মূল কনটেন্টে যান

বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায়? পারফেকশনিজম আর ব্যর্থতার ভয় কমানোর উপায়

ছোট করে উত্তর

যে বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায়, সে প্রায়ই চেষ্টাই করতে চায় না, ছোট ভুলে কেঁদে ফেলে, বা সবকিছুতে প্রথম হতে চায়; সাধারণত কারণ, তার কাছে ভুল স্বাভাবিক কিছু নয়, ভয়ের জিনিস। চেষ্টা আর কৌশলের প্রশংসা করুন, নিজের ভুলের কথা শান্তভাবে বলুন, নম্বর দেখে রাগ নয়, কৌতূহল দেখান, আর ছোটখাটো জিনিস ভুল হতে দিন। দুশ্চিন্তার কারণে কয়েক সপ্তাহ ধরে চেষ্টাই না করলে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
মোটামুটি ৫–১৫ বছরের সন্তানের বাবা-মা, যাঁদের বাচ্চা সহজে হাল ছেড়ে দেয়, ভুলে কেঁদে ফেলে, হারতে পারে না, বা একই কাজ বারবার নতুন করে করে
মূল কথা
  • ব্যর্থতার ভয় প্রায়ই বাড়ে, যখন ভুলকে বিপজ্জনক মনে হয়: যেন ভুল মানেই রাগ, লজ্জা, বা কম ভালোবাসা।
  • সবচেয়ে বেশি কাজে দেয় সাধারণত রোজকার ছোট জিনিস: চেষ্টা আর কৌশলের প্রশংসা, নিজের ভুলের কথা বলা, আর ছোটখাটো জিনিস ভুল হতে দেওয়া।
  • নম্বর বা ভুল দেখে আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া যেকোনো উপদেশের চেয়ে বেশি শেখায়; রাগের চেয়ে কৌতূহল সাধারণত বেশি কাজে দেয়।
  • দুশ্চিন্তায় বাচ্চা কয়েক সপ্তাহ ধরে চেষ্টাই না করলে, কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিটা ভুলে কাঁদলে, বা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি মন খারাপ থাকলে সাহায্য নিন।

একটা আঁকাবাঁকা দাগের জন্য বাচ্চা পুরো ছবি ছিঁড়ে ফেলে, হেরে যেতে পারে ভেবে খেলতেই চায় না, বা উত্তর ভুল হতে পারে বলে হোমওয়ার্ক নিয়ে স্থির বসে থাকে? তাহলে হয়তো আপনার বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায়। এটা খুব চেনা ব্যাপার, বিশেষ করে সাবধানী, সংবেদনশীল বাচ্চাদের মধ্যে, আর যেসব বাসা ও স্কুলে নম্বরের গুরুত্ব অনেক বেশি। শান্ত, রোজকার কিছু বদলে অনেক বাচ্চা শেখে যে ভুল সামলে ওঠা যায়।

নিচে পাবেন: লক্ষণ, কেন হয়, ভুলের পর কী বলবেন, কীভাবে চেষ্টার প্রশংসা করবেন, বাসায় ভুলকে স্বাভাবিক করা, নম্বর দেখে আপনার নিজের প্রতিক্রিয়া, আমাদের বাসার বাস্তবতা, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন। বাচ্চা যদি মূলত বলে “আমি বোকা” বা নতুন কিছুই করতে না চায়, সেই দিকটা আছে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় লেখায়।

বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায় কি না, বোঝার লক্ষণ

বাইরে থেকে ব্যর্থতার ভয়কে অলসতা বা জেদ মনে হতে পারে। সাধারণ লক্ষণ:

