সন্তান সারাক্ষণ মনমরা থাকে? কী খেয়াল করবেন, কী বলবেন, কখন সাহায্য নেবেন
ছোট করে উত্তর
সন্তান সারাক্ষণ মনমরা থাকে মনে হলে দেখুন মন খারাপ কত দিন টিকছে, আর রোজকার জীবন কতটা বদলে দিচ্ছে; কয়েক দিনে কেটে গেলে সাধারণত তা স্বাভাবিক মন খারাপ। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে শিগগির ডাক্তার দেখান। নিজের ক্ষতি করার যেকোনো কথায় শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৫–১৬ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাঁদের সন্তান মনমরা, চুপচাপ বা গুটিয়ে আছে, খেলা বা বন্ধুদের প্রতি আগ্রহ হারিয়েছে, বা জিজ্ঞেস করলে বলে “কিছু না”
- মূল কথা
- মন খারাপ একটা স্বাভাবিক অনুভূতি, আর সান্ত্বনা, রুটিন আর কাছের মানুষের সঙ্গ পেলে বেশিরভাগ মন খারাপ কয়েক দিনেই কেটে যায়।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, বা ঘুম, খাওয়া, স্কুল বা বন্ধুত্বে বড় পরিবর্তন হলে শিগগির ডাক্তার দেখান।
- পাশাপাশি বসে শান্ত আলাপ, সমাধান দেওয়ার চেয়ে বেশি শোনা, প্রায়ই বাচ্চাকে মনের কথা বলতে সাহায্য করে।
- বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার যেকোনো কথায় শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
সন্তান সারাক্ষণ মনমরা থাকে, এমন মনে হলে প্রতিটা চুপচাপ সন্ধ্যাই একটা প্রশ্ন হয়ে ওঠে। হয়তো ৮ বছরের ছেলে আর নিচে ক্রিকেট খেলতে যেতে চায় না, ১৩ বছরের মেয়ে কোচিং থেকে ফিরে ঘরেই বসে থাকে, বা সব প্রশ্নের উত্তর “কিছু না”।
মন খারাপ একটা স্বাভাবিক, সুস্থ অনুভূতি, আর বেশিরভাগ মন খারাপ সান্ত্বনা আর সময়ে কেটে যায়। তবে কখনো কখনো মন খারাপ টিকে থাকে, বাচ্চার রোজকার জীবন বদলে দিতে শুরু করে, আর তখন ডাক্তারের সাহায্য লাগে। এই লেখা আপনার সন্তানের রোগ নির্ণয় করতে পারে না, তবে ঠিক সময়ে খেয়াল করতে, কথা বলতে আর ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করতে পারে।
নিচে পাবেন: সাধারণ মন খারাপ নাকি আরও কিছু, বয়স অনুযায়ী লক্ষণ, সাধারণ কারণ, কী বলবেন, রোজকার যা কাজে দেয়, শোক আর বুলিং, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।
সাধারণ মন খারাপ, নাকি টিকে থাকা মন খারাপ: পার্থক্য বুঝবেন কীভাবে?
বকা খেয়ে, খেলায় হেরে, বন্ধুর বাজে কথায় বা খারাপ নম্বর পেয়ে প্রত্যেক বাচ্চারই মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়। সন্তান সারাক্ষণ মনমরা থাকে মনে হলে আসল পার্থক্যটা দুটো জিনিসে: কত দিন টিকে থাকে, আর রোজকার জীবন কতটা বদলে দেয়।
| যা দেখবেন | সাধারণ মন খারাপ | যে মন খারাপে শিগগির ডাক্তার দেখানো দরকার |
|---|---|---|
| কত দিন | কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন, তারপর কেটে যায় | বেশির ভাগ দিন, দুই সপ্তাহ বা তার বেশি |
| সান্ত্বনা আর আনন্দ | সান্ত্বনা, পছন্দের খাবার বা খেলায় মন ভালো হয় | কিছুতেই তেমন ভালো লাগে না; আগে যা ভালোবাসত, তাতেও আনন্দ নেই |
| বন্ধু আর পরিবার | অন্তত মাঝে মাঝে সঙ্গ চায় | বেশিরভাগ সময় বন্ধু আর পরিবার থেকে গুটিয়ে থাকে |
| ঘুম, খাওয়া আর শক্তি | মোটামুটি আগের মতো | বড় পরিবর্তন: অনেক বেশি বা কম ঘুম বা খাওয়া, সারাক্ষণ ক্লান্ত |
