বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানো: ওজন, গায়ের রং আর চেহারা নিয়ে মন্তব্য
ছোট করে উত্তর
বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানো মানে ওজন, উচ্চতা বা গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য থামানো, আত্মীয়দের হলেও, কারণ এসব কথা বহু বছর মনে থেকে যেতে পারে। বাসায় ওজন নিয়ে কথা বাদ দিন, আর সন্তান দেখতে কেমন নয়, কী পারে তার প্রশংসা করুন। খাবার বাদ দেওয়া, লুকিয়ে খাওয়া বা দুই সপ্তাহ ধরে মন খারাপ থাকলে শিগগির ডাক্তার দেখান।
লেখাটি শুনুন
১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৮–১৮ বছরের সন্তানের বাবা-মা, বিশেষ করে যখন আত্মীয়, সহপাঠী বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ওজন, উচ্চতা বা গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য আসে
- মূল কথা
- “মোটা হয়ে গেছিস” বা “কালো হয়ে গেছে” ধরনের একটা কথা বাচ্চার মনে বহু বছর থেকে যেতে পারে, তাই বড়দের সামনেও সঙ্গে সঙ্গে শান্তভাবে উত্তর দিন।
- বাসায় শরীর দেখতে কেমন, তা নয়, শরীর কী কী পারে, তা নিয়ে কথা বলুন; ডায়েট, ওজন মাপা আর নিজের শরীরের নিন্দা বাদ দিন।
- ফর্সা মানেই বেশি সুন্দর নয়: রং ফর্সা করার ক্রিম আর “কী ফর্সা!” ধরনের প্রশংসা বাদ দিন, আর বারবার বলুন, সব গায়ের রংই সুন্দর।
- খাবার বাদ দেওয়া, লুকিয়ে খাওয়া, ওজনে বড় পরিবর্তন বা দুই সপ্তাহ ধরে মন খারাপ থাকলে শিগগির ডাক্তার দেখান; নিজের ক্ষতির যেকোনো কথায় পাশে থাকুন আর সেদিনই সাহায্য নিন।
বিয়েবাড়ি থেকে ফিরে মেয়ে রাতে কিছু খেতে চায় না, কারণ এক খালা বলেছেন সে “মোটা হয়ে গেছে”। ছেলে শতবার শুনেছে, “ও তো কালো, একদম বাবার মতো।” বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানো তখন খুব জরুরি মনে হয়, অথচ অনেক বাবা-মা আটকে যান: সন্তানকে আগলাবেন, নাকি বড়দের মন রাখবেন?
ভালো খবর হলো, যেকোনো খালা, সহপাঠী বা অ্যাপের চেয়ে আপনার কথার ওজন সাধারণত বেশি। যে বাচ্চা বাসায় শোনে তার শরীর একদম ঠিক আছে, আর দেখে বাবা বা মা শান্তভাবে কষ্টের কথাটা থামিয়ে দিচ্ছেন, সে প্রায়ই অন্যদের কথা সহজে ঝেড়ে ফেলতে পারে।
নিচে পাবেন: ৮ থেকে ১৮ বছরে বডি ইমেজ কীভাবে বদলায়, মন্তব্যের মুহূর্তে কী বলবেন, বাসার অভ্যাস, গায়ের রং, সোশ্যাল মিডিয়া, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
টিনএজ বয়সে বডি ইমেজ: এটা কী, আর কেন এত বদলায়?
