মূল কনটেন্টে যান

গর্ভকালীন চেকআপ: কয়বার, কখন, আর ডাক্তারকে কী জিজ্ঞেস করবেন

ছোট করে উত্তর

বাংলাদেশে গর্ভকালীন চেকআপ অন্তত ৪ বার: মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে। অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন: মোটামুটি ১২, ২০, ২৬, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। বেশিরভাগ চেকআপে রক্তচাপ, প্রস্রাব আর বাচ্চার বৃদ্ধি দেখা হয়, আর প্রতিটি চেকআপই আপনার প্রশ্ন করার সময়।

ParentMind টিমের লেখা১১ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৩ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
গর্ভবতী মা, তাঁর স্বামী আর পরিবার: গর্ভের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত
মূল কথা
  • বাংলাদেশে অন্তত ৪টি চেকআপ: মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে; অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।
  • প্রতিটি চেকআপে রক্তচাপ মাপা হয়, আর বেশিরভাগ চেকআপে প্রস্রাব আর বাচ্চার বৃদ্ধি দেখা হয়, পুরোপুরি সুস্থ বোধ করলেও।
  • এএনসি কার্ড আর রিপোর্টগুলো একটা ফাইলে রাখুন, আর প্রতিটি চেকআপে ও ডেলিভারির সময় হাসপাতালে সঙ্গে নিন।
  • বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে পরের চেকআপের অপেক্ষা নয়: অল্প হলেও রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া মানে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল।

গর্ভকালীন চেকআপ হলো গর্ভের শুরু থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত নিয়ম করে ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীর কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা। অনেকে একে এএনসি চেকআপ (প্রসবপূর্ব সেবা) বলেন। ছোট সমস্যা ছোট থাকতেই ধরা পড়ে এই চেকআপে, অনেক সময় আপনি কিছু টের পাওয়ার আগেই।

অনেক পরিবার শুধু সমস্যা মনে হলে ডাক্তারের কাছে যায়, বা সব ঠিক মনে হলে শেষের দিকের চেকআপগুলো বাদ দেয়। এই গাইডে পাবেন চেকআপের সময়সূচি, প্রতিটিতে কী হয়, কী নিয়ে যাবেন আর কী জিজ্ঞেস করবেন, টিটি টিকা আর ট্যাবলেট, কাগজপত্র কীভাবে রাখবেন, পরিবারের ভূমিকা, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর যে লক্ষণে পরের চেকআপের অপেক্ষা করা যায় না।

জরুরি লক্ষণ: পরের চেকআপের অপেক্ষা করবেন না

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • পুরো তালিকা, আর পথে কী করবেন: গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন।

গর্ভবতী মায়ের কত বার চেকআপ দরকার?

বাংলাদেশের জাতীয় সময়সূচিতে অন্তত ৪টি চেকআপের কথা বলা হয়: মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে। এখন অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন: মোটামুটি ১২, ২০, ২৬, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে, যাতে শেষের দিকের পরিবর্তনগুলো তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে। আপনার কোনো অসুখ থাকলে বা কিছু দেখা দিলে আরও বেশিবার আসতে বলা হতে পারে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।

তিন ভাগে গর্ভকালীন চেকআপ: অন্তত ৪ বার, আর অনেক ডাক্তার যে ৮ বার বলেন
গর্ভের সময়অন্তত ৪ বার (বাংলাদেশ)৮ বার (অনেক ডাক্তার বলেন)
১–১৩ সপ্তাহএ সময় নির্দিষ্ট চেকআপ নেই, তবে খবর পেলেই সময় নিন; অনেক ডাক্তার এই সপ্তাহগুলোতেই দেখতে চান।মোটামুটি ১২ সপ্তাহে
১৪–২৭ সপ্তাহমোটামুটি ১৬ আর ২৪–২৮ সপ্তাহেমোটামুটি ২০ আর ২৬ সপ্তাহে
২৮–৪০ সপ্তাহমোটামুটি ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহেমোটামুটি ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে

এই সপ্তাহগুলোকে আসল তারিখে বদলাতে ডেলিভারির তারিখের ক্যালকুলেটরে শেষ মাসিক বা আল্ট্রাসনোর তারিখ দিন। আপনার নিজের সময়রেখায় চেকআপের সময়গুলো দেখাবে, আর ফোনের ক্যালেন্ডারেও যোগ করে দিতে পারে।

সপ্তাহ অনুযায়ী গর্ভকালীন চেকআপ: প্রতিবার কী কী হয়

প্রতিটি চেকআপে ঠিক কী হবে তা ডাক্তার আর আপনার গর্ভের ওপর নির্ভর করে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধরনটা মোটামুটি একই রকম। নিচের তালিকায় সাধারণ কথায় তা দেওয়া হলো।

গর্ভকালীন চেকআপে সাধারণত কী হয়, সময় অনুযায়ী
কখনসাধারণত কী হয়
প্রথম চেকআপ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভবআপনার স্বাস্থ্য, আগের গর্ভ আর পরিবারের অসুখ নিয়ে প্রশ্ন; ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ; রক্তচাপ আর ওজন; রক্ত আর প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপসহ; ডাক্তার বললে আল্ট্রাসনো; টিটি টিকার কার্ড; ট্যাবলেট; কোথায় ডেলিভারি হবে।
মোটামুটি ১৬–২০ সপ্তাহরক্তচাপ আর প্রস্রাব; ডাক্তার পেটের মাপ দেখেন, বাচ্চার হৃৎস্পন্দন শুনতে পারেন; ডাক্তার বললে আল্ট্রাসনো; খাওয়া, ঘুম আর মন কেমন আছে।
মোটামুটি ২৪–২৮ সপ্তাহরক্তচাপ, প্রস্রাব আর কোথাও ফোলা আছে কি না; বাচ্চার বৃদ্ধি; এ সময় ডাক্তার যেসব পরীক্ষা বলেন, যেমন রক্তে শর্করা; টিটি টিকার ডোজ বাকি থাকলে সেটা; বাচ্চার নড়াচড়া নিয়ে কথা।
মোটামুটি ৩০–৩৪ সপ্তাহরক্তচাপ আর প্রস্রাব; বাচ্চার বৃদ্ধি আর নড়াচড়া; জন্ম পরিকল্পনা কার্ড আর রক্তদাতা; কাত হয়ে ঘুমানো, যা ২৮ সপ্তাহ থেকে বলা হয়।
৩৬ সপ্তাহ ও তার পরেবাচ্চার অবস্থান; প্রসবব্যথার লক্ষণ আর কখন হাসপাতালে রওনা দেবেন; হাসপাতালের ব্যাগ, যা ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে গোছানো থাকবে; ডেলিভারির তারিখ পার হয়ে গেলে কী হবে।

পরীক্ষা আর আল্ট্রাসনো ডাক্তারভেদে আর গর্ভভেদে আলাদা হয়। কোন রিপোর্টের কী মানে, তা আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন আপনার ডাক্তার; পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত জিজ্ঞেস করুন, আর উত্তরটা কার্ডে লিখে রাখুন।

প্রথম চেকআপ কখন, কী নিয়ে যাবেন, কী জিজ্ঞেস করবেন

গর্ভধারণের খবর পেলেই প্রথম চেকআপের সময় নিন। সাধারণত এটাই সবচেয়ে লম্বা চেকআপ, তাই হাতে সময় নিয়ে, সঙ্গে কিছু খাবার নিয়ে, আর পারলে স্বামী বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিয়ে যান।

  1. আপনার এনআইডি, আর শেষ মাসিকের প্রথম দিনের তারিখ।
  2. যত ওষুধ খান তার তালিকা, ভেষজ বা কবিরাজি ওষুধসহ।
  3. আগের গর্ভ বা ডেলিভারির কাগজপত্র, আর সাম্প্রতিক কোনো রিপোর্ট থাকলে।
  4. আগে টিটি টিকা নিয়ে থাকলে সেই কার্ড।
  5. আপনার প্রশ্নগুলো লিখে নিয়ে যান, যাতে ডাক্তারের সামনে গিয়ে কিছু ভুলে না যান।

