মূল কনটেন্টে যান

গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয়: প্রতি তিন মাসে কী করবেন

ছোট করে উত্তর

গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয় মূলত দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া: তাঁর চেকআপে সঙ্গে যাওয়া, ভারী ঘরের কাজ নিজে নেওয়া, পরিবারের সামনে তাঁর খাবার আর বিশ্রাম রক্ষা করা, আর শেষ কয়েক সপ্তাহের আগেই হাসপাতাল, রাতের যানবাহন, দুজন রক্তদাতা আর টাকার ব্যবস্থা করা। বিপদ চিহ্নগুলো জেনে রাখুন, আর কোনোটা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিন।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
যাঁদের স্ত্রী গর্ভবতী, সেই স্বামী ও হবু বাবারা, আর পাশে থাকা পরিবার
মূল কথা
  • স্বামীর সবচেয়ে কাজের দায়িত্বগুলো হাতে-কলমে: চেকআপ, ঘরের কাজ, খাবার, বিশ্রাম আর ডেলিভারির লিখিত পরিকল্পনা।
  • চেকআপের তারিখ নিজের মোবাইলে তুলে রাখুন আর সঙ্গে যান: আমাদের দেশে অন্তত ৪ বার, আর অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন।
  • যৌথ পরিবারে ঝগড়া না বাধিয়ে তাঁর বিশ্রাম আর খাবার রক্ষা করতে পারেন প্রায়ই আপনিই।
  • বিপদ চিহ্নগুলো নিজে জেনে রাখুন: কোনোটা দেখা দিলে দিন হোক রাত হোক, কারও অনুমতির অপেক্ষা না করে তাঁকে হাসপাতালে নিন।

স্ত্রী গর্ভবতী হলে অনেক স্বামীই ভাবেন, “কিছু লাগলে বোলো” বলার বাইরে গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয় আসলে কী। আমাদের দেশের অনেক পুরুষকে এই অংশটা কেউ কখনো দেখায়নি; তাঁদের বাবারাও প্রায়ই এর বাইরে থেকেছেন।

ভালো খবর হলো, যা সবচেয়ে কাজে দেয় তার বেশিরভাগই হাতে-কলমে, আর এগুলো শেখা যায়। এই লেখায় পাবেন প্রতি তিন মাসের কাজ, ডেলিভারির পরিকল্পনা, যৌথ পরিবারে তাঁর বিশ্রাম রক্ষার উপায়, তাঁর মন ভালো রাখার কথা, আর যে বিপদ চিহ্নগুলো প্রত্যেক স্বামীর জানা দরকার।

আগে জরুরি লক্ষণগুলো। এর কোনোটা দেখলে এখনই তাঁকে হাসপাতালে নিন; কারও অনুমতির দরকার নেই। পুরো তালিকা আছে এই পাতার শেষে আর গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।

গর্ভাবস্থার জরুরি লক্ষণ

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

স্বামীর কাছে গর্ভবতী স্ত্রীর সবচেয়ে বেশি কী দরকার?

গর্ভবতী মায়ের শরীর সারাদিন অনেক পরিশ্রম করছে। প্রথম দিকে প্রচণ্ড ক্লান্তি আর বমি ভাব থাকতে পারে; পরে আসে শরীর ব্যথা, ঘুমের কষ্ট আর ডেলিভারি নিয়ে দুশ্চিন্তা। অথচ ঘরের কাজ, রান্না আর পরিবারের প্রত্যাশা প্রায়ই আগের মতোই থাকে। গর্ভবতী স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দায়িত্ব বুঝতে হলে আগে জানুন, তাঁর সাধারণত কী দরকার:

  • বিশ্রাম: এমন একজন, যিনি না বলতেই ভারী আর ক্লান্তিকর কাজ নিজে করে ফেলেন।
  • খাবার: নিয়মিত খাবার আর হালকা নাশতা, আর এমন স্বামী, যিনি খেয়াল করেন কোন বেলা তিনি খাননি।
  • পাশে থাকা: চেকআপে, কঠিন আলোচনায় আর খারাপ দিনগুলোতে সঙ্গী হিসেবে পাশে থাকা।
  • একটা পরিকল্পনা: হাসপাতাল, টাকা, রক্তদাতা আর যানবাহনের দায়িত্ব যিনি নিজে নেন, যাতে সব কিছু তাঁকে মাথায় বয়ে বেড়াতে না হয়।
  • তাঁর পক্ষে কেউ: পরিবারের চাপ বেশি হয়ে গেলে যে স্বামী নরমভাবে কথা বলেন।

প্রতি তিন মাসে গর্ভবতী স্ত্রীর যত্ন: স্বামীর কাজ

গর্ভাবস্থা মোটামুটি ৪০ সপ্তাহের, তিন ভাগে। প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর দিয়ে তিনি কত সপ্তাহের আর ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ কবে তা বের করুন, তারপর এই তালিকায় দেখুন এখন আপনার কাজ কী।

গর্ভাবস্থাজুড়ে স্বামীর কাজ
সময়তাঁর যা হতে পারেআপনার কাজ
প্রথম তিন মাস (১–১৩ সপ্তাহ)খুব ক্লান্তি, বমি ভাব বা গন্ধে অস্বস্তি; দুশ্চিন্তা; হয়তো এখনই কাউকে জানাতে চান নাপ্রথম চেকআপের ব্যবস্থা করুন; রান্নার দায়িত্ব নিন বা রান্নার গন্ধ তাঁর থেকে দূরে রাখুন; বিছানার পাশে পানি আর শুকনো নাশতা রাখুন; তিনি যতটা চান খবরটা ততটাই গোপন রাখুন
মাঝের তিন মাস (১৪–২৭ সপ্তাহ)প্রায়ই একটু বেশি শক্তি; পেট বোঝা যায়; বাচ্চার নড়াচড়া টের পেতে শুরু করতে পারেনচেকআপে সঙ্গে যান; ঘরের কাজ ন্যায্যভাবে ভাগ করুন; ডেলিভারির জন্য টাকা জমানো শুরু করুন; কোন হাসপাতাল, তা নিয়ে কথা বলুন; সন্ধ্যায় তাঁর সঙ্গে হাঁটুন
শেষ তিন মাস (২৮–৪০ সপ্তাহ)শরীর ভারী, ব্যথা, ঘুম কম, ডেলিভারি নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা; ২৮ সপ্তাহ থেকে কাত হয়ে ঘুমানমোটামুটি ২৮ সপ্তাহের মধ্যে জন্ম পরিকল্পনা করুন; দুজন রক্তদাতা ঠিক করুন; রাতের যানবাহনের ব্যবস্থা করুন; মোটামুটি ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন; রাতে ফোন চার্জ দিয়ে খোলা রাখুন
ডেলিভারির পর প্রথম ৬ সপ্তাহশরীর সেরে ওঠা, বুকের দুধ খাওয়ানো শেখা, খুব কম ঘুম, মনের ওঠানামারাতের কাজ নিন, যেমন ন্যাপি বদলানো আর ঘুম পাড়ানো; অতিথিদের সময় কম রাখুন; প্রসব-পরবর্তী চেকআপে যান: এক দিনের মধ্যে, তৃতীয় দিনে, ৭–১৪ দিনে আর ৬ সপ্তাহে

চেকআপ: সঙ্গে থাকুন, প্রস্তুত হয়ে যান

আমাদের দেশে অন্তত ৪ বার চেকআপের পরামর্শ দেওয়া হয়, মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে; অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন, মোটামুটি ১২, ২০, ২৬, ৩০, ৩৪, ৩৬, ৩৮ আর ৪০ সপ্তাহে। আপনার সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। চেকআপ (এএনসি) কার্ড আর রিপোর্ট সঙ্গে নিন, আগের রাতে তাঁর প্রশ্নগুলো লিখে রাখুন, গর্ভবতী মায়েদের যে ট্যাবলেট দেওয়া হয় সে বিষয়ে চেকআপে জিজ্ঞেস করুন, আর ডেলিভারির জন্য ডাক্তার কোন হাসপাতালের পরামর্শ দেন তা জেনে নিন। আরও আছে গর্ভকালীন চেকআপ লেখায়।

