মূল কনটেন্টে যান

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ: কী টের পেতে পারেন, এরপর কী করবেন

ছোট করে উত্তর

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে প্রায়ই থাকে পিরিয়ড মিস হওয়া, স্তন ভারী বা ব্যথা লাগা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বারবার প্রস্রাব আর গন্ধে বেশি সংবেদনশীলতা। কোনোটাই একা নিশ্চিত নয়, কারণ পিরিয়ডের আগের দিনগুলোতেও এমন লাগতে পারে। পিরিয়ড মিস হওয়ার দিন থেকে বাড়িতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে সাধারণত উত্তর মেলে; তারপর প্রথম চেকআপের সময় নিন।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যাঁদের মনে হচ্ছে তাঁরা হয়তো গর্ভবতী, আর যে দম্পতিরা বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করছেন
মূল কথা
  • পিরিয়ড মিস হওয়াই সবচেয়ে সাধারণ প্রথম লক্ষণ; প্রায় একই সময়ে স্তনে ব্যথা, ক্লান্তি, বমি ভাব আর বারবার প্রস্রাব হতে পারে।
  • কোনো লক্ষণই একা নিশ্চিত নয়: পিরিয়ড মিস হওয়ার দিন থেকে বাড়িতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করলে উত্তর মেলে, আর এক সপ্তাহ পরে আরও নির্ভরযোগ্য।
  • টেস্ট পজিটিভ হলে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বের করুন, প্রথম চেকআপের সময় নিন, আর কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
  • গর্ভাবস্থার শুরুতে অল্প হলেও রক্ত গেলে, বা তীব্র বা এক পাশে পেটব্যথা হলে এখনই হাসপাতালে যান; অনেক রক্ত গেলে বা অজ্ঞান ভাব হলে ৯৯৯-এ কল করুন।

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, আবার মনে মনে কল্পনাও হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে যখন বাচ্চার আশায় আছেন বা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। পিরিয়ড দেরি হওয়া, স্তনে ব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সবকিছুতেই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে।

এখানে পাবেন: গর্ভাবস্থার শুরুতে সাধারণত কেমন লাগে, কেন কোনো একটা লক্ষণ দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না, আর এরপর ধাপে ধাপে কী করবেন। নিচের কোনো জরুরি লক্ষণ দেখলে টেস্টের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

গর্ভাবস্থার শুরুতে জরুরি লক্ষণ

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন আর এখনই হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: এখনই হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: এখনই হাসপাতালে যান।

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?

প্রত্যেক নারী আলাদা, আর প্রতিটি গর্ভাবস্থাও আলাদা হতে পারে। কেউ কয়েকটা লক্ষণ টের পান; অনেকে শুধু পিরিয়ড দেরি হওয়াটাই টের পান; কেউ কয়েক সপ্তাহ কিছুই টের পান না। প্রেগন্যান্সির প্রথম লক্ষণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি যেগুলোর কথা শোনা যায়:

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ, আর কেমন লাগতে পারে
লক্ষণকেমন লাগতে পারেসাধারণত কখন শুরু হয়
পিরিয়ড মিসযখন আসার কথা তখন পিরিয়ড আসে না। পিরিয়ড অনিয়মিত হলে বোঝা কঠিন।পিরিয়ড আসার কথা যেদিন, সেদিন থেকে
স্তনে পরিবর্তনস্তন ভারী, ছুঁলে ব্যথা বা ঝিনঝিন লাগা; বোঁটার চারপাশের অংশ আরও গাঢ় হতে পারে।প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে, কখনো পিরিয়ড মিসের আগেই
ক্লান্তিরাতে পুরো ঘুমের পরও খুব ক্লান্ত বা ঘুম ঘুম লাগা।প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে
বমি বমি ভাব বা বমিগা গোলানো, যাকে অনেকে মর্নিং সিকনেস বলেন, যদিও দিনের যেকোনো সময় হতে পারে।প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ পর; কারও কারও আগেই
বারবার প্রস্রাবদিনে-রাতে বারবার বাথরুমে যেতে হয়।প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে
গন্ধ আর স্বাদে পরিবর্তনগন্ধে বেশি সংবেদনশীলতা, মুখে ধাতব স্বাদ, বা কিছু খাবারে নতুন অরুচি বা বিশেষ কিছু খেতে ইচ্ছা, যেমন চা বা ভাজাপোড়ায়।প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে
মন-মেজাজ, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্যঅল্পতেই কান্না পাওয়া বা খিটখিটে লাগা, পেট ফাঁপা, বা শক্ত পায়খানা, অনেকটা পিরিয়ডের আগের মতো।প্রথম কয়েক সপ্তাহে যেকোনো সময়

রক্ত আর ব্যথা আলাদা ব্যাপার। গর্ভবতী হতে পারেন এমন অবস্থায় দাগ বা পেটব্যথা 'গর্ভাবস্থার শুরুর ব্যাপার' কি না, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করবেন না। অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: এখনই হাসপাতালে যান। তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: এখনই হাসপাতালে যান।

পিরিয়ড মিস হওয়ার আগে প্রেগন্যান্সির লক্ষণ: এত আগে কি বোঝা যায়?