| স্কুল আর খেলা | খারাপ দিনেও সামলে নেয় | খেলা ছেড়ে দেয়, পড়ায় পিছিয়ে পড়ে, বা স্কুলে যেতে চায় না |
আসলে কী হচ্ছে, তা শুধু ডাক্তারই বলতে পারেন, আর জিজ্ঞেস করার আগে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে না। দুশ্চিন্তা হচ্ছে, কারও সঙ্গে কথা বলার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
শিশুর মন খারাপ কীভাবে বুঝবেন: বয়স অনুযায়ী লক্ষণ
বাচ্চারা সবসময় “আমার মন খারাপ” বলে না; হয়তো শুধু খেয়াল করবেন বাচ্চা খেলতে চায় না, বা আগের চেয়ে চুপচাপ। মন খারাপ প্রায়ই প্রকাশ পায় আচরণে, আর একেক বয়সে তা একেক রকম:
- ৫–৮ বছর: আঁকড়ে থাকা বা কথায় কথায় কান্না, জেদ বেড়ে যাওয়া, পেট বা মাথাব্যথা, কম খেলা, বা “আমাকে কেউ পছন্দ করে না” বলা।
- ৯–১২ বছর: চুপচাপ, খিটখিটে বা সব কিছুতে বিরক্ত, শখ ছেড়ে দেওয়া, স্কুল নিয়ে দুশ্চিন্তা, বা “আমি বোকা”, “কী লাভ” ধরনের কথা।
- কিশোর বয়স: ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিজের ঘরে একা, পরিবারের সঙ্গে খিটমিট, অনেক বেশি বা কম ঘুম, বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া, বা নিজের যত্নে আগ্রহ হারানো।
খিটখিটে ভাবটা সহজে চোখ এড়িয়ে যায়: অনেক বাচ্চা আর কিশোরের মন খারাপ কান্নার চেয়ে রাগের মতো বেশি দেখায়। কিশোর সন্তান বেশিরভাগ সময় রেগে থাকলে পড়ুন কিশোর সন্তানের মেজাজ আর রাগ।
বাচ্চা চুপচাপ হয়ে গেছে কেন? সম্ভাব্য কারণ
বাচ্চা মনমরা বা গুটিয়ে থাকলে সাধারণত এর পেছনে একাধিক কারণ থাকে, আবার কখনো কোনো স্পষ্ট কারণই থাকে না। সাধারণ কারণগুলো:
- কাউকে হারানো: পরিবারে কারও মৃত্যু, বন্ধুর দূরে চলে যাওয়া, পোষা প্রাণীর মৃত্যু, বা বাবা-মায়ের কেউ কাজে বিদেশে যাওয়া।
- বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা, বা স্কুলে, কোচিংয়ে বা অনলাইনে বুলিং।
- বাসায় পরিবর্তন: নতুন ভাইবোন, বাবা-মায়ের ঝগড়া, বাসা বদল, বা টাকাপয়সার দুশ্চিন্তা, যা বাচ্চা টের পায়।
- চাপ: পরীক্ষা, কোচিং, কাজিনদের সঙ্গে তুলনা, বা কখনোই যথেষ্ট ভালো করতে পারছে না, এমন অনুভূতি।
- কম ঘুম, বাইরে খেলা আর নড়াচড়া কম, বা স্ক্রিনের কারণে দুটোই কমে যাওয়া।
- অনেক দিন ধরে চলা দুশ্চিন্তা; পড়ুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
- অসুখ, বা কিছুদিন ধরে শরীর ভালো না থাকা।
হঠাৎ পরিবর্তন, যেমন হাসিখুশি বাচ্চা হঠাৎ ভীত, চুপচাপ বা গুটিয়ে যাওয়া, বা হঠাৎ কোনো মানুষ বা জায়গাকে ভয় পাওয়া, মানে হতে পারে তার সঙ্গে কিছু ঘটছে। নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
মন খারাপ বাচ্চার সঙ্গে কথা বলবেন যেভাবে: প্রথমে কী বলবেন
অনেক বাচ্চার কাছে মুখোমুখি বসার চেয়ে পাশাপাশি বসে কথা বলা সহজ। এই ধাপগুলো প্রায়ই মন খারাপ বাচ্চাকে মনের কথা বলতে সাহায্য করে:
- নিরিবিলি, সাধারণ একটা মুহূর্ত বেছে নিন: রিকশায় যেতে যেতে, একসঙ্গে রান্নার সময়, বা ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট।
- বিচার না করে যা খেয়াল করেছেন তা বলুন: “এই সপ্তাহে তোমাকে একটু চুপচাপ লাগছে।”
- বলার চেয়ে বেশি শুনুন। চুপ থাকলে থাকতে দিন; সমাধান দিতে বা মন ভালো করে দিতে তাড়াহুড়ো করবেন না।
- অনুভূতিটার নাম দিন, মেনে নিন: “খুব কঠিন লাগছে মনে হচ্ছে।” “মন খারাপ কোরো না” বা “অন্যদের অবস্থা তো আরও খারাপ” বলবেন না।
