মূল কনটেন্টে যান

ছেলের বয়ঃসন্ধিকালে বাবার করণীয়: কখন, কী আর কীভাবে বলবেন

ছোট করে উত্তর

ছেলের বয়ঃসন্ধিকালে বাবার প্রথম করণীয় হলো পরিবর্তন শুরুর আগেই কথা বলা, প্রায়ই ৯–১০ বছরের দিকে, পাশাপাশি বসে ছোট ছোট শান্ত আলাপে। সহজ ভাষায় লম্বা হওয়া, লোম, গলার স্বর, ঘাম আর স্বপ্নদোষের কথা বলুন: সবই স্বাভাবিক, লজ্জার কিছু নয়। বাবা-মা যে কেউ বলতে পারেন। ৯ বছরের আগে লক্ষণ দেখা দিলে, বা ১৪ বছরেও কোনো লক্ষণ না থাকলে ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৭ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ৯–১৬ বছরের ছেলের বাবা, মা আর অন্য অভিভাবক, বয়ঃসন্ধির আগে ও চলাকালে
মূল কথা
  • প্রথম লক্ষণের আগেই শুরু করুন, প্রায়ই ৯–১০ বছরের দিকে, আর ছেলে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অল্প অল্প করে কথা চালিয়ে যান।
  • স্বপ্নদোষ বড় হওয়ার স্বাভাবিক অংশ: কোনো রোগ নয়, দুর্বলতা নয়, কারও দোষও নয়।
  • অনলাইনের ছবি-ভিডিও, সম্মতি আর মেয়েদের সম্মান নিয়েও কথা বলুন, লোম আর ঘামের কথার মতোই সহজভাবে।
  • ৯ বছরের আগে লক্ষণ বা ১৪ বছরেও কোনো লক্ষণ না থাকলে ডাক্তার দেখান; অণ্ডকোষে হঠাৎ ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

ছেলের বয়স ১১। রাতের খাবারের সময় হঠাৎ গলাটা ভেঙে গেল, কাজিনরা হেসে উঠল, আর ও চুপ হয়ে গেল। আপনি জানেন কিছু বলা দরকার, কিন্তু আপনাকে তো কেউ কোনোদিন এসব বলেনি। ছেলের বয়ঃসন্ধিকালে বাবার করণীয় কী, তা ভাবতে বেশিরভাগ বাবা-মায়েরই অস্বস্তি লাগে, তবে কাজটা সাধারণত যতটা কঠিন মনে হয়, তার চেয়ে সহজ।

ছেলেদের প্রায়ই কিছুই বলা হয় না; ওরা শেখে বড় ছেলেদের কাছে, গুজব থেকে আর ইন্টারনেটে। ভরসার বাবা বা মায়ের সঙ্গে কয়েকটা ছোট, শান্ত আলাপ অনেক দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে, আর পরের কঠিন প্রশ্নগুলোর দরজাও খোলা রাখে।

নিচে পাবেন: লক্ষণগুলো, কখন শুরু করবেন, স্বপ্নদোষ, পরিচ্ছন্নতা, মন, অনলাইনের ছবি আর সম্মান, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন ডাক্তার দেখাবেন।

ছেলেদের বয়ঃসন্ধিকালের পরিবর্তন: কী বদলায়, কখন?

ছেলেদের বয়ঃসন্ধি সাধারণত মোটামুটি ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে শুরু হয়, আর চলে কয়েক বছর ধরে। এই সীমার মধ্যে আগে বা পরে হওয়া সাধারণত স্বাভাবিক, আর সময়টা প্রায়ই পরিবারের ধারা মেনে চলে। ছেলেরা সাধারণত মেয়েদের চেয়ে একটু পরে শুরু করে। ৯–১২ বছরের পুরো ছবিটা পাবেন প্রি-টিন বয়সী সন্তানের সঙ্গে আচরণ লেখায়।