বডি ইমেজ মানে নিজের শরীরকে একজন মানুষ কীভাবে দেখে, কী ভাবে আর কেমন বোধ করে। দেখতে কেমন, আর বডি ইমেজ এক জিনিস নয়: একটা বাচ্চা সুস্থ থেকে, ঠিকঠাক বেড়ে উঠেও নিজের শরীর নিয়ে লজ্জা পেতে পারে। ৮ থেকে ১৮ বছরে, মেয়ে আর ছেলে দুজনের বেলাতেই, একসঙ্গে কয়েকটা জিনিস এর ওপর প্রভাব ফেলে:
- বয়ঃসন্ধি: একেকজনের শরীর একেক সময়ে, একেক গতিতে বদলায়, তাই একই বয়সের সহপাঠীদের দেখতে খুব আলাদা লাগতে পারে।
- তুলনা: ভাইবোন, কাজিন, সহপাঠী, আর সবার ফোনে থাকা এডিট করা ছবির সঙ্গে।
- মন্তব্য: আত্মীয়, শিক্ষক, কোচ আর বন্ধুদের কাছ থেকে, যা প্রায়ই বলা হয় মজা করে বা চিন্তা থেকে।
- বাসায় যা শোনে: বাবা-মায়ের ডায়েট, বারবার ওজন মাপা, বা নিজের শরীরকেই “মোটা” বা “কালো” বলা।
| বয়স | কী চোখে পড়তে পারে | কী সাহায্য করে |
|---|---|---|
| ৮–১০ বছর | বন্ধুদের সঙ্গে শরীরের তুলনা; বাসা বা স্কুলে শোনা “মোটা”, “কালো” ধরনের কথা নিজেও বলা | শরীর নিয়ে কোনো তকমা নয়; চেষ্টা, ভালো ব্যবহার আর দক্ষতার প্রশংসা; বুঝিয়ে বলা যে শরীর নানা গড়নের, নানা রঙের হয় |
| ১১–১৩ বছর | বয়ঃসন্ধির পরিবর্তন, একা থাকতে চাওয়া, স্কুলে খোঁচা, ব্রণ, উচ্চতা বা বদলে যাওয়া গড়ন নিয়ে দুশ্চিন্তা | আগে থেকেই বুঝিয়ে বলা যে এসব পরিবর্তন স্বাভাবিক আর একেকজনের একেক সময়ে আসে; মন্তব্য থেকে আগলে রাখা; ঢোকার আগে দরজায় টোকা |
| ১৪–১৮ বছর | সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলনা, ডায়েট বা ফিটনেসের ট্রেন্ড, ত্বক আর চুলের প্রসাধনী, অনুষ্ঠান আর ছবি তোলার আগে খুব দুশ্চিন্তা | এডিট করা ছবি নিয়ে কথা বলা; পরিবারের সবাই মিলে নিয়মিত খাওয়া; মজার জন্য খেলাধুলা; উপদেশের চেয়ে বেশি শোনা |
বয়ঃসন্ধি শুরু হলে মেয়ের সঙ্গে বয়ঃসন্ধি নিয়ে কথা বলার উপায় পড়ে নিন, যাতে মন্তব্য আসার আগেই পরিবর্তনগুলো বুঝিয়ে বলতে পারেন; ছেলের বেলাতেও একই খোলামেলা কথা কাজে দেয়।
কেউ সন্তানের শরীর নিয়ে মন্তব্য করলে: সঙ্গে সঙ্গে কী করবেন
পরিবারে বাচ্চাদের বডি শেমিং প্রায়ই শোনায় চিন্তার মতো: “ভাত কম খা, নইলে তোকে বিয়ে করবে কে?”, “রোদে যাস না”, “ছেলেটা একটু মোটা না?” আত্মীয়দের কটূক্তির পেছনে সাধারণত খারাপ উদ্দেশ্য থাকে না, কিন্তু বাচ্চা তখন দুজনের কথা শুনছে: আত্মীয়ের, আর আপনার। এরপর আপনি কী বলেন, সেটাই প্রায়ই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
- সঙ্গে সঙ্গে, শান্তভাবে, অল্প কথায় এগিয়ে আসুন। বাচ্চার কাছে চুপ থাকা মানে সায় দেওয়া মনে হতে পারে।
- আত্মীয়ের বিরুদ্ধে নয়, সন্তানের পক্ষে কথা বলুন: ছোট, নরম একটা কথা, তারপর অন্য প্রসঙ্গে চলে যান।
