মূল কনটেন্টে যান

১২ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ: কৈশোরের দোরগোড়ায় কী বদলায়

ছোট করে উত্তর

১২ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ: এই বয়সে সন্তান কৈশোরের দোরগোড়ায়; অনেক মেয়ের বয়ঃসন্ধি অনেকটা এগিয়েছে, কিছু ছেলের গলার স্বর ভাঙতে শুরু করেছে, বন্ধুর গুরুত্ব বিশাল, আর গোপনীয়তা, মেজাজ আর তর্ক বাড়ে। বেশির ভাগের এখনো ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি মন খারাপ থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৭ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১২ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তান সাধারণত ক্লাস সিক্স বা সেভেনে পড়ে
মূল কথা
  • অনেক ১২ বছরের বাচ্চার বয়ঃসন্ধি এখন পুরোদমে: অনেক মেয়ের প্রথম পিরিয়ড, আর কিছু ছেলের হঠাৎ লম্বা হওয়া আর গলার স্বর ভাঙা।
  • ১২ বছরে বন্ধ দরজা, হুটহাট মেজাজ আর মুখে মুখে তর্ক খুব সাধারণ; গোপনীয়তার সম্মান দিন, নিরাপত্তার অল্প কয়েকটা স্পষ্ট নিয়ম রাখুন, আর রোজ অল্প সময়ের গল্পে কাছে থাকুন।
  • ১২ বছরে বন্ধু, ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ আর অনলাইনের ট্রেন্ড খুব টানে, আর বেশির ভাগ সোশ্যাল অ্যাপে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর।
  • বেশির ভাগ ১২ বছরের বাচ্চার এখনো ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম আর দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ দরকার, যদিও অনেকের রাতে দেরিতে ঘুম পেতে শুরু করে।

১২ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ নিয়ে অনেক বাবা-মা বলেন, সন্তান যেন রাতারাতি বদলে গেছে: দরজা বন্ধ, মোবাইল আগলে রাখে, আপনার ঠাট্টায় বিরক্তির আওয়াজ, অথচ রাত বাড়লে সেই সন্তানই স্কুলের কোনো ঘটনা নিয়ে গল্প করতে চায়। ১২ বছর হলো কৈশোরের দোরগোড়া, আর যা দেখছেন তার বেশির ভাগই স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে ওঠা।

প্রত্যেক বাচ্চা নিজের গতিতে বড় হয়, তাই এই লেখাকে পরীক্ষা নয়, গাইড হিসেবে পড়ুন। নিচে পাবেন: ১২ বছরে বিকাশ আর বয়ঃসন্ধি, গোপনীয়তা আর মেজাজ, বন্ধু আর ঝুঁকি, ক্লাস সিক্স-সেভেন, ঘুম আর সোশ্যাল মিডিয়া, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।

১২ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশ: এই বয়সে কী কী পারে?

বারো বছরের বেশির ভাগ বিকাশ মানে বড়দের মতো ভাবতে শেখা, যখন অনুভূতি, হুটহাট সিদ্ধান্ত আর শরীর এখনো তাল মেলাচ্ছে। এগুলো মোটামুটি ধারণা; এক দিকে এগিয়ে আর আরেক দিকে একটু পিছিয়ে থাকা সাধারণত চিন্তার নয়।