ডেলিভারির আগে আপনার কাজ: হাসপাতাল, টাকা, যানবাহন আর রক্তদাতা

গর্ভাবস্থায় কিছু ভুল হলে পরিবারগুলো প্রায়ই সময় হারায় কোথায় যাবে তা ঠিক করতে, রাতে গাড়ি খুঁজতে বা রক্ত জোগাড় করতে। তাই গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয়ের বড় একটা অংশ হলো এসব আগেভাগে ঠিক করে রাখা; তাতে হারানো সময়টা পথে কাজে লাগে। মোটামুটি ২৮ সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা করুন:

  1. ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল ঠিক করুন, আর এর ফোন নম্বর ও ঠিকানা আপনার আর তাঁর মোবাইলে সেভ করুন।
  2. রাতের যানবাহন ঠিক করুন: গাড়ি, সিএনজি বা অ্যাম্বুলেন্স, যার চালক যেকোনো সময় আসতে রাজি; সঙ্গে আরেকটা বিকল্প নম্বর।
  3. তাঁর রক্তের গ্রুপ জেনে নিন, আর একই গ্রুপের দুই-তিনজনকে রক্তদাতা হতে অনুরোধ করুন।
  4. এমন টাকা আলাদা করে রাখুন যাতে কেউ হাত দেবে না, আর হাসপাতালে জিজ্ঞেস করুন নরমাল আর সিজার দুই ধরনের ডেলিভারিতে কত খরচ।
  5. আপনি অফিসে থাকলে কে তাঁর সঙ্গে যাবেন, আর বড় বাচ্চা থাকলে কে তাদের দেখবেন, ঠিক করুন।
  6. এনআইডি, চেকআপ কার্ড, রিপোর্ট আর রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট এক ফাইলে রেখে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখুন।

তারপর আমাদের বিনামূল্যের জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড দিয়ে সবকিছু এক জায়গায় আনুন। এটা আপনার পরিকল্পনা, বিপদ চিহ্ন আর “৯৯৯-এ কল করুন” দিয়ে একটা কার্ড বানায়, যা পরিবারের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করা যায় বা প্রিন্ট করে ফ্রিজে লাগানো যায়। কার্ডটা আপনার মোবাইলেই তৈরি হয়, আমাদের কাছে কিছুই পাঠানো হয় না।

আমাদের পরিবারে: যৌথ পরিবারে স্ত্রীর বিশ্রাম আর খাবার রক্ষা

অনেক যৌথ পরিবারে গর্ভবতী পুত্রবধূ আগের মতোই রান্না, পরিবেশন আর ঘর পরিষ্কার করেন, সবার শেষে খান, আর বিশ্রামের কথা মুখ ফুটে বলতে পারেন না। কী খাবেন, তা-ও হয়তো মুরুব্বিরা ঠিক করেন। সাধারণত যার পরিবার, তিনি কথা বললেই সবচেয়ে ভালো হয়; তাই গর্ভাবস্থায় স্বামীর ভূমিকার এই অংশটা আপনার।

