মূল কনটেন্টে যান

কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া: ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম নিয়ে কী কথা বলবেন

ছোট করে উত্তর

কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া একসঙ্গে ভালোভাবেই চলতে পারে, যদি কয়েকটা মূল বিষয় ঠিক থাকে: অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট আর লোকেশন বন্ধ, রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে চার্জে, তুলনা আর লাইক নিয়ে খোলামেলা কথা, আর একটা কথা দেওয়া: সন্তান আপনাকে যেকোনো কিছু বলতে পারবে, তাতে ফোন কেড়ে নেওয়া হবে না। বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মের নিজের নিয়মে ন্যূনতম বয়স ১৩। মন খারাপ দুই সপ্তাহ ধরে চললে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৭ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
১২–১৮ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের সন্তান ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে, বা করার জন্য অস্থির
মূল কথা
  • সোশ্যাল মিডিয়া অনেক কিশোরকে দেয় বন্ধুত্ব, নতুন ভাবনা আর দলে থাকার অনুভূতি; বড় ঝুঁকিগুলো হলো তুলনা, ঘুম কমে যাওয়া, নিজের তথ্য বেশি জানিয়ে ফেলা আর অচেনা মানুষ।
  • লম্বা উপদেশের চেয়ে ছোট, আগ্রহী আলাপ বেশি কাজে দেয়; আর লুকিয়ে নজরদারির চেয়ে কাজে দেয় খোলাখুলি, একমত হয়ে ঠিক করা দেখাশোনা।
  • অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট, লোকেশন বন্ধ, আর রাতে ফোন চার্জ হবে শোবার ঘরের বাইরে, পরিবারের সবার জন্যই।
  • অনলাইনে কেউ হুমকি বা ব্ল্যাকমেইল করলে টাকা দেবেন না; সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া, এই জগৎটা অনেক বাবা-মায়ের কাছে বন্ধ দরজার মতো। ১৪ বছরের সন্তান ফোনের দিকে তাকিয়ে হাসে, কোনো পোস্টে লাইক কম পড়লে চুপ হয়ে যায়, বা টিকটক অ্যাকাউন্টের জন্য জেদ ধরে, কারণ “ক্লাসের সবার আছে”। অনেক বাবা-মা বুঝে উঠতে পারেন না: পুরো বন্ধ করে দেবেন, সবকিছু চেক করবেন, নাকি শুধু ভালো কিছুর আশায় থাকবেন।

নিষেধ আর নজরদারি, এই দুইয়ের মধ্যে একটাকে বেছে নিতেই হবে, এমন নয়। অনেক কিশোরের কাছে সোশ্যাল মিডিয়াই বন্ধুত্ব, শখ আর হাসি-ঠাট্টার জায়গা। ঝুঁকিগুলো, যেমন তুলনা, ঘুম কমে যাওয়া, নিজের তথ্য বেশি জানিয়ে ফেলা আর অচেনা মানুষ, সামলানো সহজ হয় যখন আগে থেকেই কথা বলেন আর একসঙ্গে কয়েকটা নিয়ম ঠিক করেন।

নিচে পাবেন: সোশ্যাল মিডিয়া কী দেয় আর কী কেড়ে নেয়, কীভাবে কথা বলবেন, তুলনা আর লাইক, গোপনীয়তা, নিয়ম আর দেখাশোনা, অনলাইন নিরাপত্তা, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন। ফোন যদি সন্তানের পুরো জীবন দখল করে নিচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে কিশোর সন্তানের মোবাইল আসক্তি লেখাটাও পড়ুন।

সোশ্যাল মিডিয়া কি কিশোরদের জন্য খারাপ? কী দেয়, আর কী কেড়ে নিতে পারে

সোশ্যাল মিডিয়া কিশোরদের জন্য সোজাসুজি ভালো বা খারাপ, তা নয়। অনেকটাই নির্ভর করে কীভাবে, কখন আর কেন ব্যবহার করছে, আর ব্যবহারের পর কেমন লাগছে তার ওপর। অনেক কিশোরের কাছে এটা মূলত বন্ধুদের কাছাকাছি থাকার উপায়; আবার কারও কারও কাছে, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই মন খারাপ বা একা বোধ করে, এটা কষ্ট আরও বাড়াতে পারে।

কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া: কী দিতে পারে, কী কেড়ে নিতে পারে, কী কাজে দেয়
বিষয়কী দিতে পারেকী কেড়ে নিতে পারেযা সাধারণত কাজে দেয়
বন্ধুগ্রুপ চ্যাট, একসঙ্গে হাসাহাসি, দলে থাকার অনুভূতিঅন্যরা তাকে ছাড়া কোথাও যাওয়ার ছবি দিলে বাদ পড়ার কষ্টএ নিয়ে কথা বলা; সামনাসামনি বন্ধুদের সঙ্গে সময় রাখা
মন আর নিজের সম্পর্কে ধারণাসাহস জোগানো কথা, মজা, একই শখের মানুষফিল্টার করা চেহারা, শরীর আর সাজানো জীবনের সঙ্গে তুলনাস্ক্রলের পর কেমন লাগে জিজ্ঞেস করা; যেসব অ্যাকাউন্ট মন খারাপ করায়, সেগুলো আনফলো করা
ঘুমতেমন কিছু না; বেশির ভাগ জিনিস সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেগভীর রাত পর্যন্ত স্ক্রল, তারপর ক্লান্ত সকালরাতে ফোন চার্জ হবে শোবার ঘরের বাইরে
শেখা আর সৃষ্টিশীলতাটিউটোরিয়াল, খবর, ভিডিও বানানো, আঁকা বা গানশেষ না হওয়া ফিড, যা পড়ার সময় খেয়ে ফেলেফোন ছাড়া পড়ার সময়; নোটিফিকেশন বন্ধ
গোপনীয়তাকাছের-দূরের আত্মীয়দের সঙ্গে ভালো খবর ভাগ করাছবি, স্কুল, লোকেশন বা প্রতিদিনের রুটিন অচেনা মানুষের চোখে পড়াপ্রাইভেট অ্যাকাউন্ট, লোকেশন বন্ধ, পোস্টের আগে একটু থামা
নিরাপত্তাব্লক আর রিপোর্ট করার সুবিধাঅচেনা মানুষ, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, বুলিংএকটাই নিয়ম: যেকোনো কিছু আমাকে বলবে, তাতে তোমার ফোন কেড়ে নেওয়া হবে না

উপদেশ না দিয়ে কিশোর সন্তানের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কথা বলবেন যেভাবে

সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে লম্বা উপদেশ শুরু হলেই অনেক কিশোর কান বন্ধ করে দেয়; কিন্তু আপনাকে সন্দেহপ্রবণ নয়, আগ্রহী মনে হলে তারা কথা বলে। একবারের বড় আলোচনার চেয়ে নিয়মিত ছোট ছোট আলাপ সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

  1. দেখাতে বলুন: “কোন অ্যাকাউন্টটা দেখে তোমার সবচেয়ে বেশি হাসি পায়?” এভাবে বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগটা সন্তানকেই দিন।
  2. শুধু কী করে তা নয়, কেমন লাগে তাও জিজ্ঞেস করুন: স্ক্রলের আগে, মাঝখানে আর পরে।
  3. নিজের অভিজ্ঞতাও বলুন, যেমন কোনো পোস্ট বা গ্রুপ চ্যাট কখন আপনার মন খারাপ করে দিয়েছিল।
  4. একটা পোস্ট নিয়ে একসঙ্গে জোরে জোরে ভাবুন: কে বানিয়েছে, কেন, আর কী কী বাদ রাখা হয়েছে?
  5. অনলাইনে কিছু খারাপ লাগলে সে কী করবে, তা ঠিক করুন; আর এটাও যে আপনাকে বলা সবসময় নিরাপদ।
  6. শেষ করুন ছোট্ট একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে, যেমন পড়ার সময় নোটিফিকেশন বন্ধ, আর আবার কবে কথা বলবেন সেই দিনটা ঠিক করে।

