওয়ার্ক, লম্বা যাতায়াত, আর অনেকের জন্য বেশি কোচিং। প্রথম কয়েক সপ্তাহ অনেক বাচ্চা দিশেহারা বা ক্লান্ত বোধ করে, আর বেশির ভাগই সময় আর সহায়তা পেলে মানিয়ে নেয়।
১১ বছর বয়সে সন্তানকে কী শেখানো উচিত? কাজের কিছু দক্ষতা: সপ্তাহের একটা পরিকল্পনা রাখা, আগের রাতে ব্যাগ গোছানো, কিছু না বুঝলে শিক্ষককে জিজ্ঞেস করা, আর একবারে একজন করে নতুন বন্ধু বানানো।
- কোচিং যোগ করার আগে হিসাব করুন দিনে আর কী বাকি থাকে: ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম, এক ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপ, একটু অবসর আর পরিবারের সময়।
- যেকোনো টিউটরকে বলুন চেষ্টার প্রশংসা করতে, আর কখনো মারতে বা লজ্জা দিতে নয়।
- প্রথম টার্মে ক্লান্তি বেশি হবে ধরে নিন, আর ছুটির দিনগুলো একটু হালকা রাখুন।
- পরীক্ষার দুশ্চিন্তা যদি নির্ঘুম রাত বা পরীক্ষার সকালে পেটব্যথা পর্যন্ত গড়ায়, পরীক্ষার সপ্তাহের সন্ধ্যাগুলো শান্ত রাখুন, ঘুম ঠিক রাখুন, আর ক্লাস টিচারকে জানান।
| সময় | কী হয় |
|---|---|
| সকাল সাড়ে ৬টা | ঘুম থেকে ওঠা, হাত-মুখ ধোয়া, স্কুল ড্রেস, তাড়াতাড়ি নাশতা |
| সকাল সোয়া ৭টা–দুপুর সাড়ে ১২টা | যাতায়াত আর স্কুল, সঙ্গে টিফিন আর পানির বোতল |
| দুপুর সোয়া ১টা | বাসায় দুপুরের খাবার, তারপর বিশ্রাম |
| বিকেল ৩টা | কোনো কোনো দিন কোচিং বা টিউটর; নইলে হোমওয়ার্ক |
| বিকেল সাড়ে ৪টা | নাশতা, তারপর অন্তত এক ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপ |
| সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা | পরিকল্পনা ধরে হোমওয়ার্ক |
| রাত ৮টা | পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার; স্ক্রিন বন্ধ |
| রাত সাড়ে ৮টা | ব্যাগ গোছানো, হাত-মুখ ধোয়া, একটু গল্প বা বই |
| রাত ৯টা | বাতি নেভানো, সকাল সাড়ে ৬টায় ওঠার আগে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা ঘুম |
১১ বছরের বাচ্চার ঘুম, স্ক্রিন আর প্রথম মোবাইল: কতটা দরকার
- ঘুম: বেশির ভাগ ১১ বছরের বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার। বয়ঃসন্ধি শুরু হলে অনেকের রাতে দেরিতে ঘুম পায়, তাই নির্দিষ্ট সময়ে শোয়া আর শেষ এক ঘণ্টায় কোনো স্ক্রিন না রাখা আরও জরুরি।
- স্ক্রিন: ৬ বছর থেকে নির্দিষ্ট কোনো ঘণ্টার হিসাব নেই; এমন সীমা রাখুন যাতে ঘুম, অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় ঠিক থাকে, আর রাতে কোনো ডিভাইস শোবার ঘরে নয়।
- খাবার: নিয়মিত খাবার আর নাশতা; হঠাৎ লম্বা হওয়ার সময় খিদে খুব বাড়ে, তাই বেশি চিপস আর কোমল পানীয় নয়, ভাত, ডাল, ডিম, মাছ, সবজি আর ফল দিন।
- দৌড়ঝাঁপ: দিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলা। ১১ বছরে ভালো খেলা: ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, নিরাপদ গলিতে সাইকেল, সাঁতার, নাচ, মার্শাল আর্ট বা কোনো খেলার ক্লাব।
১১ বছরের বাচ্চাকে কি স্মার্টফোন দেবেন?