- দুশ্চিন্তা হলে নরমভাবে কিন্তু সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, নিজের ক্ষতি করার কথা কখনো মাথায় এসেছে কি না। শিশুস্বাস্থ্যের বেশিরভাগ নির্দেশনা বলে, শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলে বাচ্চার মাথায় এই চিন্তা ঢোকে না।
- শেষে একসঙ্গে পরের ধাপ ঠিক করুন: ছোট কিছু চেষ্টা করা, বা একসঙ্গে ডাক্তারের কাছে যাওয়া।
যা বলতে পারেন
- কয়েক দিন ধরে তোমাকে একটু মনমরা লাগছে। কথা বলতে চাইলে আমি আছি।
- সব কিছু বলতে হবে না। একটুখানি বললেও হবে।
- খুব কঠিন লাগছে মনে হচ্ছে। আমাকে বলার জন্য ধন্যবাদ।
- তুমি যা-ই বলো, তোমার প্রতি আমার ভালোবাসা একটুও কমবে না।
- মন যখন খুব খারাপ থাকে, কখনো কখনো নিজের ক্ষতি করার কথা মাথায় আসে। তোমার কি এমন কিছু মনে হয়েছে?
- আমরা দুজন মিলে এটা সামলাব।
রোজকার যেসব জিনিস কাজে দেয়: রুটিন, ঘুম, খাবার আর স্ক্রিন
দরকার হলে ডাক্তারের জায়গা রোজকার রুটিন নিতে পারে না, তবে প্রায়ই মন খারাপ বাচ্চাকে একটু নিরাপদ আর একটু ভালো বোধ করতে সাহায্য করে:
- রুটিন ঠিক রাখুন: স্কুল, খাওয়া আর ঘুমের সময় মোটামুটি একই রাখুন, বাচ্চা বিছানায় শুয়ে থাকতে চাইলেও।
- ঘুম রক্ষা করুন: ৬ থেকে ১২ বছরের বেশিরভাগ বাচ্চার ২৪ ঘণ্টায় ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার, আর কিশোরদের ৮–১০ ঘণ্টা।
- নিয়মিত খাবার আর নাশতা, অল্প হলেও; মন খারাপ থাকলে প্রায়ই খিদে কমে যায়।
- প্রতিদিন নড়াচড়া: ৫ থেকে ১৭ বছরের বাচ্চাদের দিনে অন্তত ৬০ মিনিট দৌড়ঝাঁপের খেলা বা ব্যায়াম, পারলে বাইরে দিনের আলোয়।
- স্ক্রিন: ঘুমানোর আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিন নয়, আর রাতে ডিভাইস শোবার ঘরের বাইরে। অনলাইনে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটানোর পর বাচ্চাকে কেমন লাগে, খেয়াল করুন।
- প্রতিদিন দশ মিনিট শুধু দুজনের সময়, বাচ্চার পছন্দের কিছু করে, কোনো উপদেশ ছাড়া।
- ছোট, করা যায় এমন পরিকল্পনা: একজন বন্ধুকে বাসায় ডাকা, হেঁটে গিয়ে ঝালমুড়ি কেনা, পছন্দের একটা খাবার রান্নায় হাত লাগানো।
মন খারাপের পেছনে শোক বা বুলিং থাকলে
বাচ্চা মনমরা বা গুটিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ দুটো কারণ শোক আর বুলিং, আর দুটোর জন্যই আলাদা ধরনের সাহায্য লাগে:
- শোক: কারও মৃত্যুর পর মন খারাপ কয়েক মাস ধরে ঢেউয়ের মতো আসতে পারে, মাঝে মাঝে স্বাভাবিক খেলাও চলে। মানুষটাকে নিয়ে কথা বলুন, রুটিন ঠিক রাখুন, আর বাচ্চাকে বুঝতে দিন মন খারাপ করা চলে; পড়ুন সন্তানকে মৃত্যুর কথা বোঝানোর উপায়।
- বুলিং: যে বাচ্চা হঠাৎ স্কুলে যেতে ভয় পায়, চুপচাপ বাসায় ফেরে বা ফোন লুকিয়ে রাখে, সে হয়তো বুলিংয়ের শিকার। বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন; পড়ুন শিশু স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হলে কী করবেন।
- বন্ধু হারানো: সবচেয়ে কাছের বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তা বড় কোনো হারানোর মতোই কষ্ট দিতে পারে। গুরুত্ব দিন, আর আবার অন্যদের সঙ্গে মেশার ছোট একটা উপায় খুঁজে পেতে সাহায্য করুন।
আমাদের বাসায়: পরীক্ষা, মুরুব্বি আর “এত ছোট বাচ্চার আবার কিসের মন খারাপ?”