বেশির ভাগ ১২ বছরের বাচ্চা যা করে, আর আপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন (মোটামুটি ধারণা)
দিকবেশির ভাগ ১২ বছরের বাচ্চা যা করেআপনি কীভাবে সাহায্য করতে পারেন
শরীরহঠাৎ লম্বা হওয়া আর খুব খিদে; অনেক মেয়ের প্রথম পিরিয়ড; কিছু ছেলের গলার স্বর ভাঙা; ব্রণ, ঘাম আর ক্লান্তিনিয়মিত খাবার, রোজ গোসল, অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপ, আর ওর শরীর নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়
ভাবনাবেশ গুছিয়ে যুক্তি দেয়; নিজের পরিচয়, মূল্যবোধ আর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে; বড়দের কথা-কাজের ফারাক ধরে ফেলে; পরিকল্পনা করতে পারে, কিন্তু প্রায়ই হুটহাট ইচ্ছাই জেতেসম্মান রেখে তর্ক করুন, ওর মত জানতে চান, আর সিদ্ধান্তের আগেই সেটা নিয়ে কথা বলুন
পড়াশোনাঅনেক বিষয় আর শিক্ষক সামলায়; কিছুক্ষণ একা পড়তে পারে; বড় প্রজেক্ট আর পরীক্ষার পরিকল্পনায় এখনো সাহায্য লাগেপরীক্ষার আগে একসঙ্গে বানানো পড়ার পরিকল্পনা, একটা নিরিবিলি কোণ, আর ও কী শিখছে তা নিয়ে আগ্রহ
বন্ধুবন্ধুরাই যেন কেন্দ্র; দলে মানিয়ে চলতে চায়; কাউকে প্রথম ভালো লাগা; বড় ক্লাসের ছেলেমেয়ে আর অনলাইনের ট্রেন্ডের প্রভাব বাড়েওর বন্ধুদের, আর পারলে তাদের পরিবারকেও চিনুন; ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ আর ট্রেন্ড নিয়ে শান্তভাবে কথা বলুন
অনুভূতিমেজাজ দ্রুত বদলায়; নিজেকে নিয়ে খুব সচেতন; সমালোচনায় সহজে কষ্ট পায়; দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ লুকিয়ে রাখতে পারেউপদেশের চেয়ে বেশি শুনুন, চেষ্টার প্রশংসা করুন, আর যে পরিবর্তন অনেক দিন থাকে তা খেয়াল করুন
স্বাধীনতাজামা, টাকা, সময় আর যাতায়াত নিয়ে নিজের মত বেশি চায়; যেখানে নিরাপদ, সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে চেনা পথে অল্প দূর যেতে পারেধাপে ধাপে স্বাধীনতা দিন, সঙ্গে খোঁজ দেওয়ার পরিষ্কার নিয়ম

আগের বছরটা দেখুন আপনার ১১ বছরের সন্তান লেখায়, আর ৯ থেকে ১২ বছরের পুরো সময়টা দেখুন প্রি-টিন বয়সী সন্তান লেখায়।

১২ বছরে বয়ঃসন্ধি: পিরিয়ড, গলার স্বর ভাঙা আর শরীর নিয়ে ভাবনা

মেয়েদের বয়ঃসন্ধি সাধারণত শুরু হয় মোটামুটি ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে, আর ছেলেদের ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে; তাই ১২ বছরের ছেলেমেয়ের পরিবর্তন অনেকের ক্ষেত্রেই মাঝপথে, আবার অল্প কয়েকজনের এখনো শুরু হয়নি। এগুলোর সবই স্বাভাবিক হতে পারে:

  • মেয়েদের: অনেকের প্রথম পিরিয়ড এই সময়েই হয়, প্রায়ই স্তন বড় হতে শুরু করার দুই বছরের মতো পরে; শুরুর দিকে পিরিয়ড প্রায়ই অনিয়মিত থাকে, আর অনেক মেয়ের শুরু হয় মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
  • ছেলেদের: অনেকের শরীরে লোম আর গোপনাঙ্গ বড় হওয়া; গলার স্বর ভাঙতে শুরু করতে পারে, বড় করে লম্বা হওয়া প্রায়ই একটু পরে আসে, আর স্বপ্নদোষ প্রায়ই শুরু হয় ১২–১৩ বছরের দিক থেকে।
  • দুজনেরই: ব্রণ, ঘাম, ক্লান্তি, খুব খিদে, আর ‘আমি কি স্বাভাবিক?’ এই নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা।

১২ বছরে শরীর নিয়ে মনের ভাবনা প্রায়ই খুব নাজুক হয়ে ওঠে। বাচ্চা নিজেকে বন্ধু, বড় ক্লাসের ছেলেমেয়ে আর অনলাইনের ফিল্টার করা ছবির সঙ্গে মেলায়। ওজন, উচ্চতা আর গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য বাসা থেকে দূরে রাখুন, আর বারবার বলুন, প্রত্যেকের শরীরের নিজস্ব সময় আছে।