- মজা করেও কথাটায় কিছু যোগ করবেন না, আর সবার সামনে বাচ্চাকে “এসব কানে নিও না” বলবেন না।
- পরে আলাদা করে জিজ্ঞেস করুন, কথাটা শুনে ওর কেমন লেগেছে; তাড়াহুড়া করে সমাধান না দিয়ে শুনুন।
- পরিষ্কার করে বলুন, ওর শরীরে কোনো সমস্যা নেই; শরীর নিয়ে এমন মন্তব্যে যে বলে, তার সম্পর্কেই বেশি বোঝা যায়, ওর সম্পর্কে নয়।
- বারবার ঘটলে আত্মীয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন, নয়তো স্বামী বা স্ত্রীকে বলুন তাঁর নিজের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে। বড়দের জন্য আরও উত্তর পাবেন আত্মীয়রা বাচ্চা নিয়ে মন্তব্য করলে কী বলবেন লেখায়।
আত্মীয়দের আর সন্তানকে যা বলতে পারেন
- আমরা বাচ্চাদের সামনে শরীর নিয়ে কথা না বলার চেষ্টা করছি। আপনার বেড়ানো কেমন হলো?
- ও সুস্থ আছে, যেভাবে বড় হওয়ার কথা, সেভাবেই হচ্ছে।
- সব গায়ের রংই সুন্দর। আমাদের বাসায় “কালো” কোনো খারাপ কথা না।
- ও নিজের সময়মতো বাড়ছে, সবাই যেমন বাড়ে।
- পরে সন্তানকে: খালা কথাটা বলার পর তোমার কেমন লাগল?
- সন্তানকে: ওই কথাটা ঠিক ছিল না। তোমার শরীর একদম ঠিক আছে, আর আমি তোমার পাশে আছি।
বাসায় সন্তানের সঙ্গে শরীর নিয়ে কীভাবে কথা বলবেন: ওজনের কথা ছাড়া
নিজের শরীরের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হয়, বাচ্চারা তা বেশিরভাগ শেখে আপনাকে দেখে। বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানো শুরু হয় বাসা থেকেই। একটা বড় আলোচনার চেয়ে রোজকার কয়েকটা অভ্যাস প্রায়ই বেশি কাজে দেয়:
- ওজনের কথা বাদ দিন। কেজি, মাপ বা “মোটা হওয়া” নয়, কথা বলুন শক্তি, ঘুম আর ভালো বোধ করা নিয়ে।
- বাচ্চাকে ডায়েটে রাখবেন না, ওজন কমলে প্রশংসাও করবেন না। স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর পরিবর্তন আনুন পুরো পরিবারের জন্য।
- নিজের আর অন্যের শরীর নিয়ে কীভাবে কথা বলছেন, খেয়াল রাখুন। “এই জামায় আমাকে কত মোটা লাগছে” কথাটাও বাচ্চাকে ততটাই শেখায়, যতটা ওকে সরাসরি বলা কথা।
- এমন জিনিসের প্রশংসা করুন, যার সঙ্গে চেহারার সম্পর্ক নেই: চেষ্টা, ভালো ব্যবহার, রসবোধ আর দক্ষতা। রোজকার আরও উপায় পাবেন বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় লেখায়।
- পারলে সবাই একসঙ্গে খান, পেট ভরলে যে কাউকে থামতে দিন, আর কে কতটা খেল তা নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়।
- খেলাধুলা হোক মজার জন্য, ওজন কমানোর জন্য নয়: ব্যাডমিন্টন, সাইকেল চালানো, নাচ বা বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট।
| এটা না বলে | এভাবে বলুন |
|---|---|
| “মোটা হয়ে যাচ্ছিস। ভাত কম খা।” | “এই সপ্তাহে চলো সবাই একটু বেশি ফল আর সবজি খাই।” |