ডাক্তারকে যা জিজ্ঞেস করতে পারেন

  • "পরের বার কবে আসব, আর সেবার কী কী দেখবেন?"
  • "কোন ট্যাবলেটগুলো খাব, আর কীভাবে খাব?"
  • "আমার কি টিটি টিকা লাগবে? কোন ডোজটা বাকি, আর কবে?"
  • "ডেলিভারির জন্য কোন হাসপাতালে যেতে বলবেন, আর সেখানে কি রাতেও ডেলিভারি হয়?"
  • "কী হলে পরের চেকআপের আগেই চলে আসব?"
  • "আমার গর্ভের সময়ে রমজান পড়ছে। তার আগে এ নিয়ে একটু কথা বলা যাবে?"

টিটি টিকা আর ট্যাবলেট: চেকআপে কী জিজ্ঞেস করবেন

টিটি বা টিডি টিকা মাকে, আর জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ নবজাতককে, ধনুষ্টংকার থেকে রক্ষা করে। বাংলাদেশের টিকা কর্মসূচিতে মেয়েদের কয়েক বছর ধরে ধাপে ধাপে টিটি টিকার ডোজ দেওয়া হয়। আগে কখনো না নিয়ে থাকলে গর্ভাবস্থায় সাধারণত মোটামুটি এক মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজ দিয়ে শুরু হয়। এখন কয়টা লাগবে তা নির্ভর করে আগে কয়টা নিয়েছেন তার ওপর; তাই টিকার কার্ড সঙ্গে নিন, কোন ডোজ বাকি তা স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তার বলে দেবেন।

বাংলাদেশে চেকআপে গর্ভবতী মায়েদের সাধারণত ট্যাবলেটও দেওয়া হয়। চেকআপে জিজ্ঞেস করুন বাংলাদেশে গর্ভবতী মায়েদের যে ট্যাবলেটগুলো দেওয়া হয় সেগুলোর কথা, ডাক্তার যেভাবে বলেন সেভাবে খান, আর অন্য কোনো ওষুধ, ভেষজ বা কবিরাজি ওষুধ খেলে বা খাওয়ার কথা ভাবলে ডাক্তারকে জানান।

এএনসি কার্ড আর রিপোর্ট যত্নে রাখুন: আপনার গর্ভের রেকর্ড

এএনসি কার্ড আর রিপোর্টগুলোই আপনার গর্ভের রেকর্ড। হঠাৎ অন্য কোথাও প্রসবব্যথা উঠলে বা জরুরি অবস্থায় নতুন ডাক্তার দেখালে, এগুলো দেখেই এক মিনিটে পুরো ইতিহাস বোঝা যায়।

  • কার্ড, সব রিপোর্ট আর প্রেসক্রিপশন একটা ফাইলে, সবসময় একই জায়গায় রাখুন।
  • প্রতিটি পাতা আর রিপোর্টের ছবি তুলে দুজনের ফোনেই রাখুন, যদি কখনো ফাইলটা বাসায় থেকে যায়।
  • প্রতিটি চেকআপের পর দুই লাইন লিখে রাখুন: ডাক্তার কী বললেন, আর পরের চেকআপ কবে।
  • রক্তের গ্রুপটা রক্তদাতা আর হাসপাতালের তথ্যের সঙ্গে আপনার জন্ম পরিকল্পনা কার্ডে লিখে রাখুন।
  • ফাইলটা প্রতিটি চেকআপে আর ডেলিভারির সময় হাসপাতালে নিয়ে যান, আর জন্মের পরের চেকআপগুলোর জন্যও রেখে দিন।

