মূল কনটেন্টে যান

আত্মীয়রা বাচ্চা নিয়ে মন্তব্য করলে কী বলবেন: ভদ্র উত্তর আর সীমা টানার উপায়

ছোট করে উত্তর

আত্মীয়রা বাচ্চা নিয়ে মন্তব্য করলে কী বলবেন, তার সহজ সূত্র: ধন্যবাদ দিন, ছোট একটা উত্তর দিন, তারপর অন্য প্রসঙ্গে যান। বেশিরভাগ মন্তব্য আসে ভালোবাসা বা অভ্যাস থেকে। আগে সন্তানকে আগলান: ওর শরীর, রেজাল্ট বা আচরণ নিয়ে কথা উঠলে সেখানেই উত্তর দিন। বারবার হলে আলাদা করে কথা বলুন, আর কথা বলা, শোনা বা বেড়ে ওঠা নিয়ে চিন্তা থাকলে ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যেকোনো বয়সের সন্তানের বাবা-মা, যাঁরা আত্মীয়, শ্বশুরবাড়ি আর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সারাক্ষণ মন্তব্য আর পরামর্শ শোনেন
মূল কথা
  • বেশিরভাগ মন্তব্য আসে ভালোবাসা, দুশ্চিন্তা বা অভ্যাস থেকে, আর তর্কের চেয়ে ছোট, নরম একটা উত্তর দিয়ে প্রসঙ্গ বদলানো সাধারণত ভালো কাজ দেয়।
  • সন্তান সব শুনছে: ওর শরীর, রেজাল্ট, কথা বলা বা আচরণ নিয়ে মন্তব্য হলে সেখানেই উত্তর দিন, যাতে ও শোনে আপনি ওর পক্ষে।
  • লড়াই বেছে নিন: ছোটখাটো ব্যাপার ছেড়ে দিন, কিন্তু মারধর, লজ্জা দেওয়া, নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্যে অটল থাকুন।
  • কিছু পরামর্শ শোনা দরকার: কথা বলা, কানে শোনা বা বেড়ে ওঠা নিয়ে আত্মীয়ের দুশ্চিন্তা শুনতে খারাপ লাগলেও ডাক্তারের কাছে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

ঈদের দুপুরের দাওয়াত, আর দশ মিনিটের মধ্যে সব শোনা হয়ে গেল: “ছেলেটা এত শুকনা কেন, খাওয়াও না?”, “এখনো কথা বলে না? আমাদেরটা তো এক বছরেই বলত”, “দুটো চড় দিলেই ঠিক হয়ে যাবে।” আত্মীয়রা বাচ্চা নিয়ে মন্তব্য করলে কী বলবেন, এই প্রশ্ন আমাদের অনেক পরিবারের রোজকার, আর এমন কথায় বাবা-মা নিজেকে দোষী ভাবেন, বাচ্চা নিজেকে ছোট ভাবে।

বড়দের সম্মান আর সন্তানকে আগলে রাখা, এর মধ্যে একটা বেছে নিতে হবে না। হাসিমুখে বলা কয়েকটা তৈরি উত্তর দিয়ে দুটোই করা যায়, আর আপনাকে শান্ত আর নিশ্চিত দেখলে অনেক আত্মীয় নিজেরাই নরম হয়ে আসেন।

নিচে পাবেন: আত্মীয়রা কেন মন্তব্য করেন, চেনা মন্তব্য আর তার ছোট উত্তর, হুবহু কী বলবেন, সন্তানকে আগলে রাখা, কোন লড়াই বেছে নেবেন, কখন পরামর্শ শোনা দরকার, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।

আত্মীয়রা বাচ্চা নিয়ে এত মন্তব্য করেন কেন?

