মূল কনটেন্টে যান

বাবা-মার বিচ্ছেদে সন্তানের মানসিক অবস্থা: কী বলবেন, কীভাবে পাশে থাকবেন

ছোট করে উত্তর

বাবা-মার বিচ্ছেদে সন্তানের মানসিক অবস্থা ভালো রাখতে সবচেয়ে কাজে দেয় সহজ, সত্যি একটা ব্যাখ্যা, নিরাপদ হলে দুজনে মিলে বলা, আর পরিষ্কার করে জানানো যে এতে সন্তানের কোনো দোষ নেই। রুটিন ঠিক রাখুন, তাকে দুজনকেই ভালোবাসতে দিন, কখনো খবর আনা-নেওয়ার কাজে লাগাবেন না, আর বড়দের ঝগড়া তার থেকে দূরে রাখুন। কেউ বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যে বাবা-মা আলাদা হচ্ছেন, বিচ্ছেদ হয়ে গেছে বা আলাদা থাকছেন, যেকোনো বয়সের সন্তানসহ, যৌথ পরিবারেও
মূল কথা
  • সব বয়সের সন্তানের সহজ ভাষায় শোনা দরকার যে বিচ্ছেদ বড়দের সিদ্ধান্ত, এতে তার কোনো দোষ নেই।
  • নিয়মিত রুটিন, নিরাপদ হলে দুজনের সঙ্গেই সময়, আর সন্তানের সামনে দোষারোপ বা তাকে দিয়ে খবর পাঠানো না হলে সন্তান সাধারণত ভালোভাবে সামলে ওঠে।
  • প্রথম কয়েক মাসে মন খারাপ, রাগ, আঁকড়ে থাকা বা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া সাধারণ; তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বদল খতিয়ে দেখা দরকার।
  • ঘরে সহিংসতা হয়ে থাকলে আগে নিরাপত্তা: কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। সন্তানের অভিভাবকত্ব বা অন্য আইনি প্রশ্নে পারিবারিক আইনজীবী পরামর্শ দিতে পারবেন।

বাবা-মার বিচ্ছেদে সন্তানের মানসিক অবস্থা কেমন হবে, বিচ্ছেদের সময় বেশির ভাগ বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এটাই; আইনি বা ব্যবহারিক প্রশ্ন নয়। “এতে আমার সন্তানের কী হবে?” এই দুশ্চিন্তাই বলে দেয় আপনি সন্তানকে কতটা ভালোবাসেন, আর শুরুটা এখান থেকেই।

বিচ্ছেদের পরও সন্তান ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। সাধারণত সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো তাকে কতটা ঝগড়ার মধ্যে থাকতে হয়, নিরাপদ হলে বাবা আর মা দুজনের সঙ্গেই উষ্ণ সম্পর্ক থাকে কি না, আর রোজকার জীবন কতটা স্থির থাকে। নিচে পাবেন: বয়স অনুযায়ী সন্তানের প্রতিক্রিয়া, কী বলবেন, কী করবেন না, দুই বাসা, আত্মীয়স্বজন, নিরাপত্তা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।

বাবা-মার বিচ্ছেদে সন্তানের মানসিক অবস্থা: বয়স অনুযায়ী কী দেখা যায়

বাবা-মা আলাদা হলে বেশির ভাগ সন্তানের মন খারাপ হয়, দুশ্চিন্তা বা রাগ হয়, আর অনেকে মুখে বলার আগেই আচরণে তা দেখায়। বিচ্ছেদের পর শিশুর আচরণ কেমন হবে, তা অনেকটা বয়সের ওপর নির্ভর করে:

বিচ্ছেদে সন্তান কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে, আর কী কাজে দেয়
বয়সযা চোখে পড়তে পারেযা সবচেয়ে কাজে দেয়
০–২ বছরবেশি কান্না আর আঁকড়ে থাকা, ঘুমে অস্থিরতা, এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যাওয়ার সময় কান্নাকাটিএকই যত্নকারী, একই খাওয়া আর ঘুমের রুটিন; শান্ত, ছোট বিদায়
৩–৫ বছরআবার বিছানা ভেজানো বা আধো আধো কথা, জেদ, ফেলে চলে যাওয়ার ভয়; ভাবতে পারে সে-ই কারণসহজ কথা, বারবার বলা; অনেক আদর; কোন দিন কোথায় ঘুমাবে, ছবি দিয়ে একটা ক্যালেন্ডার
৬–৯ বছরমন খারাপ, অন্যজনকে খুব মনে পড়া, বাবা-মা আবার এক হবে এই আশা, “খুব ভালো” হয়ে থাকার চেষ্টাপরিষ্কার পরিকল্পনা; নিরাপদ হলে দুজনের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ; দুজনকেই ভালোবাসার অনুমতি
১০–১২ বছররাগ, কারও পক্ষ নেওয়া, একজনকে দোষ দেওয়া, পেট ব্যথা, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়াপ্রশ্নের সৎ উত্তর; কোনো দোষারোপ নয়; ক্লাস টিচারকে আলাদা করে জানিয়ে রাখা
১৩–১৮ বছরচুপ হয়ে যাওয়া বা রাগ, বাইরে বেশি থাকা, বড়দের দুশ্চিন্তা বা বাবা-মায়ের ভূমিকা কাঁধে নেওয়া, নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে সংশয়পরিকল্পনায় তার মতামতকে সম্মান; তাকে নিজের মনের কথা বলার সঙ্গী না বানানো; জায়গা দেওয়া, তবে দরজা খোলা রাখা

জীবন একটু থিতু হলে এর অনেক প্রতিক্রিয়া কয়েক মাসের মধ্যে কমে আসে। তীব্র অনুভূতি সামলাতে দেখুন শিশুর বড় বড় অনুভূতি। আর কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্তান মনমরা আর চুপচাপ থাকলে দেখুন সন্তান মনমরা বা গুটিয়ে থাকলে।

সন্তানকে বিচ্ছেদের কথা বলবেন যেভাবে

বিচ্ছেদের কথা প্রথম যেভাবে শোনে, তা সন্তানের মনে অনেক দিন থেকে যায়। একদম ঠিক মুহূর্ত খুব কমই আসে, তবে একটু পরিকল্পনা করলে কথাটা সবার জন্য সহজ হয়:

  1. নিরাপদ হলে দুজনে মিলে পরিকল্পনা করুন আর একই সহজ কথায় একমত হোন, যাতে সন্তান দুটো নয়, একটাই গল্প শোনে।
  2. সব সন্তানকে একসঙ্গে, বাসায়, শান্ত একটা সময়ে বলুন: স্কুল, পরীক্ষা বা ঘুমের ঠিক আগে নয়।
  3. পরিষ্কার করে বলুন: এটা বড়দের সিদ্ধান্ত, এতে তোমার দোষ নেই, তুমি এটা ঠিক করতে পারবে না, আর আমরা দুজনেই তোমাকে ভালোবাসি।
  4. কী বদলাবে আর কী একই থাকবে বুঝিয়ে বলুন: কোথায় ঘুমাবে, স্কুল, বন্ধু, দাদা-দাদি, নানা-নানি, আর কবে কার সঙ্গে দেখা হবে।
  5. বড়দের কারণ আর দোষারোপ বাদ দিন: পরকীয়া, টাকা-পয়সা, কার দোষ।
  6. সন্তানকে নিজের মতো করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে দিন: প্রশ্ন, চুপ থাকা, কান্না বা রাগ; আর পরের কয়েক দিন আবার এ নিয়ে কথা বলুন।
  7. বড় সন্তান আরও জানতে চাইলে একটু বেশি বলুন, তবে শুধু যা তার জীবনে প্রভাব ফেলে।

সন্তানকে যা বলতে পারেন

  • আব্বু আর আম্মু এখন থেকে দুই বাসায় থাকবে। আমরা দুজনেই সবসময় তোমাকে ভালোবাসব।
  • এটা বড়দের সিদ্ধান্ত। তোমার কোনো কাজের জন্য এটা হয়নি, আর তুমি কিছু করে এটা বদলাতেও পারবে না।
  • স্কুলের দিনগুলোতে তুমি এখানে থাকবে, আর প্রতি শুক্র-শনিবার আব্বুর কাছে যাবে।
  • তোমাকে কাউকে বেছে নিতে হবে না। তুমি আমাদের দুজনকেই ভালোবাসতে পারো।
  • রাগ হওয়া বা মন খারাপ হওয়া ঠিক আছে। তুমি আমাকে সব বলতে পারো।
  • কিছু কথা তোমার বাবা আর আমার মধ্যেকার, তবে যা তোমার জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা সবসময় তোমাকে জানাব।