কিছু নারী পিরিয়ড আসার আগের দিনগুলোতেই ক্লান্তি, স্তনে ব্যথা বা গন্ধে পরিবর্তন টের পান। সমস্যা হলো, সাধারণ পিরিয়ডের আগেও প্রায় একই রকম হরমোনের পরিবর্তন হয়, তাই গর্ভবতী হোন বা না হোন, লক্ষণগুলো একদম একই রকম লাগতে পারে।

তাই সত্যি কথা হলো, পিরিয়ড মিস হওয়ার আগে সাধারণত নিশ্চিত হওয়া যায় না, আর খুব আগে টেস্ট করলে গর্ভবতী হলেও ফল নেগেটিভ আসতে পারে। কখন টেস্ট করলে নির্ভরযোগ্য ফল পাবেন, তা আছে পিরিয়ড মিস হওয়ার কত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট লেখায়।

কীভাবে বুঝব আমি প্রেগন্যান্ট? এরপর কী করবেন, ধাপে ধাপে

  1. শেষ পিরিয়ড শুরুর দিনটা লিখে রাখুন। এ থেকেই গর্ভাবস্থার হিসাব হয়, আর কখন টেস্ট করবেন তা বোঝা যায়।
  2. পিরিয়ড মিস হওয়ার দিন থেকে সকালের প্রথম প্রস্রাব দিয়ে বাড়িতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করুন। এক সপ্তাহ পরে করলে আরও নির্ভরযোগ্য।
  3. নেগেটিভ এলে আর পিরিয়ড তখনো না এলে এক সপ্তাহ পর আবার টেস্ট করুন। তখনো নেগেটিভ আর পিরিয়ডও না এলে ডাক্তার দেখান।
  4. পজিটিভ এলে আমাদের প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর দিয়ে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ আর আপনি কত সপ্তাহের গর্ভবতী তা বের করুন।
  5. প্রথম চেকআপের সময় নিন। বাংলাদেশে অন্তত ৪ বার চেকআপের পরামর্শ দেওয়া হয়, মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে; অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন, প্রায় ১২ সপ্তাহ থেকে শুরু করে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। বিস্তারিত গর্ভকালীন চেকআপ লেখায়।
  6. ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করে কোনো ওষুধ, ভেষজ টোটকা বা সাপ্লিমেন্ট খাবেন না; আর চেকআপে জিজ্ঞেস করুন, বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের যে ট্যাবলেটগুলো দেওয়া হয় সেগুলোর কথা। নিয়মিত কোনো ওষুধও নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
  7. বিপদ চিহ্নগুলো জেনে নিন, আর ৯৯৯ ও কাছের হাসপাতালের নম্বর দুজনের মোবাইলেই সেভ করে রাখুন।

যা বলতে পারেন

  • স্বামীকে: "আমার পিরিয়ড দেরি হচ্ছে, শরীরটাও কেমন যেন লাগছে। ফেরার পথে একটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট আনবে?"
  • স্বামী স্ত্রীকে: "ফল যা-ই আসুক, আমরা একসাথে সামলাব। ডাক্তারের কাছে আমি সাথে যাব?"
  • শাশুড়িকে: "আম্মা, কয়েক দিন ধরে একটু ক্লান্ত লাগছে। ডাক্তার দেখিয়ে আপনাকে সব বলব।"
  • অফিসের বসকে: "বৃহস্পতিবার ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আমার দুই ঘণ্টা ছুটি লাগবে।"

প্রথম মাসে গর্ভাবস্থার লক্ষণ: প্রতিদিন কী করলে আরাম পাবেন

প্রথম মাসে গর্ভাবস্থার লক্ষণগুলোর কারণে সাধারণ দিনও কঠিন লাগতে পারে, বিশেষ করে চাকরি করলে বা ব্যস্ত সংসার সামলালে। কয়েকটা সহজ জিনিস অনেকের কাজে দেয়:

  • বমি ভাবের জন্য একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান। বিছানা থেকে ওঠার আগে শুকনো বিস্কুট, টোস্ট বা এক মুঠো মুড়ির মতো সাদামাটা কিছু খেলে অনেকের আরাম হয়।
  • সারাদিন অল্প অল্প করে পানি খান, আর যেসব গন্ধে গা গুলায়, যেমন ভাজাপোড়া বা কড়া মসলার গন্ধ, সম্ভব হলে এড়িয়ে চলুন।
  • সুযোগ পেলে বিশ্রাম নিন। প্রথম কয়েক সপ্তাহের ক্লান্তি সত্যিকারের, আর একটু আগে ঘুমানো বা দুপুরে একটু শুয়ে নেওয়া অলসতা নয়।
  • বমি, ব্যথা বা গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট, ভেষজ বা ঘরোয়া টোটকাসহ যেকোনো ওষুধের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
  • দৈনন্দিন জীবন সাধারণত চালিয়ে যাওয়া যায়: ডাক্তার অন্য কিছু না বললে বেশিরভাগ নারীর জন্য অফিস, হাঁটা আর ঘরের কাজে সমস্যা নেই। সারাদিন শুয়ে থাকার দরকার নেই।

বাংলাদেশি পরিবারে গর্ভাবস্থার শুরু: কাকে, কখন জানাবেন

অনেক বাংলাদেশি পরিবারে প্রথম কয়েক মাস গর্ভাবস্থার খবর চুপচাপ রাখা হয়, কিছুটা নজর লাগার ভয়ে, কিছুটা যদি কিছু হয়ে যায় সেই দুশ্চিন্তায়। এটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, আর সম্মান করার মতো। তবে দুজনের আগে জানা দরকার: আপনার স্বামী, আর একজন ডাক্তার।

  • স্বামী প্রথম দিন থেকেই কিছু ভার নিতে পারেন: টেস্ট কিট কিনে আনা, প্রথম চেকআপে সাথে যাওয়া, রান্নার গন্ধ সহ্য না হলে রান্নার দায়িত্ব নেওয়া। পুরো তালিকা আছে গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয় লেখায়।
  • শ্বশুরবাড়িতে থাকলে প্রথমে একজনকে জানাতে পারেন, প্রায়ই শাশুড়িকে, আর অনুরোধ করতে পারেন আপনি প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত কথাটা যেন চুপচাপ থাকে।
  • চাকরি করলে সঙ্গে সঙ্গে অফিসে জানানোর দরকার নেই। তবে কাজে ভারী জিনিস তোলা, রাসায়নিক বা রাতের শিফট থাকলে আগেই জানান, যাতে কাজটা বদলানো যায়।
  • আত্মীয়রা নানা পুরোনো পরামর্শ দিতে পারেন, কী খাবেন থেকে শুরু করে সন্ধ্যার পর বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত। অনেক প্রথা নিরীহ আর ভালোবাসার। তবে বাচ্চা ছোট রাখতে কম খাওয়ার পরামর্শটা ক্ষতি করতে পারে: আপনার আর বাচ্চার নিয়মিত, পেট ভরা খাবার দরকার।

প্রাথমিক লক্ষণ টের পেলে: ৭ দিনের পরিকল্পনা

  1. দিন ১: শেষ পিরিয়ড শুরুর তারিখটা লিখুন, আর কোন লক্ষণ কবে থেকে টের পাচ্ছেন তা লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: পিরিয়ড দেরি হলে সকালের প্রস্রাব দিয়ে বাড়িতে টেস্ট করুন; এখনো আসার সময় না হলে কোন দিন টেস্ট করবেন তা ঠিক করুন।
  3. দিন ৩: স্বামীকে জানান, আর আর কাকে, কখন জানাবেন তা নিয়ে একমত হোন।
  4. দিন ৪: যত ওষুধ আর টোটকা খান তার তালিকা করুন, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করার জন্য। নিয়মিত কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
  5. দিন ৫: টেস্ট পজিটিভ হলে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বের করুন আর প্রথম চেকআপের সময় নিন।
  6. দিন ৬: জরুরি লক্ষণগুলো দুজনে একসাথে পড়ুন, আর ৯৯৯ ও কাছের হাসপাতালের নম্বর দুজনের মোবাইলে সেভ করুন।
  7. দিন ৭: লেখাগুলো ফিরে দেখুন: কোন লক্ষণ কমেছে, কোনটা বেড়েছে, আর চেকআপে কী জিজ্ঞেস করতে চান।

গর্ভাবস্থার শুরুতে কখন হাসপাতালে যাবেন

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর বেশিরভাগ অস্বস্তির, বিপজ্জনক নয়। নিচের লক্ষণগুলো আলাদা। নিজের জন্য, অথবা আপনি স্বামী বা পরিবারের কেউ হলে তাঁর জন্য, মনে রাখুন। গর্ভাবস্থার সব সময়ের পুরো তালিকা আছে গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।

এসব হলে হাসপাতালে যান, বা ৯৯৯-এ কল করুন

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন আর এখনই হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: এখনই হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন আর এখনই হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: এখনই হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: এখনই হাসপাতালে যান।
  • এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা: সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: কাছের কাউকে জানান; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন, না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।

গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণ দিনে দিনে লিখে রাখলে বোঝা সহজ হয়। ParentMind সন্তান আসার পরের বছরগুলোর জন্য: প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। দেখুন ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কত দিন পর বোঝা যায়?