  • ছোট ভুলে কান্না, রাগ বা কাজ ছিঁড়ে ফেলা, যেমন একটা ভুল অঙ্ক বা একটু কালির দাগ।
  • বারবার মোছা, নতুন করে করা বা মিলিয়ে দেখা, ফলে হোমওয়ার্কে দরকারের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে।
  • ভালো হবেই, এমন নিশ্চয়তা না থাকলে শুরুই করতে না চাওয়া, বা ফেলে রাখা।
  • হারতে না পারা: খেলা ছেড়ে দেওয়া, নিয়ম বদলে ফেলা, সবকিছুতে প্রথম হতে চাওয়া আর না হলে ভেঙে পড়া।
  • শুধু সেসব কাজই বেছে নেওয়া, যেগুলোতে আগে থেকেই ভালো, আর পছন্দ না হওয়া নম্বর লুকিয়ে রাখা।
  • বারবার “এটা কি ঠিক হয়েছে?” জিজ্ঞেস করা, বা সবকিছু আপনাকে দিয়ে মিলিয়ে নিতে চাওয়া।
ভালো করার স্বাভাবিক ইচ্ছা, নাকি পারফেকশনিজম?
বিষয়ভালো করার স্বাভাবিক ইচ্ছাপারফেকশনিজম
ভুলশেখার অংশ: বিরক্তিকর, তারপর ভুলে যাওয়ানিজে খারাপ বা বোকা হওয়ার প্রমাণ, কয়েক দিন মনে থাকে
চেষ্টাখাটে, আর তাতে ভালো লাগেকাজটাই এড়িয়ে যায়, বা ক্লান্ত হওয়া পর্যন্ত খাটে
ফলাফলপ্রথম না হলেও উন্নতিতে খুশিপুরো নম্বর পেলেও সন্তুষ্ট নয়
শুধরে দেওয়াভুল ধরিয়ে দিলে শুনতে পারেভেঙে পড়ে, তর্ক করে বা কাজ লুকায়
নতুন কিছুকৌতূহলী, নতুন করে শিখতে রাজিভালো না-ও পারতে পারে এমন সবকিছু এড়িয়ে চলে

কিছু বাচ্চা ভুল করতে এত ভয় পায় কেন?

ব্যর্থতার ভয় সাধারণত একটা কারণে নয়, স্বভাব আর অভিজ্ঞতা মিলে তৈরি হয়:

  • স্বভাব: কোনো কোনো বাচ্চা স্বভাবতই সাবধানী, সংবেদনশীল, বা নিজের প্রতি কঠোর।
  • বুদ্ধির প্রশংসা: “তুমি তো খুব বুদ্ধিমান” শুনতে শুনতে বাচ্চা এমন সবকিছুকে ভয় পেতে পারে, যাতে উল্টোটা প্রমাণ হতে পারে।
  • ভুলে কড়া প্রতিক্রিয়া: নম্বর নিয়ে দীর্ঘশ্বাস, বকা, হাসাহাসি বা শাস্তি শেখাতে পারে যে ভুল করা বিপজ্জনক।
  • ভাইবোন, কাজিন বা ক্লাসের প্রথম হওয়া বাচ্চার সঙ্গে তুলনা।
  • পরীক্ষার সংস্কৃতি: ক্লাস টেস্ট, রোল নম্বর আর কোচিংয়ের রেজাল্ট প্রতিটা কাজকে বিচারের মতো করে তুলতে পারে।
  • বড়দের দেখে শেখা: বাবা-মা নিজের ভুলে নিজের প্রতি কঠোর হলে বাচ্চারা খেয়াল করে; আর দুশ্চিন্তা আর পারফেকশনিজম প্রায়ই একসঙ্গে থাকে।
বিভিন্ন বয়সে ব্যর্থতার ভয় সাধারণত যেভাবে দেখা দেয়
বয়সযা দেখতে পারেনযা প্রায়ই কাজে দেয়
৫–৭ বছরআঁকা বা হাতের লেখা নিয়ে কান্না, খেলা ছেড়ে দেওয়া, সবসময় প্রথম হতে চাওয়াখেলার ছলে অনুশীলন, যেসব খেলায় বড়রাও হারে, চেষ্টার প্রশংসা
৮–১১ বছরহোমওয়ার্ক মুছে বারবার করা, নম্বর লুকানো, নতুন খেলা বা প্রতিযোগিতা এড়ানোবারবার করার একটা সীমা, চেষ্টার প্রশংসা, আপনার ভুলের গল্প শোনা
১২–১৫ বছরঅনেক রাত জেগে পড়া, নিজেকে কড়া কথা বলা, প্রথম না-ও হতে পারে এমন সবকিছু এড়ানোসমাধান না দিয়ে শোনা, ঘুম রক্ষা করা, নম্বর আর নিজের মূল্য আলাদা করে দেখা

