ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে: মা, বাচ্চা আর সঙ্গীর তালিকা
ছোট করে উত্তর
ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে, তার তিনটা ভাগ: কাগজপত্র আর টাকা (এনআইডি, চেকআপ কার্ড, রিপোর্ট, নগদ টাকা), মায়ের জিনিস (সামনে খোলা ঢিলেঢালা জামা, প্যাড, শাল, টুথব্রাশ-সাবান, ফোনের চার্জার) আর বাচ্চার জিনিস (নরম সুতির জামা, টুপি, মোজা, ন্যাপি, কাঁথা)। মোটামুটি ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে গুছিয়ে দরজার পাশে রাখুন।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ডেলিভারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন গর্ভবতী মা আর তাঁর পরিবার, মোটামুটি ৩৪ সপ্তাহ থেকে
- মূল কথা
- মা আর বাচ্চার জন্য একটা ব্যাগ, কাগজপত্র আর টাকার জন্য একটা ফাইল, আর যিনি সঙ্গে থাকবেন তাঁর জন্য ছোট একটা ব্যাগ গোছান।
- সবচেয়ে জরুরি কাগজপত্র: এনআইডি, চেকআপ (এএনসি) কার্ড, পরীক্ষার রিপোর্ট, আল্ট্রাসনো আর রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট।
- মোটামুটি ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে এমন জায়গায় রাখুন, যেখান থেকে রাতে বাসার যে কেউ তুলে নিতে পারেন।
- বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য কিছুই নেবেন না: মধু, চিনির পানি বা সরিষার তেল নয়। জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু হয়।
ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে, তার একটা তালিকা থাকলে শেষ মুহূর্তের খোঁজাখুঁজি অনেক কমে, বিশেষ করে যখন রাতে প্রসব ব্যথা শুরু হয় আর পরিবার তাড়াহুড়ো করে সিএনজি খোঁজে। একবার শান্তভাবে গুছিয়ে রাখলে রাত ৩টায় কাউকে চেকআপ কার্ড খুঁজতে হয় না।
নিচে মা ও বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পুরো তালিকা, আমাদের দেশের হাসপাতাল বা ক্লিনিকের কথা ভেবে: কাগজপত্র আর টাকা, মায়ের জিনিস, বাচ্চার জিনিস, সঙ্গীর ব্যাগ, আর সিজারের জন্য বাড়তি জিনিস। এটাকে মোটামুটি একটা গাইড হিসেবে নিন। প্রতিটা হাসপাতাল আলাদা, তাই আপনার হাসপাতাল কী কী দেয় জেনে নিন।
আগে জরুরি লক্ষণগুলো: এর কোনোটা দেখা দিলে ব্যাগ থাকুক বা না থাকুক, এখনই হাসপাতালে যান; ব্যাগ পরে কেউ নিয়ে আসতে পারবেন। পুরো তালিকা আছে এই পাতার শেষে আর গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।
গর্ভাবস্থার জরুরি লক্ষণ
- যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
- ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
- ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
হাসপাতালের ব্যাগ কখন গোছাবেন?