অনেক বাচ্চা ১১ বছরে স্মার্টফোন চায়, প্রায়ই যখন নতুন স্কুল বা কোচিংয়ে যাতায়াত শুরু হয়। আসল দরকারটা প্রায়ই কথা বলার একটা সাধারণ ফোনেই মিটে যায়; বাচ্চা তৈরি কি না বোঝার লক্ষণ পাবেন কত বছর বয়সে বাচ্চাকে ফোন দেওয়া উচিত লেখায়। স্মার্টফোন দিলে আগে নিয়ম ঠিক করুন:
- বেশির ভাগ সোশ্যাল অ্যাপে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর; ততদিন নিজের কোনো অ্যাকাউন্ট নয়।
- রাতে মোবাইল চার্জ হবে শোবার ঘরের বাইরে, আর খাওয়ার সময় টেবিলে মোবাইল নয়।
- গেম শুধু সেগুলো, যেগুলোর বয়সসীমা আপনি দেখে নিয়েছেন; কেনাকাটা বন্ধ, অচেনা কারও সঙ্গে চ্যাট নয়, আর এমন ঠিক করা সময়ে, যাতে ঘুম আর হোমওয়ার্কের সময় থাকে।
- অনলাইনে কেউ ছবি, গোপন কথা বা দেখা করতে চাইলে বাচ্চা আপনাকে জানাবে, আর জানানোর জন্য কোনো বকা খাবে না।
বাংলাদেশি পরিবারে ১১ বছর: গোপনীয়তা, মন্তব্য আর বড় হয়ে ওঠা
এক ঘরে কয়েকজন বা যৌথ পরিবারে গোপনীয়তা
১১ বছরে অনেক বাচ্চা একা গোসল আর জামা বদলাতে চায়, ডায়েরি রাখে, দরজা বন্ধ করতে চায়, ছোট ফ্ল্যাট বা ভরা যৌথ পরিবারেও। গোপনীয়তা খুব সহজভাবেই দেওয়া যায়: ঢোকার আগে দরজায় টোকা, নিজের একটা ড্রয়ার বা বাক্স, স্কুলের পরে কয়েক মিনিট একা থাকা। দাদা-দাদি, কাজিন আর গৃহকর্মীকেও টোকা দিতে বলুন।
গায়ের রং, ওজন আর উচ্চতা নিয়ে মন্তব্য
আত্মীয়রা প্রায়ই বদলে যাওয়া শরীর নিয়ে মন্তব্য করেন: ‘কালো হয়ে গেছিস’, ‘মোটা হয়ে যাচ্ছিস’, ‘ছেলেটা এত খাটো কেন?’ ১১ বছরে এমন কথা বহু বছর মনে গেঁথে থাকতে পারে। নরমভাবে এগিয়ে আসুন: ‘ওর শরীর নিয়ে কিছু না বললে ভালো হয়; এই বয়সটা এমনিতেই কঠিন।’ বাসায় শরীর দেখতে কেমন, তা নয়, শরীর কী কী পারে, তা নিয়ে কথা বলুন।
নতুন প্রত্যাশা, লজ্জা ছাড়া
বয়ঃসন্ধির সময় অনেক পরিবার ছেলে আর মেয়ের জন্য নতুন কিছু প্রত্যাশা শুরু করে: অন্য রকম পোশাক, আলাদা ঘুমানোর জায়গা, মেহমানের সামনে নতুন আদবকায়দা। এখানে প্রতিটা পরিবার নিজেদের মূল্যবোধ মানে। আপনাদের নিয়ম যা-ই হোক, আন্তরিকভাবে বুঝিয়ে বলুন, ছেলে-মেয়ে সবার জন্য ন্যায্যভাবে মানুন, আর একটা কথা পরিষ্কার রাখুন: ‘তোমার শরীর বড় হচ্ছে, আর এটা খুব ভালো ব্যাপার।’
১১ বছরের সন্তানের সঙ্গে শান্ত একটা সপ্তাহের ৭ দিনের পরিকল্পনা
একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।
- দিন ১: দিনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তটা লিখে রাখুন: সকালের তাড়াহুড়া, স্কুলের পরে, হোমওয়ার্ক, কোচিং, মোবাইলের সময়, নাকি ঘুমের সময়।
- দিন ২: একসঙ্গে বসে সপ্তাহের একটা পরিকল্পনা বানান, আর স্কুলব্যাগের একটা নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন।
- দিন ৩: স্ক্রিন আর মোবাইলের নিয়ম ঠিক করুন, লিখে রাখুন, আর ডিভাইস চার্জ হোক শোবার ঘরের বাইরে।
