যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালন: অনেক বড় মানুষ, একটাই পরিকল্পনা
ছোট করে উত্তর
যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালন সবচেয়ে ভালো চলে, যখন বড়রা কয়েকটা মূল বিষয়ে একমত হন, যেমন ঘুম, খাওয়া, মোবাইল, পড়ার সময় আর গায়ে হাত না তোলা, আর এসব বিষয়ে শেষ কথা থাকে বাবা-মা দুজনের। মতভেদ মেটান বাচ্চাদের আড়ালে, একটু গোপনীয়তা আর আলাদা সময় রাখুন, আর কাজিনদের মধ্যে তুলনা থামান। অনেক স্নেহশীল বড় মানুষ থাকা সত্যিই একটা শক্তি।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- যে বাবা-মা দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, ফুফু বা কাজিনদের সঙ্গে এক বাসায় যেকোনো বয়সের সন্তান বড় করছেন
- মূল কথা
- যৌথ পরিবার বাচ্চাকে দেয় অনেক স্নেহশীল বড় মানুষ; কঠিন দিকটা হলো অনেক রকম নিয়ম।
- সংসারের সবাই মিলে তিন-চারটা মূল নিয়মে একমত হোন, আর সেগুলোর শেষ কথা রাখুন বাবা-মা দুজনের হাতে।
- কাজিনদের কখনো তুলনা করবেন না, আর প্রত্যেক বাচ্চাকে একটু গোপনীয়তা আর বাবা-মায়ের সঙ্গে আলাদা সময় দিন।
- বড়দের ঝগড়া বাচ্চাদের আড়ালে রাখুন, আর মিটমাটটাও ওদের দেখতে দিন।
আপনার ছেলেকে খেতে বলছেন তিনজন, কান্না থামাতে বলছেন দুজন, আর এক কাজিন যেন সবসময় একটু বেশি পায়। যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে অনেক সময় মনে হয়, দশজনে মিলে একটা বাচ্চাকে মানুষ করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন ভালোবাসার আর সম্মানের বড়দের ভিড়ে আপনার নিজের কথাটাই হারিয়ে যায়।
তবু দাদা-দাদি, চাচা-চাচি, ফুফু আর কাজিনদের মাঝে অনেক বাচ্চা দারুণভাবে বেড়ে ওঠে। যা সাধারণত কাজে দেয় তা কম মানুষ নয়, বরং সবার মানা কয়েকটা নিয়ম, একটু গোপনীয়তা, আর এমন বড়রা, যাঁরা নিজেদের মতভেদ বাচ্চাদের আড়ালে মেটান।
নিচে পাবেন: ভালো দিক, মূল নিয়মে একমত হওয়া, কাজিন, গোপনীয়তা, মায়ের মত, ঝগড়া, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন সাহায্য নেবেন।
যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালনের ভালো দিক কী?
যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে শিশু এমন কিছু পায়, যা অনেক ছোট পরিবারে থাকে না: তাকে ভালোবাসার অনেক মানুষ। কঠিন দিকগুলো নিয়ে ভাবার আগে কোনটা ভালো চলছে, তা খেয়াল করা কাজে দেয়:
- অনেক যত্নশীল বড় মানুষ: বাবা-মা ক্লান্ত, অসুস্থ বা অফিসে থাকলেও চেনা কেউ না কেউ সবসময় পাশে থাকেন।
- ভাইবোনের মতো বেড়ে ওঠা কাজিন, রোজ খেলার সঙ্গী।
- দাদা-দাদির গল্প, ছড়া-গান, রান্না আর ধর্মীয় অভ্যাস, রোজকার জীবনের মধ্যেই এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।
- ভাগ করে নেওয়া, অপেক্ষা করা, সাহায্য করা আর বড়দের সম্মান করার রোজকার অনুশীলন।
- কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য সাহায্য, আর সবার জন্য কম একাকীত্ব।
