মূল কনটেন্টে যান

ডেলিভারির প্রস্তুতি: প্রসবের দিনের জন্য ধাপে ধাপে পরিকল্পনা

ছোট করে উত্তর

ডেলিভারির প্রস্তুতি মানে প্রসবের দিনের জন্য ছোট একটা লিখিত পরিকল্পনা: বাচ্চা কোথায় জন্ম নেবে, রাতে কীভাবে সেখানে যাবেন, কে সঙ্গে যাবেন, দুই-তিনজন রক্তদাতা, আলাদা করে রাখা টাকা, আর কোন কাগজপত্র নেবেন। মোটামুটি ২৮ সপ্তাহের মধ্যে করে ফেলুন, পরিবারের সবার সঙ্গে শেয়ার করুন, আর এতে বিপদ চিহ্নগুলোও রাখুন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
শেষ তিন মাসের গর্ভবতী মা আর তাঁর পরিবার, মোটামুটি ২৮ সপ্তাহ থেকে
মূল কথা
  • আমাদের দেশে প্রসবের প্রস্তুতির বেশিরভাগটাই দ্রুত চিকিৎসায় পৌঁছানো নিয়ে: হাসপাতাল, রাতের যানবাহন, রক্তদাতা আর টাকা।
  • মোটামুটি ২৮ সপ্তাহের মধ্যে পরিকল্পনা করুন আর ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন, যাতে শেষ কয়েক দিনের জন্য কিছু বাকি না থাকে।
  • নরমাল ডেলিভারি নাকি সিজার, দুটোই ঠিক হয় ডাক্তারের সঙ্গে; এমন হাসপাতাল বেছে নিন যেখানে দুটোই হয়, আর দুটোর জন্যই টাকার পরিকল্পনা রাখুন।
  • একবার লিখে ফেলুন, একটা কার্ডে তুলুন, আর যাঁরা তাঁকে হাসপাতালে নিতে পারেন তাঁদের সবার সঙ্গে শেয়ার করুন।

আমাদের দেশে ডেলিভারির প্রস্তুতি মানে মূলত একটা প্রশ্নের উত্তর: রাত ২টায় প্রসব ব্যথা শুরু হলে, বা কিছু ভুল হলে, সবাই কি জানেন কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যাবেন আর কাকে ফোন করবেন?

যে পরিবার কয়েক সপ্তাহ আগেই ঠান্ডা মাথায় এসব ঠিক করে রাখে, তারা আতঙ্কের সময়টা পথে কাজে লাগাতে পারে। এই লেখায় পরিকল্পনার প্রতিটা অংশ ধাপে ধাপে দেওয়া আছে, আমাদের বিনামূল্যের জন্ম পরিকল্পনা কার্ডের কথা আছে, আর আছে সেই বিপদ চিহ্নগুলো, যা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে যেতে হবে।

আগে জরুরি লক্ষণগুলো: এর যেকোনোটা দেখলে পরিকল্পনায় যা-ই লেখা থাক, এখনই হাসপাতালে যান। পুরো তালিকা আছে এই পাতার শেষে আর গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।

গর্ভাবস্থার জরুরি লক্ষণ

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

ডেলিভারির প্রস্তুতি কী, আর আমাদের দেশে এটা কেন এত জরুরি?

অনেক দেশে জন্ম পরিকল্পনা মানে পছন্দের তালিকা: ঘরে কে থাকবেন, কোন ভঙ্গিতে, কী গান বাজবে। আমাদের দেশে সন্তান প্রসবের প্রস্তুতি মানে মূলত চিকিৎসায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা, যাতে সাহায্য কখনো দূরে না থাকে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে বা প্রসবের সময় কিছু ভুল হলে সাধারণত তিন রকমের দেরিতে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়:

  • সিদ্ধান্তে দেরি: কেউ “চলো যাই” বলার আগে মুরুব্বির জন্য, সকালের জন্য বা স্বামী বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা।
  • পৌঁছাতে দেরি: রাতে সিএনজি নেই, চালক ফোন ধরেন না, যানজট, বা কোন হাসপাতালে গেলে সাহায্য পাওয়া যাবে তা জানা না থাকা।
  • চিকিৎসা পেতে দেরি: টাকা হাতে নেই, কাগজপত্র বাসায় রয়ে গেছে, বা হঠাৎ রক্ত লাগলে রক্তদাতা নেই।

লিখিত ডেলিভারির প্রস্তুতি তিনটা দেরিই কমায়, কারণ সিদ্ধান্তগুলো আগেই নেওয়া থাকে।

ডেলিভারির প্রস্তুতি: ৮টি ধাপে পরিকল্পনা

  1. তিনি কত সপ্তাহের আর ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ। প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর দিয়ে বের করুন, আর মোটামুটি ৩২ ও ৩৬ সপ্তাহের চেকআপ মোবাইলে তুলে রাখুন। আপনার সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার।
  2. বাচ্চা কোথায় জন্ম নেবে। ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকের পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে এমন জায়গা যেখানে সিজার করা যায় আর রক্তের ব্যবস্থা করা যায়। এর ফোন নম্বর আর ঠিকানা সেভ করুন, আর রাতে যাওয়ার রাস্তা চিনে রাখুন।
  3. ডাক্তার বা মিডওয়াইফ। তাঁর নাম আর নম্বর, আর তিনি না থাকলে কাকে ফোন করবেন।
  4. রাতের যানবাহন। গাড়ি, সিএনজি বা অ্যাম্বুলেন্স, যার চালক যেকোনো সময় আসতে রাজি; সঙ্গে আরেকটা নম্বর, প্রথমজন ফোন না ধরলে।
  5. কে যাবেন, কে থাকবেন। স্বামী না থাকলে কে তাঁর সঙ্গে যাবেন, আর বড় বাচ্চা থাকলে কে তাদের দেখবেন।
  6. রক্তের গ্রুপ আর দুই-তিনজন রক্তদাতা। তাঁদের নাম, রক্তের গ্রুপ আর ফোন নম্বর। এখনই জিজ্ঞেস করুন, আর নিশ্চিত হোন তাঁরা রাজি।
  7. আলাদা করে রাখা টাকা। হাসপাতালে নরমাল আর সিজার দুই ধরনের ডেলিভারির খরচ জেনে নিয়ে, এমন টাকা আলাদা রাখুন যাতে কেউ হাত দেবে না।
  8. সাথে নেওয়ার কাগজপত্র। এনআইডি, চেকআপ (এএনসি) কার্ড, পরীক্ষার রিপোর্ট ও আল্ট্রাসনো, আর রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট, এক ফাইলে রেখে ব্যাগের ভেতরে।

সবকিছু একটা কার্ডে

আমাদের বিনামূল্যের জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড এই আটটা ধাপই একটা একটা করে নেয়। সব ঘর ঐচ্ছিক। এটা আপনার পরিকল্পনা, “৯৯৯-এ কল করুন”, আপনার হাসপাতালের নাম আর বিপদ চিহ্ন দিয়ে মোবাইলের মাপের একটা কার্ড আর লক-স্ক্রিনের ছবি বানায়, যা হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করা যায় বা প্রিন্ট করে ফ্রিজে লাগানো যায়। কার্ডটা আপনার মোবাইলেই তৈরি হয়, ParentMind-এ কিছুই পাঠানো হয় না। কার্ডে ফোন নম্বর থাকে, তাই শুধু পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন।

নরমাল ডেলিভারি নাকি সিজার: দুটোর জন্যই প্রস্তুতি

বাচ্চা নরমাল ডেলিভারিতে হবে নাকি সিজারে, তা ঠিক হয় ডাক্তারের সঙ্গে, কখনো কখনো প্রসবের সময়ই। সিজার আগে থেকে ঠিক করা থাকতে পারে, আবার সেদিনই সিদ্ধান্ত হতে পারে; ডাক্তার যে কারণ বলেন, সেগুলো চিকিৎসার আসল কারণ। এখনই উত্তর জানার দরকার নেই। দুটোর জন্যই প্রস্তুতি নিতে পারেন:

  • এমন হাসপাতাল বেছে নিন যেখানে দুটোই হয়, যাতে প্রসবের সময় পরিকল্পনা বদলালে তাঁকে অন্য জায়গায় নিতে না হয়।
  • যেকোনোটার জন্য টাকা রাখুন, সঙ্গে হাসপাতালে কয়েক দিন বেশি থাকার খরচ।
  • বেশি দিন থাকার মতো করে ব্যাগ গোছান; ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে কী কী নিতে হবে লেখায় সিজারের জন্য বাড়তি জিনিসের তালিকা আছে।

মোটামুটি ৩২ বা ৩৬ সপ্তাহের চেকআপে ডাক্তারকে যা জিজ্ঞেস করবেন:

  • আমাদের জন্য কোন হাসপাতালের পরামর্শ দেন, আর কেন?
  • প্রসব ব্যথা শুরু হলে কখন হাসপাতালে আসব, আর প্রথমে কাকে ফোন করব?
  • সিজার লাগলে কত দিন থাকতে হবে, আর এখানে খরচ কেমন?
  • প্রসবের সময় আর পরে তাঁর সঙ্গে কে থাকতে পারবেন?
  • আপনি না থাকলে কে তাঁকে দেখবেন?

কখন পরিকল্পনা করবেন, আর শেষ কয়েক সপ্তাহে কী করবেন

শেষ তিন মাসে সপ্তাহ ধরে ডেলিভারির প্রস্তুতি
কখনকী করবেন
মোটামুটি ২৮ সপ্তাহের মধ্যেজন্ম পরিকল্পনা আর কার্ড তৈরি করুন। ২৮ সপ্তাহ থেকে তিনি কাত হয়ে ঘুমাবেন।
মোটামুটি ৩২ সপ্তাহচেকআপ: ওপরের প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করুন। রক্তদাতা আর চালকের সঙ্গে আবার কথা পাকা করুন।
মোটামুটি ৩৪–৩৬ সপ্তাহের মধ্যেব্যাগ গুছিয়ে ফেলুন। ডেলিভারির জন্য বাপের বাড়ি গেলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে এর মধ্যেই চলে যান।
মোটামুটি ৩৬ সপ্তাহচেকআপ: কার্ডটা হালনাগাদ করুন। রক্তদাতা আর চালককে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ জানিয়ে রাখুন।
৩৭–৪২ সপ্তাহপূর্ণ মেয়াদ: যেকোনো দিন বাচ্চা আসতে পারে। নিয়ম করে ব্যথা এলে বা পানি ভাঙলে পরিকল্পনার হাসপাতালে চলে যান। রাতে ফোন চার্জ দিয়ে খোলা রাখুন; ব্যাগ দরজার পাশে।

আমাদের পরিবারে: বাপের বাড়ি, মুরুব্বি আর রাতের যাত্রা

  • বাপের বাড়ি: অনেক মা ডেলিভারির জন্য মায়ের কাছে যান। কখন যাওয়া নিরাপদ, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, তারপর ওই এলাকার জন্য পরিকল্পনা করুন: সেখানকার হাসপাতাল, চালক, আর কাছাকাছি থাকেন এমন রক্তদাতা।
  • রাতে কে সিদ্ধান্ত নেবেন: এখনই পরিবারের সবাই মিলে ঠিক করুন, বাসার যে কেউ মুরুব্বি বা সকালের অপেক্ষা না করে ৯৯৯-এ কল করতে বা তাঁকে হাসপাতালে নিতে পারবেন।
  • জেলা বা উপজেলায়: আপনার কাছের হাসপাতালে সিজার হয় কি না জেনে নিন। না হলে জেলা হাসপাতাল বা এমন মাতৃসদনের পরিকল্পনা করুন, যেখানে হয়।
  • যানজট আর আবহাওয়া: ঢাকায় দুটো রাস্তার পরিকল্পনা রাখুন। বর্ষায় যেখানে রাস্তা ডুবে যায়, সেখানে কোনো কোনো পরিবার শেষ কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালের কাছাকাছি আত্মীয়ের বাসায় থাকে।
  • লোডশেডিং: ফোন আর পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দিয়ে রাখুন, আর ব্যাগের পাশে একটা টর্চ।