বাচ্চা ভুল করলে কী বলবেন

ভুলের পরের প্রথম মিনিটটাই সবচেয়ে জরুরি। এই ধাপগুলো পরপর চেষ্টা করুন:

  1. নিজের প্রতিক্রিয়া একটু থামান: কথা বলার আগে একটা শ্বাস নিন, মুখটা নরম রাখুন।
  2. অনুভূতির নাম বলুন: “এটা ভুল হয়ে যাওয়ায় তোমার খুব খারাপ লাগছে।”
  3. স্বাভাবিক করে বলুন: “শেখার সময় সবারই ভুল হয়।”
  4. ভুলটাকে বাচ্চার পরিচয় থেকে আলাদা করুন: “এই উত্তরটা ভুল হয়েছে। তার মানে এই না যে তুমি অঙ্কে খারাপ।”
  5. একসঙ্গে খুঁজে দেখুন: “এখানে কী হলো? পরের বার কী চেষ্টা করা যায়?”
  6. পরের ধাপটা ছোট করুন: একটা লাইন ঠিক করা, আরেকবার বল ছোড়া, নতুন একটা পাতা শুরু করা।
  7. পরে সামলে ওঠাটা খেয়াল করুন: “তোমার খারাপ লেগেছিল, তবু তুমি আবার চেষ্টা করেছ।”

যা বলতে পারেন

  • ওহ, একটা ভুল। ভালোই হলো, এখন জানলাম কোনটা আরও অনুশীলন করতে হবে।
  • তোমার খারাপ লাগছে, এটা ঠিক আছে। ভুল তো শেখারই অংশ।
  • নিখুঁত হতেই হবে, এমন না। আজকের জন্য শেষ করাটাই যথেষ্ট।
  • নম্বর যা-ই হোক, তোমাকে আমি একই রকম ভালোবাসি।
  • এটা থেকে একটা কী শিখলে, বলো তো?

শুধু ফল নয়, চেষ্টার প্রশংসা করবেন যেভাবে

যে বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায়, চেষ্টার প্রশংসা তাকে বুঝতে সাহায্য করে যে চেষ্টাটাই আসল। নির্দিষ্ট করে বলুন, আর এমন জিনিসের প্রশংসা করুন যা বাচ্চার নিজের হাতে; আরও অনেক উদাহরণ আছে সন্তানের প্রশংসা করার উপায় লেখায়।

  • চেষ্টার প্রশংসা: “কঠিন হয়ে গেলেও তুমি থামোনি।”
  • কৌশলের প্রশংসা: “তুমি অন্যভাবে উত্তরটা মিলিয়ে দেখেছ।”
  • সামলে ওঠার প্রশংসা: “ভুল হয়েছিল, আর তুমি নিজেই ঠিক করে ফেলেছ।”
  • “এখনো” যোগ করুন: “ভাগ অঙ্কটা এখনো পারছো না, শিখে যাবে।”
  • “তুমি তো খুব বুদ্ধিমান” বা “তুমি একটা জিনিয়াস” কম বলুন; এতে পরের ভুলটা আরও বড় মনে হতে পারে।

একেই বলে গ্রোথ মাইন্ডসেট: দক্ষতা অনুশীলনে বাড়ে, এই বিশ্বাস। দেয়ালের পোস্টারের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি, সাধারণ একটা সন্ধ্যায় হোমওয়ার্ক ভুল হলে আপনি কীভাবে সাড়া দেন।

