মূল কনটেন্টে যান

গর্ভধারণের উপযুক্ত সময়: কখন চেষ্টা করবেন, কত দিন লাগতে পারে

ছোট করে উত্তর

গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় হলো ডিম্বস্ফোটনের আগের কয়েক দিন আর ডিম্বস্ফোটনের দিনটি, যা নিয়মিত মাসিক চক্রে প্রায়ই মাঝামাঝি পড়ে। সাধারণ পরামর্শ হলো পুরো মাস জুড়ে দুই-তিন দিন পরপর সহবাস; এতে দিন না গুনেও এই দিনগুলো ধরা পড়ে। বেশিরভাগ দম্পতি এক বছরের মধ্যে গর্ভধারণ করেন; ১ বছর চেষ্টা করেও না হলে (৩৫ বা বেশি বয়সে ৬ মাস) ডাক্তার দেখান।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১২ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যে দম্পতিরা বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, অনিয়মিত পিরিয়ড থাকলেও
মূল কথা
  • ফার্টাইল উইন্ডো মানে ডিম্বস্ফোটনের আগের কয়েক দিন আর ডিম্বস্ফোটনের দিনটি; ডিম্বস্ফোটন সাধারণত পরের পিরিয়ডের মোটামুটি দুই সপ্তাহ আগে হয়।
  • পুরো মাস জুড়ে দুই-তিন দিন পরপর সহবাস সবচেয়ে সহজ পরিকল্পনা, আর অনিয়মিত পিরিয়ডেও এটা কাজে দেয়।
  • 'নিরাপদ দিন' গুনে গর্ভধারণ এড়ানো নির্ভরযোগ্য নয়: ডিম্বস্ফোটনের সময় মাসে মাসে বদলাতে পারে।
  • ১ বছর চেষ্টা করেও না হলে, বা ৩৫ বা বেশি বয়সে ৬ মাস পর, দুজনেই ডাক্তার দেখান; পিরিয়ড খুব অনিয়মিত বা বন্ধ থাকলে আরও আগে।

বাচ্চা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক দম্পতি প্রথমেই খোঁজেন গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় কখন, আর আত্মীয়, বন্ধু আর ইন্টারনেটের পরামর্শ খুব কমই এক রকম হয়। ভালো খবর হলো, মূল কথাগুলো সহজ: বেশিরভাগ দম্পতির জন্য বিষয়টা মূলত পুরো মাস জুড়ে নিয়মিত সহবাস আর একটু ধৈর্য।

সুস্থ দম্পতিদেরও প্রায়ই কয়েক মাস সময় লাগে। নিচে পাবেন: সহজ ভাষায় ফার্টাইল উইন্ডো কীভাবে কাজ করে, মাসিক চক্রের কোন সময়টা সবচেয়ে ভালো, ডিম্বস্ফোটনের লক্ষণ, কী কাজে দেয় আর কী দেয় না, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন ডাক্তার দেখাবেন।

গর্ভধারণ কীভাবে হয়? সহজ ভাষায় ফার্টাইল উইন্ডো

প্রতি মাসিক চক্রে সাধারণত একটি ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু বের হয়। একে বলে ডিম্বস্ফোটন। ডিম্বাণু মোটামুটি এক দিন পর্যন্তই নিষিক্ত হতে পারে, কিন্তু শুক্রাণু নারীর শরীরের ভেতরে কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে। তাই ডিম্বস্ফোটনের আগের কয়েক দিনে বা সেদিন সহবাস হলে সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি: ডিম্বাণু আসার সময় শুক্রাণু আগে থেকেই অপেক্ষা করে।

এই দিনগুলোকে একসাথে বলে ফার্টাইল উইন্ডো বা উর্বর সময়। ডিম্বস্ফোটন সাধারণত পরের পিরিয়ড শুরুর মোটামুটি দুই সপ্তাহ আগে হয়, আগের পিরিয়ড শুরুর দুই সপ্তাহ পরে নয়। তাই চক্র ছোট, বড় বা অনিয়মিত হলে তারিখটা সরে যায়, আর কোনো ক্যালেন্ডারই এটা একদম ঠিকঠাক বলতে পারে না।

মাসিক চক্রের কোন সময় গর্ভধারণের উপযুক্ত সময়?

গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় হলো ফার্টাইল উইন্ডো, তবে এর ঠিক তারিখ জানার দরকার নেই। প্রায় চার সপ্তাহের নিয়মিত চক্রে উর্বর দিনগুলো প্রায়ই মাঝামাঝি পড়ে। চক্র ছোট হলে এগুলো আগে আসে, কখনো পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরপরই; চক্র লম্বা হলে পরে আসে।

উইন্ডোটা যেহেতু সরে যায়, সবচেয়ে সহজ আর সবচেয়ে বেশি দেওয়া পরামর্শ হলো পুরো মাস জুড়ে দুই-তিন দিন পরপর সহবাস। এতে ডিম্বাণু যখনই বের হোক, শুক্রাণু সাধারণত সেখানে থাকে; দিন গুনতে হয় না, আর কোনো একটা 'ঠিক রাত' নিয়ে চাপও থাকে না। প্রতিদিন চেষ্টা করার দরকার নেই, আর তাতে সহবাস একটা দায়িত্বের মতো লাগতে পারে।

পিরিয়ড অনিয়মিত হলে এই পরিকল্পনাটা আরও জরুরি, কারণ এতে তারিখ আন্দাজ করতে হয় না। প্রতিবার পিরিয়ড শুরুর দিনটা ক্যালেন্ডারে বা মোবাইলে লিখে রাখুন; পরে ডাক্তার দেখাতে হলে এই হিসাবটা কাজে দেয়।

ডিম্বস্ফোটনের লক্ষণ: উর্বর দিনগুলো কীভাবে বুঝবেন?

কিছু নারী ডিম্বস্ফোটন কাছে আসার কিছু লক্ষণ টের পান। এগুলো সাহায্য করতে পারে, তবে কোনোটাই নিখুঁত নয়, আর দুই-তিন দিন পরপর চেষ্টা করলে এগুলোর দরকারও নেই।

  • ডিম্বস্ফোটনের আগের দিনগুলোতে যোনিপথের স্রাব আরও স্বচ্ছ, ভেজা, পিচ্ছিল আর টেনে লম্বা করা যায় এমন হয়, অনেকটা কাঁচা ডিমের সাদা অংশের মতো।
  • কারও কারও ডিম্বস্ফোটনের সময় তলপেটের এক পাশে হালকা ব্যথা হয়। তীব্র বা না-কমা ব্যথা আলাদা ব্যাপার: সেদিনই ডাক্তার দেখান, আর ব্যথা তীব্র হলে বা আপনি গর্ভবতী হতে পারেন এমন হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অনেকের এই সময়ে সহবাসের আগ্রহ বাড়ে।
  • ফার্মেসিতে পাওয়া ওভুলেশন টেস্ট স্ট্রিপ প্রস্রাব পরীক্ষা করে ডিম্বস্ফোটনের ঠিক আগের পরিবর্তনটা ধরে। এগুলো ঐচ্ছিক, আর কিছু দম্পতির কাছে এতে চাপ বাড়ে।

তাড়াতাড়ি গর্ভবতী হওয়ার উপায়: কী কাজে দেয়, কী দেয় না

সবার জন্য তাড়াতাড়ি গর্ভবতী হওয়ার কোনো কৌশল নেই, তবে কয়েকটা ধাপ প্রতি মাসে সবচেয়ে ভালো সুযোগ এনে দেয়:

  1. শুধু যেদিনগুলো উর্বর মনে হয় সেদিন নয়, পুরো মাস জুড়ে দুই-তিন দিন পরপর সহবাস করুন।
  2. প্রতিবার পিরিয়ড শুরুর দিনটা লিখে রাখুন, যাতে আপনার স্বাভাবিক চক্র বুঝতে আর বদল টের পেতে পারেন।
  3. দুজনেই: ধূমপান আর জর্দা-গুলসহ সব তামাক ছাড়ুন, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
  4. নিয়মিত, নানা রকম খাবার খান আর প্রায় প্রতিদিন হাঁটুন। ওজন খুব কম বা খুব বেশি হলে গর্ভধারণ কঠিন হতে পারে; এ নিয়ে ডাক্তার একটা পরিকল্পনা করে দিতে পারেন।
  5. এখনো চেকআপ না করিয়ে থাকলে দুজনের জন্যই সময় নিন; ডাক্তারকে কী জিজ্ঞেস করবেন তা আছে বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয় লেখায়।
  6. ফার্মেসি, অনলাইন বা কবিরাজ, যেখান থেকেই হোক, কোনো ওষুধ, ভেষজ বা 'বাচ্চা হওয়ার ওষুধ' খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
  7. সহবাসকে কাছে আসার মুহূর্ত হিসেবেই রাখুন, প্রতি মাসের পাস-ফেলের পরীক্ষা হিসেবে নয়। শুধু মানসিক চাপে গর্ভধারণ কমই আটকায়, তবে এতে চেষ্টা কম হতে পারে।