যা করবেন না: দোষারোপ, খবর আনা-নেওয়া আর পক্ষ বেছে নেওয়া

সন্তান নিজেকে বাবা আর মা দুজনেরই অংশ ভাবে, তাই একজনের নিন্দা তার কাছে নিজের নিন্দার মতো লাগতে পারে। আপনাদের মধ্যে যা-ই ঘটুক, এগুলো থেকে সন্তানকে আগলে রাখার চেষ্টা করুন:

  • সন্তানের সামনে অন্যজনকে, বা তাঁর পরিবারকে, দোষ দেওয়া বা নিন্দা করা।
  • ছোট ব্যাপারেও সন্তানকে দিয়ে খবর পাঠানো: “তোর বাবাকে বলিস, স্কুলের বেতন দিতে হবে।” খবর আদান-প্রদান হোক বড়দের মধ্যে, সরাসরি।
  • সন্তানকে দিয়ে নজরদারি করানো বা খবর আনানো: “তোর মায়ের বাসায় কে এসেছিল?”
  • কাউকে বেছে নিতে বলা, বা অন্যজনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানোর জন্য তাকে অপরাধী বোধ করানো।
  • বিচ্ছেদের কষ্টের কথা বলে সন্তানের কাছে সান্ত্বনা খোঁজা; এর জন্য অন্য কোনো বড় মানুষের কাছে যান।
  • নিজেরাই নিশ্চিত নন, তবু আবার এক হওয়ার কথা দেওয়া, বা সন্তানকে ভাবতে দেওয়া যে আপনাদের আবার এক করা তার দায়িত্ব।

এখনো এক ছাদের নিচে থাকলে আর প্রায়ই ঝগড়া হলে, সন্তানকে কীভাবে ঝগড়া থেকে দূরে রাখবেন, দেখুন বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে প্রভাব লেখায়।

আলাদা থেকেও দুজনে মিলে সন্তান পালন: দুই বাসা যেভাবে সহজ হয়

আলাদা থেকেও দুজনে মিলে সন্তান পালন সাধারণত সবচেয়ে ভালো চলে, যখন বড়রা বিষয়টাকে শান্ত, আগে থেকে জানা আর সন্তানকেন্দ্রিক রাখেন। বন্ধু হতে হবে না; ভদ্র আর কাজের কথায় সীমিত থাকলেই যথেষ্ট।

  • নিয়মিত, আগে থেকে জানা সময়সূচি, সন্তান দেখতে পায় এমন একটা সহজ ক্যালেন্ডারে, প্রতিটা বাসার জন্য আলাদা রং।
  • ঘুম, স্ক্রিন আর হোমওয়ার্কের মূল নিয়মগুলো দুই বাসায় মোটামুটি একই রাখা, অন্য কিছু আলাদা হলেও।
  • সন্তানকে শান্তভাবে দেওয়া-নেওয়া, দরজায় দাঁড়িয়ে ঝগড়া নয়। এ সময় উত্তেজনা হলে স্কুল, কোনো আত্মীয়ের বাসা বা অন্য নিরপেক্ষ জায়গা বেছে নিন।
  • প্রতিটা বাসায় সন্তানের নিজের কিছু জিনিস: টুথব্রাশ, স্কুল ড্রেস, প্রিয় কাপ বা খেলনা, অন্যজনের একটা ছবি।
  • নির্দিষ্ট সময়ে অন্যজনের সঙ্গে ফোন বা ভিডিও কল, আপনি পাশে বসে না শুনে।
  • বড়দের মধ্যে শুধু সন্তানের বিষয়ে ছোট, ভদ্র লিখিত মেসেজ। কথা বললেই ঝগড়া বাধলে একজন পারিবারিক কাউন্সেলর বা মধ্যস্থতাকারী পরিকল্পনায় একমত হতে সাহায্য করতে পারেন।