- দিন ৪: সন্তানের ঘরে ঢোকার আগে দরজায় টোকা দিন, আর খেয়াল করুন মেজাজে কোনো বদল আসে কি না।
- দিন ৫: কোনো একটা সূত্র ধরে শরীরের পরিবর্তন বা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ছোট, শান্ত একটা আলাপ শুরু করুন, যেমন নতুন সাবান বা ডিওডোরেন্ট কেনা।
- দিন ৬: রিকশায় বা রান্নার সময় পাশাপাশি থেকে বন্ধুদের কথা জিজ্ঞেস করুন, আর শুধু শুনুন।
- দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, যা কাজে দিয়েছে রেখে দিন, আর বাচ্চাকে যাঁরা দেখাশোনা করেন সবাইকে জানান।
১১ বছরের সন্তানকে নিয়ে কখন ডাক্তার বা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলবেন
১১ বছরের বেশির ভাগ মেজাজ আর শরীর নিয়ে দুশ্চিন্তা বড় হওয়ারই অংশ। তবু নিচের কোনোটা দেখলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে, আর দরকার হলে শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলুন:
এমন হলে ডাক্তার বা শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন
- মেয়ের মোটামুটি ৮ বছরের আগে, বা ছেলের মোটামুটি ৯ বছরের আগেই বয়ঃসন্ধির লক্ষণ শুরু হয়েছিল, যেমন স্তন বড় হতে শুরু করা বা শরীরে লোম।
- পিরিয়ডে এত বেশি রক্ত বা এত ব্যথা যে মেয়ে প্রায়ই স্কুলে যেতে পারে না, বা মোটামুটি এক সপ্তাহের বেশি রক্ত যায়।
- ওজন বা খাবার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা, খাবার বাদ দেওয়া, বা লুকিয়ে খাওয়া: শিগগিরই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- এক-দুই সপ্তাহের বেশি স্কুলে যেতে না চাওয়া, বা নতুন স্কুলে প্রথম মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও বেশির ভাগ দিন খুব মন খারাপ।
- বুলিং, আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, শিক্ষক বা টিউটর মারছেন বা অপমান করছেন, বা অনলাইনে কেউ ছবি, গোপন কথা চাইছে বা দেখা করতে চাইছে: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন। অনলাইনের ঘটনায় কিছুই পাঠাবেন না, মেসেজগুলো রেখে দিন, তবে কোনো ব্যক্তিগত ছবি কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, আর অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন। যে বড় মানুষ বাচ্চাকে মারে বা অনলাইনে এভাবে যোগাযোগ করে, তার কথা স্থানীয় থানায় জানান; বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা। এমন কথা বললে শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
সন্তান ১২-তে পা দিলে সামনে প্রায়ই কী আসে, তা পাবেন আপনার ১২ বছরের সন্তান লেখায়। ১১ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশের ধারা বুঝতে ParentMind-এ প্রতিদিন মেজাজ, ঘুম, হোমওয়ার্ক আর মোবাইলের সময় লিখে রাখতে পারেন, যাতে একটা খারাপ দিন নয়, পুরো ধারাটা চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
১১ বছরের বাচ্চা কী কী করতে পারার কথা?