মোটামুটি ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন। পূর্ণ মেয়াদ ৩৭–৪২ সপ্তাহ, তাই ৩৭ সপ্তাহ থেকে যেকোনো দিন বাচ্চা আসতে পারে, আর কেউ কেউ আরও আগে আসে। আপনার ৩৪ সপ্তাহ কবে পড়ছে, তা প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর দিয়ে বের করে নিন।
- ডাক্তার আগেভাগে ডেলিভারির কথা বললে, বা ডেলিভারির জন্য বাপের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আরও আগে গোছান।
- ব্যাগটা শোবার ঘরের দরজা বা মূল দরজার পাশে রাখুন, আর বাসার সবাইকে জানিয়ে দিন কোথায় আছে।
- ব্যাগের একদম ওপরে আপনার জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড-এর একটা কপি রাখুন, যাতে হাসপাতাল, চালক আর রক্তদাতাদের নম্বর থাকে।
- ৩৭ সপ্তাহ থেকে নিয়ম করে ব্যথা এলে বা পানি ভাঙলে পরিকল্পনার হাসপাতালে চলে যান। ঠিক কখন রওনা দেবেন, ৩৬ সপ্তাহের চেকআপে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে উত্তরটা পরিকল্পনায় লিখে রাখুন।
ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে: পুরো তালিকা
ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে, এই তালিকা ধরে গোছানোর সময় প্রতিটা লাইনে টিক দিন। পরিমাণগুলো মোটামুটি; নরমাল ডেলিভারিতে সাধারণত এক-দুই দিন, সিজারে কয়েক দিন থাকতে হয়।
| কার জন্য | কী নেবেন | পরামর্শ |
|---|---|---|
| কাগজপত্র | বাবা-মা দুজনের এনআইডি, চেকআপ (এএনসি) কার্ড, প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট, আল্ট্রাসনো, রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট | একটা পানিরোধী ফাইলে রাখুন; প্রতিটার ছবি মোবাইলেও তুলে রাখুন |
| কাগজপত্র | জন্ম পরিকল্পনা কার্ড; হাসপাতাল, ডাক্তার, চালক আর রক্তদাতাদের নম্বর | প্রিন্ট করা, আর সবার মোবাইলে সেভ করা |
| টাকা | ভর্তি, হাসপাতাল যে ওষুধ কিনতে বলে, যানবাহন আর খাবারের জন্য নগদ টাকা | কিছু খুচরা নোটে; বিকল্প হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং; দুজনের কাছে ভাগ করে রাখুন |
| মা | সামনে খোলা ২–৩টা ঢিলেঢালা কামিজ বা ম্যাক্সি, সঙ্গে ওড়না | সামনে খোলা জামায় বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ; সিজারের পর ঢিলা কোমর জরুরি |
| মা | যথেষ্ট ম্যাটারনিটি প্যাড বা নরম পরিষ্কার কাপড়, আর কয়েক জোড়া ঢিলা সুতির অন্তর্বাস | যত লাগবে ভাবছেন তার চেয়ে বেশি নিন; হাসপাতাল কিছু দেয় কি না জেনে নিন |
| মা | শাল বা হালকা চাদর, মোজা, আর পিছলে না যায় এমন স্যান্ডেল | ফ্যান বা এসির নিচে ওয়ার্ডে ঠান্ডা লাগতে পারে |
| মা | টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, সাবান, চিরুনি, চুলের ব্যান্ড, তোয়ালে, ওয়ার্ডে না থাকলে ছোট বালতি বা মগ | সরকারি ওয়ার্ডে প্রাইভেট ক্লিনিকের চেয়ে সাধারণত জিনিসপত্র কম থাকে |
| মা | মোবাইল, লম্বা চার্জারের তার আর চার্জ দেওয়া পাওয়ার ব্যাংক | প্লাগ কম থাকে, আর লোডশেডিংও হয় |
| মা | পানির বোতল, শুকনো নাশতা, একটা প্লেট, গ্লাস আর চামচ | অনেক হাসপাতাল খাবার বা খাওয়ার পানি দেয় না; আপনার হাসপাতালে জেনে নিন |
| বাচ্চা | সামনে খোলা ৩–৪ সেট নরম সুতির জামা, ২–৩টা টুপি আর মোজা | আগে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন |
| বাচ্চা | নরম পুরোনো সুতির কাঁথা বা মোড়ানোর কাপড়, আর একটা পাতলা কম্বল | নবজাতকের শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়; মায়ের বুকে চামড়ায় চামড়া লাগিয়ে রাখলেও গরম থাকে |
| বাচ্চা | নবজাতকের ন্যাপি বা নরম কাপড়ের ন্যাপি, তুলা আর ছোট একটা বাটি | পরিষ্কারের জন্য শুধু পানি আর তুলাই যথেষ্ট |
| বাচ্চা | বাসায় ফেরার জন্য একসেট জামা আর কাঁথা | শীতে গরম কিছু, গরমে হালকা কিছু |
| সঙ্গী | একসেট কাপড়, টুথব্রাশ-সাবান, পাতলা মাদুর বা চাদর, নাশতা, পানি আর একটা কলম | অনেক ওয়ার্ডে সঙ্গে থাকা মানুষের জন্য কোনো বিছানা থাকে না |
সিজারের জন্য কী কী বাড়তি লাগে?