ভুল থেকে শেখানোর উপায়: বাসায় ভুলকে স্বাভাবিক করা

  • মাঝে মাঝে বাচ্চাকে খেলায় হারতে দিন। লুডু, ক্যারম আর ক্রিকেট ভালোভাবে হারতে শেখার নিরাপদ অনুশীলন, তাই সবসময় জিতিয়ে দেবেন না।
  • বারবার করার একটা সীমা দিন: একবার লেখা, একবার মিলিয়ে দেখা, ব্যস। প্রথম চেষ্টায় কলম নয়, পেন্সিল।
  • ছোটখাটো জিনিস ভুল হতে দিন: বাঁকা স্যান্ডউইচ বা ভুলে ফেলে আসা বই, উদ্ধার করে দেওয়ার চেয়ে বেশি শেখায়।
  • পরিবার মিলে এমন নতুন কিছু করুন, যেখানে সবাই নতুন শিখছে, যেমন নতুন রান্না, একটা গান বা কোনো খেলা।
  • পরিবারের নিয়ম করুন, কেউ কারও ভুল নিয়ে হাসবে না, ভাইবোন আর কাজিনরাও না।
  • নিজের সামলে ওঠাটা মুখে বলুন: “ভাতটা পুড়িয়ে ফেললাম। দেখি, কতটা বাঁচানো যায়।”

নম্বর, রেজাল্ট আর আপনার নিজের প্রতিক্রিয়া

আপনি পরীক্ষার খাতা দেখার সময় বাচ্চা আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। নম্বর দেখে যদি নীরবতা, রাগ বা তুলনা আসে, বাচ্চা শিখতে পারে যে প্রতিটা রেজাল্টের সঙ্গে তার নিজের দামও ওঠানামা করে। কয়েকটা অভ্যাস সাহায্য করে:

  • কিছু বলার আগে ভালো করে দেখুন, আর প্রথমে একটা প্রশংসার জিনিস খুঁজে নিন, যেমন কঠিন একটা প্রশ্ন যেটা ঠিক হয়েছে।
  • রোল নম্বর নয়, শেখা নিয়ে জিজ্ঞেস করুন: “কোন প্রশ্নটার জন্য তুমি সবচেয়ে গর্বিত? কোনটা কঠিন ছিল?”
  • নম্বরের জন্য কখনো শাস্তি দেবেন না বা লজ্জা দেবেন না, আর ক্লাসের প্রথম হওয়া বাচ্চা বা কাজিনের সঙ্গে তুলনা নয়; দেখুন সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা।
  • নম্বর আর ভালোবাসা যে আলাদা, তা মুখে বলুন: “নম্বর বলে দেয় কী অনুশীলন করতে হবে। তুমি কেমন মানুষ, তা বলে না।”
  • নিজের ভয়টা খেয়াল করুন: কম নম্বর দেখে বুক ধড়ফড় করলে সেই দুশ্চিন্তা সত্যি, কিন্তু সেটা সামলানো আপনার কাজ, বাচ্চার বয়ে বেড়ানোর নয়।

পরীক্ষার নামেই যদি কান্না বা পেটব্যথা শুরু হয়, বিস্তারিত পরিকল্পনা আছে পরীক্ষার ভয় ও মানসিক চাপ কমানোর উপায় লেখায়।

আমাদের বাসায়: রোল নম্বর, জিপিএ ৫ আর আত্মীয়দের প্রশ্ন

আমাদের অনেক বাবা-মা কড়া হন ভালোবাসা থেকেই, সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য। তবু রোজকার কিছু অভ্যাস কারও অজান্তেই ব্যর্থতার ভয় বাড়িয়ে দিতে পারে:

  • প্রথম হওয়া: ক্লাসে প্রথম হওয়া, রোল নম্বর ১ বা জিপিএ ৫ একসময় একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে। শেখা, চেষ্টা আর ভালো ব্যবহারের কথাও মুখে বলে উদ্‌যাপন করুন।
  • আত্মীয়দের প্রশ্ন: ঈদে বা বিয়েবাড়িতে “কত নম্বর পেয়েছ?” প্রশ্নটা আরেকটা পরীক্ষার মতো লাগতে পারে। একসঙ্গে ছোট, হাসিমুখ একটা উত্তর ঠিক করে রাখুন: “ও খুব চেষ্টা করছে, আমরা ওকে নিয়ে গর্বিত।”
  • লাল কালি আর সবার সামনে রেজাল্ট: খাতা ভরা কাটাকুটি নিয়ে ফিরলে, নিজের কথা যোগ না করে আলোচনা করুন সংশোধনগুলোর মানে কী।
  • “ভালো ছাত্র” তকমা: যে বাচ্চাকে সবাই বুদ্ধিমান বলে চেনে, প্রায়ই সে-ই একটা ছোট ভুলকেও সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। মাঝে মাঝে তাকে সাধারণ হতে দিন।
  • প্রতিযোগিতা: আবৃত্তি, আঁকা আর কুইজ প্রতিযোগিতা আনন্দের হতে পারে। অংশ নেওয়ার প্রশংসা করুন, আর ফেরার পথে কাটাছেঁড়া করবেন না।

ভুলের ভয় কমাতে ৭ দিনের পরিকল্পনা

বাচ্চা ভুল করতে ভয় পায়? তাহলে ছোট ছোট ধাপেই সাহায্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: একটা ভুল, বাচ্চা কী প্রতিক্রিয়া দেখাল, আর আপনি কী করলেন।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। খেয়াল করুন ভয়টা কখন দেখা দেয়: হোমওয়ার্ক, খেলা, আঁকা, নাকি পরীক্ষা।
  2. দিন ২: রাতের খাবারে নিজের একটা ভুলের কথা বলুন, আর তারপর কী করেছিলেন।
  3. দিন ৩: একবার “তুমি তো খুব বুদ্ধিমান” না বলে চেষ্টার প্রশংসা করুন।
  4. দিন ৪: এমন একটা খেলা খেলুন যাতে বাচ্চা হারতে পারে, আর আগে নিজে দেখান কীভাবে হাসিমুখে হারতে হয়।
  5. দিন ৫: হোমওয়ার্কে বারবার করার সীমা দিন: একবার লেখা, একবার মিলিয়ে দেখা, ব্যস।
  6. দিন ৬: কোনো নম্বর বাসায় এলে সবার আগে জিজ্ঞেস করুন, “কোন প্রশ্নটার জন্য তুমি সবচেয়ে গর্বিত?”
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। কান্না কি কমেছে, বা তাড়াতাড়ি সামলে উঠছে? যা কাজে দিয়েছে তা চালিয়ে যান, পরের সপ্তাহে আরেকটা বদল যোগ করুন।

পারফেকশনিজম আর ব্যর্থতার ভয়ে কখন সাহায্য নেবেন

কয়েক সপ্তাহের শান্ত সহায়তায় বেশিরভাগ বাচ্চার ভয় একটু একটু করে কমে। নিচের কোনোটি দেখলে বাচ্চার ডাক্তার, স্কুল বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • সহায়তার পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে ভুলের দুশ্চিন্তায় বাচ্চা চেষ্টাই করছে না, যেমন হোমওয়ার্ক শুরু করা, ক্লাসে যাওয়া বা খেলায় যোগ দেওয়া।
  • কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিটা ভুলে কান্না বা রাগ।
  • বারবার মিলিয়ে দেখা, নতুন করে করা বা মোছা, যা বাচ্চা চাইলেও থামাতে পারে না, বা যাতে বেশিরভাগ সন্ধ্যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে যায়।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশিরভাগ স্কুলের দিনে পরীক্ষার আগে পেটব্যথা, মাথাব্যথা বা ঘুম না হওয়া।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা। এমন কথা বললে শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • হঠাৎ বড় পরিবর্তন, যেমন স্কুল বা নির্দিষ্ট কোনো মানুষকে নতুন করে ভয় পাওয়া: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

ভুল মেনে নিতে শেখা ধীরে ধীরে হয়, আর তা দেখা যায় ছোট ছোট মুহূর্তে: তাড়াতাড়ি সামলে ওঠা, হারার পরও খেলাটা শেষ করা। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে আর সময়ের সঙ্গে বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

ভুল করলে বাচ্চা কাঁদে কেন?