প্রচলিত ভুল ধারণা

  • সহবাসের পর পা উঁচু করে শুয়ে থাকার দরকার নেই। চাইলে কয়েক মিনিট শুয়ে থাকতে পারেন, তবে শুক্রাণু কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজের পথে পৌঁছে যায়।
  • গর্ভধারণের জন্য কোনো ভঙ্গি অন্যটির চেয়ে ভালো নয়।
  • বিশেষ কোনো খাবার বা টোটকা গর্ভধারণ ঠিক করে দেয় না। বাচ্চা হওয়ার জন্য বিক্রি হওয়া কিছু ভেষজ টোটকা ক্ষতিকরও হতে পারে, তাই আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
  • গর্ভধারণ শুধু নারীর শরীরের ব্যাপার নয়। স্বামীর স্বাস্থ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভধারণে কত দিন লাগতে পারে?

গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় জানা থাকলেই যে সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যাবে, তা নয়। অনেক দম্পতি চেষ্টা শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই গর্ভধারণ করেন, আর বেশিরভাগ এক বছরের মধ্যে। নারীর বয়স বাড়লে, বিশেষ করে ৩৫-এর পর, বেশি সময় লাগতে পারে; আবার কিছু দম্পতির কোনো সমস্যা ছাড়াই শুধু সময় লাগে। এক মাসে না হলে সেটা কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়।

স্বাস্থ্য নির্দেশনা হলো, নিয়মিত চেষ্টার ১ বছর পরও না হলে ডাক্তার দেখানো, আর স্ত্রীর বয়স ৩৫ বা বেশি হলে ৬ মাস পরেই; কোনো কারণ আগে থেকে জানা থাকলে আরও আগে। পিরিয়ড দেরি হলে কখন টেস্ট করবেন তা আছে পিরিয়ড মিস হওয়ার কত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট লেখায়, কী টের পেতে পারেন তা গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ লেখায়, আর জানার পর প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর দিয়ে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বের করতে পারবেন।

বাংলাদেশি পরিবারে বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা: গোপনীয়তা, চাপ আর দূরত্ব

বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা একান্ত ব্যাপার, কিন্তু যৌথ পরিবারে বা ছোট ভাগাভাগির ফ্ল্যাটে নিজেদের সময় পাওয়া কঠিন হতে পারে, আর আত্মীয়দের প্রশ্ন প্রতি মাসেই আসতে পারে। কিছু বাস্তব উপায়:

  • স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নিজেদের সময় রাখুন: দরজা বন্ধ করা যায় এমন ঘর, একটু নিরিবিলি সময়, কখনো একসাথে বাইরে যাওয়া। তারিখ গোনার চেয়ে কাছে থাকা বেশি জরুরি।
  • স্বামী দূরে কাজ করলে, অন্য শহরে বা বিদেশে, তাঁর ছুটির পরিকল্পনা নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; তিনি বাড়িতে থাকার সময় দুই-তিন দিন পরপর চেষ্টা করুন।
  • দুজনেই চাকরি করলে লম্বা অফিস আর যাতায়াত ক্লান্ত করে। ঘরের কাজ ভাগ করে নিন, যাতে বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা স্ত্রীর জন্য আরেকটা কাজ না হয়ে দাঁড়ায়।
  • এক মাসে গর্ভধারণ না হলে দোষটা প্রায়ই পড়ে স্ত্রীর ওপর। এটা ঠিক নয়: কারণ থাকতে পারে স্বামী, স্ত্রী, দুজনেরই, বা কারোরই না; আর চেকআপ দুজনেরই।
  • সহবাস আর সময় নিয়ে ধর্মীয় প্রশ্নে পরিবারগুলো নিজেদের আলেমদের পরামর্শ মেনে চলেন; এই লেখা স্বাস্থ্য নিয়ে।