কী বলবেন, তার ভাষা পাবেন ছেলের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলা আর মেয়ের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলা লেখায়।

১২ বছরের শিশুর স্বাভাবিক আচরণ: গোপনীয়তা, মেজাজ আর তর্ক

১২ বছরের সন্তান কেন এমন করে? এই বয়সে বাচ্চা নিজের মতো একজন মানুষ হয়ে ওঠার চর্চা করে, আর তার অনেকটাই চলে বন্ধ দরজার আড়ালে। এগুলো খুব সাধারণ, আর সাধারণত ভয়ের কিছু নয়:

  • গান, বই বা স্ক্রিন নিয়ে অনেকক্ষণ নিজের ঘরে একা থাকতে চাওয়া।
  • আপনার প্রশ্নের ছোট্ট উত্তর, আর বন্ধুদের সঙ্গে লম্বা আড্ডা।
  • এই গরম, এই ঠান্ডা মেজাজ: রাতের খাবারে ‘আমাকে একা থাকতে দাও’, ঘুমের আগে জড়িয়ে ধরা।
  • নিয়ম, ন্যায্যতা, আর বন্ধুরা যা করে ও কেন তা পারবে না, এসব নিয়ে তর্ক।
  • লোকজনের সামনে বাবা-মাকে নিয়ে, আর নিজের শরীর নিয়েও খুব লজ্জা।

১২ বছরের সন্তান যখন আপনাকে দূরে সরিয়ে রাখে

  1. বন্ধ দরজার সম্মান দিন, ঢোকার আগে টোকা দিন; এখন গোপনীয়তা রাখলে পরে বিশ্বাস গড়ে ওঠে।
  2. যে সময়গুলোতে ও কথা বলে, তখন কাছে থাকুন: রিকশা বা গাড়িতে, রাতের দিকে, আপনি যখন রান্না করছেন।
  3. ‘স্কুল কেমন গেল?’ না বলে ছোট, নির্দিষ্ট একটা প্রশ্ন করুন, তারপর সমাধান না দিয়ে শুনুন।
  4. নিরাপত্তা, ঘুম আর সম্মান নিয়ে অল্প কয়েকটা স্পষ্ট নিয়ম রাখুন, আর ছোটখাটো ব্যাপার ছেড়ে দিন।
  5. তর্কের পরে সম্পর্কটা জোড়া দিন: ‘তখন একটু বেশি কড়া হয়ে গিয়েছিলাম। সরি।’

যা বলতে পারেন

  • টোকা দিলাম, কারণ এটা তোমার ঘর। এক মিনিটের জন্য আসতে পারি?
  • সব কথা আমাকে বলতেই হবে, তা নয়। শুধু জানতে চাই তুমি ঠিক আছ কি না।
  • আমার ওপর বিরক্ত হতেই পারো। কিন্তু বেয়াদবি করতে পারো না।
  • কখনো কোনো ঝামেলায় পড়লে আমাকে ফোন দিও। আমি আসব, আর আমরা একসঙ্গে সামলাব।
  • আমি তোমাকে বিশ্বাস করি, আর বিশ্বাস যত বাড়বে, স্বাধীনতাও তত বাড়বে।

নীরবতা যদি দীর্ঘ হয় বা বাড়তে থাকে, আবার কাছে আসার আরও উপায় পাবেন কিশোর সন্তান কথা বলে না লেখায়।

১২ বছরে বন্ধু, ভালো লাগা আর ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ: বন্ধুদের চাপ

১২ বছরে বন্ধুদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াটাই যেন সবকিছু, আর বন্ধুদের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাও সাধারণত বাড়ে। সাহসের চ্যালেঞ্জ, অনলাইনের নানা চ্যালেঞ্জ, কাউকে না বলে দোকানে চলে যাওয়া, বড় ক্লাসের কারও সিগারেট বা ভেপ সাধা: বেশির ভাগ ১২ বছরের বাচ্চা এর কোনো না কোনোটার মুখোমুখি হয়। কাউকে ভালো লাগাও খুব সাধারণ, আর তা নিয়ে গুজব আর ক্ষেপানোও।