ডেলিভারি নরমাল হবে নাকি সিজার, তা ঠিক হয় ডাক্তারের সঙ্গে, কখনো সেদিনই; তাই দুটোর কথা মাথায় রেখে গোছানোই ভালো। সিজারের জন্য যোগ করুন:
- কয়েক দিন থাকার মতো বাড়তি জামা আর প্যাড।
- উঁচু কোমরের ঢিলা অন্তর্বাস আর খুব ঢিলেঢালা জামা, যা সেলাইয়ের জায়গায় চাপ দেয় না।
- পা গলিয়ে পরা যায় এমন স্যান্ডেল, কারণ কয়েক দিন নিচু হতে কষ্ট হয়।
- এমন একজন সঙ্গী যিনি দিনরাত থাকতে পারবেন, বাচ্চাকে তুলে দেবেন আর তাঁকে বাথরুমে যেতে সাহায্য করবেন।
- বেশি দিন থাকার জন্য বাড়তি টাকা, আর হাসপাতাল যে ওষুধ কিনতে বলে তার জন্য।
বাচ্চার জন্য হাসপাতালে যা নেবেন না
- বুকের দুধের আগে বাচ্চাকে খাওয়ানোর মতো কিছুই নয়: মধু, চিনির পানি, সরিষার তেল বা ঘি নয়। জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু হয়, আর মোটামুটি ৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই বাচ্চার খাবার। প্রথম জন্মদিনের আগে মধু একেবারেই দেওয়া হয় না।
- “যদি লাগে” ভেবে ফর্মুলা দুধ। ডাক্তার বাচ্চার জন্য ফর্মুলার পরামর্শ দিলে কী আনতে হবে তা তিনিই বলে দেবেন।
- নাভিতে লাগানোর জন্য তেল, পাউডার বা ছাই। নাভির যত্ন কীভাবে নেবেন, হাসপাতাল বলে দেবে।
- বাচ্চার জন্য বালিশ, এমনকি ছোট সরিষার বালিশও নয়। নবজাতক ঘুমাবে চিত হয়ে, শক্ত আর সমান জায়গায়; দেখুন ০ থেকে ১২ মাসের বাচ্চার ঘুম।
- সোনা, গয়না আর এক জায়গায় অনেক নগদ টাকা। দামি জিনিস বাসায় রেখে যান।
আমাদের পরিবারে: মুরুব্বি, আগেভাগে বাচ্চার জিনিস কেনা আর অতিথি
- জন্মের আগে বাচ্চার জিনিস কেনা: কোনো কোনো পরিবার আগেভাগে কিনতে চায় না। এটা নিরীহ প্রথা। পরিবারের ধোয়া পুরোনো সুতির জামা আর কাঁথা ব্যাগে নেওয়া যায়, অথবা কোনো আত্মীয় কয়েকটা নতুন জিনিস বাচ্চা আসা পর্যন্ত নিজের বাসায় রেখে দিতে পারেন।
- নজর: পরিবার নজর থেকে বাঁচাতে কাজলের ছোট টিপ দিতে চাইলে সেটা বাচ্চার কপালে দিন, চোখে কখনো নয়; আর এটা বাসায় ফিরেও দেওয়া যায়।
- মায়ের খাবার: অনেক পরিবার বাসা থেকে খাবার নিয়ে যায়। তিনি যেন মাছ, ভাত, ডাল আর সবজি দিয়ে ঠিকমতো খান আর যথেষ্ট পানি খান, খেয়াল রাখুন। নতুন মায়ের মাছ, সবজি বা পানি কমিয়ে দিলে তাঁর সেরে উঠতে ক্ষতি হতে পারে।
- মশা: অনেক ওয়ার্ডে মশা থাকে, তাই ছোট একটা মশারি বা লম্বা হাতার জামা কাজে লাগে, বিশেষ করে ডেঙ্গুর মৌসুমে।
- অতিথি: হাসপাতালে দেখতে আসা ছোট রাখুন। কয়েক দিন পর মা বিশ্রাম নিলে আত্মীয়রা বাসায় এসে বাচ্চাকে দেখতে পারবেন।
পরিবারকে যা বলতে পারেন
- আম্মা, জন্মের আগে আমরা বেশি কিছু কিনব না। শুধু কয়েকটা পুরোনো নরম জামা ধুয়ে ব্যাগে রেখেছি।
- ব্যাগটা শোবার ঘরের দরজার পেছনে। আমি বাসায় না থাকলে ওটা নিয়ে চলে যাবেন।
- আম্মা, বাচ্চার জন্য দোয়া পড়ে দিন, কিন্তু মধু দেবেন না। এখন শুধু মায়ের দুধ।
- ওকে মাছটা খেতে দিন, পানিও খাক। সেরে উঠতে ওর এগুলো দরকার।
- কয়েক দিন পর বাসায় এসে বাচ্চাকে দেখে যাবেন, প্লিজ। ওর এখন বিশ্রাম দরকার।