| “রোদে যাস না, কালো হয়ে যাবি।” | “চলো ছায়ায় বসি, আজ খুব গরম।” |
| “আরেকটু ফর্সা হলে কী সুন্দর লাগত!” | “কুর্তাটা তুমি নিজে পছন্দ করেছ, খুব ভালো লাগল।” |
| “দেখ, তোর কাজিন কত স্লিম।” | কোনো তুলনা নয়। আজ সন্তান যা করেছে, তার একটা কিছুর প্রশংসা করুন। |
| “ওজন কমেছে, বাহ্!” | “ইদানীং তোমাকে বেশ খুশি লাগছে। কেমন বোধ করছ?” |
| “ছেলেরা চেহারা নিয়ে মাথা ঘামায় না।” | “মনে হচ্ছে কথাটা তোমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। বলো তো।” |
গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য: “ফর্সা” প্রশংসা আর কালো বলে ঠাট্টা
আমাদের অনেক পরিবারে বাচ্চা জন্মের দিন থেকেই গায়ের রং নিয়ে কথা শুরু হয়: “কী ফর্সা হয়েছে!” কিংবা “আহা, মেয়েটা কালো।” কোন রং প্রশংসা পায়, বাচ্চারা খুব ছোটবেলাতেই তা টের পায়। ফর্সা রংকে ভালো আর কালোকে খারাপ ভাবার এই চিন্তা বাচ্চার আত্মসম্মানে বহু বছর আঘাত দিতে পারে, বিশেষ করে মেয়েদের, কারণ তারা প্রায়ই কথাটা শোনে সৌন্দর্য আর বিয়ের সঙ্গে জুড়ে।
- “কালো” বলে ঠাট্টার পাশাপাশি “ফর্সা” বলে প্রশংসাও থামান। দুটোই বাচ্চাকে একই জিনিস শেখায়।
- বাচ্চার জন্য রং ফর্সা করার ক্রিম, ব্লিচ আর ফর্সা দেখানোর ফিল্টার বাদ দিন। এগুলো শেখায় যে শ্যামলা রং “ঠিক করতে” হয়, আর কিছু ক্রিম ত্বকে জ্বালা বা ক্ষতি করতে পারে।
- কড়া রোদ থেকে ত্বক বাঁচান স্বাস্থ্যের জন্য, রঙের জন্য কখনো নয়: সবচেয়ে গরমের সময়টায় ছায়া, ক্যাপ আর ঢিলা লম্বা হাতার জামা।
- ভাইবোনদের সমানভাবে দেখুন। একজনকে “ফর্সাটা” আর আরেকজনকে “কালোটা” বললে দুজনেরই ক্ষতি হয়।
- সন্তানকে কেউ খেপালে স্পষ্ট করে বলুন: “কারও গায়ের রং নিয়ে হাসা অন্যায়। এতে তোমার কোনো দোষ নেই।”
সন্তান নিজের শরীর নিয়ে অনেকের কথা শুনবে। আপনার কথাটা হোক এমন: তুমি যেমন আছ, ঠিক তেমনই ভালো।
সোশ্যাল মিডিয়া, ফিল্টার আর টিনএজ সন্তানের বডি ইমেজ
ফোনে সারাক্ষণ আসে এডিট করা মুখ আর শরীর: ত্বক মসৃণ আর ফর্সা দেখানোর ফিল্টার, “সারাদিন আমি কী খাই” ধরনের ভিডিও, জিম আর ডায়েটের ট্রেন্ড, আর অচেনা মানুষের মন্তব্য। অনেক টিনএজার জানে ছবিগুলো এডিট করা, তবুও নিজের সঙ্গে তুলনা করে। যা প্রায়ই কাজে দেয়:
- সন্তান রাজি থাকলে একসঙ্গে ফিডটা দেখুন: কোন অ্যাকাউন্ট দেখলে ভালো লাগে, আর কোনটায় মন খারাপ হয়? আনফলো করাও একটা দক্ষতা।
- এডিটিং নিয়ে কথা বলুন: কীভাবে একটা ফিল্টার এক সেকেন্ডে ত্বক ফর্সা করে, মুখ চিকন করে, বা পেশি বাড়িয়ে দেখায়।
- অচেনা মানুষের ডায়েট, “ডিটক্স” বা পেশি বাড়ানোর পরামর্শে সতর্ক থাকুন, অনলাইনে বিক্রি হওয়া বড়ি, পাউডার বা ক্রিমেও। সন্তান এমন কিছু খাওয়া বা মাখার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- রাতে ফোন থাকবে শোবার ঘরের বাইরে, বাবা-মায়েরটাও; আর ঘুমের আগের এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন নয়।