আমাদের অনেক পরিবারে বাচ্চা সবার, আর পরামর্শ দেওয়াটা আদরেরই একটা রূপ। মন্তব্যের পেছনে কী আছে জানলে কথাটা গায়ে না মাখা সহজ হয়:

  • ভালোবাসা আর দুশ্চিন্তা: “ছেলেটা এত শুকনা” কথার মানে প্রায়ই “আমি চাই ও ভালো থাকুক।”
  • নিজেদের অভিজ্ঞতা: তাঁরা সন্তান মানুষ করেছেন অন্য এক সময়ে, যখন চড়-থাপ্পড়, ফিডারে চিনি দেওয়া দুধ বা খুব ছোট বয়সে স্কুলে পাঠানো স্বাভাবিক মনে হতো।
  • অভ্যাস আর আড্ডা: ওজন, রেজাল্ট আর বিয়ে দাওয়াতে আলাপের সহজ বিষয়।
  • তুলনা আর গর্ব: কাজিনদের রেজাল্ট আর কে কবে কী শিখল, তা প্রায়ই না ভেবেই হিসাব হয়।
  • কখনো সত্যিকারের চিন্তা: পাঁচ সন্তান মানুষ করা কোনো খালা এমন কিছু খেয়াল করতে পারেন, যা আরেকবার দেখা দরকার।

কারণটা বোঝা মানে সায় দেওয়া নয়। এতে শুধু কষ্ট থেকে নয়, শান্ত মন থেকে উত্তর দেওয়া সহজ হয়।

আত্মীয়দের চেনা মন্তব্য, আর প্রতিটার ছোট উত্তর

আত্মীয়দের চেনা মন্তব্য, এর পেছনে প্রায়ই কী থাকে, আর ছোট একটা উত্তর
মন্তব্যপেছনে প্রায়ই যা থাকেছোট একটা উত্তর
ওজন: “এত শুকনা কেন, খাওয়াও না?”স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা; গোলগাল মানেই স্বাস্থ্যবান, এমন পুরোনো ধারণা“ডাক্তার নিয়মিত ওর বৃদ্ধি দেখেন, ও ভালো আছে।”
গায়ের রং: “মেয়েটা কত কালো হয়ে গেছে।”সারাজীবন ধরে মনে গেঁথে যাওয়া “ফর্সাই সুন্দর” ধারণা“আমাদের কাছে ওর গায়ের রং খুব সুন্দর।”
রেজাল্ট: “রোল কত? আমার ছেলে তো জিপিএ ৫ পেয়েছে।”গর্ব, প্রতিযোগিতা, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা“ও খুব চেষ্টা করছে, আমরা ওকে নিয়ে গর্বিত।”
কথা বলা: “এখনো কথা বলে না? আমাদেরটা তো এক বছরেই বলত।”সত্যিকারের চিন্তা, নয়তো তুলনা“ধন্যবাদ, আমরা খেয়াল রাখছি, ডাক্তারকেও জিজ্ঞেস করব।”
শাসন: “দুটো চড় দিলেই ঠিক হবে” বা “আদর দিয়ে মাথায় তুলছ।”নিজেরা যেভাবে বড় হয়েছেন“আমরা দেখেছি, শান্তভাবে সীমা ঠিক করলে ওর জন্য বেশি কাজ হয়।”
লাজুক স্বভাব: “কাউকে সালাম দেয় না কেন? কী বেয়াদব!”বাচ্চা মেহমানের সামনে “ভালো” দেখাবে, এমন প্রত্যাশা“ও একটু সময় নিয়ে সহজ হয়। একটু পরেই এসে কথা বলবে।”
অভ্যাস: “এখনো তোমার সঙ্গে ঘুমায়?” বা “মোবাইল দাও, খেয়ে নেবে।”অন্য সময়ের অন্য অভ্যাস“এখন আমাদের পরিবারে এভাবেই ভালো চলছে।”

ওজন আর গায়ের রং নিয়ে মন্তব্যে বাড়তি সাবধান থাকুন, কারণ এসব কথা বাচ্চার মনে বহু বছর থেকে যেতে পারে; আরও পাবেন বডি শেমিং থেকে সন্তানকে বাঁচানো লেখায়। কাজিনদের সঙ্গে তুলনা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা।

আত্মীয়রা বাচ্চা নিয়ে মন্তব্য করলে কী বলবেন: সেই মুহূর্তে

সবার সামনে মন্তব্য বা উপদেশ এলে একটা সহজ ক্রম কাজে দেয়:

  1. একটু থামুন, শ্বাস নিন। শান্ত মুখটাই অর্ধেক কাজ করে দেয়।
  2. খেয়াল করুন কে শুনছে। বাচ্চা শুনতে পেলে আগে ওর কথা ভেবে উত্তর দিন।
  3. ধন্যবাদ দিন, বা মমতাটুকু স্বীকার করুন: “জানি, ওকে নিয়ে আপনি চিন্তা করেন।”
  4. একটা ছোট উত্তর দিন; লম্বা বক্তৃতা বা প্রতিটা সিদ্ধান্তের কৈফিয়ত নয়।
  5. প্রসঙ্গ বদলান, বা আত্মীয়কে একটা কাজ দিন: “পায়েসটা একটু সবাইকে বেড়ে দেবেন?”
  6. পরে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। মন্তব্য বারবার চলতে থাকলে আত্মীয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন, নয়তো স্বামী বা স্ত্রীকে বলুন তাঁর নিজের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে।

ভদ্রভাবে বলার মতো কিছু উত্তর

  • ধন্যবাদ, ভেবে দেখব।
  • জানি, ওকে ভালোবাসেন বলেই বলছেন।
  • এখন আমরা এভাবেই করছি, আর আমাদের ভালোই চলছে।
  • ওর সামনে আমরা ওজন নিয়ে কথা বলি না। বরং আপনার বাগানের গল্প ওকে শোনান!
  • আমরা মারধর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুষ্টুমি করলে ওকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
  • আপনারা খুব ভালোভাবে সন্তান মানুষ করেছেন। আমরাও নিজেদের মতো করে শিখছি।

কষ্টের কথা থেকে সন্তানকে কীভাবে আগলে রাখবেন

যেকোনো বয়সের বাচ্চা বড়দের কথা শোনে, খেলায় ব্যস্ত মনে হলেও। নিজের সম্পর্কে যা শোনে, সেটাই এক সময় নিজের সম্পর্কে বিশ্বাস হয়ে যেতে পারে:

  • ঝামেলা এড়াতে ছোট করা কথায় কখনো সায় দেবেন না, যেমন “হ্যাঁ, ও খুব দুষ্টু” বা “মেয়েটা অলস, কী করব বলেন?”
  • বাচ্চা শুনতে পায় এমন জায়গায় আত্মীয়দের সঙ্গে ওর সমস্যা, রেজাল্ট বা অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করবেন না।
  • বাচ্চাকে দিয়ে “পারফর্ম” করাবেন না: ছড়া শোনানো, রেজাল্ট দেখানো, বা সব আত্মীয়কে চুমু দেওয়া। হাত নাড়া বা সালাম দেওয়াই যথেষ্ট, আর চুমুতে “না” বলার অধিকার ওর আছে।
  • বড় বাচ্চাকে আগে থেকে বলে রাখুন: আত্মীয়রা রেজাল্ট নিয়ে প্রশ্ন করলে ও বলতে পারে “চেষ্টা করছি”, তারপর আপনার কাছে চলে আসতে পারে।
  • প্রশ্নের চাপ বেশি হলে কিশোর সন্তানকে সরে যাওয়ার একটা উপায় দিন, যেমন কোনো কাজে পাঠানো বা একটা ফোনের অজুহাত।

পরে সন্তানকে যা বলতে পারেন

  • নানি একটা কথা বলেছেন, যেটা ঠিক না। আমি ওই কথার সঙ্গে একমত না।
  • তুমি ভালো করছ, আর আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত।
  • কারও কথায় কষ্ট পেলে সবসময় আমাকে বলতে পারো।

পরিবারের সঙ্গে সীমা টানা: কখন ছেড়ে দেবেন, কখন বলবেন

সব আত্মীয়ের সব কথার জবাব দেওয়া যায় না, আর চেষ্টা করলে সাধারণত ঝগড়াই বাধে। দৃঢ়তাটুকু জমিয়ে রাখুন জরুরি বিষয়গুলোর জন্য:

কখন ছেড়ে দেবেন, আর কখন মুখ খুলবেন
সাধারণত ছেড়ে দিননরম কিন্তু দৃঢ়ভাবে বলুন
বিয়েবাড়ি বা ঈদে একবারের একটা মন্তব্যপ্রতিবার দেখা হলেই একই মন্তব্য, বাচ্চার সামনে
পুরোনো দিনের এমন টোটকা, যা আপনি এমনিতেই মানবেন নাযে কারও কাছ থেকে মারধর, ভয় দেখানো বা লজ্জা দেওয়া
বেড়াতে গিয়ে একটু বেশি মিষ্টি বা একটু রাত জাগানিরাপত্তা আর স্বাস্থ্য: প্রথম জন্মদিনের আগে মধু, আপনার সম্মতি ছাড়া ওষুধ, ছোট বাচ্চাকে পানি বা বারান্দার কাছে একা রাখা
আপনার রান্না, ক্লান্তি বা সংসার নিয়ে পরামর্শবাচ্চার শরীর, গায়ের রং বা বুদ্ধি নিয়ে মন্তব্য
এক দিনের জন্য নানাবাড়িতে আলাদা নিয়মগোপন কথা: “তোর মাকে বলিস না”

দাদা-দাদি বা নানা-নানি যদি প্রায়ই বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন, কোন নিয়ম ধরে রাখতেই হবে, তার পুরো পরিকল্পনা পাবেন দাদা-দাদির আদরে সন্তান নিয়ম মানে না লেখায়।

আত্মীয়দের পরামর্শ কখন শোনা দরকার?

না-চাওয়া সব উপদেশই ভুল নয়। বড়রা অনেক সন্তান মানুষ করেছেন, আর ব্যস্ত বাবা-মায়ের চোখ এড়িয়ে যাওয়া জিনিস অনেক সময় তাঁদের চোখে পড়ে। একটা মন্তব্য আরেকবার ভেবে দেখা দরকার, যখন:

  • বিষয়টা কথা বলা বা কানে শোনা: মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ নেই, ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে বলে না, বা আগে বলা শব্দ হারিয়ে ফেলছে। দেখুন বাচ্চা দেরিতে কথা বলে কী করবেন।
  • বিষয়টা বৃদ্ধি বা খাওয়া: ওজন কমছে, জামা ঢিলা হয়ে যাচ্ছে, বা বাচ্চাকে সারাক্ষণ অসুস্থ বা ক্লান্ত দেখায়। একবার চেকআপ করালে দুই দিকেই নিশ্চিন্ত হওয়া যায়।
  • বাচ্চাকে ভালো চেনেন এমন কয়েকজন একই কথা বলছেন।
  • পরামর্শটা সরাসরি কাজে লাগার মতো: খেতে না চাওয়া বাচ্চার জন্য একটা রেসিপি, একটা ঘুমপাড়ানি গান, আপনার নিজের ছোটবেলার একটা গল্প।

উল্টো ফাঁদটাও খেয়াল রাখুন। “ছেলেরা দেরিতে কথা বলে” বা “বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে” ধরনের ভালো মনের আশ্বাস এমন চেকআপ পিছিয়ে দিতে পারে, যা নিয়ে আপনি আগে থেকেই চিন্তিত ছিলেন। মন বলছে কিছু ঠিক নেই? তাহলে কে কী আশ্বাস দিল তা না ভেবে বাচ্চার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।

আমাদের বাসায়: ঈদের দাওয়াত, শ্বশুরবাড়ি আর পরিবারের গ্রুপ চ্যাট

কিছু মন্তব্য আমাদের পরিবারে খুব চেনা। প্রতিটার জন্য আগে থেকে একটা পরিকল্পনা থাকলে সামলানো সহজ হয়:

  • ঈদ আর বিয়েবাড়ি: সবচেয়ে বড় জমায়েতেই সবচেয়ে বেশি মন্তব্য। দুই-তিনটা উত্তর তৈরি রাখুন, আর বাচ্চার জন্য মাঝে মাঝে নিরিবিলি বিরতির ব্যবস্থা রাখুন।
  • শ্বশুরবাড়ি: সব দোষ যখন মায়ের ঘাড়ে চাপে (“বউমা নিশ্চয়ই ঠিকমতো দেখে না”), তখন স্বামী তাঁর পাশে আর দুজনের একসঙ্গে নেওয়া সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়াতে পারেন। শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নিয়ে কথা বললে কী করবেন, তা নিয়ে আরও পাবেন যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালন লেখায়।
  • “লোকে কী বলবে?”: প্রতিবেশী আর আত্মীয়দের মতামত বাবা-মাকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যাতে তাঁরা নিজেরাই বিশ্বাস করেন না। সন্তানের ভালো থাকাই আগে।
  • অনলাইনে ছবি: পরিবারের গ্রুপে বা ফেসবুকে বাচ্চার ছবি দিলে চেহারা আর ওজন নিয়ে মন্তব্য আসে। ছবি কম দিন, আর ছোট পরিসরে দিন।
  • মেয়ে আর ছেলে: “এবার একটা ছেলে নাও” বা “মেয়ের এত পড়াশোনার দরকার কী” ধরনের কথা শুনলে বাচ্চা কষ্ট পেতে পারে। নরম কিন্তু স্পষ্টভাবে উত্তর দিন: “আমরা আমাদের মেয়েকে নিয়ে গর্বিত।”