৭ দিনে হাসপাতালের ব্যাগ গোছানোর পরিকল্পনা
মোটামুটি ৩৪ সপ্তাহে শুরু করুন; ডেলিভারির ব্যাগে কী নেবেন, তা ওপরের তালিকায় আছে। দিনে একটা অংশ গোছানোই যথেষ্ট, আর প্রতি সন্ধ্যায় লিখে রাখুন কী গোছানো হলো আর কী এখনো বাকি।
- দিন ১: হাসপাতালে জেনে নিন তারা কী দেয়: প্যাড, বাচ্চার জামা, খাবার, খাওয়ার পানি, সঙ্গীর জন্য বিছানা।
- দিন ২: কাগজপত্র এক ফাইলে রাখুন, আর প্রতিটা পাতার ছবি মোবাইলে তুলে রাখুন।
- দিন ৩: বাচ্চার জামা আর কাঁথা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে, ভাঁজ করে ব্যাগে রাখুন।
- দিন ৪: মায়ের জামা, প্যাড, শাল আর টুথব্রাশ-সাবান গোছান।
- দিন ৫: সঙ্গীর ব্যাগ গোছান, আর টাকাটা দুজনের কাছে ভাগ করে রাখুন।
- দিন ৬: জন্ম পরিকল্পনা কার্ডটা ব্যাগের ওপরে রাখুন, আর বাসার সবাইকে দেখিয়ে দিন ব্যাগ কোথায়।
- দিন ৭: তালিকাটা আরেকবার মিলিয়ে নিন, আর ৩৬ সপ্তাহে চার্জার, পাওয়ার ব্যাংক আর টাকা আবার দেখার জন্য মোবাইলে রিমাইন্ডার দিন।
ব্যাগ পরিকল্পনার একটা অংশ মাত্র। হাসপাতাল, রাতের যানবাহন, রক্তদাতা আর টাকার জন্য দেখুন ডেলিভারির প্রস্তুতি লেখা।
কখন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাবেন
এর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে ব্যাগ তৈরি থাকুক বা না থাকুক, সঙ্গে সঙ্গে যান। জন্ম পরিকল্পনায় লেখা হাসপাতালে যান, অথবা কাছের যে হাসপাতালে ডেলিভারি হয় সেখানে, আর চেকআপ কার্ড সঙ্গে নিন।
গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন
- যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
- ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
- ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- এক পায়ে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
- এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে: আজই ডাক্তার দেখান।
- শেষের দিকে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি: আজই ডাক্তার দেখান।
- প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা: আজই ডাক্তার দেখান।
- নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: শান্ত থাকুন, তাঁর কাছে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন; না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- বাড়িতে কেউ মারধর বা হুমকি দিচ্ছে: এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
ডেলিভারির পর: ৯৯৯-এ কল করুন
- এক ঘণ্টা বা তার কম সময়ে প্যাড ভিজে যাওয়া, বড় চাকা রক্ত: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- খিঁচুনি; চোখে ঝাপসাসহ প্রচণ্ড মাথাব্যথা; হঠাৎ মুখ-হাত ফোলা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে তা আগেই গুছিয়ে দরজার পাশে রাখা মানে সেই দিনে ভাবনার একটা বিষয় কম। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
ডেলিভারির ব্যাগ কখন গোছানো উচিত?