আমাদের পরিবারে: খরচ, দূরত্ব, অফিস আর স্বামীর ভূমিকা

  • খরচ: কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র আর জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত সরকারি জায়গায় গর্ভকালীন সেবা খুব কম খরচে বা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কী কী এর মধ্যে আছে জেনে নিন, কারণ কিছু পরীক্ষার টাকা লাগতে পারে।
  • দূরত্ব: গ্রামে কিছু চেকআপ স্বাস্থ্যকর্মী বা কাছের ক্লিনিকেই হতে পারে। দূরের চেকআপগুলোর জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা আগে ঠিক করুন, আর একই যাত্রায় পরীক্ষাগুলোও করিয়ে নিন।
  • অফিস: প্রতিটি চেকআপ মিটিংয়ের মতো ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন, অফিসে আগেভাগে জানান, আর সুবিধা হলে সন্ধ্যায় বা ছুটির দিনে বসেন এমন ডাক্তারের চেম্বার বেছে নিন।
  • স্বামী: চেকআপে সঙ্গে যান, ফাইলটা নিজের হাতে রাখুন, ডাক্তার যা বলেন লিখে নিন, আর স্ত্রী লজ্জায় যে প্রশ্ন করতে পারেন না সেগুলো আপনি করুন। দেখুন গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয়।
  • "আমাদের সময় তো কেউ ডাক্তার দেখাত না।" মুরুব্বিরা আসলে বলতে চান তাঁরা এভাবেই পার করেছেন; তাঁদের ধন্যবাদ দিয়েও আপনি চেকআপে যেতে পারেন, কারণ গর্ভের অনেক পরিবর্তন শুরুতে কোনো উপসর্গ ছাড়াই আসে।
  • শেষ কয়েক মাস বাপের বাড়ি গেলে: সেখানকার ডাক্তার বা হাসপাতাল আগেভাগে ঠিক করুন, আর ফাইলটা সঙ্গে নিয়ে যান।

বাসায় যা বলতে পারেন

  • স্বামীকে: "বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমার চেকআপ। একটু আগে ছুটি নিয়ে আমার সঙ্গে যেতে পারবে?"
  • শাশুড়িকে: "আম্মা, ডাক্তার এমন কিছু দেখেন যা আমি টের পাই না, যেমন রক্তচাপ। এটা বাচ্চার জন্যও দরকার।"
  • নিজের মাকে: "ডেলিভারির জন্য বাড়ি এলে আগে দুজনে মিলে সেখানকার হাসপাতালটা দেখে আসি?"

চেকআপ গুছিয়ে নেওয়ার ৭ দিনের পরিকল্পনা

গর্ভকালীন চেকআপের সময়সূচি তখনই কাজে লাগে, যখন সেটা রোজকার জীবনের সঙ্গে মেলে। এই সপ্তাহে প্রতিদিন একটা করে ধাপে সেটা গুছিয়ে নিন।

  1. ১ম দিন: কত সপ্তাহ চলছে আর ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বের করুন, আর কোন কোন সপ্তাহে চেকআপ পড়ছে লিখে রাখুন।
  2. ২য় দিন: কোথায় চেকআপ করাবেন ঠিক করুন: সরকারি কেন্দ্র, প্রাইভেট চেম্বার, নাকি দুটোই। ফোন নম্বর সেভ করুন।
  3. ৩য় দিন: পরের চেকআপের সময় নিন, আর সব তারিখ দুজনের ফোনেই তুলে রাখুন।
  4. ৪র্থ দিন: ফাইল বানান: কার্ড, রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন আর টিকার কার্ড। সবকিছুর ছবি তুলে রাখুন।
  5. ৫ম দিন: পরের চেকআপের প্রশ্নগুলো লিখে ফেলুন, যেগুলো জিজ্ঞেস করতে লজ্জা লাগে সেগুলোও।
  6. ৬ষ্ঠ দিন: প্রতিটি চেকআপে কে সঙ্গে যাবেন আর বড় বাচ্চাদের কে দেখবেন, ঠিক করে নিন।
  7. ৭ম দিন: দুজনে একসঙ্গে বিপদ চিহ্নগুলো পড়ুন, যাতে দুজনেই জানেন কোন লক্ষণে চেকআপের অপেক্ষা করা যায় না।

কখন পরের চেকআপের অপেক্ষা করবেন না

এসব হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান, বা আজই ডাক্তার দেখান

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা: আজই ডাক্তার দেখান।

রাতে কোনো ডাক্তার পাওয়া না গেলে "আজই" মানে যেখানে ডেলিভারি হয় এমন হাসপাতাল। শ্বাসকষ্ট, পা ফোলা আর ডেলিভারির পরের লক্ষণসহ পুরো তালিকা আছে আমাদের গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন পাতায়।

দুই চেকআপের মাঝে প্রতিদিন কেমন লাগছে তা কয়েক লাইন লিখে রাখলে পরের চেকআপ আরও কাজে লাগে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বাংলাদেশে গর্ভাবস্থায় কয়বার চেকআপ করাতে হয়?