  • ভারী কাজ: পানির বালতি, গ্যাস সিলিন্ডার, চালের বস্তা তোলা, ঘর মোছা আর ভারী কাপড় ধোয়া নিজে করুন, বা গৃহকর্মীর সাহায্যের ব্যবস্থা করুন।
  • তাঁর পাত: তিনি যেন সময়মতো পুরো খাবার খান, মাছ, ডিম, মাংস বা ডালসহ; সবার শেষে যা বাকি থাকে তা নয়।
  • দুপুরের বিশ্রাম: আম্মার সঙ্গে কথা বলে ঠিক করুন, দুপুরের খাবারের পর তিনি একটু শোবেন, আর তাঁর সন্ধ্যার একটা কাজ আপনি নিজে নিন।
  • মন্তব্য: তাঁর শরীর, গায়ের রং বা ছেলে হওয়ার আশা নিয়ে কথা, বিশেষ করে তাঁর সামনে, নরমভাবে থামিয়ে দিন।
  • বাপের বাড়ি: ডেলিভারির জন্য সেখানে গেলে ওই এলাকার জন্যও হাসপাতালের পরিকল্পনা করুন, আর আপনি কবে যাবেন তা ঠিক করে নিন।

স্বামী যা বলতে পারেন

  • আম্মাকে: “আম্মা, এখন দুপুরে খাওয়ার পর ওর একটু শোয়া দরকার। অফিস থেকে ফিরে কাজে আমি হাত লাগাব।”
  • খাবার টেবিলে: “আজ ও আগে খেয়ে নিক। এখন ওর তাড়াতাড়ি খিদে পায়।”
  • আত্মীয়দের: “ছেলে হোক বা মেয়ে, আমরা খুশি। ওর সামনে এসব কথা বলবেন না, প্লিজ।”
  • স্ত্রীকে: “আজ আসলে কেমন লাগছে তোমার? তোমার কোন একটা কাজ আমি করে দিতে পারি?”
  • রাতে: “কিছু ভুল মনে হলে আমাকে ডেকো। অপেক্ষা করার চেয়ে অযথা হাসপাতালে যাওয়াও ভালো।”

স্ত্রীর মন খারাপ আর দুশ্চিন্তায় স্বামী কীভাবে পাশে থাকবেন?

গর্ভাবস্থায় মনে অনেক বড় অনুভূতি আসে: আনন্দ, ডেলিভারির ভয়, টাকার দুশ্চিন্তা, নিজের পরিবারের জন্য মন কেমন করা, আর এমন শরীর নিয়ে বিরক্তি যা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই মনে হয়। কোনো কোনো দিন তিনি আপনার ওপর রেগে যেতে পারেন। এর কারণ খুব কমই আপনি।

  • প্রতিদিন জিজ্ঞেস করুন, আর সমাধান না দিয়ে শুনুন। পরামর্শের চেয়ে “বুঝতে পারছি, কষ্ট হচ্ছে” কথাটা প্রায়ই বেশি কাজে দেয়।
  • টাকার দুশ্চিন্তা দুজনে মিলে বহন করুন: পরিকল্পনা আর জমানো টাকা তাঁকে দেখান, যাতে এ নিয়ে রাত জেগে ভাবতে না হয়।
  • আপনার পরিবারের সঙ্গে থাকলে, ফোন আর বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমে তাঁকে নিজের পরিবারের কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করুন।
  • চেকআপে ডাক্তারকে জানান, তাঁর মন কেমন যাচ্ছে। মনের অবস্থাও চেকআপেরই অংশ।
  • নিজের যত্নও নিন। হবু বাবারাও ভয় আর চাপ অনুভব করেন; বন্ধু বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন। সামনের বছরগুলোর জন্য দেখুন সন্তান লালন-পালনে বাবার ভূমিকা।

হবু বাবার করণীয়: ৭ দিনের পরিকল্পনা

প্রতি সন্ধ্যায় এক লাইন লিখুন: আপনি কী করলেন, আর তাঁর কেমন লাগল। এক সপ্তাহ পরে আরও ভালো বুঝবেন, তাঁর কাছে গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয় কোনগুলো সবচেয়ে বেশি মূল্যবান।