পরের বড় পারিবারিক দাওয়াতের জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা

ঈদ, বিয়ে বা লম্বা বেড়ানোর আগে-পরের দিনগুলো কাজে লাগান। প্রতি সন্ধ্যায় লিখে রাখুন, কোন মন্তব্য শুনলেন, কী বললেন, আর বাচ্চাকে কেমন দেখাল।

  1. দিন ১: সবচেয়ে বেশি যে মন্তব্যগুলো শোনেন, আর কে করেন, তার একটা তালিকা করুন।
  2. দিন ২: প্রতিটার জন্য এই লেখা থেকে একটা ছোট উত্তর বেছে নিন, বা নিজেই লিখুন।
  3. দিন ৩: স্বামী-স্ত্রী মিলে ঠিক করুন কে কোন আত্মীয়কে উত্তর দেবেন, আর প্রসঙ্গ বদলানোর ইশারা কী হবে।
  4. দিন ৪: উত্তরগুলো জোরে বলে অভ্যাস করুন, যতক্ষণ না সহজে আর নরম গলায় মুখে আসে।
  5. দিন ৫: বাচ্চাকে তৈরি করুন: আত্মীয়রা কী জিজ্ঞেস করতে পারেন, ও কী বলতে পারে, আর আপনাকে কোথায় পাবে।
  6. দিন ৬: একজন আত্মীয় বারবার একই কাজ করলে আলাদা করে, ধন্যবাদ দিয়ে কথা বলুন, নয়তো স্বামী বা স্ত্রীকে কথা বলতে বলুন।
  7. দিন ৭: নোটগুলো পড়ুন। কী কাজে দিল? বাচ্চা যা ভালোভাবে সামলেছে, তার একটার জন্য ওকে প্রশংসা করুন।

কখন এটা শুধু অযাচিত উপদেশ নয়?

বেশিরভাগ মন্তব্য বিরক্তিকর, ক্ষতিকর নয়। তবে এসব দেখলে সাহায্য নিন, পারিবারিক কাউন্সেলর, বাচ্চার ডাক্তার বা ভরসার কারও কাছ থেকে:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • বলার পরেও কোনো আত্মীয় বারবার বাচ্চাকে মারছেন, ভয় দেখাচ্ছেন বা লজ্জা দিচ্ছেন: বাচ্চাকে ওই মানুষের কাছে একা রাখবেন না, আর পারিবারিক কাউন্সেলর বা বাচ্চার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। বাচ্চা আঘাত পেয়ে থাকলে সেদিনই ডাক্তার দেখান; স্থানীয় থানায়ও জানাতে পারেন।
  • বাচ্চা হঠাৎ নির্দিষ্ট কোনো আত্মীয়কে ভয় পাচ্ছে, কোনো একটা বাসায় যেতে চায় না, বা এমন আঘাত আছে যার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারে না: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, ওই মানুষটার কাছ থেকে দূরে রাখুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন আর স্থানীয় থানায় জানান; এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন বাচ্চা নিজেকে নিয়ে ওই ছোট করা কথাগুলোই বলে, যেমন “আমি মোটা” বা “আমি বোকা”: শিগগির ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের ক্ষতির যেকোনো কথায় শান্ত থাকুন, কাছে থাকুন; এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন, নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • সমালোচনার কারণে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন আপনার নিজের মন খারাপ, দুশ্চিন্তা বা নিজেকে দোষী লাগে: শিগগির ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। আপনারও সাহায্য পাওয়ার অধিকার আছে।
  • পারিবারিক তর্ক যখন বাসায় হুমকি বা সহিংসতায় গড়ায়: স্থানীয় থানায় জানাতে পারেন, আর কেউ এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

আত্মীয়দের মন্তব্য পুরোপুরি থামে খুব কমই, কিন্তু আপনার প্রতিটা শান্ত উত্তর সন্তানকে শেখায় যে আপনি ওর পক্ষে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

আত্মীয়রা আমার সন্তান পালন নিয়ে সমালোচনা করলে কী বলব?