প্রায়ই কারণ, ভুলটা তার কাছে আসলের চেয়ে অনেক বড় মনে হয়, যেন এতে প্রমাণ হয় সে খারাপ, বা আপনি হতাশ হবেন। সংবেদনশীল, সাবধানী বাচ্চা আর নম্বরের চাপে থাকা বাচ্চাদের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়। শান্ত থাকুন, অনুভূতির নাম বলুন, ভুলকে স্বাভাবিক বলুন, আর পরের ছোট একটা ধাপে সাহায্য করুন। কয়েক মাস ধরে প্রায় প্রতিটা ভুলে কাঁদলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

পারফেকশনিস্ট শিশুকে কীভাবে সাহায্য করব?

ফলের চেয়ে চেষ্টা আর কৌশলের প্রশংসা করুন, নিজের ভুলের কথা বলুন, আর কাজ বারবার করার সীমা দিন, যেমন একবার লেখা আর একবার মিলিয়ে দেখা। মাঝে মাঝে খেলায় হারতে দিন, ছোটখাটো জিনিস ভুল হতে দিন। তুলনা আর নম্বর নিয়ে বড় প্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলুন। এভাবে কয়েক সপ্তাহ শান্ত, নিয়মিত চেষ্টায় অনেক বাচ্চার চাপ কমে আসে।

শিশুর পারফেকশনিজম কি দুশ্চিন্তার লক্ষণ?

সম্পর্ক থাকতে পারে। পারফেকশনিজম আর দুশ্চিন্তা প্রায়ই একসঙ্গে থাকে, আর কিছু পারফেকশনিস্ট বাচ্চার ভেতরে দুশ্চিন্তা লুকিয়ে থাকে। ভালো করতে চাওয়া স্বাভাবিক। চিন্তার কারণ তখন, যখন ভুলের ভয়ে বাচ্চা কয়েক সপ্তাহ ধরে চেষ্টাই করে না, বেশিরভাগ দিন কাঁদে, বা এমনভাবে বারবার মিলিয়ে দেখে যে থামাতে পারে না; তখন ডাক্তার বা স্কুলের সঙ্গে কথা বলুন।

বাচ্চা হেরে গেলে কান্না করে, তাকে কি জিতিয়ে দেব?

সবসময় নয়। আপনার সঙ্গে লুডু, ক্যারম বা ক্রিকেটে হারা ব্যর্থতা সামলানোর নিরাপদ অনুশীলন। নিজে দেখান কীভাবে ভালোভাবে হারতে হয়: “ইশ, তুমি জিতে গেলে। দারুণ খেলেছ।” ছোট বাচ্চার সঙ্গে ভাগ্যের আর দক্ষতার খেলা মিলিয়ে খেলুন। হেরে গিয়ে ভেঙে পড়লে শান্ত থাকুন, একটু বিরতি নিন, আর অন্য দিন আবার খেলুন।

সন্তান সহজে হাল ছেড়ে দেয়, কী করব?

কাজগুলো ছোট করে দিন, যাতে তাড়াতাড়ি সফলতা আসে, আর লেগে থাকার প্রশংসা করুন: “তুমি আরও ৫ মিনিট চালিয়ে গেলে।” কাছে বসুন, তবে সাহায্যের আগে একটু অপেক্ষা করুন। মনে করিয়ে দিন, কবে সে চেষ্টা চালিয়ে গিয়ে পেরেছিল, যেমন সাইকেল চালানো শেখা। হাল ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

শিশুর গ্রোথ মাইন্ডসেট কী?

গ্রোথ মাইন্ডসেট মানে এই বিশ্বাস যে দক্ষতা জন্মগতভাবে বাঁধা নয়, অনুশীলনে বাড়ে। এমন বিশ্বাস থাকলে বাচ্চারা সাধারণত ভুলকে শেখার অংশ হিসেবে দেখে। স্লোগান বা পোস্টারের চেয়ে অনেক বেশি কাজে দেয় চেষ্টা আর কৌশলের প্রশংসা, “এখনো” শব্দটা যোগ করা, আর আপনি কীভাবে কঠিন জিনিস শিখেছেন তার গল্প।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।