ছেলেদের বয়ঃসন্ধি: সাধারণ ক্রম (মোটামুটি সময়; প্রত্যেকের নিজস্ব)
পরিবর্তনপ্রায়ই কখন আসেওকে কী বলবেন
অণ্ডকোষ আর লিঙ্গ বড় হতে শুরু করাসাধারণত সবার আগে, মোটামুটি ৯ থেকে ১৪ বছরেএটাই শুরু, বাইরে থেকে কেউ বোঝে না
বগলে আর গোপনাঙ্গের চারপাশে লোম; ঘামে গন্ধএর কিছু পরেইরোজ গোসল আর ডিওডোরেন্টের সময় হলো
হঠাৎ লম্বা হওয়া, খিদে বাড়া, কাঁধ চওড়া হওয়াপ্রায়ই বয়ঃসন্ধির মাঝামাঝিভালো খাও, ঠিকমতো ঘুমাও; আনাড়ি ভাবটা কেটে যাবে
গলার স্বর ভাঙা, তারপর ভারী হওয়াপ্রায়ই বয়ঃসন্ধির মাঝামাঝিসবারই হয়, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে আসে
স্বপ্নদোষপ্রায়ই ১২–১৩ বছর থেকে, কারও আরও আগেস্বাভাবিক, কারও দোষ নয়
ব্রণ, আর মুখে ও শরীরে লোমপরে, প্রায়ই কৈশোরের মাঝামাঝিআলতো করে মুখ ধোয়া; চাইলে তখন দাড়ি কামানো
বোঁটার নিচে একটু ফোলা বা ব্যথাকারও কারও, কিছুদিনের জন্যসাধারণ ব্যাপার, সাধারণত নিজে থেকেই সেরে যায়

ছেলের বয়ঃসন্ধিকালে বাবার করণীয়: কখন শুরু করবেন, প্রথম আলাপ কেমন হবে

নিখুঁত শব্দের চেয়ে সময়টা বেশি জরুরি। মোটামুটি ৯ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ ছেলে শুনতে প্রস্তুত থাকে যে তার শরীর বদলাবে; তারপর ওর প্রশ্ন ধরে প্রতি বছর একটু একটু করে যোগ করুন।

কোন বয়সে কী বলবেন (মোটামুটি বয়স; ছেলেকে দেখে এগোন)
বয়সকী নিয়ে কথা বলবেনযা কাজে দেয়
৫–৮ বছরশরীরের অঙ্গের ঠিক নাম, গোপনীয়তা, আর শরীর যে বড় হয় ও বদলায়ছোট উত্তর; শরীরের নিরাপত্তার নিয়ম
৯–১০ বছরসামনে কী বদলাবে: লম্বা হওয়া, লোম, গলার স্বর, ঘাম আর স্বপ্নদোষশান্ত প্রথম আলাপ; ওর নিজের ডিওডোরেন্ট আর তোয়ালে
১১–১৩ বছরস্বপ্নদোষ হলে কী করবে, রোজকার পরিচ্ছন্নতা, মেজাজ, অনলাইনের ছবি আর গোপনীয়তাপাশাপাশি বসে আলাপ; বাড়তি অন্তর্বাস; মোবাইলের নিয়ম
১৪–১৬ বছরসম্মান আর সম্মতি, ভালো লাগা আর অনুভূতি, দাড়ি কামানো, ঘুম, বন্ধুদের চাপওকেই এগোতে দিন; কোনো কিছু নিয়ে দুজনের কারও চিন্তা হলে ডাক্তার

শুরু থেকেই এই আলাপে শরীরের নিরাপত্তার কথাও থাকা দরকার: কোন অঙ্গগুলো গোপন, আর অনলাইনে হোক বা সামনাসামনি, কেউ অস্বস্তিতে ফেললে ও যে সবসময় আপনাকে বলতে পারে। প্রতিটি বয়সে কী বলবেন, পাবেন শিশুকে গুড টাচ ব্যাড টাচ শেখানো লেখায়।

প্রথম আলাপ, ধাপে ধাপে

ছেলে বড় হচ্ছে, বাবা কী বলবেন? প্রথম আলাপ নিখুঁত বা লম্বা হতে হবে না। বেশিরভাগ পরিবারে এই ধাপগুলো কাজে দেয়:

  1. পাশাপাশি থাকার একটা মুহূর্ত বেছে নিন: একসঙ্গে হাঁটা, কোচিংয়ে যাওয়ার পথ, দোকানে বসে চা, জুমার নামাজ থেকে ফেরার রাস্তা। মুখোমুখি তাকাতে না হলে অনেক ছেলে সহজে কথা বলে।
  2. আগে জিজ্ঞেস করুন ও কী জানে, আর বন্ধু বা অনলাইন থেকে শোনা ভুল কথাগুলো নরমভাবে শুধরে দিন।
  3. সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলুন, অঙ্গের আসল নাম ব্যবহার করে। শান্ত, সাধারণ শব্দে বললে বিষয়টাও সাধারণ হয়ে যায়।
  4. নিজের একটু গল্প বলুন: “আমার গলা পুরো ক্লাসের সামনে ভেঙে গিয়েছিল।” এতে ও বোঝে, এটা স্বাভাবিক, আর আপনি ওকে বোঝেন।
  5. হাতে কাজের কিছু দিন, যেমন ওর নিজের ডিওডোরেন্ট আর বাড়তি অন্তর্বাস, আর বলুন যেকোনো সময় যেকোনো প্রশ্ন করতে পারে। ও বিরক্ত হওয়ার আগেই থামুন, কয়েক দিন পর আবার কথা তুলুন।

যা বলতে পারেন

  • শিগগিরই তোমার শরীরে কিছু পরিবর্তন শুরু হবে। কী কী হবে, আগে থেকে বলি, যাতে হঠাৎ অবাক না হও?
  • গলা ভাঙা হাসির কিছু না। এটা বড় হওয়া, আমারও এমন হয়েছিল।
  • আমাকে যেকোনো কিছু জিজ্ঞেস করতে পারো, লজ্জার কথাও। আমি হাসব না, রাগও করব না।

ছেলেদের স্বপ্নদোষ নিয়ে বাবা-মা কী বলবেন

স্বপ্নদোষ হলো ঘুমের মধ্যে লিঙ্গ দিয়ে বীর্য (সাদাটে একটা তরল) বেরিয়ে আসা; কখনো স্বপ্নের সঙ্গে, কখনো স্বপ্ন ছাড়াই। প্রায়ই ১২–১৩ বছর থেকে শুরু হয়; কারও ঘন ঘন হয়, কারও কালেভদ্রে, দুটোই স্বাভাবিক। কখনো কোনো কারণ ছাড়াই লিঙ্গ শক্ত হয়ে যেতে পারে, ক্লাসে বসেও। এটাও স্বাভাবিক, কিছুক্ষণে ঠিক হয়ে যায়।

  • এটা শরীর বড় হওয়ার স্বাভাবিক লক্ষণ। এটা কোনো রোগ নয়, এতে শরীর দুর্বল হয় না, আর কোনো ওষুধও লাগে না।
  • এতে কারও দোষ নেই। নামের মধ্যে “দোষ” শব্দটা থাকলেও ও কোনো ভুল করেনি, আর এটা ওর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও নয়।
  • করণীয় খুব সহজ: অন্তর্বাস বদলে নেওয়া, কাপড় ধোয়ার জায়গায় রেখে দেওয়া, ব্যস্। ওর ড্রয়ারে বাড়তি অন্তর্বাস রাখুন, আর চাদর ধুতে হলে কোনো মন্তব্য ছাড়াই ধুয়ে দিন।
  • বিজ্ঞাপন পাত্তা দেবেন না। রাস্তার পোস্টার, অনলাইনের ভিডিও আর “হারবাল” বিক্রেতারা যে বলে স্বপ্নদোষে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, “ধাতু দুর্বলতা”র চিকিৎসা লাগে, তা ভুল, আর এসব ছেলেদের ভয় পাইয়ে দেয়। কোনো কিছু নিয়ে আপনার বা ওর চিন্তা হলে বিক্রেতা নয়, রেজিস্টার্ড ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