বেশির ভাগ ১১ বছরের বাচ্চা লম্বা লেখা পড়তে আর লিখতে পারে, কয়েকটা বিষয় একসঙ্গে সামলায়, আর অল্প মনে করিয়ে দিলেই গোসল, জামা পরা, স্কুলব্যাগ আর হোমওয়ার্ক সামলায়। অনেকে বড় কেউ কাছে থাকলে সহজ খাবার বানাতে পারে, হাতখরচ সামলায় আর বাসার কাজে হাত লাগায়। প্রত্যেক বাচ্চা নিজের গতিতে এগোয়; এক দিকে এগিয়ে আর আরেক দিকে পিছিয়ে থাকা সাধারণত চিন্তার নয়।
১১ বছরের বাচ্চা মুখে মুখে কথা বলে, মেজাজ খিটখিটে, এটা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে। ১১ বছরে হরমোন, ক্লান্তি আর স্বাধীনতার বাড়তি ইচ্ছা প্রায়ই একসঙ্গে আসে, অথচ নিজেকে সামলানোর ক্ষমতা তখনো তৈরি হচ্ছে। সুরের নয়, কথার জবাব দিন, বেয়াদবির ব্যাপারে শান্তভাবে সীমা টানুন, আর ঝগড়ার পরে সম্পর্ক জোড়া দিন। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
১১ বছরের বাচ্চার কাউকে ভালো লাগা কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ। ১১ বছরের আশপাশে কাউকে প্রথম ভালো লাগা খুব সাধারণ, আর সাধারণত এটা কথাবার্তা আর কল্পনার বেশি কিছু নয়। শান্ত থাকুন, কখনো ঠাট্টা করবেন না, আর আত্মীয়দেরও ক্ষেপাতে মানা করুন। এই সুযোগে সম্মান, গোপনীয়তা আর অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলুন, আর মনের দরজা খোলা রাখুন, যাতে কেউ অস্বস্তিতে ফেললে বাচ্চা আপনাকে জানায়।
১১ বছরের ছেলের বয়ঃসন্ধির কোনো লক্ষণ নেই, এটা কি স্বাভাবিক?
সাধারণত, হ্যাঁ। ছেলেদের বয়ঃসন্ধি সাধারণত শুরু হয় মোটামুটি ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, প্রায়ই মেয়েদের চেয়ে পরে। প্রথম লক্ষণ, অণ্ডকোষ বড় হওয়া, বাইরে থেকে কেউ দেখতে পায় না, তাই অনেক ছেলের কাউকে না জানিয়েই শুরু হয়ে যায়। মোটামুটি ১৪ বছরেও কোনো লক্ষণ না দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
১১ বছরের সন্তান এত ভুলে যায়, এত অগোছালো কেন?
১১ বছরে জীবন ব্যস্ত হয়ে ওঠে, বেশি বিষয়, শিক্ষক আর কোচিং, অথচ পরিকল্পনা করা আর সব খেয়াল রাখার দক্ষতা মস্তিষ্কে তখনো তৈরি হচ্ছে। বারবার মনে করানোর চেয়ে সপ্তাহের পরিকল্পনা, দরজার পাশে একটা চেকলিস্ট আর স্কুলব্যাগের নির্দিষ্ট জায়গা বেশি কাজে দেয়। ভুলে যাওয়ার সঙ্গে যদি স্কুলে আর বাসায় মনোযোগ দিতে খুব কষ্ট হয়, শিক্ষক আর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
১১ বছরের সন্তানকে নতুন স্কুলে মানিয়ে নিতে কীভাবে সাহায্য করব?
বাসার রুটিন স্থির রাখুন: নিয়মিত ঘুম, খাবার আর একটু অবসর। যাতায়াতের পথটা একসঙ্গে চিনিয়ে দিন, শুরুতেই ক্লাস টিচারের সঙ্গে দেখা করুন, আর পুরো দল নয়, একজন বন্ধু খুঁজে পেতে সাহায্য করুন। প্রথম কয়েক সপ্তাহ ক্লান্তি আর কয়েকটা মন খারাপের দিন ধরে নিন। বাচ্চা স্কুলে যেতে না চাইলে বা প্রথম মাসের পরও খুব মন খারাপ থাকলে শিক্ষক আর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