| শক্তি | কঠিন দিক | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| অনেক যত্নশীল বড় মানুষ | অনেক রকম নিয়ম | সবার মানা তিন-চারটা মূল নিয়ম |
| খেলার সঙ্গী কাজিন | তুলনা, রেষারেষি আর ঝগড়া | তুলনা নয়; ঝগড়ায় বিচারক নয়, পথ দেখানো |
| বাচ্চা দেখার সাহায্য | মায়ের মত হারিয়ে যেতে পারে | মূল সিদ্ধান্ত বাবা-মা একসঙ্গে নেবেন |
| জমজমাট বাসা | হইচই, রাত জাগা, গোপনীয়তার অভাব | ঘুমের নির্দিষ্ট সময় আর একটা নিরিবিলি কোণ |
| বড়দের অভিজ্ঞতা | পুরোনো অভ্যাস, যেমন চড়-থাপ্পড় বা টোটকা | নিরাপত্তা আর স্বাস্থ্যে নরম কিন্তু দৃঢ় সীমা |
সবাই বাচ্চাকে আলাদা কথা বলে: মূল নিয়মে কীভাবে একমত হবেন
প্রত্যেক বড় মানুষের নিজের নিয়ম থাকলে বাচ্চা একেকজনের কাছে একেক কথা শোনে, আর শিগগিরই শিখে ফেলে, যে “হ্যাঁ” বলে তার কাছেই যেতে হয়। সবাই মানবে এমন ছোট একটা তালিকা থাকলে যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালন অনেক সহজ হয়:
- আগে বাবা-মা: সবচেয়ে জরুরি কী, তা নিয়ে আগে আপনারা দুজন একমত হোন। কীভাবে, পাবেন সন্তান পালনে বাবা-মায়ের মতের অমিল লেখায়।
- তালিকায় তিন-চারটা মূল বিষয় রাখুন: ঘুমের সময়, খাওয়া আর নাশতা, মোবাইল-টিভি, পড়ার সময়, আর ভুল করলে কী হবে, যেখানে মারধর বা লজ্জা দেওয়া থাকবে না।
- শান্ত একটা সময়ে, যেমন রাতের খাবারের পর, সংসারের সবাইকে জানান; কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে নয়, সব বাচ্চার জন্য নিয়ম হিসেবে।
- বড়দের দোয়া আর পরামর্শ চান। দাদা-দাদি নিজেরা তালিকা বানাতে হাত লাগালে প্রায়ই সেটা মেনে চলতেও বেশি আগ্রহী হন।
- কে কী ঠিক করবেন, তা-ও ঠিক করুন: ছোটখাটো মুহূর্ত সামলাবেন যিনি তখন বাচ্চার সঙ্গে আছেন; বড় সিদ্ধান্ত, যেমন স্কুল, ডাক্তার বা শাস্তি, ফিরে আসবে বাবা-মায়ের কাছে।
- মূল নিয়মগুলো লিখে রাখুন, আর এক মাস পর সবাই মিলে আবার দেখুন।
আত্মীয়দের যা বলতে পারেন
- চাচি, আপনি ওকে কত সুন্দর সামলান। স্কুলের রাতে ওর ঘুমের সময় ৯টা, একটু মনে করিয়ে দেবেন?
- আমরা সব বাচ্চার জন্যই খাওয়ার সময় মোবাইল বন্ধ রাখার নিয়ম করেছি। সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।
- ও দুষ্টুমি করলে সবার সামনে না বকে আমাকে একটু ডাকবেন, প্লিজ।
- বাচ্চাকে: এই বাসার সবাই তোমাকে ভালোবাসে। নিয়মগুলো আমি আর আব্বু ঠিক করি, আর আমরা সেগুলো সবার জন্য ন্যায্য রাখব।
কাজিনরা এক বাসায়: তুলনা, ভাগাভাগি আর ঝগড়া
এক বাসার কাজিনরা প্রায়ই একই দিনে সবচেয়ে ভালো বন্ধু আর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। বড়রা তুলনা করলে রেষারেষি আরও বাড়ে: কে বেশি ফর্সা, কে ক্লাসে ফার্স্ট, কে ঠিকমতো খায়। প্রতিটি তুলনা, মজা করে হলেও, একজন বাচ্চাকে বুঝিয়ে দিতে পারে যে সে যথেষ্ট নয়। বদলে কী বলবেন, পাবেন সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা লেখায়।
- উপহার, নাশতা আর ঈদের সালামিতে সব কাজিনকে সমান রাখুন, পরিবারগুলোর আয় আলাদা হলেও।