  • ঝুঁকির চ্যালেঞ্জ আর অনলাইনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঘটার আগেই কথা বলুন: ‘কোনো বন্ধু যদি বলে..., তুমি কী করবে?’
  • একটা ‘উদ্ধার পরিকল্পনা’ ঠিক করুন: বাচ্চা একটা সংকেত-শব্দ লিখে বা ফোন করে জানাবে, আর আপনি কোনো বকাঝকা ছাড়াই চলে আসবেন।
  • ভালো লাগার কথা শান্তভাবে, ঠাট্টা ছাড়া নিন, আর সম্মান, সম্মতি আর অনলাইনে কী শেয়ার করা ঠিক, তা নিয়ে কথা বলুন।
  • ওর বন্ধুদের, আর পারলে তাদের বাবা-মাকেও চিনুন, আর পুরো দলটাকে বাসায় ডাকুন।

১২ বছরে স্কুল: ক্লাস সিক্স-সেভেন, কোচিং আর পরীক্ষার চাপ

অনেক বাংলাদেশি বাচ্চার জন্য ১২ বছর মানে ক্লাস সিক্স বা সেভেন: অনেক বিষয় আর শিক্ষক, বেশি হোমওয়ার্ক, অর্ধবার্ষিক আর বার্ষিক পরীক্ষা, আর প্রায়ই বেশি কোচিং। কোনো কোনো পরিবারে এখনই ক্লাস নাইন আর এসএসসির কথা শুরু হয়ে যায়, আর অনেক বাচ্চা রোল নম্বর আর নম্বর দিয়ে নিজেকে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলাতে শুরু করে।

১২ বছর বয়সে সন্তানকে কী শেখানো উচিত? পড়ার কৌশল আর নিজের যত্ন: রিভিশন ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা, পরীক্ষার আগে পরিকল্পনা, শুরুতেই সাহায্য চাওয়া, আর অপরাধবোধ ছাড়া বিশ্রাম নেওয়া।

  • আরেকজন টিউটর যোগ করার আগে হিসাব করুন দিনে আর কী বাকি থাকে: ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম, এক ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপ, একটু অবসর আর পরিবারের সময়।
  • প্রত্যেক টিউটর আর কোচিংয়ের শিক্ষককে বলুন চেষ্টার প্রশংসা করতে, আর কখনো মারতে বা লজ্জা দিতে নয়।
  • পরীক্ষার পরে ‘রোল কত হলো?’ জিজ্ঞেস করার আগে জিজ্ঞেস করুন ‘কোন অংশটা কঠিন লেগেছিল?’
  • পরীক্ষা এলেই নির্ঘুম রাত, পেটব্যথা, আতঙ্ক বা কান্না হলে শান্ত একটা পরিকল্পনা পাবেন পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায় লেখায়।

১২ বছরের বাচ্চার ঘুম, দৌড়ঝাঁপ আর সোশ্যাল মিডিয়া

  • ঘুম: বেশির ভাগ ১২ বছরের বাচ্চার এখনো ২৪ ঘণ্টায় ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার। বয়ঃসন্ধি শরীরের ঘড়ি পিছিয়ে দেয়, তাই অনেকের দেরিতে ঘুম পায়; স্কুলের জন্য যথেষ্ট আগে শোয়ার সময়টা আগলে রাখুন, আর মোবাইল চার্জ হোক শোবার ঘরের বাইরে।
  • দৌড়ঝাঁপ: দিনে অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো খেলাধুলা। এই সময়ে অনেকে, বিশেষ করে মেয়েরা, খেলাধুলা ছেড়ে দেয়। ১২ বছরে ভালো খেলা: ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, সাইকেল, নাচ, মার্শাল আর্ট, বা বাবা-মায়ের সঙ্গে জোরে হাঁটা।
  • খাবার: আমিষ, সবজি আর ফলসহ নিয়মিত খাবার; হঠাৎ লম্বা হওয়ার সময় খিদে খুব বাড়ে, আর স্কুলের আগে নাশতা বাদ দেওয়া খুব সাধারণ।
  • স্ক্রিন: ৬ বছর থেকে নির্দিষ্ট কোনো ঘণ্টার হিসাব নেই; এমন সীমা রাখুন যাতে ঘুম, দৌড়ঝাঁপ, হোমওয়ার্ক আর পরিবারের সময় ঠিক থাকে, আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টায় কোনো স্ক্রিন নয়।