আপনার পরিবারের ধর্মীয় রীতিতে এ নিয়ে কোনো নিয়ম থাকলে, যেমন নামাজের আগে গোসল, সেটা বড় হওয়ার অংশ হিসেবে শান্তভাবে বুঝিয়ে বলুন, কখনো শাস্তির মতো করে নয়। ধর্মীয় প্রশ্নে প্রতিটি পরিবার নিজেদের আলেম বা ধর্মীয় শিক্ষকের পরামর্শ মানে।

বয়ঃসন্ধিকালে ছেলের গোপনীয়তা আর পরিচ্ছন্নতা

বয়ঃসন্ধিতে ঘামের ধরন বদলায়, আর অনেক ছেলে নিজের গায়ের গন্ধ টেরই পায় না, যতক্ষণ না কেউ খোঁচা দেয়। আগে থেকে, নরমভাবে একটা সহজ রুটিন ঠিক করে দিলে ও সেই লজ্জা থেকে বাঁচে:

  • রোজ গোসল, বিশেষ করে খেলার পর; সাবান-পানি দিয়ে বগল, পা আর গোপনাঙ্গ ধোয়া।
  • রোজ পরিষ্কার অন্তর্বাস আর মোজা, আর নিজের পছন্দের একটা ডিওডোরেন্ট।
  • ব্রণের জন্য দিনে দুবার আলতো করে মুখ ধোয়া, ব্রণ না খুঁটে; আর ও দাড়ি কামাতে চাইলে নিজের রেজার দিয়ে ধীরে ধীরে কীভাবে কামাতে হয়, দেখিয়ে দেওয়া।
  • গোপনীয়তা: ঢোকার আগে দরজায় টোকা দিন, একা গোসল আর কাপড় বদলাতে দিন, আর এক ঘরে অনেকে থাকলেও ওর নিজের একটা ড্রয়ার বা তাক দিন।

মন, রাগ আর ভালো লাগা: ভেতরের পরিবর্তন

বয়ঃসন্ধি শুধু শরীরের ব্যাপার নয়। অনেক ছেলের মেজাজ ওঠানামা করে, অস্থির লাগে বা হঠাৎ লজ্জা পায়, রাগ চড়ে যায় খুব তাড়াতাড়ি, আর কাউকে ভালো লাগাও স্বাভাবিক। ছেলেদের প্রায়ই শেখানো হয় “ছেলেদের কাঁদতে নেই”, তাই অনুভূতিগুলো বেরিয়ে আসে দরজা আছড়ানো বা চুপ করে থাকায়।

  • অনুভূতির নাম মুখে বলুন, নিজেরটাও: “আজ মনে হচ্ছে তুমি খুব বিরক্ত।”
  • রাগের কয়েকটা নিয়ম ঠিক করুন: মারামারি নয়, জিনিস ভাঙা নয়, আর কথা বলার আগে একটু ঠান্ডা হওয়ার সময়।
  • রোজ অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ বা খেলাধুলা শরীর আর মন দুটোর জন্যই ভালো।
  • কাউকে ভালো লাগলে নরমভাবে নিন: আত্মীয়দের সামনে খোঁচা নয়, লম্বা উপদেশও নয়। আপনি মন দিয়ে শুনলে ও কথা বলা চালিয়ে যায়।

মেজাজের ওঠানামা বেশি মনে হলে দেখুন টিনএজ সন্তান খুব রেগে যায়।

অনলাইনের ছবি-ভিডিও, সম্মতি আর মেয়েদের সম্মান

অনেক ছেলে কেউ কিছু বলার অনেক আগেই অনলাইনে অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দেখে ফেলে, প্রায়ই হঠাৎ করে বা বন্ধুর মোবাইলে। চুপ থাকলে সম্পর্ক কেমন হয়, তা শেখানোর ভার পড়ে ওই ভিডিওগুলোর ওপরই। না বুঝিয়ে নিষেধ করার চেয়ে শান্ত আলাপ বেশি কাজে দেয়:

  • ওসব ভিডিও আসল জীবন নয়। ওগুলোতে প্রায়ই মানুষকে অসম্মান বা কষ্ট দেওয়া দেখায়; আসল সম্পর্ক গড়ে ওঠে দয়া আর সম্মতির ওপর।
  • অস্বস্তিকর কিছু দেখলে ও সেটা বন্ধ করে আপনাকে বলতে পারে, আর বলার জন্য কোনো শাস্তি হবে না।
  • নিজের শরীরের ছবি কাউকে কখনো পাঠাবে না, অন্য কারও ছবিও ফরোয়ার্ড করবে না। কেউ ছবি চাইলে বা হুমকি দিলে সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে বলবে: এতে ওর দোষ নেই। তখন টাকা দেবেন না, কিছুই পাঠাবেন না, ছবিটা কখনো কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, মেসেজগুলো রেখে দিন, অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন, আর এলাকার থানায় জানান; এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • সম্মতি আর সম্মান: স্পষ্ট “হ্যাঁ” ছাড়া কেউ কাউকে ছোঁবে না, আর “না” বা চুপ থাকা মানে থামতে হবে। মেয়েদের শরীর নিয়ে মন্তব্য নয়; রাস্তায় বা অনলাইনে পিছু নেওয়া, ভিডিও করা বা টিজ করা নয়। বন্ধুরা করলে ও সরে আসতে পারে, বা প্রতিবাদ করতে পারে।

সবচেয়ে বেশি শেখায় আপনার নিজের উদাহরণ: বাসার পুরুষেরা ওর মা, বোন আর বাসায় কাজ করা নারীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন, তা-ই ও দেখে শেখে।

আমাদের বাসায়: ছেলের সঙ্গে নীরবতা ভাঙা

আমাদের অনেক বাসায় বয়ঃসন্ধির নামই প্রায় নেওয়া হয় না, আর ছেলেরা শোনে মেয়েদের চেয়েও কম: “ছেলে মানুষ, নিজেই বুঝে নেবে।” সামনে কোনো উদাহরণ না থাকলে কয়েকটা জিনিস কাজে দেয়:

  • এক বিছানা, এক ঘর: বয়ঃসন্ধিতে পারলে ছেলেকে আলাদা বিছানা বা তোশক দিন, নইলে অন্তত ঘুমানো আর কাপড় বদলানোর নিজের একটু জায়গা।
  • আত্মীয়দের খোঁচা: “দেখো দেখো, গোঁফ উঠেছে!” বা গলা নিয়ে ঠাট্টা ছেলেকে লজ্জায় চুপ করিয়ে দিতে পারে। নরমভাবে থামান: “থাক, ওর গলা নিয়ে কিছু না বলি; এই বয়সটা এমনিতেই কঠিন।”
  • স্কুলের বই: পাঠ্যবইয়ের ছোট একটা অধ্যায় ওর সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। জিজ্ঞেস করুন ক্লাসে কী পড়ানো হয়েছে, আর বাকিটা আপনি পূরণ করুন।

বাবা, মা আর চাচা-মামা, সবাই পারেন

ছেলের বয়ঃসন্ধিকালে বাবার করণীয় নিয়ে অনেক কথা হয়, কিন্তু কে কথা বলবেন? যাকে ও ভরসা করে, আর যিনি শান্ত থাকতে পারবেন। বাবা নিজের অভিজ্ঞতা বলতে পারেন; মা-ও ঠিক ততটাই ভালো বোঝাতে পারেন, আর কোনো কোনো ছেলের কাছে মায়ের সঙ্গে কথা বলাই সহজ। বাবা প্রবাসে থাকলে বা অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করলে, বাবা-মায়ের বেছে নেওয়া ভরসার কোনো চাচা বা মামা সাহায্য করতে পারেন, তবে নেতৃত্ব থাকবে বাবা-মায়েরই। মেয়েদের কথা জানতে দেখুন মেয়ের বয়ঃসন্ধিকালে মায়ের করণীয়।

আপনি মা হলে বলতে পারেন

  • তোমার বয়সে ছেলেদের কী কী হয়, আমি কিছুটা জানি। আমাকে বা আব্বুকে যেকোনো কিছু জিজ্ঞেস করতে পারো।
  • এখনই কথা বলতে হবে না। যখন চাও, আমি আছি।