  1. দিন ১: তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, “এই সপ্তাহে কোন তিনটা জিনিস তোমার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে?” লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: তিনি কত সপ্তাহের, পরের চেকআপ আর ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ নিজের মোবাইলের ক্যালেন্ডারে তুলে রাখুন।
  3. দিন ৩: রোজকার একটা কাজ পুরোপুরি নিজের করে নিন, যেমন রাতের খাবার বা কাপড় ধোয়া, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
  4. দিন ৪: দুজনে মিলে বিপদ চিহ্নগুলো পড়ুন, আর দুজনের মোবাইলেই হাসপাতালের নম্বর সেভ করুন।
  5. দিন ৫: টাকা নিয়ে কথা বলুন: প্রতি মাসে কত আলাদা করে রাখতে পারবেন, আর কোথায় রাখবেন।
  6. দিন ৬: জন্ম পরিকল্পনা শুরু করুন: সম্ভাব্য দুজন রক্তদাতা আর রাতে আসতে পারবেন এমন একজন চালকের সঙ্গে কথা বলুন।
  7. দিন ৭: সপ্তাহের নোটগুলো দুজনে মিলে পড়ুন। কোনটা তাঁর সবচেয়ে কাজে লেগেছে? সেটা চালিয়ে যান, আর পরের সপ্তাহে আরেকটা কাজ যোগ করুন।

কখন স্ত্রীকে হাসপাতালে নেবেন: বিপদ চিহ্ন

এই লক্ষণগুলো জানা গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয়ের সবচেয়ে জরুরি অংশগুলোর একটা। জন্ম পরিকল্পনায় লেখা হাসপাতালে যান, অথবা কাছের যে হাসপাতালে ডেলিভারি হয় সেখানে, আর চেকআপ কার্ড সঙ্গে নিন।

গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • এক পায়ে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে: আজই ডাক্তার দেখান।
  • শেষের দিকে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি: আজই ডাক্তার দেখান।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা: আজই ডাক্তার দেখান।
  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: শান্ত থাকুন, তাঁর কাছে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন; না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • বাড়িতে কেউ মারধর বা হুমকি দিচ্ছে: এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।

ডেলিভারির পর: এগুলোও খেয়াল রাখুন

  • এক ঘণ্টা বা তার কম সময়ে প্যাড ভিজে যাওয়া, বড় চাকা রক্ত: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি; চোখে ঝাপসাসহ প্রচণ্ড মাথাব্যথা; হঠাৎ মুখ-হাত ফোলা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • জ্বর, কাঁপুনি, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, পেটে চাপ দিলে ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • এক পা ব্যথা-লাল-ফোলা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • সেলাইয়ের জায়গা লাল, গরম, পুঁজ বা খুলে যাওয়া: পুঁজ বের হলে, দুর্গন্ধ হলে বা খুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; শুধু লাল বা গরম হলে আজই ডাক্তার দেখান।
  • নিজের বা বাচ্চার ক্ষতি করার চিন্তা; অন্যরা দেখে না এমন কিছু দেখা বা শোনা; খুব এলোমেলো আচরণ; কয়েক দিন একদম ঘুম নেই: এখনই সাহায্য নিন; কারও বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • দুই সপ্তাহ বা বেশি দিন বেশিরভাগ সময় মন খারাপ, হতাশা বা দুশ্চিন্তা: একটা পরিকল্পনা করুন আর কয়েক দিনের মধ্যে ডাক্তার দেখান।

গর্ভাবস্থায় পাশে থাকা গড়ে ওঠে না বলতেই করা ছোট ছোট, নিয়মিত কাজে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

স্ত্রী প্রেগন্যান্ট হলে কী করবেন?

হাতে-কলমে দায়িত্ব ভাগ করে নিন: চেকআপে সঙ্গে যান, ভারী আর ক্লান্তিকর ঘরের কাজ নিজে নিন, তিনি যেন নিয়মিত খান আর দুপুরে বিশ্রাম পান তা খেয়াল রাখুন, আর ডেলিভারির পরিকল্পনা করুন: হাসপাতাল, রাতের যানবাহন, দুজন রক্তদাতা, টাকা আর কাগজপত্র। বিপদ চিহ্নগুলো জেনে রাখুন, যাতে দরকার হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রতিদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, কোনটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে।

স্বামীর কি স্ত্রীর গর্ভকালীন চেকআপে যাওয়া উচিত?