মর্নিং শিফটের স্কুলের দিনে ১২ বছরের সন্তানের রুটিন মোটামুটি এমন হলে ঘুম বাঁচে: স্কুল আর দুপুরের খাবার, বিকেলে কোচিং বা হোমওয়ার্ক, সন্ধ্যার আগে এক ঘণ্টা দৌড়ঝাঁপ, রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার, সাড়ে ৮টার মধ্যে স্ক্রিন বন্ধ, আর সকাল সাড়ে ৬টায় উঠতে হলে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বাতি নেভানো।

১৩-র আগে সোশ্যাল মিডিয়া

বেশির ভাগ সোশ্যাল অ্যাপে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর, তবু অনেক ১২ বছরের বাচ্চা এগুলো ছাড়া নিজেকে বাদ পড়া মনে করে। আপনার উত্তর যদি হয় ‘এখনো না’, কারণটা বুঝিয়ে বলুন, আপাতত পরিবারের গ্রুপ চ্যাট রাখুন, আর কবে আবার ভেবে দেখবেন তা ঠিক করুন।

  • কী কী খারাপ হতে পারে, তা নিয়ে কথা বলুন: বাচ্চা সেজে অচেনা মানুষ, ছবি চাওয়া, প্রতারণা, নিষ্ঠুর মন্তব্য আর গ্রুপ চ্যাটের ঝামেলা।
  • কেউ ছবি চাইলে বা ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে: কোনো টাকা বা কিছুই পাঠাবে না, কারও ব্যক্তিগত ছবি কখনো কপি বা ফরোয়ার্ড করবে না, অ্যাকাউন্টটা ব্লক আর রিপোর্ট করবে, আর সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মাকে জানাবে।
  • মোবাইল যদি এখনই ঘুম, হোমওয়ার্ক বা পরিবারের সময়ের জায়গা নিতে শুরু করে, শান্ত একটা পরিকল্পনা পাবেন কিশোর সন্তানের মোবাইল আসক্তি লেখায়, যা ১২ বছরেও কাজে দেয়।

বাংলাদেশি পরিবারে ১২ বছর: ন্যায্য নিয়ম আর প্রথম পিরিয়ড

ছেলে আর মেয়ের জন্য একই ন্যায্য নিয়ম

১২ বছরের দিকে অনেক পরিবার মেয়ের জন্য নিয়ম কড়া করে, আর ছেলে পায় বেশি স্বাধীনতা। ১২ বছরের বাচ্চা এটা খেয়াল করে, আর খুব অন্যায় মনে হতে পারে। নিয়ম ঠিক করুন নিরাপত্তা, বয়স আর বিশ্বাসের ভিত্তিতে, ছেলে না মেয়ে তার ভিত্তিতে নয়: সন্ধ্যার পর কারোরই একা কোচিংয়ে যাওয়া ঠিক না হলে, নিয়মটা দুজনের জন্যই বলুন।

যখন প্রথম পিরিয়ড হয়

কোনো কোনো পরিবারে মেয়ের প্রথম পিরিয়ডের খবর আত্মীয়দের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে যায়। আগে ওকেই জিজ্ঞেস করুন কাকে জানাতে চায়, আর চাইলে ব্যাপারটা নিজেদের মধ্যেই রাখুন। দিনটা নিয়ম বা সতর্কবাণী দিয়ে নয়, স্নেহ দিয়ে মনে রাখুন: ওর প্রিয় কোনো খাবার, বা একটু শান্ত গল্প। বাবাও পাশে থাকতে পারেন: প্যাড কিনে এনে, বা শুধু বলে, ‘কিছু লাগলে আমাকে বোলো।’

১২ বছরের সন্তানের কাছাকাছি থাকতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