সন্তানের মন ভালো নেই, এমন সময়ে কিছু বিষয় আমাদের বাসায় বিশেষ করে বেশি দেখা যায়, আর চিনতে পারলে সামলানো সহজ হয়:
- “এত ছোট বাচ্চার আবার কিসের মন খারাপ?”: মুরুব্বিরা ভালোবেসেই অনেক সময় বাচ্চার অনুভূতি উড়িয়ে দেন। বাচ্চাদেরও মন খারাপ হয়, আর গুরুত্ব পেলে তারা ভালো বোধ করে।
- “ছেলেরা কাঁদে না”: ছেলেরা প্রায়ই মন খারাপ দেখায় রাগ বা চুপ থেকে। মেয়েদের মতো ছেলেদেরও বলতে দিন যে তাদের মন খারাপ।
- পরীক্ষা, কোচিং আর রোল নম্বর: লম্বা দিন আর কাজিন বা সহপাঠীর সঙ্গে সারাক্ষণ তুলনা বাচ্চাকে ক্লান্ত করে দিতে পারে। শুধু নম্বর নয়, চেষ্টাটাও খেয়াল করুন।
- নিজের জায়গা কম: ভাগাভাগির ঘরে বা যৌথ পরিবারে বাচ্চার হয়তো চুপচাপ থাকার কোনো জায়গাই নেই। কয়েক মিনিট একা থাকা, বা বাবা-মায়ের একজনের সঙ্গে হাঁটতে যাওয়া কাজে দিতে পারে।
- বাবা-মায়ের কেউ বিদেশে: অন্য দেশে কাজ করা বাবা বা মায়ের অভাব সত্যিকারের একটা হারানো। নিয়মিত ফোন আর তাঁকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা প্রায়ই কাজে দেয়।
- “লোকে কী বলবে” ভাবনা: মন খারাপ নিয়ে ডাক্তার দেখানো সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা, যেমন না সারা কাশির জন্য ডাক্তার দেখানো, আর বিষয়টা গোপনই থাকে।
- কঠিন সময়ে সান্ত্বনা: অনেক পরিবার নামাজ বা দোয়ায় সান্ত্বনা খোঁজে। যা-ই আপনার পরিবারকে সান্ত্বনা দিক, নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখুন, আর সেগুলো দেখা দিলে ডাক্তার দেখান।
মনমরা সন্তানের জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা
প্রতি সন্ধ্যার ছোট একটা নোট স্মৃতির চেয়ে পরিষ্কারভাবে ধরনটা দেখায়। এক লাইন লিখুন: মন, ঘুম, খাওয়া, খেলা বা বন্ধু, আর কী কাজে দিল বলে মনে হলো। ডাক্তারের কাছে গেলে নোটগুলো সঙ্গে নিন।
- দিন ১: এখনই কিছু বদলাবেন না। মন, ঘুম, খাওয়া আর খেলা লিখে রাখুন।
- দিন ২: বাচ্চার পছন্দের কিছু করে ১০ মিনিট পাশাপাশি সময় কাটান।
- দিন ৩: ঘুম রক্ষা করুন: ঘুমের এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ, ডিভাইস শোবার ঘরের বাইরে।
- দিন ৪: একসঙ্গে বাইরে গিয়ে দৌড়ঝাঁপের খেলা খেলুন বা হাঁটুন।
- দিন ৫: ওপরের কথাগুলো দিয়ে নরমভাবে আলাপ করুন, আর মন দিয়ে শুনুন।
- দিন ৬: ক্লাস টিচারের কাছে জানতে চান, স্কুলে বাচ্চাকে কেমন লাগে।
- দিন ৭: পুরো সপ্তাহে চোখ বুলান। মন ভালো হচ্ছে? চালিয়ে যান। এখনো বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, আর সব মিলিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে? ডাক্তারের সঙ্গে সময় ঠিক করুন।
সন্তান সারাক্ষণ মনমরা থাকে: কখন সাহায্য নেবেন?