যা বলতে পারেন

  • আজ মজার কী দেখলে, আমাকেও একটু দেখাও তো।
  • অনেকক্ষণ স্ক্রল করার পর তোমার সাধারণত কেমন লাগে?
  • ওই ছবিগুলোর অনেকগুলোই তো ফিল্টার করা। কখনো দেখে নিজের ওপর মন খারাপ হয়?
  • অনলাইনে কিছু গোলমাল হলে আমাকে বললে তোমার ফোন কেড়ে নেওয়া হবে না।
  • রাতে ফোন নিয়ে কোন নিয়মটা ন্যায্য হবে, আমাদের সবার জন্য?

অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা? ইনস্টাগ্রামে ছবি ও লাইক নিয়ে মন খারাপ

কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অনেক বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এই তুলনা। ফিডভর্তি অন্যদের সেরা মুহূর্ত আর ফিল্টার করা চেহারা, আর লাইকের সংখ্যাকে মনে হয় সে কতটা পছন্দের মানুষ, তার নম্বর। যারা আগে থেকেই মন খারাপ বা একা বোধ করে, তাদের গায়েই এটা সবচেয়ে বেশি লাগে।

  • শান্তভাবে ব্যাপারটা বলুন: “যা দেখো, তার বেশির ভাগই কারও সারাদিনের সবচেয়ে সুন্দর দশ সেকেন্ড।”
  • খেয়াল করুন সন্তান কীভাবে ব্যবহার করে: বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা প্রায়ই অচেনা মানুষের জীবন স্ক্রল করার চেয়ে ভালো লাগে।
  • যেসব অ্যাকাউন্ট দেখে মন খারাপ হয়, সেগুলো আনফলো বা মিউট করতে উৎসাহ দিন, সবাই ফলো করলেও।
  • লাইক নিয়ে ঠাট্টা না করে জিজ্ঞেস করুন: “পোস্টে লাইক কম এলে খারাপ লাগে, জানি। তুমি কী আশা করেছিলে?”
  • অনলাইনের বাইরে আত্মবিশ্বাস গড়ুন: খেলাধুলা, কোনো দক্ষতা, ঘরের একটা দায়িত্ব, কাজিনদের সঙ্গে সময়; আর প্রশংসা করুন চেষ্টা আর ভালো ব্যবহারের, চেহারার নয়।
  • ওজন, গায়ের রং আর চেহারা নিয়ে মন্তব্য পরিবারের আলাপ থেকে বাদ দিন; দেখুন শরীর আর চেহারা নিয়ে মন্তব্য।

গোপনীয়তা আর পোস্ট: শেয়ার করার আগে যা ঠিক করে নেবেন

কিছু পোস্ট হয়ে যাওয়ার পরের চেয়ে আগে গোপনীয়তা রক্ষা করা অনেক সহজ। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ই কয়েকটা মূল বিষয় ঠিক করে নিন, আর সন্তান বড় হলে আবার মিলিয়ে দেখুন।

  • প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট; ফ্রেন্ড বা ফলোয়ার শুধু তারাই, যাদের বাস্তবে চেনে।
  • অ্যাপ আর ক্যামেরায় লোকেশন বন্ধ, পোস্টে লাইভ লোকেশন নয়।
  • এমন কিছু নয়, যা দেখে বোঝা যায় কোথায় থাকে, কোন স্কুল বা কোচিংয়ে যায়, বা কখন যায়: ইউনিফর্মের ব্যাজ, বাসার নম্বর, বাসায় ফেরার পথ।
  • পোস্টের আগে ছোট্ট একটা পরীক্ষা: এটা যে কেউ চিরকাল দেখলেও কি তার আপত্তি নেই? স্ক্রিনশটের কারণে প্রাইভেট পোস্ট বা মুছে যাওয়া মেসেজও ছড়িয়ে যেতে পারে।
  • পাসওয়ার্ড, ওটিপি কোড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন কখনো কাউকে নয়, খুব কাছের বন্ধুকেও নয়।
  • অন্যের ছবি পোস্টের আগে তার অনুমতি নেওয়া; আর আপনিও সন্তানের ছবি পোস্টের আগে ওকে জিজ্ঞেস করুন।