মোটামুটি ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে। পূর্ণ মেয়াদ শুরু হয় ৩৭ সপ্তাহে, আর কোনো কোনো বাচ্চা আগেই আসে; তাই কয়েক সপ্তাহ আগে ব্যাগ গোছানো থাকলে রাতে কাউকে তাড়াহুড়ো করতে হয় না। ডাক্তার আগেভাগে ডেলিভারির কথা বললে, বা বাপের বাড়ি গিয়ে ডেলিভারির পরিকল্পনা থাকলে আরও আগে গোছান। ব্যাগটা দরজার পাশে রাখুন আর সবাইকে জানিয়ে দিন কোথায় আছে।
নবজাতকের জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে?
সামনে খোলা ৩–৪ সেট নরম সুতির জামা, ২–৩টা টুপি আর মোজা, নরম কাঁথা বা মোড়ানোর কাপড়, একটা পাতলা কম্বল, নবজাতকের ন্যাপি বা কাপড়ের ন্যাপি, শুধু পানি দিয়ে পরিষ্কারের জন্য তুলা আর ছোট বাটি, আর বাসায় ফেরার এক সেট জামা। সবকিছু আগে ধুয়ে নিন। বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য কিছুই নেবেন না: জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু হয়।
ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী কাগজপত্র লাগে?
সাধারণত বাবা-মা দুজনের এনআইডি, চেকআপ (এএনসি) কার্ড, প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনো, আর রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট। এগুলো একটা পানিরোধী ফাইলে রাখুন, আর মোবাইলে ছবি তুলে রাখুন। ছুটির সময় হাসপাতাল জন্ম নিয়ে যে কাগজ দেয়, সব যত্ন করে রাখুন; পরে প্রায়ই লাগে, যেমন জন্ম নিবন্ধনের সময়।
সিজারের জন্য কী কী লাগে, বাড়তি কী নেব?
কয়েক দিন থাকার মতো গোছান: বাড়তি জামা আর প্যাড, উঁচু কোমরের ঢিলা অন্তর্বাস, সেলাইয়ে চাপ দেয় না এমন খুব ঢিলেঢালা জামা, আর পা গলিয়ে পরার স্যান্ডেল। দিনরাত থাকতে পারবেন এমন একজন সঙ্গী ঠিক রাখুন, আর বেশি দিন থাকা ও হাসপাতালের বলা ওষুধের জন্য বাড়তি টাকা। সিদ্ধান্তটা প্রায়ই সেদিন ডাক্তারের সঙ্গে হয়, তাই দুটোর কথা ভেবেই গোছানো ভালো।
ডেলিভারির সময় হাসপাতালে কয়টা ব্যাগ নেব?
সাধারণত দুটো ব্যাগ আর একটা ফাইল। একটা ব্যাগে মা আর বাচ্চার জিনিস, ছোট আরেকটায় সঙ্গীর জিনিস, আর একটা পানিরোধী ফাইলে কাগজপত্র, জন্ম পরিকল্পনা কার্ড আর বেশিরভাগ টাকা। ফাইলটা পুরো সময় স্বামী বা সঙ্গীর হাতে থাকবে, যাতে জরুরি জিনিস কখনো গাড়িতে বা বারান্দায় পড়ে না থাকে।
নবজাতকের জন্য কী কী কিনতে হবে, জন্মের আগেই কি কেনা যায়?
হ্যাঁ, অনেক পরিবারই কেনে। আবার পারিবারিক প্রথার কারণে কেউ কেউ অপেক্ষা করে, সেটাও নিরীহ। আপনার পরিবার অপেক্ষা করতে চাইলে ধোয়া পুরোনো সুতির জামা আর কাঁথা গুছিয়ে নিন, অথবা কোনো আত্মীয়কে কয়েকটা নতুন দরকারি জিনিস নিজের বাসায় রেখে দিতে বলুন। আসল কথা হলো, সেদিন ব্যাগে যেন বাচ্চার জন্য গরম, পরিষ্কার জামা আর কাঁথা থাকে।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