- কেউ অনলাইনে সন্তানের চেহারা নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে প্রমাণ রেখে দিন, অ্যাকাউন্টটা ব্লক ও রিপোর্ট করুন, আর সহপাঠীরা জড়িত থাকলে স্কুলকে জানান।
টিনএজাররা যে নিয়মগুলো সহজে মেনে নেয়, তা পাবেন টিনএজ সন্তান ও সোশ্যাল মিডিয়া লেখায়।
আমাদের বাসায়: বিয়ের কথা, “নাদুসনুদুস” বাচ্চা আর কাজিনদের সঙ্গে তুলনা
শরীর নিয়ে কিছু কথা আমাদের অনেক পরিবারে রোজকার জীবনেরই অংশ। বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানো সহজ হয়, যখন এগুলো আগে থেকে চিনে রাখেন:
- নাদুসনুদুস বাচ্চা, তারপর “মোটা” টিনএজার: আত্মীয়রা অনেক সময় গোলগাল শিশুকে স্বাস্থ্যবান বলে প্রশংসা করেন, আবার ১২ বছরে সেই বাচ্চাকেই খেপান। কারও চোখের আন্দাজের চেয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়মিত বৃদ্ধি মাপানোই ভালো।
- মেয়েকে নিয়ে বিয়ের কথা: “কালো মেয়েকে বিয়ে করবে কে?” বা “বিয়ের মৌসুমের আগে ওজন কমা” ধরনের কথা মেয়েটা ছোট থাকতেই শুরু হতে পারে। ওর সামনেই বলুন: “ও এখনো বাচ্চা। আমরা ওর পড়াশোনা আর স্বপ্ন নিয়ে কথা বলি।”
- খাওয়ানোই আদর: “খা খা, কত শুকিয়ে গেছিস,” আর পাতে আরেকটা মিষ্টি। ভালোবাসার জন্য বড়দের ধন্যবাদ দিন, আর পেট ভরলে বাচ্চাকে থামতে দিন।
- ঈদ আর বিয়েতে পাশাপাশি কাজিনরা: তুলনা শুরু হলে কী বলবেন, তা আগেই জীবনসঙ্গীর সঙ্গে ঠিক করে রাখুন।
- উপহার হিসেবে ফর্সা হওয়ার ক্রিম: আত্মীয়কে ধন্যবাদ দিন, ক্রিমটা সরিয়ে রাখুন, আর সন্তানকে সহজ করে বলুন আপনাদের পরিবারে কেন এটা ব্যবহার হয় না।
- গৃহকর্মী, টিউটর আর প্রতিবেশীরাও পরিবারের কথা শোনেন। নরমভাবে অনুরোধ করুন, তাঁরা যেন চেহারা নিয়ে মন্তব্য না করেন।
বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানোর ৭ দিনের পরিকল্পনা
সাধারণ একটা সপ্তাহ বেছে নিন। প্রতি সন্ধ্যায় লিখে রাখুন, সন্তান কী মন্তব্য শুনেছে, আপনি কী বলেছেন, আর ওর খাওয়া, ঘুম আর মন কেমন ছিল।
- দিন ১: শুধু খেয়াল করুন। বাসায় কতবার শরীর, খাবার আর চেহারার কথা ওঠে, আপনার নিজের কথাতেও।
- দিন ২: জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দুটো পারিবারিক নিয়ম ঠিক করুন: কারও শরীর নিয়ে মন্তব্য নয়, আর বাচ্চাদের মধ্যে তুলনা নয়।
- দিন ৩: আত্মীয়দের জন্য ছোট দুটো উত্তর তৈরি রাখুন, আর জোরে বলে অভ্যাস করুন।
- দিন ৪: শান্ত একটা সময়ে সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন, ইদানীং কেউ ওর চেহারা নিয়ে কিছু বলেছে কি না। শুধু শুনুন।