আলাপ শুরু করার ৭ দিনের পরিকল্পনা

শান্ত একটা সপ্তাহ বেছে নিন, পরীক্ষা বা পরিবারের বিয়ের সপ্তাহ নয়। প্রতিদিন লিখে রাখুন কী নিয়ে কথা হলো, আর ও কী জিজ্ঞেস করল।

  1. দিন ১: ওর বয়সে থাকতে কোন দুই-তিনটা কথা কেউ আপনাকে আগে বললে ভালো হতো, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: হাঁটতে হাঁটতে বা কোথাও যাওয়ার পথে একটা খোলা প্রশ্ন করুন, যেমন “স্কুলে ছেলেরা কি বড় হওয়া নিয়ে কিছু বলে?”, তারপর বেশিরভাগ সময় শুধু শুনুন।
  3. দিন ৩: মোটামুটি ১০ মিনিটে সহজ ভাষায় শরীরের পরিবর্তনগুলো বুঝিয়ে বলুন।
  4. দিন ৪: স্বপ্নদোষ নিয়ে কথা বলুন, আর ওর ড্রয়ারে বাড়তি অন্তর্বাস রেখে দিন।
  5. দিন ৫: ওকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতার কিট গুছিয়ে নিন: ডিওডোরেন্ট, তোয়ালে, নেইল কাটার আর ফেসওয়াশ।
  6. দিন ৬: মোবাইল আর অনলাইনের ছবি-ভিডিও নিয়ে কথা বলুন, আর ঠিক করুন যে ও সবসময় আপনাকে বলতে পারবে।
  7. দিন ৭: নোটগুলো ফিরে দেখুন। ও কী জানতে চেয়েছে? পরের ছোট আলাপটা ঠিক করুন, হয়তো সম্মান আর সম্মতি নিয়ে।

ছেলের বয়ঃসন্ধি নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন

বেশিরভাগ ছেলে কোনো সমস্যা ছাড়াই বয়ঃসন্ধি পার করে। এসব দেখলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর যেখানে বলা আছে, সেখানে দেরি না করে সাহায্য নিন:

এসব দেখলে ডাক্তার দেখান

  • মোটামুটি ৯ বছরের আগেই বয়ঃসন্ধির লক্ষণ, যেমন অণ্ডকোষ বড় হওয়া বা শরীরে লোম দেখা দেয়, অথবা ১৪ বছরেও কোনো লক্ষণ নেই।
  • অণ্ডকোষ বা কুঁচকিতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা বা ফোলা, বমিসহ বা বমি ছাড়া: দিন হোক বা রাত, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। ছেলেকে বলে রাখুন, ওখানে ব্যথা হলে সবসময় যেন আপনাকে বলে; এতে লজ্জার কিছু নেই।
  • বোঁটার নিচে এমন ফোলা যা বড়, ব্যথাযুক্ত বা বাড়তেই থাকে, কিংবা এমন কোনো গুটি যা নিয়ে আপনার চিন্তা হয়।
  • দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মন খারাপ, রাগ বা সবার থেকে সরে থাকা, কিংবা শরীর নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা যাতে খাওয়া, ঘুম বা বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ও যদি বেঁচে থাকতে চায় না এমন কথা বলে বা নিজেকে আঘাত করে, শান্ত থাকুন, ওর কাছাকাছি থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • নির্যাতনের যেকোনো লক্ষণ: কেউ ওকে ছুঁয়েছে, অশ্লীল ছবি দেখিয়েছে, ছবি চেয়েছে বা হুমকি দিচ্ছে, কিংবা ও হঠাৎ নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা জায়গাকে ভয় পাচ্ছে। ওর কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এলাকার থানায় পুলিশকে জানান; এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ছেলের বয়ঃসন্ধিকালে বাবার করণীয় একদিনে শেষ হয় না; সবচেয়ে কাজে দেয় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর ধরে বারবার হওয়া ছোট ছোট আলাপ। ছেলে কৈশোরে পা দিলে সামনে প্রায়ই কী আসে, পাবেন টিনএজ সন্তানের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করবেন লেখায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

ছেলেদের বয়ঃসন্ধি কত বছর বয়সে শুরু হয়?