- নম্বর আর রেজাল্ট নিয়ে কথা বলুন প্রত্যেক বাচ্চার সঙ্গে আলাদা করে, খাবার টেবিলে কখনো নয়।
- ঝগড়ায় বিচারক না হয়ে পথ দেখান: কে দোষী তা ঠিক না করে, প্রত্যেককে নিজের চাওয়াটা বলতে আর সমাধান খুঁজতে সাহায্য করুন।
- বড় কাজিন সাহায্য করতে পারে, কিন্তু কোলের শিশু বা ছোট বাচ্চার দায়িত্ব কখনো তার ওপর নয়। ছোট বাচ্চাকে কখনো একা রাখবেন না, কোলের শিশুর সঙ্গে একা রেখেও যাবেন না।
- ছোট-বড় সব কাজিন খেলবে এমন জায়গায়, যেখানে বড়রা আওয়াজ শুনতে পান, দরজা খোলা রেখে।
ভাগাভাগির বাসায় বাচ্চার গোপনীয়তা আর নিজের জায়গা
ভরা বাসায় বাচ্চা হয়তো দাদির সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমায়, বসার ঘরে হোমওয়ার্ক করে, আর নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে একা সময় খুব কম পায়। যৌথ পরিবারে বাচ্চার ঘুম ও পড়া, দুটোরই জায়গা লাগে, আর লাগে একটু গোপনীয়তা:
- ঘুম: সব বাচ্চার জন্য একটা ঘুমের সময়, আর সন্ধ্যার টিভি বা মেহমানদের আড্ডা ঘুমানোর জায়গা থেকে দূরে। ৬–১২ বছরের বাচ্চার মোটামুটি ৯–১২ ঘণ্টা আর কিশোরদের ৮–১০ ঘণ্টা ঘুম দরকার।
- পড়া: পুরো বাসার জন্য একটা নিরিবিলি ঘণ্টা, নয়তো টেবিল আর বাতিসহ একটা কোণ, যা শুধু পড়ার জন্য।
- নিজের জিনিস: একটা ড্রয়ার, তাক বা বাক্স, যা আর কেউ খোলে না, এক ঘরে অনেকে থাকলেও।
- শরীরের গোপনীয়তা: স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকে বাচ্চা আড়ালে কাপড় বদলাবে আর গোসল করবে, আর ঢোকার আগে সবাই দরজায় টোকা দেবেন।
- বাবা-মায়ের সঙ্গে সময়: রোজ প্রত্যেক বাচ্চার সঙ্গে ১০ মিনিট একা, একসঙ্গে হাঁটা, রিকশায় ঘোরা বা আপনার সঙ্গে ছাদে, প্রায়ই পুরো একদিন বেড়ানোর চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
- টিনএজ সন্তান: টোকা দিন, দিনের কিছু সময় দরজা বন্ধ রাখতে দিন, আর ওর মেসেজ সবার সামনে পড়বেন না, ওর খবরও সবাইকে বলবেন না।
যৌথ পরিবারে মায়ের ভূমিকা: নিজের সন্তানের সিদ্ধান্তে মায়ের মত
অনেক যৌথ পরিবারে কমবয়সী মা থাকেন শ্বশুরবাড়িতে, আর তাঁর মনে হতে পারে নিজের সন্তান কীভাবে বড় হবে, তাতে তাঁর কথার দাম কম: বাবু কী খাবে, ছোটটা কখন ঘুমাবে, চড়-থাপ্পড় চলবে কি না। এতে কারও দোষ নেই; অনেক সংসার বহুদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু বাবা-মা দুজনে মিলে পথ দেখালে বাচ্চা সবচেয়ে ভালো থাকে, আর যে মা নিজেকে উপেক্ষিত মনে করেন, তিনি ধীরে ধীরে ক্লান্ত আর মনমরা হয়ে পড়তে পারেন।
- বড় বিষয়গুলো আগে স্বামী-স্ত্রী মিলে ঠিক করুন: খাওয়া, ঘুম, স্কুল, ডাক্তার আর শাসন। তারপর দুজনে একসঙ্গে সবাইকে জানান।
- বাবারা: স্ত্রীকে একা তর্ক করতে না দিয়ে নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে আপনিই কথা বলুন। বাবা-মায়ের কাছে ছেলের কথার ওজন প্রায়ই বেশি।
- বড়দের কৃতিত্ব মুখে বলুন। “অসুখ হলে ও শুধু আম্মার খিচুড়িই খায়”, এমন কথা শুনলে বাকি সিদ্ধান্তগুলো মেনে নেওয়া সহজ হয়।