- দিন ৫: সন্তান রাজি থাকলে ১০ মিনিট একসঙ্গে ওর ফিড দেখুন, এডিটিং নিয়ে কথা বলুন, আর যে অ্যাকাউন্ট দেখে মন খারাপ হয়, এমন একটা আনফলো করুন।
- দিন ৬: ফিটনেসের জন্য নয়, মজার জন্য একসঙ্গে কিছু করুন: হাঁটা, ব্যাডমিন্টন, সাইকেল, বা বসার ঘরে নাচ।
- দিন ৭: নোটগুলো পড়ুন। কী বদলাল? যে অভ্যাসটা সবচেয়ে কাজে দিয়েছে, সেটা ধরে রাখুন, আর পরের ছোট ধাপটা ঠিক করুন।
চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কখন বাড়তি সাহায্য লাগবে?
চেহারা নিয়ে বেশিরভাগ দুশ্চিন্তা শান্ত পরিবেশ আর মন্তব্য থেকে আগলে রাখলে কমে আসে। এসব দেখলে সাহায্য নিন:
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- খাবার বাদ দেওয়া, লুকিয়ে খাওয়া, খাবার লুকিয়ে রাখা, বা ওজন কিংবা খাবার নিয়ে খুব দুশ্চিন্তা: শিগগির ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- ওজনে বড় পরিবর্তন, বাড়ুক বা কমুক, ওজন কমার পর মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, খাওয়ার পর ইচ্ছে করে বমি করা, বা ক্লান্ত কিংবা অসুস্থ থেকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম: শিগগির ডাক্তার দেখান।
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বা ওজন কমা কিংবা না খাওয়ার সঙ্গে মাথা ঘোরা: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মন খারাপ, হতাশা, বা বন্ধুদের কাছ থেকে সরে থাকা: শিগগির ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- স্কুলে বা অনলাইনে চেহারা নিয়ে বুলিং, বা আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন: সন্তানের কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। ধাপগুলো পাবেন স্কুলে বুলিং লেখায়।
- নিজের ক্ষতি করা বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার যেকোনো কথা: শান্ত থাকুন, কাছে থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
সন্তান নিজের শরীর নিয়ে অনেকের কাছ থেকেই কথা শুনবে। আপনার কাছ থেকে বারবার যা শোনে, সেটাই হয়তো সবচেয়ে বেশি মনে থাকে: তোমার শরীর ঠিক আছে, আর আমি তোমার পাশে আছি। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কোন বয়সে শুরু হয়?
প্রায়ই বাবা-মায়ের ধারণার চেয়ে আগে। কোনো কোনো বাচ্চা ৮–৯ বছরেই শরীরের তুলনা শুরু করে আর “মোটা” বা “কালো” কথাগুলো বলে, আর টিনএজ বয়সে বয়ঃসন্ধি ও সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে দুশ্চিন্তা প্রায়ই বাড়ে। আগে থেকে শুরু করলে সুবিধা: বাসায় শরীর নিয়ে মন্তব্য বন্ধ রাখুন, সন্তান কী করে তার প্রশংসা করুন, আর বয়ঃসন্ধি শুরুর আগেই তা নিয়ে কথা বলুন।
সন্তানকে কি ওজন কমাতে বলব?