হ্যাঁ, যখনই পারেন। সঙ্গে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিজের কানে শুনবেন, হাসপাতাল আর ডেলিভারি নিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারবেন, আর অপেক্ষার সময়টাও ভাগ হবে। অফিসের কারণে একেবারেই না পারলে চেম্বার থেকে তাঁকে ফোন করতে বলুন, সন্ধ্যায় প্রেসক্রিপশনটা পড়ুন, আর শেষের দিকের চেকআপগুলোতে অবশ্যই যান, যখন ডেলিভারির পরিকল্পনা ঠিক হয়।

প্রথম দিকের বমি ভাবে গর্ভবতী স্ত্রীকে কীভাবে সাহায্য করব?

রান্নার দায়িত্ব নিন, বা কড়া গন্ধ তাঁর থেকে দূরে রাখুন, আর সকালের জন্য বিছানার পাশে পানি আর বিস্কুট বা মুড়ির মতো শুকনো নাশতা রাখুন। বেশি খাবারের চেয়ে অল্প অল্প করে খেলে প্রায়ই সহজ লাগে। পুরো প্লেট খেতে জোর করবেন না। যদি এত বমি হয় যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, আজই ডাক্তার দেখান।

গর্ভাবস্থায় স্বামীর কী করা উচিত নয়?

তাঁর ওজন, গায়ের রং বা বাচ্চা ছেলে না মেয়ে, এসব নিয়ে মন্তব্য করবেন না। সব পরিকল্পনা, টাকার দুশ্চিন্তা আর রাতের সিদ্ধান্ত তাঁর বা আপনার বাবা-মায়ের ওপর ছেড়ে দেবেন না। পরিবারের সামনে তাঁর বিপক্ষে কথা বলবেন না। তাঁর কাছে ধূমপান করবেন না, কারণ গর্ভবতী মায়ের কাছে ধূমপান বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে। আর হাসপাতালে যাওয়ার জন্য তাঁকে কখনো অনুমতির অপেক্ষায় রাখবেন না।

প্রবাসী স্বামী গর্ভবতী স্ত্রীর পাশে কীভাবে থাকবেন?

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ফোন করুন, আর পরিবারের খবরের পাশাপাশি তিনি কেমন আছেন তা জিজ্ঞেস করুন। ডেলিভারির টাকা আগেভাগে পাঠিয়ে আলাদা করে রাখুন। ভিডিও কলে দুজনে মিলে জন্ম পরিকল্পনা করুন, আর বাসার এমন একজনকে ঠিক করুন যিনি রাতে তাঁকে হাসপাতালে নেবেন। কার্ডটা তাঁর সঙ্গে শেয়ার করুন। পারলে দেশে আসার পরিকল্পনা করুন, কিন্তু পুরো পরিকল্পনা যেন এর ওপর নির্ভর না করে।

বাংলাদেশে ডেলিভারির সময় স্বামী কি স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে পারেন?

এটা হাসপাতালের ওপর নির্ভর করে। সরকারি হাসপাতাল, প্রাইভেট ক্লিনিক আর শহরভেদে নিয়ম আলাদা, আর কোথাও কোথাও লেবার রুমে শুধু একজন নারী সঙ্গী থাকতে পারেন। মোটামুটি ৩৬ সপ্তাহের চেকআপে জিজ্ঞেস করুন, প্রসবের সময় আর পরে কে তাঁর সঙ্গে থাকতে পারবেন, আর সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন, যাতে তাঁর ভরসার কেউ সবসময় কাছে থাকেন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থা (১–৪০ সপ্তাহ): আরও গাইড

গর্ভাবস্থা: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।