- মনে রাখুন, শাশুড়ি অনেক সময় কমবয়সী মায়ের সবচেয়ে বড় সহায়। বেশিরভাগ মতভেদ ভালোবাসা নিয়ে নয়, “কীভাবে” নিয়ে, আর সেভাবেই মেটানো যায়।
আগে ধন্যবাদ দিয়ে কথা বলার নমুনা পাবেন দাদা-দাদির আদরে সন্তান নিয়ম মানে না লেখায়।
বাচ্চাদের সামনে বড়দের ঝগড়া হলে কী করবেন
ভাগাভাগির বাসায় বাচ্চারা অনেক কিছু শুনে ফেলে: টাকা-পয়সা, জমিজমা, ঘরের কাজ, বা বাচ্চাদের কীভাবে মানুষ করা হবে তা নিয়ে ঝগড়া। মাঝে মাঝে শান্তভাবে মেটানো মতভেদে তেমন ক্ষতি নেই, বরং বাচ্চারা দেখতে পারে কীভাবে মানুষ মিটমাট করে। কিন্তু চিৎকার, ঘন ঘন বা ভয় ধরানো ঝগড়া আলাদা জিনিস, আর বাচ্চারা প্রায়ই নিজেকেই দোষী ভাবে।
- গলা চড়তে শুরু করলেই বাচ্চাদের সরিয়ে নিন, নয়তো আলাপটা অন্য জায়গায় নিয়ে যান।
- বাচ্চাকে কখনো কারও পক্ষ নিতে, খবর আনা-নেওয়া করতে, বা অন্য কেউ কী বলেছে তা জানাতে বলবেন না।
- পরে কাউকে দোষ না দিয়ে অল্প কথায় আশ্বস্ত করুন: “বড়রা একটা ব্যাপারে একমত হননি। এতে তোমার কোনো দোষ নেই, আমরা মিটিয়ে নিচ্ছি।”
- মিটমাটটাও ওদের দেখতে দিন: একসঙ্গে খাওয়া, একটা নরম কথা, বড়দের আবার কথা বলা।
মিটমাট আর পরে বাচ্চাকে কী বলবেন, তা নিয়ে আরও পাবেন বাবা-মায়ের ঝগড়া সন্তানের মনে প্রভাব লেখায়। বাসায় কাউকে আঘাত করা হলে বা হুমকি দেওয়া হলে, কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; স্থানীয় থানায়ও জানাতে পারেন।
আমাদের বাসায়: ঈদ, বিয়েবাড়ি, প্রবাসী বাবা আর পরিবারের সম্মান
চাচা-ফুফু-দাদার সংসারে বাচ্চা বড় হওয়া আমাদের দেশে খুব চেনা ছবি, আর প্রতিটি পরিবার তা চালায় নিজের মতো করে। কয়েকটা পরিস্থিতি বারবার আসে:
- প্রবাসী বাবা: মা আর বাচ্চারা বাবার পরিবারের সঙ্গে থাকলে, বিদেশে যাওয়ার আগেই মূল নিয়মগুলো ঠিক করে যান। ভিডিও কলে তিনি সবার সামনে মায়ের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়াতে পারেন।
- ঈদ আর বিয়েবাড়ি: রাত জাগা, মিষ্টি আর ভিড় আনন্দেরই অংশ। ছোট নিয়মগুলো ঢিলা করুন, নিরাপত্তার নিয়ম রাখুন, আর ঠিক করুন সবচেয়ে ছোটদের দিকে কোন বড় মানুষ নজর রাখবেন।
- দাদাবাড়ি আর নানাবাড়ি: বাচ্চা দুই পরিবারেরই। প্রতিযোগিতা ছাড়া মায়ের দিকের পরিবারেও সমানভাবে বেড়ানো আর ফোন বাচ্চাকে দুই দিকে টানাটানির কষ্ট থেকে বাঁচায়।
- “লোকে কী বলবে?”: পরিবারের মান-সম্মানের চিন্তায় বড়রা অনেক সময় সবার সামনে বাচ্চাকে লজ্জা দেন। কোনো মেহমানের মতের চেয়ে বাচ্চার মনের দাম বেশি; শুধরে দিন চুপচাপ, পরে।
- ধর্ম আর রুটিন: নামাজের সময়, শুক্রবারের পারিবারিক দুপুরের খাবার আর রমজানের সন্ধ্যা ব্যস্ত বাসায় একটা অভিন্ন ছন্দ আনতে পারে, যা বাচ্চাদের মনে স্বস্তি দেয়।
যৌথ সংসারে শান্তি আনার ৭ দিনের পরিকল্পনা
সাধারণ একটা সপ্তাহ বেছে নিন। প্রতি সন্ধ্যায় লিখে রাখুন একটা জিনিস যা ভালো গেছে, আর একটা মুহূর্ত, যখন নিয়ম নিয়ে টক্কর লেগেছে।
- দিন ১: সাধারণ একটা দিনে কে কখন বাচ্চার দেখাশোনা করেন, তার তালিকা করুন।