যা বলতে পারেন

  • স্বামীকে: "এ মাসেও হলো না। একটু মন খারাপ লাগছে। আজ সন্ধ্যাটা শুধু আমরা দুজন চুপচাপ কাটাই?"
  • স্ত্রীকে: "এটা তোমার দোষ না, আর এটা কোনো দৌড় প্রতিযোগিতাও না। আমরা একসাথেই চালিয়ে যাব।"
  • স্বামী তাঁর মাকে: "আম্মা, এই বিষয়টা আমাদের ওপর ছেড়ে দাও। প্রতি মাসে জিজ্ঞেস করলে ওর জন্য আরও কঠিন হয়ে যায়।"
  • জিজ্ঞেস করা আত্মীয়কে: "আমরা ভালো আছি, আর কোনো খবর হলে আমরাই জানাব।"
  • এক বছর পর একে অপরকে: "এক বছর হয়ে গেল। চলো, দুজনেই একসাথে ডাক্তারের কাছে যাই।"

বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা: ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: শেষ পিরিয়ড শুরুর তারিখটা লিখুন, আর আগের যেসব তারিখ মনে আছে সেগুলোও।
  2. দিন ২: দুই-তিন দিন পরপর চেষ্টার পরিকল্পনা নিয়ে দুজনে কথা বলুন, আর কীভাবে এটা দায়িত্ব না হয়ে সহজ লাগবে।
  3. দিন ৩: দুজনে মিলে একটা স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন বেছে নিন, যেমন ঘরে ধূমপান বন্ধ বা প্রতিদিন হাঁটা।
  4. দিন ৪: দুজনের খাওয়া ওষুধ বা টোটকার তালিকা করুন, ডাক্তারকে দেখানোর জন্য।
  5. দিন ৫: চেকআপ না করিয়ে থাকলে দুজনের জন্যই সময় নিন।
  6. দিন ৬: বাচ্চার কথা ছাড়া, দুজনে একসাথে একটা নিশ্চিন্ত সন্ধ্যার পরিকল্পনা করুন।
  7. দিন ৭: ফিরে দেখুন: পরিকল্পনাটা কি সামলানো গেছে? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, আর পরের পিরিয়ড কবে আসার কথা তা লিখে রাখুন।

গর্ভধারণ নিয়ে কখন ডাক্তার দেখাবেন

গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় বুঝে চেষ্টা করলে বেশিরভাগ দম্পতির শুধু সময় লাগে। তবে এসব ক্ষেত্রে ডাক্তার দেখান, বা জরুরি সাহায্য নিন:

এসব হলে ডাক্তার দেখান, হাসপাতালে যান বা ৯৯৯-এ কল করুন

  • ১ বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ হয়নি, বা বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ৬ মাস: দুজনেই ডাক্তার দেখান।
  • পিরিয়ড খুব অনিয়মিত, কয়েক মাস ধরে বন্ধ, বা খুব ব্যথা হয়: এক বছর অপেক্ষা না করে শিগগিরই ডাক্তার দেখান।
  • দুজনের কারও দীর্ঘমেয়াদি অসুখ, জানা কোনো প্রজনন-সমস্যা, বা পেটে বা প্রজনন অঙ্গে অপারেশন বা গুরুতর সংক্রমণ হয়ে থাকলে: চেষ্টা শুরুর সময়েই ডাক্তার দেখান।
  • সহবাসে ব্যথা হলে, বা লিঙ্গ শক্ত হওয়া বা বীর্যপাতে সমস্যা থাকলে: ডাক্তার দেখান। এগুলো বেশ সাধারণ, আর প্রায়ই চিকিৎসা করা যায়।
  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব, যখন আপনি গর্ভবতী হতে পারেন: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। পজিটিভ টেস্টের পর অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। সব লক্ষণ আছে গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: বিশ্বাস করেন এমন কারও কাছে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন, না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।

গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় জানা, ধৈর্য রাখা আর একে অপরের যত্ন নেওয়া, মূল কথা এটুকুই। ParentMind সন্তান আসার পরের বছরগুলোর জন্য: প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। দেখুন ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

পিরিয়ডের কত দিন পর গর্ভধারণ হয়?