সন্তানের সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ: লুকিয়ে নজরদারি নয়, খোলামেলা কথা

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বেশির ভাগ সোশ্যাল মিডিয়া নিজেদের নিয়মে ন্যূনতম বয়স ধরে ১৩, আর কোনো কোনোটি কম বয়সী কিশোরদের জন্য শুরু থেকেই কড়া সেটিং রাখে। এসব সেটিং প্রায়ই বদলায়, তাই শুধু এগুলোর ভরসায় না থেকে একসঙ্গে বসে দেখে নিন। আসল প্রশ্ন হলো আপনি কতটা দেখবেন; সন্তান যত বুঝেশুনে চলবে, ততই সেটা কমানো যায়।

বয়স অনুযায়ী কতটা দেখাশোনা (মোটামুটি ধারণা)
বয়সযা প্রায়ই কাজে দেয়আপনার ভূমিকা
১৩-র কমবেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মের নিজের নিয়মেই এখনো নয়; পরিবারের গ্রুপ চ্যাটে হাতেখড়িকেন অপেক্ষা, তা বুঝিয়ে বলা; সময় হলে প্রথম অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে খোলা
১৩–১৪আসল জন্মতারিখ, প্রাইভেট প্রোফাইল, ছোট ফ্রেন্ড লিস্ট, রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরেদুজনে মিলে ঠিক করা খোলাখুলি দেখাশোনা, যেমন একসঙ্গে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দেখা
১৫–১৬আরও স্বাধীনতা, তবে ফোন ছাড়া পড়ার সময় আর রাতের নিয়ম ঠিক রেখেনিয়মিত আলাপ; চিন্তার কারণ থাকলে তবেই দেখা, তাও জানিয়ে
১৭–১৮বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত নিজের, তবে ঘুম আর নিরাপত্তার নিয়ম বহালআগ্রহী, পাশে থাকা, আর কিছু গোলমাল হলে সবার আগে যার কাছে আসে, সেই মানুষটা
  • রাতে ফোন চার্জ হবে শোবার ঘরের বাইরে, সবার; ঘুমের আগের এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন নয়। স্কুলের রাতগুলোর পরিকল্পনা আছে ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার লেখায়।
  • খাওয়ার সময় আর পড়ার সময় ফোন নয়; ঠিক করা সময়ের পর গ্রুপ চ্যাট মিউট।
  • নিয়ম ভাঙলে কী হবে, তা আগে থেকেই ঠিক করা, সেই নিয়মের সঙ্গে মিল রেখে; আর কোনো সমস্যার কথা আপনাকে জানানোর জন্য কখনো শাস্তি নয়।

লুকিয়ে ফোন দেখা প্রায়ই উল্টো ফল দেয়: যে কিশোর মনে করে তার ওপর গোয়েন্দাগিরি চলছে, সে হয়তো গোপন অ্যাকাউন্ট খোলে বা বন্ধুর ফোন ব্যবহার করে, আর কিছু গোলমাল হলে আপনাকে আর বলে না। নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিই খুব চিন্তা হলে সন্তানকে জানিয়ে দেখুন, আর কেন দেখছেন তাও বলুন। কোন বয়সে কতটা স্ক্রিন টাইম ঠিক, তা পাবেন বয়স অনুযায়ী শিশুর স্ক্রিন টাইম লেখায়।

অচেনা মানুষ, ব্ল্যাকমেইল আর বুলিং: অনলাইন নিরাপত্তার আলাপ

বেশির ভাগ কিশোর কোনো না কোনো সময় অনলাইনে খারাপ কিছুর মুখোমুখি হয়: বাজে কমেন্ট, প্রতারণা, বা এমন অচেনা কেউ, যে প্রশংসায় ভাসিয়ে ছবি চায়। তাকে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দেয় এই বিশ্বাস যে আপনাকে বললে দোষ দেওয়া হবে না। যদি কিছু ঘটেই যায়:

  1. শান্ত থাকুন, সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, আর বলার জন্য ধন্যবাদ দিন। দোষ দেবেন না।
  2. উত্তর দেবেন না, টাকা দেবেন না, আর কিছুই পাঠাবেন না।
  3. প্রমাণ রাখুন: মেসেজ আর অ্যাকাউন্টের স্ক্রিনশট নিন, তবে কোনো ব্যক্তিগত ছবি যেন স্ক্রিনশটে না আসে; সেই ছবি কখনো কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না। তারপর অ্যাকাউন্টটা ব্লক করে রিপোর্ট করুন।
  4. কেউ হুমকি দিলে, ব্ল্যাকমেইল করলে, বা আপত্তিকর ছবি কিংবা টাকা চাইলে সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান, আর এই মুহূর্তে সন্তানের বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  5. শুধু অনলাইনে চেনা কেউ সন্তানের সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করে থাকলে সেদিনই থানায় জানান। সন্তান যদি এরই মধ্যে দেখা করতে চলে গিয়ে থাকে, বা তাকে খুঁজে না পান, এখনই ৯৯৯-এ ফোন করুন।

সাইবার বুলিং হলে কী করবেন আর অনলাইনে ফাঁদে ফেলার লক্ষণগুলো পাবেন শিশুর অনলাইন নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং লেখায়।

আমাদের বাসায় কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া

  • আগেভাগে ফেসবুক আইডি: অনেক বাচ্চা ভুয়া জন্মসাল দিয়ে ১৩ বছরের আগেই অ্যাকাউন্ট খোলে। এমনটা হয়ে গিয়ে থাকলে মাথা ঠান্ডা রাখুন: একসঙ্গে অ্যাকাউন্টটা প্রাইভেট করুন, ফ্রেন্ড লিস্ট দেখুন, আর এরপর কী হবে তা দুজনে মিলে ঠিক করুন।
  • ফ্রেন্ড লিস্টে আত্মীয়স্বজন: দেশে-বিদেশে থাকা মামা-চাচা, খালা-ফুফু আর কাজিনরা সব দেখেন, কমেন্টও করেন। কোনো কিশোরের এতে ভালো লাগে, কারও মনে হয় সবাই নজর রাখছে; আপনার সন্তানের কেমন লাগে জিজ্ঞেস করুন, আর ফ্রেন্ড লিস্ট ও প্রাইভেসি সেটিং ব্যবহার করতে সাহায্য করুন।
  • ক্লাস আর কোচিংয়ের গ্রুপ: নোটিশ আর হোমওয়ার্কের জন্য অনেক কিশোরের মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপ লাগেই। ঠিক করা সময়ের পর গ্রুপ মিউট করুন, আর সম্ভব হলে পড়াশোনা হোক সবার ব্যবহারের কম্পিউটারে।
  • মেয়ের ছবি আর লোকলজ্জার ভয়: মেয়ের ছবি অপব্যবহারের ভয় অনেক পরিবারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। ছেলেদের ঝুঁকিও কিন্তু সত্যি। দুজনের জন্যই উত্তর একই: প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট, ছবি নিয়ে সাবধানতা, আর এই নিশ্চয়তা যে বিপদে আপনি পাশে থাকবেন, দোষ দেবেন না।
  • গুজব আর ভাইরাল পোস্ট: ধর্ম, রাজনীতি বা কোনো মানুষকে নিয়ে অসাবধান একটা শেয়ার বা কমেন্ট অনলাইনের বাইরেও সত্যিকারের ঝামেলা ডেকে আনতে পারে। থামতে শেখান: শেয়ারের আগে যাচাই, আর রাগের মাথায় কখনো পোস্ট নয়।
  • এসএসসি আর এইচএসসির বছর: হঠাৎ নিষেধের বদলে একসঙ্গে পরীক্ষার মৌসুমের পরিকল্পনা করুন, মেসেজ দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময় রেখে।
  • “লোকে কী বলবে?”: অনলাইনে বিপদে পড়া কিশোর প্রায়ই বিপদের চেয়েও বেশি ভয় পায় পরিবারের লজ্জাকে। কিছু ঘটার আগেই পরিষ্কার করে বলে রাখুন, কে কী বলল তার চেয়ে ওর নিরাপত্তা আপনার কাছে অনেক বড়।