একটা পরিবর্তন বেছে নিন, প্রতিদিন কী হচ্ছে লিখে রাখুন, আর এক সপ্তাহ পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: খেয়াল করুন সন্তান কখন সবচেয়ে সহজে কথা বলে: রিকশায়, ঘুমের আগে, খাওয়ার সময়, নাকি আপনি যখন রান্না করছেন।
  2. দিন ২: প্রতিবার ঘরে ঢোকার আগে টোকা দিন, আর কারণটাও বলুন: ‘এটা তোমার জায়গা।’
  3. দিন ৩: একসঙ্গে মোবাইলের একটা নিয়ম ঠিক করুন, যেমন রাতে মোবাইল চার্জ হবে শোবার ঘরের বাইরে।
  4. দিন ৪: বন্ধুদের নিয়ে নির্দিষ্ট একটা প্রশ্ন করুন, আর শুধু শুনুন।
  5. দিন ৫: একটা উদ্ধার পরিকল্পনা ঠিক করুন: সন্তান একটা সংকেত-শব্দ লিখে পাঠালেই আপনি বকাঝকা ছাড়া চলে আসবেন।
  6. দিন ৬: খোঁজ দেওয়ার পরিষ্কার নিয়মসহ নতুন একটা স্বাধীনতা দিন, যেমন বন্ধুদের সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য বাইরে যাওয়া।
  7. দিন ৭: প্রথম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কোন মুহূর্তগুলোতে সবচেয়ে কাছের মনে হয়েছে? সেগুলো ধরে রাখুন।

১২ বছরের সন্তানকে নিয়ে কখন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলবেন

১২ বছরের বেশির ভাগ মেজাজ আর দুশ্চিন্তা বড় হওয়ারই অংশ। তবু নিচের কোনোটা দেখলে বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর যেখানে বলা আছে সেখানে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য নিন:

এমন হলে সাহায্য নিন

  • মেয়ের মোটামুটি ৮ বছরের আগে বা ছেলের ৯ বছরের আগে বয়ঃসন্ধির লক্ষণ শুরু হয়েছিল, অথবা মেয়ের মোটামুটি ১৩ বা ছেলের ১৪ বছরেও কোনো লক্ষণ নেই: ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • পিরিয়ডে এত রক্ত বা এত ব্যথা যে মেয়ে প্রায়ই স্কুলে যেতে পারে না, এক-দুই ঘণ্টায় একটা প্যাড ভিজে যায়, বা মোটামুটি এক সপ্তাহের বেশি রক্ত যায়।
  • অণ্ডকোষ বা কুঁচকিতে হঠাৎ তীব্র ব্যথা বা ফোলা: দিন হোক বা রাত, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
  • ওজন বা খাবার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা, খাবার বাদ দেওয়া, বা লুকিয়ে খাওয়া: শিগগিরই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • বুলিং, আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, শিক্ষক বা টিউটর মারছেন বা অপমান করছেন, বা কেউ ছবি চাইছে, ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বা দেখা করতে চাইছে: সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। কোনো টাকা বা কিছুই পাঠাবেন না, মেসেজগুলো রেখে দিন, তবে কোনো ব্যক্তিগত ছবি কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, আর অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন। নির্যাতন, ব্ল্যাকমেইল, বা কোনো বড় মানুষ মারলে স্থানীয় থানায় জানান, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা। এমন কথা বললে শান্ত থাকুন, সন্তানের কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

সন্তান ১৩-তে পা দিলে কৈশোরের শুরুর বছরগুলো পাবেন আপনার ১৩–১৫ বছরের কিশোর-কিশোরী লেখায়। ১২ বছরের সন্তানের আচরণ ও বিকাশের ধারা বুঝতে ParentMind-এ প্রতিদিন মেজাজ, ঘুম আর মোবাইলের সময় লিখে রাখতে পারেন, যাতে একটা খারাপ দিন নয়, পুরো ধারাটা চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

১২ বছরের সন্তান সারাক্ষণ নিজের ঘরে একা থাকতে চায়, এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, বেশির ভাগ বাচ্চার ক্ষেত্রে। একা সময় ১২ বছরের বাচ্চাকে বিশ্রাম নিতে, ভাবতে আর নিজেকে চিনতে সাহায্য করে। ঢোকার আগে টোকা দিন, রোজ অল্প সময় একসঙ্গে কাটান, আর সন্দেহ নয়, কৌতূহল রাখুন। তবে সন্তান যদি সবার কাছ থেকেই গুটিয়ে যায়, খাওয়া বা ঘুম কমে যায়, বা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকে, তাহলে আরও খেয়াল করুন।

১২ বছরের বাচ্চার কত ঘণ্টা ঘুম দরকার?