অন্তত ৪ বার: মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে। অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন: মোটামুটি ১২, ২০, ২৬, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে, যাতে শেষের দিকের পরিবর্তন তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে। কোনো অসুখ থাকলে আরও বেশি লাগতে পারে। আপনার সময়সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।

প্রথম চেকআপ কখন করাতে হয়?

গর্ভধারণের খবর পেলেই। বাংলাদেশের সময়সূচিতে প্রথম চেকআপ মোটামুটি ১৬ সপ্তাহের মধ্যে, আর অনেক ডাক্তার ১২ সপ্তাহের আগেই দেখতে চান: তারিখ মিলিয়ে নিতে, রক্তচাপ আর রক্ত পরীক্ষা করতে, আর দরকার হলে ট্যাবলেট ও টিটি টিকা শুরু করতে। শুরুর সপ্তাহগুলোর কথা আছে আমাদের গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের গাইডে।

গর্ভাবস্থায় কী কী পরীক্ষা করতে হয়?

বেশিরভাগ চেকআপে রক্তচাপ, ওজন আর প্রস্রাব পরীক্ষা হয়। শুরুর দিকে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা হয়, রক্তের গ্রুপ আর রক্তস্বল্পতা আছে কি না দেখাসহ; পরে ডাক্তার রক্তে শর্করার পরীক্ষা আর এক বা একাধিক আল্ট্রাসনো করতে বলতে পারেন। কোন পরীক্ষা লাগবে তা আপনার গর্ভের ওপর নির্ভর করে, আর কোন রিপোর্টের কী মানে তা ডাক্তার বুঝিয়ে বলবেন।

সরকারি হাসপাতালে কি গর্ভকালীন সেবা বিনামূল্যে পাওয়া যায়?

বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিক আর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আর জেলা হাসপাতাল পর্যন্ত সরকারি জায়গায় গর্ভকালীন সেবা খুব কম খরচে বা বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কিছু পরীক্ষা বা ওষুধের টাকা লাগতে পারে, তাই কাছের কেন্দ্রে জিজ্ঞেস করে নিন কী কী এর মধ্যে আছে।

গর্ভকালীন চেকআপে কি স্বামী সঙ্গে যেতে পারেন?

হ্যাঁ, আর অনেক ডাক্তার এটা পছন্দও করেন। স্বামী সঙ্গে গেলে নিজের কানে পরামর্শ শোনেন, কার্ড রাখতে আর কথাগুলো লিখে নিতে পারেন, আর জানেন কোন লক্ষণে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হয়। এতে দুজনে মিলে ডেলিভারির পরিকল্পনা করাও সহজ হয়।

কোনো চেকআপ বাদ পড়ে গেলে কী করব?

পরের নির্ধারিত চেকআপের অপেক্ষা না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সময় নিন, আর ডাক্তারকে জানান কোনটা বাদ পড়েছে। চেকআপ বাদ পড়া খুব সাধারণ, আর সহজেই পুষিয়ে নেওয়া যায়। তবে কোনো বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে চেকআপের অপেক্ষা নয়: অল্প হলেও রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া মানে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল।

সুস্থ বোধ করলেও কি চেকআপ করাতে হয়?

হ্যাঁ। গর্ভাবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যেমন রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা রক্তস্বল্পতা, শুরুতে প্রায়ই কোনো উপসর্গ ছাড়াই আসে আর শুধু চেকআপেই ধরা পড়ে। ভালো বোধ করা সুখবর, আর চেকআপেই আপনি আর আপনার ডাক্তার সেটা নিশ্চিত হন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থা (১–৪০ সপ্তাহ): আরও গাইড

গর্ভাবস্থা: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।