বাসায় সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। খেয়াল করুন সন্তান কখন সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকে, পরে ওকে কেমন দেখায়, আর ঘুম কেমন হয়। নিজের স্ক্রলও খেয়াল করুন।
  2. দিন ২: সন্তানকে ওর প্রিয় কোনো অ্যাকাউন্ট বা ভিডিও দেখাতে বলুন। দেখুন, হাসুন, প্রশ্ন করুন, আর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকুন।
  3. দিন ৩: শুধু একটা বিষয় নিয়ে কথা বলুন: তুলনা, গোপনীয়তা বা ঘুম। ওর কী মনে হয়, জিজ্ঞেস করুন।
  4. দিন ৪: একসঙ্গে প্রাইভেসি সেটিং দেখুন: প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট, লোকেশন বন্ধ, কে মেসেজ পাঠাতে পারবে।
  5. দিন ৫: একটা নিয়ম ঠিক করুন, যেমন নির্দিষ্ট সময় থেকে ফোন বসার ঘরে চার্জে থাকবে, আর সেটা লিখে রাখুন। নিজের ফোনও সেখানেই রাখুন।
  6. দিন ৬: নিরাপত্তার আলাপটা সেরে ফেলুন: অনলাইনে কেউ হুমকি দিলে, প্রতারণা করলে বা প্রশংসায় ভাসালে কী করবে, আর আপনাকে বলা যে সবসময় নিরাপদ।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: ঘুম, মেজাজ আর পরিবারের সময়। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর আবার কবে বসবেন ঠিক করুন।

কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে কখন চিন্তা করবেন?

বেশির ভাগ দুশ্চিন্তা আলাপ আর একসঙ্গে ঠিক করা কয়েকটা নিয়মেই কমে আসে। তবে এগুলোর কোনোটা দেখলে সাহায্য নিন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা খুব খিটখিটে মেজাজ, বা পরিবার আর সামনাসামনি বন্ধুদের থেকে গুটিয়ে যাওয়া: ডাক্তার বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলুন।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘুম বা পড়াশোনা ভেঙে পড়ছে: স্কুলের বেশির ভাগ রাতে মাঝরাতের পরও অনলাইনে, নম্বর হঠাৎ অনেক কমে যাওয়া, বা ক্লাস কিংবা কোচিং ফাঁকি।
  • স্ক্রলের পর চেহারা নিয়ে তীব্র দুশ্চিন্তা: নিজের মুখ বা শরীরকে ঘৃণা করা, কড়া ডায়েট বা খাবার বাদ দেওয়া। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • অনলাইনে কেউ সন্তানকে হুমকি বা ব্ল্যাকমেইল করছে, বা ছবি কিংবা টাকা চাইছে: টাকা দেবেন না, প্রমাণ রাখুন, সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • হঠাৎ বদল: ফোন নিয়ে লুকোছাপা বা ভয়, ব্যাখ্যা ছাড়া টাকা বা উপহার, বা স্কুল কিংবা কোচিংয়ে যেতে না চাওয়া। সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • সন্তান বেঁচে থাকতে না চাওয়ার কথা বা নিজেকে আঘাত করার কথা বলে, বা এ নিয়ে পোস্ট চোখে পড়ে: শান্ত থাকুন, কাছাকাছি থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

ধরনটা চোখে পড়লে কিশোর সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপারটা সামলানো সহজ হয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো, যেমন ঘুম, মেজাজ আর স্ক্রিন টাইম, তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

সন্তানের ফেসবুক খোলার বয়স কত? ইনস্টাগ্রাম বা টিকটকে?

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম নিজেদের নিয়মে ন্যূনতম বয়স ধরে ১৩। অনেক পরিবার আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে, যতদিন না সন্তান গোপনীয়তা, বাজে কমেন্ট আর স্ক্রলের টান সামলাতে শেখে। সময় হলে আসল জন্মতারিখ দিয়ে প্রথম অ্যাকাউন্টটা একসঙ্গে খুলুন, প্রাইভেট রাখুন, আর ‘যেকোনো সমস্যা আমাকে বলবে’ নিয়মটা ঠিক করে নিন।

কিশোর সন্তানের সোশ্যাল মিডিয়া কি চেক করা উচিত?