সিঙ্গেল মা বা বাবা হিসেবে একাই সন্তান বড় করলে

সিঙ্গেল মা বা বাবার কাঁধে অনেক ভার। রুটিন সহজ রাখুন, পরিবারের ব্যবহারিক সাহায্য নিন, আর নিজের জন্য একটু বিশ্রাম আগলে রাখুন। সন্তানকে “এখন থেকে তুমিই বাড়ির পুরুষ” বা “ছোট্ট মা” বানাবেন না: বাচ্চাকে বাচ্চা থাকতে দিলে সে সাধারণত ভালোভাবে সামলে ওঠে। নিজের ক্লান্তি আর অপরাধবোধ নিয়ে দেখুন সন্তান লালন-পালনে ক্লান্তি ও অপরাধবোধ।

আমাদের সমাজে বিচ্ছেদ: লোকের কথা, আত্মীয়স্বজন আর দাদা-দাদি, নানা-নানি

আমাদের অনেক পরিবার আর পাড়ায় এখনো বিচ্ছেদ নিয়ে নানা কথা হয়, আর তার ভার প্রায়ই সবচেয়ে বেশি পড়ে মায়ের ওপর। বড়রা যতটা ভাবেন, সন্তান তার চেয়ে বেশি শোনে: কোনো আত্মীয়ের মুখে “ভাঙা সংসার”, প্রতিবেশীর প্রশ্ন “তোমার আব্বু কোথায়?”, বা সহপাঠীর কৌতূহল। যা কাজে দিতে পারে:

  • কৌতূহলী প্রশ্নের জন্য সন্তানকে ছোট আর সত্যি একটা উত্তর শিখিয়ে দিন, আর এর বেশি না বলার অনুমতিও দিন: “আমার আব্বু-আম্মু আলাদা বাসায় থাকে। আমি আম্মুর সঙ্গে থাকি।”
  • আত্মীয়দের অনুরোধ করুন সন্তানের সামনে বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা না করতে, বা বাবা কিংবা মায়ের নিন্দা না করতে।
  • নিরাপদ হলে, আর অন্যজনের ব্যাপারে তাঁরা সংযত থাকতে পারলে, দাদা-দাদি আর নানা-নানি দুই দিকের মানুষকেই সন্তানের জীবনে রাখুন; অনেক বাচ্চার কাছে তাঁরাই ভরসার খুঁটি।
  • ক্লাস টিচারকে আলাদা করে জানিয়ে রাখুন, যাতে তিনি সন্তানের পরিবর্তন খেয়াল রাখতে পারেন, আর ফর্ম, অভিভাবক দিবস বা পারিবারিক অনুষ্ঠান যত্ন নিয়ে সামলাতে পারেন।
  • ঈদ আর পারিবারিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা আগে থেকে করুন, যাতে সন্তান জানে কোথায় থাকবে, আর সেদিন টানাপোড়েনে না পড়ে।
  • বিশেষ করে মায়েদের ক্ষেত্রে বাবার বাড়িতে ফিরে যাওয়া খুব সাধারণ। বাসা কত বড় তার চেয়ে সন্তানের কাছে বেশি জরুরি একজন স্থির মূল যত্নকারী আর চেনা রুটিন।

আগে নিরাপত্তা: ঘরে সহিংসতা বা ভয়ের পরিবেশ থাকলে

বাবা বা মা যদি আপনাকে বা সন্তানদের মেরে থাকেন, হুমকি দিয়ে থাকেন বা ভয় দেখিয়ে থাকেন, তাহলে দেখা-সাক্ষাৎ আর সন্তান দেওয়া-নেওয়ার সাধারণ পরামর্শ পরে। আগে নিরাপত্তা, আপনার আর সন্তানদের।

  • কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। স্থানীয় থানায়ও জানাতে পারেন।
  • জরুরি অবস্থায় আপনি আর সন্তানেরা কোথায় যেতে পারবেন, যেমন কোনো আত্মীয়ের বাসা, তা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন, আর ফোনে চার্জ রাখুন।
  • জরুরি কাগজপত্র, কিছু টাকা আর সন্তানদের ওষুধ এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে দ্রুত নিতে পারবেন।
  • সন্তানকে দেওয়া-নেওয়া করুন লোকজন আছে এমন নিরাপদ কোনো জায়গায়, বা বিশ্বস্ত কোনো আত্মীয়ের মাধ্যমে, আর স্কুলকে জানিয়ে রাখুন কে সন্তানকে নিতে আসতে পারবেন।
  • সন্তান যদি বলে তাকে আঘাত করা হয়েছে, বা বাবা-মা কিংবা অন্য কোনো বড় মানুষকে ভয় পায়, তার কথা বিশ্বাস করুন, তাকে সেই মানুষটার কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন।
  • আইনি সুরক্ষা আর সন্তানদের ব্যবস্থার বিষয়ে একজন পারিবারিক আইনজীবী পরামর্শ দিতে পারবেন।