বেশির ভাগ ১২ বছরের বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার, ছোটদের মতোই, যদিও বয়ঃসন্ধির কারণে অনেকের রাতে দেরিতে ঘুম পায়। সকাল সাড়ে ৬টায় উঠতে হলে সাধারণত রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে বাতি নেভাতে হয়। রাতে মোবাইল শোবার ঘরের বাইরে রাখুন। ১৩ বছর থেকে এই সীমা হয় ৮–১০ ঘণ্টা।

১২ বছরের মেয়ের এখনো পিরিয়ড হয়নি, এটা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ। অনেক মেয়ের প্রথম পিরিয়ড হয় মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে, প্রায়ই স্তন বড় হতে শুরু করার দুই বছরের মতো পরে; তাই অনেক ১২ বছরের মেয়ের এখনো শুরু হয়নি। প্যাড আর স্কুলের পাউচ দিয়ে এখনই ওকে তৈরি করে রাখুন। মোটামুটি ১৩ বছরেও বয়ঃসন্ধির কোনো লক্ষণ না থাকলে, বা ১৫ বছরেও পিরিয়ড না হলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

১২ বছরের সন্তানের কাউকে ভালো লাগা বা ‘প্রেম’ কি স্বাভাবিক?

১২ বছরে কাউকে ভালো লাগা খুব সাধারণ, আর কেউ কেউ বলে তারা কারও সঙ্গে ‘প্রেম করছে’, যার মানে সাধারণত মেসেজ আর কথাবার্তা, এর বেশি কিছু নয়। শান্ত থাকুন, অনুভূতিটা নিয়ে ঠাট্টা বা শাস্তি দেবেন না, আর লজ্জা না দিয়ে পরিবারের মূল্যবোধের কথা বলুন। সম্মান, সম্মতি আর কখনো ব্যক্তিগত ছবি না পাঠানো নিয়ে কথা বলুন, আর বুঝিয়ে দিন যে ও আপনাকে যেকোনো কথা বলতে পারে।

১২ বছরে কি সোশ্যাল মিডিয়া চালানো ঠিক?

বেশির ভাগ সোশ্যাল অ্যাপে ন্যূনতম বয়স ১৩ বছর, তাই অপেক্ষা করাই ভালো। ততদিন পরিবার আর কোচিংয়ের গ্রুপ চলতে পারে বাবা-মায়ের মোবাইলে। সন্তান যখন অ্যাকাউন্ট খুলবে, অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট রাখুন, শুধু বাস্তবে চেনা মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দিন, আর রাতে মোবাইল শোবার ঘরের বাইরে রাখুন। ঠিক করে নিন, কেউ ছবি চাইলে বা হুমকি দিলে সন্তান আপনাকে জানাবে, আর জানানোর জন্য কোনো বকা খাবে না।

১২ বছরের সন্তানকে কতটা স্বাধীনতা দেওয়া উচিত?

এতটা, যাতে ও চর্চা করতে পারে, ছোট ছোট ধাপে, যা বিশ্বাসের সঙ্গে বাড়ে। অনেক ১২ বছরের বাচ্চা নিজের জামা বাছতে, হাতখরচ সামলাতে, আর একসঙ্গে পথটা চিনিয়ে দেওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে চেনা জায়গায় অল্প দূর যেতে পারে, যেমন কোচিং বা কাছের দোকান। কখন খোঁজ দেবে তা ঠিক করুন, আর নিয়ম ভাঙলে সব কেড়ে না নিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে আসুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

প্রি-টিন (১০–১২ বছর): আরও গাইড

প্রি-টিন: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।