কিছুটা দেখাশোনা ঠিকই আছে, বিশেষ করে ১৩-১৪ বছরে; তবে সেটা খোলাখুলি হলেই সবচেয়ে ভালো কাজ করে। কী দেখতে পারেন আর কেন, সন্তানকে জানিয়ে রাখুন, আর সে যত বুঝেশুনে চলবে, ততই কমান। লুকিয়ে মেসেজ পড়া প্রায়ই উল্টো ফল দেয়, কারণ কিশোররা তখন গোপন অ্যাকাউন্ট খোলে আর আপনাকে কিছু বলা বন্ধ করে দেয়। নিরাপত্তা নিয়ে সত্যিই খুব চিন্তা হলে দেখুন, তবে জানিয়ে।

সন্তান টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলতে চায়, কী করব?

আগে জিজ্ঞেস করুন কেন: বন্ধুরা আছে বলে, ট্রেন্ডের জন্য, নাকি ভিডিও বানাতে চায়? বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়স ১৩, তাই সেটা আর সেটিংগুলো একসঙ্গে দেখে নিন। রাজি হলে শুরু করুন প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট দিয়ে: মেসেজ আর কমেন্ট শুধু বন্ধুদের, লোকেশন বন্ধ, আর সময় ও ঘুম নিয়ে একটা চুক্তি। এখনই নয় বললে কারণটা বলুন, আর কবে আবার কথা বলবেন তাও।

সোশ্যাল মিডিয়া কি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?

সব কিশোরের নয়, তবে কারও কারও মন এতে আরও খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে তুলনা, বাজে কমেন্ট আর ঘুম কমে যাওয়ার কারণে। যারা আগে থেকেই মন খারাপ বা একা বোধ করে, তাদের ওপর প্রভাবটা প্রায়ই বেশি পড়ে। স্ক্রলের পর কেমন লাগে জিজ্ঞেস করুন, ঘুম ঠিক রাখুন, আর মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা গুটিয়ে থাকা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি চললে সাহায্য নিন।

অনলাইনে অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা কীভাবে কমাব?

পুরোপুরি থামানো যায় না, তবে কমানো যায়। ফিল্টার আর সাজানো মুহূর্ত নিয়ে কথা বলুন, যেসব অ্যাকাউন্ট দেখে মন খারাপ হয় সেগুলো আনফলো করতে সাহায্য করুন, আর প্রশংসা করুন চেষ্টা, দক্ষতা আর ভালো ব্যবহারের, চেহারার নয়। অনলাইনের বাইরের সাফল্য, যেমন খেলাধুলা, কোনো শখ বা ঘরের সত্যিকারের একটা দায়িত্ব, প্রায়ই লাইক ছাড়াই কিশোরকে ভালো বোধ করতে সাহায্য করে।

সন্তানের কোন জিনিস কখনো অনলাইনে পোস্ট করা উচিত নয়?

এমন কিছুই নয়, যা দেখে বোঝা যায় কোথায় থাকে, কোথায় পড়ে বা নির্দিষ্ট সময়ে কোথায় থাকবে, যেমন ইউনিফর্মের ব্যাজ, বাসার নম্বর বা কোচিংয়ের সময়। লাইভ লোকেশন, পাসওয়ার্ড, ওটিপি কোড বা ব্যক্তিগত ছবিও নয়। ছোট্ট একটা পরীক্ষা: যে কেউ চিরকাল এটা দেখলেও কি তার আপত্তি নেই? স্ক্রিনশটের কারণে মুছে যাওয়া মেসেজ বা প্রাইভেট অ্যাকাউন্টের পোস্টও ছড়িয়ে যেতে পারে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

কিশোর-কিশোরী (১৩–১৮ বছর): আরও গাইড

কিশোর-কিশোরী: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।