অল্প কথায়, নরমভাবে: ধন্যবাদ দিন, ছোট একটা কথা বলুন, যেমন “এখন আমাদের এভাবেই ভালো চলছে,” তারপর প্রসঙ্গ বদলান। প্রতিটা সিদ্ধান্তের কৈফিয়ত দেবেন না, কারণ লম্বা ব্যাখ্যা আরও তর্ক ডেকে আনে। একজন বারবার সমালোচনা করলে তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন, নয়তো স্বামী বা স্ত্রীকে বলুন তাঁর নিজের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে।

বড়দের উপদেশ না মানা কি বেয়াদবি?

না, যদি ভদ্রভাবে শোনেন। অনেক পরিবারে বড়দের সম্মান মানে তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা আর ধন্যবাদ দেওয়া, সব কথা মেনে নেওয়া নয়। বলতে পারেন “ধন্যবাদ, ভেবে দেখব,” তারপর নিজের সিদ্ধান্ত নিন। সম্মান প্রকাশ পায় গলার স্বর আর আদবে, প্রতিটা উপদেশ মানায় নয়।

বাচ্চার সামনেই কি আত্মীয়ের কথার প্রতিবাদ করব?

হ্যাঁ, অল্প কথায় আর নরমভাবে, যখন মন্তব্যটা বাচ্চাকে নিয়ে। বাচ্চারা প্রায়ই চুপ থাকাকে সায় দেওয়া ভাবে, তাই সঙ্গে সঙ্গে শান্তভাবে বলা “আমরা ওর ওজন নিয়ে কথা বলি না” কাউকে অপমান না করেই বাচ্চাকে আগলে রাখে। লম্বা আলাপ রাখুন পরে, আলাদা করে, বাচ্চাদের থেকে দূরে।

শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নিয়ে কথা বলে, স্বামী কিছু বলেন না, কী করব?

শান্ত একটা সময়ে কথা বলুন বাচ্চাকে নিয়ে, তাঁর পরিবারের দোষ নিয়ে নয়: কী বলা হচ্ছে, তাতে বাচ্চার ওপর কী প্রভাব পড়ছে, আর আপনি তাঁর কাছে কী চান। অনেক বড় মানুষ নিজের ছেলের কথা সহজে শোনেন। দুজনে মিলে কয়েকটা উত্তর ঠিক করুন, যাতে এক দল হয়ে মন্তব্যগুলো সামলাতে পারেন।

বাচ্চা কথা বলে না বলে আত্মীয়রা কটাক্ষ করেন, তাঁদের কথা কি শুনব?

কখনো কখনো, হ্যাঁ। কথাটা খোঁচা দিয়ে বলা হলেও দুশ্চিন্তাটা যাচাই করে দেখার মতো হতে পারে: মোটামুটি ১৬ মাসেও কোনো শব্দ না বললে, ২ বছরেও দুটো শব্দ জুড়ে না বললে, বা বলা শব্দ হারিয়ে ফেললে কানে শোনার পরীক্ষাসহ দেখিয়ে নিন। বাচ্চা ঠিকঠাক এগোলে চেকআপ থেকে পরের বারের জন্য একটা শান্ত উত্তরও পেয়ে যাবেন।

অনলাইনে বাচ্চার ছবিতে আত্মীয়দের মন্তব্য কীভাবে থামাব?

ছবি কম দিন, আর ছোট পরিসরে দিন, যেমন সবার জন্য খোলা পোস্টের বদলে পরিবারের একটা প্রাইভেট গ্রুপে। কষ্টের মন্তব্য মুছে দিন, আর আত্মীয়কে আলাদা করে মেসেজ দিন: “ওর ওজন নিয়ে মন্তব্য করবেন না, প্লিজ। ও এগুলো পড়ে।” বাচ্চা বড় হলে ছবি পোস্ট করার আগে ওর অনুমতি নিন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।