বেশিরভাগ ছেলের বয়ঃসন্ধি শুরু হয় মোটামুটি ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, প্রায়ই মেয়েদের চেয়ে একটু পরে। প্রথম লক্ষণ সাধারণত অণ্ডকোষ বড় হওয়া, যা বাইরে থেকে কেউ টের পায় না; তারপর আসে শরীরে লোম, হঠাৎ লম্বা হওয়া আর ভারী গলা। ৯ বছরের আগে লক্ষণ দেখা দিলে, বা ১৪ বছরেও কোনো লক্ষণ না থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ছেলেকে স্বপ্নদোষের কথা কীভাবে বোঝাব?

ছোট আর স্বাভাবিক গলায় বলুন: ঘুমের মধ্যে লিঙ্গ দিয়ে বীর্য নামের অল্প একটু সাদাটে তরল বেরিয়ে আসতে পারে, কখনো স্বপ্নের সঙ্গে। এটা বড় হওয়ার স্বাভাবিক লক্ষণ, কোনো রোগ নয়, কারও দোষও নয়। তারপর বলে দিন কী করবে: অন্তর্বাস বদলে কাপড় ধোয়ার জায়গায় রেখে দেবে, ব্যস্।

মা কি ছেলের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলতে পারেন?

অবশ্যই পারেন। ও ভরসা করে এমন যেকোনো শান্ত বড় মানুষ বলতে পারেন, আর কোনো কোনো ছেলের কাছে মায়ের সঙ্গে কথা বলাই সহজ। বাবা নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করতে পারেন। সবচেয়ে জরুরি সহজ কথা, কোনো ঠাট্টা নয়, আর এই বার্তা যে ও সবসময় প্রশ্ন করতে পারে।

ছেলেদের কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ। বয়ঃসন্ধিতে গলার স্বরযন্ত্র বড় হয়, তাই কয়েক মাস ধরে ছেলের গলা ভাঙতে পারে, চিঁ চিঁ করতে পারে, বা হঠাৎ চড়া থেকে মোটা হয়ে যেতে পারে; তারপর ধীরে ধীরে ভারী হয়ে থিতু হয়, প্রায়ই বয়ঃসন্ধির মাঝামাঝি। ঠাট্টা করলে ব্যাপারটা আরও কঠিন হয়, তাই আত্মীয় আর ভাইবোনদের এ নিয়ে কিছু বলতে মানা করুন।

ছেলের বয়স ১৪, কিন্তু বয়ঃসন্ধির কোনো লক্ষণ নেই। চিন্তার কিছু আছে?

একবার ডাক্তার দেখানো ভালো। দেরিতে শুরু হওয়া অনেক ছেলেই সুস্থ, শুধু পরিবারের ধারা মেনে চলে; তবে ডাক্তার ওর বেড়ে ওঠা দেখে বুঝবেন কিছু পরীক্ষা করা দরকার কি না। ছেলেকে আশ্বস্ত করুন যে প্রত্যেকের শরীর নিজের সময়ে বদলায়, আর ডাক্তার দেখানোটা সহজ, স্বাভাবিকভাবে করুন।

ছেলে অনলাইনে অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দেখে ফেললে কী করব?

শান্ত থাকুন, আর ও নিজে বলে থাকলে ধন্যবাদ দিন। বুঝিয়ে বলুন, ওসব ভিডিও আসল জীবন নয়, প্রায়ই অসম্মান দেখায়, আর আসল সম্পর্কে লাগে দয়া আর সম্মতি। মোবাইলের নিয়ম একসঙ্গে ঠিক করুন। কেউ ওকে এসব পাঠিয়ে থাকলে, ছবি চেয়ে থাকলে বা হুমকি দিলে সেদিনই ব্যবস্থা নিন: টাকা দেবেন না, কিছুই পাঠাবেন না, মেসেজগুলো রেখে দিন, অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন, আর স্থানীয় থানায় জানান; এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

প্রি-টিন (১০–১২ বছর): আরও গাইড

প্রি-টিন: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।