- দিন ২: স্বামী-স্ত্রী মিলে সবচেয়ে জরুরি তিন-চারটা মূল নিয়ম বেছে নিন।
- দিন ৩: বাচ্চার জন্য প্রত্যেক বড় মানুষ যা করেন, তার একটার জন্য বাচ্চার সামনেই ধন্যবাদ দিন।
- দিন ৪: রাতের খাবারের পর নরমভাবে সংসারের সবাইকে মূল নিয়মগুলো জানান।
- দিন ৫: সব বাচ্চার জন্য একটা নিরিবিলি কোণ আর একটা নির্দিষ্ট ঘুমের সময় ঠিক করুন।
- দিন ৬: আপনার প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গে ১০ মিনিট একা কাটান।
- দিন ৭: স্বামী-স্ত্রী মিলে নোটগুলো পড়ুন। কোনটা সহজ হলো? পরের একটা ধাপ বেছে নিন।
কখন এটা রোজকার টানাপোড়েনের চেয়ে বেশি?
প্রতিটি বড় সংসারেই টুকটাক টানাপোড়েন থাকে। এসব দেখলে সাহায্য নিন, পারিবারিক কাউন্সেলর, বাচ্চার ডাক্তার বা ভরসার কারও কাছ থেকে:
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- বাসার টানাপোড়েন চলতে থাকায় কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বাচ্চাকে দুশ্চিন্তায় দেখাচ্ছে, ঘুম বা খাওয়া খারাপ, বা পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ছে।
- বলার পরেও কোনো আত্মীয় বাচ্চাকে বারবার মারছেন, ভয় দেখাচ্ছেন বা অপমান করছেন।
- বাচ্চা হঠাৎ নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা ঘরকে ভয় পাচ্ছে, কিংবা এমন কিছু বলছে যাতে আপনার চিন্তা হয়। বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, ওকে সেই মানুষটার কাছ থেকে দূরে রাখুন, আর সেদিনই ব্যবস্থা নিন। স্থানীয় থানায় জানাতে পারেন; বাচ্চা এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- বাসার ঝগড়া মারামারিতে গড়ায়, বা কাউকে আঘাত বা হুমকি দেওয়া হয়: কেউ এখনই বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন। স্থানীয় থানায়ও জানাতে পারেন।
- আপনি বা আপনার জীবনসঙ্গী দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ দিন মনমরা, আটকে পড়া বা হতাশ বোধ করছেন: ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
যৌথ পরিবারে সন্তান লালন-পালন মানে বাচ্চাকে বড় হওয়ার সবচেয়ে উষ্ণ জায়গাগুলোর একটা দেওয়া। সবার মানা কয়েকটা নিয়ম, একটু গোপনীয়তা, আর মতভেদের পর মিটমাট করে নেওয়া বড়রা বাচ্চাকে সেই ভালোবাসার পুরোটা উপভোগ করতে দেন। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা ঘটছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখে নিন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
যৌথ পরিবার কি বাচ্চার জন্য ভালো?
হতে পারে। যৌথ পরিবারে অনেক বাচ্চা পায় স্নেহশীল বড় মানুষ, খেলার সঙ্গী কাজিন আর গভীর আপনজনের অনুভূতি। পার্থক্যটা গড়ে দেয় সংসার কীভাবে চলে: সবার মানা মূল নিয়ম, তুলনা নয়, একটু গোপনীয়তা, আর এমন বড়রা যাঁরা ঝগড়া বাচ্চাদের আড়ালে রাখেন। শান্ত ছোট পরিবার আর শান্ত যৌথ পরিবার, দুটোতেই বাচ্চা হাসিখুশি বড় হতে পারে।
শাশুড়ি আমার বাচ্চাকে শাসন করলে কী করব?