সন্তানকে জানানোর পর প্রথম ৭ দিনের পরিকল্পনা

সন্তানকে জানানোর পরের প্রথম সপ্তাহটাই অনেকটা সুর বেঁধে দেয়। প্রতি সন্ধ্যায় সন্তানের ঘুম, খাওয়া আর মন নিয়ে এক লাইন লিখুন, আর সাত দিন পরে মিলিয়ে দেখুন।

  1. দিন ১: নিরাপদ হলে ঠিক করে রাখা কথাগুলো দিয়ে দুজনে মিলে সন্তানদের জানান। দিনের বাকিটা কাছাকাছি থাকুন।
  2. দিন ২: বাকি সব যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখুন: স্কুল, খাওয়া, ঘুমের সময়, রাতের দোয়া বা গল্প।
  3. দিন ৩: সন্তানের সঙ্গে মিলে সহজ একটা ক্যালেন্ডার বানান, কোন দিন সে কোথায় থাকবে।
  4. দিন ৪: অন্যজনের সঙ্গে ফোন বা দেখা করার ব্যবস্থা করুন, আর নিরাপদ হলে দুই দিকের দাদা-দাদি, নানা-নানির সঙ্গেও।
  5. দিন ৫: ক্লাস টিচারকে আলাদা করে জানান, আর কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে আপনাকে জানাতে বলুন।
  6. দিন ৬: সন্তানের পছন্দের কিছু নিয়ে একান্তে সময় কাটান, আর জিজ্ঞেস করুন তার কেমন লাগছে।
  7. দিন ৭: নোটগুলো আবার পড়ুন। ঘুম কি থিতু হচ্ছে? নতুন কোনো দুশ্চিন্তা? সম্ভব হলে যা খেয়াল করলেন অন্যজনকে জানান, আর যা কাজে দিচ্ছে তা চালিয়ে যান।

কখন সন্তানের জন্য, আর নিজের জন্য সাহায্য নেবেন

বাবা-মার বিচ্ছেদে সন্তানের মানসিক অবস্থা সাধারণত জীবন আবার নিয়মে ফিরলে থিতু হয়ে আসে। সাহায্য নিন যদি:

কখন সাহায্য নেবেন

  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে সন্তান বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, চুপচাপ, রাগী বা দুশ্চিন্তায় থাকে, বা কিছুতেই আর আনন্দ পায় না: শিগগির ডাক্তার বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন।
  • আবার বিছানা ভেজানো, আঁকড়ে থাকা বা আধো আধো কথা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে, বা এক-দুই সপ্তাহের বেশি স্কুল কামাই হচ্ছে: স্কুল আর ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন, এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • সন্তান বলে তাকে আঘাত করা হয়েছে, বা বাবা-মা কিংবা অন্য কোনো বড় মানুষকে ভয় পায়: সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, তাকে সেই মানুষটার কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। স্থানীয় থানায় জানাতে পারেন; সন্তান এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন আপনার মন খারাপ থাকে, বা সামলাতে পারছেন না: শিগগির ডাক্তার দেখান। নিজের যত্ন নেওয়াও সন্তানের যত্নেরই অংশ।
  • সন্তানের কোনো ব্যাপারেই আপনারা একমত হতে পারছেন না: একজন পারিবারিক কাউন্সেলর বা মধ্যস্থতাকারী সাহায্য করতে পারেন, আর আইনি প্রশ্নে পারিবারিক আইনজীবী পরামর্শ দিতে পারবেন।

সন্তান কেমন সামলাচ্ছে, তা প্রায়ই বোঝা যায় রোজকার ছোট ছোট লক্ষণে: ঘুম, খাওয়া, দেখা করে ফেরার পর মন। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে আর সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ধরনগুলো দেখতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

কোন বয়সে বাবা-মার বিচ্ছেদ সন্তানের জন্য কম কষ্টের?