এর কোনোটা দেখলে শিগগির বাচ্চার ডাক্তার বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন। নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই:
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার যেকোনো কথা, বা বাচ্চা নিজেকে আঘাত করেছে এমন লক্ষণ: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ: শিগগির ডাক্তার দেখান।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে পরিবার আর বন্ধুদের থেকে গুটিয়ে থাকা, বা আগে যা ভালোবাসত তাতে কোনো আনন্দ না পাওয়া।
- খাওয়া, ওজন বা ঘুমে বড় পরিবর্তন, বা স্কুল সামলাতে না পারা, যেমন যেতে না চাওয়া বা নম্বর হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া।
- হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে কোনো মানুষ বা জায়গার ভয়, গোপনীয়তা, বা ব্যাখ্যা নেই এমন আঘাত বা উপহার: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, যে আঘাত করে থাকতে পারে তার কাছ থেকে দূরে রাখুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন আর স্থানীয় থানায় জানান; এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- মাদক বা অ্যালকোহলের লক্ষণ: সেদিনই সাহায্য নিন।
মন খারাপ দিনে দিনে নয়, একটা ধরন হিসেবে দেখলে বোঝা সহজ। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
কোনো কারণ ছাড়াই বাচ্চার মন খারাপ থাকা কি স্বাভাবিক?
কখনো কখনো, হ্যাঁ। ক্লান্তি, অসুখ, খিদে বা চাপের কারণে বাচ্চার মন খারাপ হতে পারে, অথচ সে কারণটা বলতে পারে না, আর সাধারণত কয়েক দিনেই তা কেটে যায়। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে, বা আগে যা ভালোবাসত তাতে আর আনন্দ না পেলে, শিগগির ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
বাচ্চার মন খারাপ কত দিন থাকলে চিন্তার কারণ?
দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে সাধারণত শিগগির ডাক্তার দেখানো উচিত, মাঝে মাঝে ভালো মুহূর্ত থাকলেও। ঘুম, খাওয়া, স্কুল বা বন্ধুত্বে বড় পরিবর্তন আনলে আরও আগে যান। বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার যেকোনো কথায় সেদিনই ব্যবস্থা নিন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
ছোট বাচ্চারও কি বিষণ্নতা হতে পারে, নাকি এটা শুধু মন খারাপ?
টিকে থাকা মন খারাপ যেকোনো বয়সের বাচ্চার হতে পারে, তবে ছোটদের বেলায় প্রায়ই তা অন্যরকম দেখায়: বেশি খিটখিটে, আঁকড়ে থাকা বা কান্নাকাটি, পেটব্যথা আর কম খেলা। এটা বিষণ্নতা নাকি অন্য কিছু, তা শুধু ডাক্তারই বলতে পারেন। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন এমন থাকলে শিগগির ডাক্তার দেখান।
কিশোর সন্তান সারাক্ষণ নিজের ঘরে থাকে, কারও সঙ্গে মিশতে চায় না, এটা কি স্বাভাবিক?
প্রায়ই, হ্যাঁ: কিশোরদের একা থাকার সময় বেশি লাগে। চিন্তার কারণ বেশি যদি সঙ্গে বন্ধুদের ছেড়ে দেয়, কিছুতে আনন্দ না পায়, ঘুম বা খাওয়া অনেক বদলে যায়, বা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকে। রোজ অল্প সময় একসঙ্গে কাটান, ঘরে ঢোকার আগে দরজায় টোকা দিন; পড়ুন কিশোর সন্তান কথা বলে না।
স্ক্রিন টাইম কি বাচ্চার মন খারাপ বাড়াতে পারে?
পারে, যখন তা ঘুম, খেলা আর পরিবারের সময় কেড়ে নেয়, বা অনলাইনে বাজে মেসেজ আর তুলনা নিয়ে আসে। ঘুমানোর আগের এক ঘণ্টা স্ক্রিন বন্ধ রাখুন, রাতে ডিভাইস শোবার ঘরের বাইরে রাখুন, আর অনলাইনে সময় কাটানোর পর বাচ্চাকে কেমন লাগে খেয়াল করুন। স্ক্রিন খুব কমই একমাত্র কারণ, তাই পুরো দিনটার দিকে তাকান।
নিজের ক্ষতির কথা জিজ্ঞেস করলে কি বাচ্চার মাথায় সেই চিন্তা ঢুকবে?
শিশুস্বাস্থ্যের বেশিরভাগ নির্দেশনা বলে, না: শান্তভাবে সরাসরি জিজ্ঞেস করলে এই চিন্তা মাথায় ঢোকে না, আর অনেক বাচ্চা স্বস্তি পায় যে কেউ খেয়াল করেছে। নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন, শুনুন, আর উত্তর যা-ই হোক শান্ত থাকুন। বাচ্চার এমন চিন্তা এসে থাকলে কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