আগে তাঁর যত্নের জন্য ধন্যবাদ দিন, তারপর মিলে ঠিক করুন ভুল করলে কী হবে: শান্ত একটা “না”, একটু বিরতি, বা বাচ্চাকে আপনার কাছে নিয়ে আসা, আর মারধর বা লজ্জা দেওয়া নয়। সহজ হলে স্বামীকে বলুন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে। ঘটনার সময় বাচ্চার সামনে তাঁকে শুধরে না দিয়ে চুপচাপ এগিয়ে গিয়ে সামলান।
যৌথ পরিবারে বাবা-মা আর সন্তানের গোপনীয়তা কীভাবে রাখব?
ছোট করে শুরু করুন: ঘুমের নির্দিষ্ট সময়, প্রত্যেক বাচ্চার জন্য একটা ড্রয়ার বা তাক, ঢোকার আগে টোকা দেওয়া, আর রোজ প্রত্যেক বাচ্চার সঙ্গে ১০ মিনিট একা, যেমন হাঁটা বা আপনার সঙ্গে ছাদে। স্বামী-স্ত্রীর নিজেদের জন্যও নিয়মিত একটু সময় দরকার, রাতের খাবারের পর একসঙ্গে হাঁটা হলেও।
আত্মীয়রা থাকলে বাচ্চা বেশি দুষ্টুমি করে কেন?
সাধারণত কারণ তখন পরখ করার মতো মানুষ বেশি, মনোযোগ পাওয়ার সুযোগ বেশি, আর একেকজন বড় মানুষ একেক উত্তর দেন। বড়রা একমত নন টের পেলে বাচ্চারা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি জেদ করে। কয়েকটা মূল নিয়মে একমত হওয়া, সবার সামনে একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখানো, আর বাচ্চার ভালো আচরণ খেয়াল করে প্রশংসা করা সাধারণত কাজে দেয়।
এক বাসার সব কাজিনের জন্য কি একই নিয়ম হওয়া উচিত?
মূল বিষয়ে হ্যাঁ: কাছাকাছি বয়সের জন্য কাছাকাছি ঘুমের সময়, মোবাইল আর খাওয়ার একই নিয়ম, আর গায়ে হাত না তোলার একই নিয়ম জীবনকে ন্যায্য আর সহজ করে। বয়স আলাদা, তাই ১২ বছরের বাচ্চা ৫ বছরের বাচ্চার চেয়ে দেরিতে ঘুমাতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যাপার, যেমন বাড়তি কোচিং, প্রত্যেক বাবা-মা নিজের সন্তানের জন্য ঠিক করবেন।
আত্মীয়রা কাজিনদের সঙ্গে বাচ্চার তুলনা করলে কীভাবে থামাব?
সঙ্গে সঙ্গে নরমভাবে প্রসঙ্গ বদলান, “প্রত্যেক বাচ্চারই নিজের গুণ আছে,” আর প্রত্যেকের নির্দিষ্ট কোনো ভালো দিকের প্রশংসা করুন। পরে আলাদা করে ওই আত্মীয়কে অনুরোধ করুন তুলনা না করতে, বিশেষ করে নম্বর, চেহারা বা গায়ের রং নিয়ে। তারপর বাচ্চাকে বলুন, ও যেমন, আপনি ওকে ঠিক তেমনই ভালোবাসেন।
যৌথ পরিবারে আমার সন্তানের ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত কে নেবেন?
বাচ্চার বাবা-মা, দুজনে মিলে, বড়দের পরামর্শ নিয়ে। দাদা-দাদি আর অন্য আত্মীয়রা রোজকার মুহূর্তে পথ দেখান, কিন্তু বড় সিদ্ধান্ত, যেমন স্কুল, স্বাস্থ্য, শাসন আর মোবাইল, সবচেয়ে ভালো হয় যখন বাবা-মা আগে একমত হয়ে পরে সম্মানের সঙ্গে পরিবারকে জানান। বিষয়টা স্পষ্ট থাকলে শ্বশুরবাড়িতে থেকে সন্তান মানুষ করা অনেক সহজ হয়।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।