এমন কোনো “ভালো বয়স” নেই; প্রতিটা বয়সের আলাদা প্রয়োজন। ছোট বাচ্চা নিজেকে দোষী ভাবতে পারে, তার দরকার সহজ কথা আর স্থির রুটিন। স্কুলপড়ুয়া সন্তান প্রায়ই বাবা-মা আবার এক হওয়ার আশা করে, তার দরকার দুজনকেই ভালোবাসার অনুমতি। কিশোররা বেশি বোঝে, কিন্তু অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে পারে। বয়সের চেয়ে সাধারণত বেশি জরুরি, পরের জীবনটা কতটা শান্ত আর স্থির।

বিচ্ছেদের কথা সন্তানকে কীভাবে বলব?

ছোট আর সত্যি করে বলুন, আর সম্ভব হলে দুজনেই একই কথা বলুন: “আম্মু আর আব্বু এখন থেকে দুই বাসায় থাকবে। এটা বড়দের সিদ্ধান্ত, এতে তোমার দোষ নেই, আর আমরা দুজনেই তোমাকে ভালোবাসি।” তারপর বুঝিয়ে বলুন সে কোথায় থাকবে আর কবে কার সঙ্গে দেখা হবে। দোষারোপ আর বড়দের কারণ বাদ দিন, আর পরের কয়েক দিন তার প্রশ্নের উত্তর দিন।

সন্তানের জন্য কি একসঙ্গে থেকে যাওয়াই ভালো?

এর কোনো একটাই সঠিক উত্তর নেই, আর নিজের পরিস্থিতি আপনিই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। বাবা-মা একসঙ্গে থাকুন বা আলাদা, সন্তানকে সাধারণত সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় ঘরে লাগাতার তীব্র ঝগড়া বা ভয়ের পরিবেশ, আর শান্তভাবে বিচ্ছেদের পর অনেক সন্তান ভালো থাকে। ঘরে সহিংসতা থাকলে আগে নিরাপত্তা; কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

কথা বললেই ঝগড়া হয়, তাহলে আলাদা থেকে দুজনে মিলে সন্তান পালন করব কীভাবে?

যোগাযোগ ছোট, লিখিত আর শুধু সন্তানকেন্দ্রিক রাখুন: স্কুল, স্বাস্থ্য আর সময়সূচির জন্য মেসেজ বা একটা যৌথ খাতা। নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করে নিন, যাতে দর-কষাকষি কম লাগে, আর সন্তানকে দেওয়া-নেওয়া করুন স্কুলে বা কোনো আত্মীয়ের বাসায়। আলাদা হওয়া অনেক বাবা-মা কিছুদিন একসঙ্গে নয়, পাশাপাশি থেকে সন্তান পালন করেন। পারিবারিক কাউন্সেলর বা মধ্যস্থতাকারী পরিকল্পনায় একমত হতে সাহায্য করতে পারেন।

সন্তান বিচ্ছেদের জন্য আমাকে দোষ দেয়, কী করব?

শান্ত থাকুন; পাল্টা তর্ক না করে আর অন্যজনকে দোষ না দিয়ে সন্তানকে রাগ করতে দিন, রাগ অনেক সময় কষ্টেরই আরেক রূপ। বলতে পারেন: “আমি বুঝতে পারছি তুমি আমার ওপর খুব রেগে আছ। আমি তোমার পাশেই আছি, আর তোমাকে ভালোবাসি।” রুটিন ঠিক রাখুন, শুনতে থাকুন। রাগ মাসের পর মাস চললে বা মারমুখী হয়ে উঠলে একজন কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।

আত্মীয়রা বিচ্ছেদ নিয়ে সন্তানকে প্রশ্ন করলে সে কী বলবে?

সন্তানকে ছোট আর সত্যি একটা বাক্য শিখিয়ে দিন, আর সেখানেই থামার অনুমতি দিন: “আমার আব্বু-আম্মু আলাদা বাসায় থাকে।” দুজনে মিলে অনুশীলন করুন। তারপর আত্মীয়দের আলাদা করে, ভদ্রভাবে অনুরোধ করুন সন্তানকে এ নিয়ে প্রশ্ন না করতে, বা তার সামনে আলোচনা না করতে। বড়রা আগলে রাখলে সন্তান সাধারণত ভালোভাবে সামলে নেয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।