কেউ কেউ পিরিয়ড আসার সময়ের কাছাকাছি ক্লান্তি বা স্তনে ব্যথার মতো পরিবর্তন টের পান; অনেকে শুধু পিরিয়ড মিস হওয়াটাই টের পান; আবার কেউ কয়েক সপ্তাহ কিছুই টের পান না। সবগুলোই খুব সাধারণ। প্রাথমিক লক্ষণ দিয়ে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হয় না বলে, পিরিয়ড মিস হওয়ার দিন থেকে বাড়িতে টেস্ট করাই নির্ভরযোগ্য পরের ধাপ।

কোনো লক্ষণ ছাড়াও কি গর্ভবতী হওয়া যায়?

হ্যাঁ। অনেকে প্রথম কয়েক সপ্তাহে খুব কম টের পান, আর কারও কারও কখনো বমি ভাবই হয় না। লক্ষণ না থাকা মানে কোনো সমস্যা নয়। পিরিয়ড দেরি হলে টেস্ট করুন; পজিটিভ হলে, যেমনই লাগুক, স্বাভাবিক নিয়মে চেকআপের সময় নিন।

লক্ষণ থাকার পরও কি পিরিয়ড হতে পারে?

পিরিয়ডের আগের লক্ষণ, যেমন স্তনে ব্যথা আর ক্লান্তি, গর্ভাবস্থার শুরুর মতোই লাগতে পারে; তাই এরপর স্বাভাবিক পিরিয়ড হলে সাধারণত বোঝায় এ মাসে গর্ভধারণ হয়নি। তবে গর্ভবতী হতে পারেন এমন অবস্থায় রক্ত যদি স্বাভাবিক পিরিয়ডের চেয়ে কম, অল্প সময়ের বা অন্য রকম হয়, টেস্ট করুন আর সেদিনই ডাক্তার দেখান; গর্ভবতী জানা থাকলে যেকোনো রক্ত গেলেই এখনই হাসপাতালে যান। অনেক রক্ত গেলে বা রক্তের সাথে ব্যথা বা অজ্ঞান ভাব থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।

গর্ভাবস্থার শুরুতে বমি ভাব কেমন লাগে?

প্রায়ই গাড়িতে চড়লে যেমন গা গোলায় তেমন: গা গুলিয়ে ওঠা, কখনো বমি, যা গন্ধে বা খালি পেটে বাড়ে। নাম মর্নিং সিকনেস হলেও দিনের যেকোনো সময় হতে পারে। অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া আর একটু একটু পানি অনেকের আরাম দেয়। এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে, এমন হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।

প্রেগন্যান্সির প্রথম লক্ষণ আর পিরিয়ডের আগের লক্ষণ কি একই রকম?

প্রায়ই হ্যাঁ, আর এ কারণেই বিভ্রান্তি হয়। স্তনে ব্যথা, ক্লান্তি, পেট ফাঁপা আর মেজাজের ওঠানামা দুই ক্ষেত্রেই হয়। বমি ভাব, কিছু গন্ধে তীব্র অরুচি আর পিরিয়ড না আসা গর্ভাবস্থায় বেশি দেখা যায়, তবে এগুলোও প্রমাণ নয়। জানার উপায় হলো পিরিয়ড মিস হওয়ার দিন থেকে বাড়িতে টেস্ট করা।

প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হলে কখন ডাক্তার দেখাব?

টেস্ট পজিটিভ হলে শিগগিরই প্রথম চেকআপের সময় নিন। অনেক ডাক্তার শুরুতেই, মোটামুটি ১২ সপ্তাহে বা তার আগে দেখতে চান, আর বাংলাদেশে অন্তত ৪ বার চেকআপের পরামর্শ দেওয়া হয়, প্রথমটা মোটামুটি ১৬ সপ্তাহে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। যেকোনো রক্ত গেলে বা তীব্র বা এক পাশে পেটব্যথা হলে এখনই হাসপাতালে যান, আর অনেক রক্ত গেলে বা অজ্ঞান ভাব হলে ৯৯৯-এ কল করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।