সাধারণত না। নরমভাবে বললেও ওজন কমাতে বললে প্রায়ই বাচ্চা ডায়েট শুরু করে, লুকিয়ে খায়, আর নিজের শরীর নিয়ে আরও খারাপ বোধ করে। স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর পরিবর্তন আনুন পুরো পরিবারের জন্য: নিয়মিত খাবার, বেশি ফল আর সবজি, কম মিষ্টি পানীয়, আর একসঙ্গে বেশি নড়াচড়া।
আত্মীয় সন্তানকে মোটা বা কালো বললে কী বলব?
সঙ্গে সঙ্গে, অল্প কথায়, নরমভাবে উত্তর দিন, যাতে বাচ্চা শোনে আপনি ওর পক্ষে: “আমরা বাচ্চাদের সামনে শরীর নিয়ে কথা না বলার চেষ্টা করছি। আপনার বেড়ানো কেমন হলো?” তারপর অন্য প্রসঙ্গে যান। পরে সন্তানকে বলুন, কথাটা ঠিক ছিল না, ওর শরীর একদম ঠিক আছে। বারবার ঘটলে আত্মীয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন।
বাচ্চাদের জন্য রং ফর্সা করার ক্রিম কি নিরাপদ?
রং ফর্সা করার ক্রিম বাচ্চাদের জন্য নয়, আর কিছু ক্রিম ত্বকে জ্বালা বা ক্ষতি করতে পারে। এগুলো বাচ্চাকে শেখায় যে তার স্বাভাবিক রং “ঠিক করতে” হবে। ত্বকের কোনো সমস্যা নিয়ে চিন্তা থাকলে ডাক্তার দেখান। কড়া রোদ থেকে ত্বক বাঁচান স্বাস্থ্যের জন্য, ছায়া, ক্যাপ আর ঢিলা লম্বা হাতার জামা দিয়ে, “ফর্সা” রাখার জন্য নয়।
টিনএজ মেয়ে নিজের চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট, কীভাবে সাহায্য করব?
আগে শুনুন, তর্ক না করে (“বোকার মতো কথা বোলো না, তুমি তো সুন্দর”), আবার সায়ও না দিয়ে। জিজ্ঞেস করুন কী থেকে মনে হলো: কারও কথা, কোনো ছবি, কোনো বন্ধু? ও যা ভালোবাসে আর ভালো পারে, তার জন্য সময় রাখুন, আর বাসায় শরীর নিয়ে কথা বন্ধ রাখুন। খাবার বাদ দিলে, লুকিয়ে খেলে বা দুই সপ্তাহ ধরে মন খারাপ থাকলে শিগগির ডাক্তার দেখান।
সোশ্যাল মিডিয়া কি টিনএজ সন্তানের বডি ইমেজের ক্ষতি করে?
করতে পারে, বিশেষ করে এডিট করা ছবি, সৌন্দর্যের ফিল্টার আর ডায়েট বা ফিটনেসের ভিডিও, যা সাধারণ শরীরকেও “ভুল” দেখায়। অনেক টিনএজার জানে ছবিগুলো এডিট করা, তবুও তুলনা করে। কোন অ্যাকাউন্ট দেখে কেমন লাগে, তা খেয়াল করতে সাহায্য করুন, যেগুলোয় মন খারাপ হয় সেগুলো আনফলো করুক, রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে রাখুন, আর কথা বলা চালিয়ে যান।
ছেলেরাও কি চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে?
হ্যাঁ। ছেলেরা প্রায়ই উচ্চতা, শুকনা হওয়া বা শক্তপোক্ত না দেখানো নিয়ে দুশ্চিন্তা করে, আর মুখে বলে কম। খেয়াল রাখুন খাবার বাদ দিচ্ছে কি না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করছে কি না, বা অনলাইনে প্রোটিন পাউডার বা বড়ি কিনছে কি না। ছেলের সঙ্গেও একইভাবে শান্তভাবে কথা বলুন, আর শরীর বদলানোর জন্য কিছু খাওয়ার আগে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।