এটা নির্ভর করে আপনার মাসিক চক্র কত দিনের তার ওপর। প্রায় চার সপ্তাহের নিয়মিত চক্রে সবচেয়ে উর্বর দিনগুলো প্রায়ই মাঝামাঝি পড়ে; চক্র ছোট হলে পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হতে পারে। ডিম্বস্ফোটন মাসে মাসে সরে যেতে পারে বলে, কোনো একটা তারিখ ধরে চেষ্টার চেয়ে পুরো মাস জুড়ে দুই-তিন দিন পরপর সহবাস বেশি নির্ভরযোগ্য।

পিরিয়ডের সময় সহবাস করলে কি গর্ভধারণ হতে পারে?

সম্ভাবনা কম, তবে হতে পারে, বিশেষ করে চক্র ছোট হলে, কারণ শুক্রাণু কয়েক দিন বেঁচে থাকতে পারে আর ডিম্বস্ফোটন আগে হতে পারে। তাই গর্ভধারণ এড়াতে চাইলে পিরিয়ডের সময়টা 'নিরাপদ' নয়। আর চেষ্টা করলে, দুই-তিন দিন পরপর সহবাসের পরিকল্পনায় দিন না গুনেই এর আগে-পরের দিনগুলো ধরা পড়ে।

বাচ্চা নেওয়ার জন্য কখন সহবাস করবেন, কত দিন পরপর?

বেশিরভাগ দম্পতির জন্য পুরো মাস জুড়ে দুই-তিন দিন পরপর সহবাসই যথেষ্ট। এতে তারিখ না গুনেও ডিম্বস্ফোটন যখনই হোক, শুক্রাণু থাকে। দুজনেই চাইলে প্রতিদিনও ঠিক আছে, তবে দরকার নেই; আর নির্দিষ্ট রাতে 'পারতেই হবে' এমন চাপ ব্যাপারটা আরও কঠিন করতে পারে। স্বামী প্রায়ই বাইরে থাকলে তাঁর ছুটির সাথে মিলিয়ে কীভাবে পরিকল্পনা করবেন, তা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।

সহবাসের পর শুয়ে থাকলে কি গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়ে?

বিশেষ কোনো ভঙ্গি বা পা উঁচু করে রাখার দরকার নেই। যে শুক্রাণু ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছানোর, তা কয়েক মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যায়। ভালো লাগলে কয়েক মিনিট শুয়ে থাকতে পারেন, আবার সঙ্গে সঙ্গে উঠে বাথরুমে যাওয়াতেও সমস্যা নেই। এর চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হলো পুরো মাস জুড়ে নিয়মিত সহবাস।

মানসিক চাপে কি গর্ভধারণ আটকে যায়?

শুধু মানসিক চাপে গর্ভধারণ কমই আটকায়, তবে এতে পিরিয়ড এলোমেলো হতে পারে, সহবাসের আগ্রহ কমতে পারে, আর চেষ্টা কম হতে পারে। মাসের পর মাস চেষ্টা করাটাই চাপের, তাই একে অপরের প্রতি নরম থাকুন। দুজনের কারও বেশিরভাগ দিন মন খারাপ বা দুশ্চিন্তা থাকলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; এই সাহায্যটাও জরুরি।

বাচ্চা না হলে কি সবসময় স্ত্রীর সমস্যা?

না। কারণ থাকতে পারে স্ত্রীর, স্বামীর, দুজনেরই, আবার কখনো কারোরই না; তাই ডাক্তার দুজনকেই দেখেন। অনেক পরিবারে স্ত্রীকে দোষ দেওয়া হয়, কিন্তু সেটা ন্যায্যও নয়, সঠিকও নয়। ১ বছর চেষ্টা করেও না হলে, বা ৩৫ বা বেশি বয়সে ৬ মাস পর, দুজনে একসাথে ডাক্তারের কাছে যান।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।