পরিবারকে যা বলতে পারেন

  • রাতে কিছু হলে আমরা সকালের অপেক্ষা করব না। ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে সোজা চলে যাব।
  • আম্মা, আমি বাসায় না থাকলে আপনিই ওকে নিয়ে যাবেন। এই যে কার্ডটা।
  • ভাই, দরকার হলে তুমি কি ওকে রক্ত দিতে পারবে? তোমার গ্রুপ ওর সাথে মেলে।
  • এই টাকাটা ডেলিভারির জন্য। অন্য কোনো কাজে এটা খরচ করব না।
  • চালককে: “ভাই, এই কয়েক সপ্তাহ রাতে ফোনটা খোলা রাখবেন। যেকোনো সময় ফোন দিতে পারি।”

৭ দিনে ডেলিভারির প্রস্তুতি শেষ করার পরিকল্পনা

দিনে একটা ছোট কাজই যথেষ্ট। প্রতি সন্ধ্যায় লিখে রাখুন, কী ঠিক হলো আর কী এখনো বাকি।

  1. দিন ১: তিনি কত সপ্তাহের আর ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ বের করুন, আর পরের চেকআপ মোবাইলে তুলে রাখুন।
  2. দিন ২: ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, বা চেম্বারে ফোন করুন, কোন হাসপাতালের পরামর্শ দেন। এর নম্বর আর ঠিকানা সেভ করুন।
  3. দিন ৩: দুজন চালক বা একটা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসে ফোন করে জিজ্ঞেস করুন, যেকোনো সময় আসতে পারবেন কি না।
  4. দিন ৪: তাঁর রক্তের গ্রুপ জেনে নিন, বা পরীক্ষার ব্যবস্থা করুন, আর দুই-তিনজনকে রক্তদাতা হতে অনুরোধ করুন।
  5. দিন ৫: হাসপাতালে খরচের কথা জেনে নিন, আর টাকাটা আলাদা জায়গায় সরিয়ে রাখুন।
  6. দিন ৬: কাগজপত্র এক ফাইলে রাখুন, তারপর জন্ম পরিকল্পনা কার্ড পূরণ করে পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন।
  7. দিন ৭: পরিবারের সবাই মিলে রাতের একটা জরুরি অবস্থা মনে মনে মহড়া দিন: কে কাকে ফোন করবেন, কে যাবেন, কে বাচ্চাদের সঙ্গে থাকবেন। যা বাকি, ঠিক করে ফেলুন।

কখন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাবেন

ডেলিভারির প্রস্তুতি তখনই কাজে লাগে, যখন সবাই জানেন কখন এটা ব্যবহার করতে হবে। পরিকল্পনায় লেখা হাসপাতালে যান, অথবা কাছের যে হাসপাতালে ডেলিভারি হয় সেখানে, আর চেকআপ কার্ড সঙ্গে নিন।

গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • এক পায়ে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে: আজই ডাক্তার দেখান।
  • শেষের দিকে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি: আজই ডাক্তার দেখান।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা: আজই ডাক্তার দেখান।
  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: শান্ত থাকুন, তাঁর কাছে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন; না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • বাড়িতে কেউ মারধর বা হুমকি দিচ্ছে: এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।

ডেলিভারির পর: ৯৯৯-এ কল করুন

  • এক ঘণ্টা বা তার কম সময়ে প্যাড ভিজে যাওয়া, বড় চাকা রক্ত: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি; চোখে ঝাপসাসহ প্রচণ্ড মাথাব্যথা; হঠাৎ মুখ-হাত ফোলা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

ডেলিভারির প্রস্তুতি মানে আগেভাগে নেওয়া কয়েকটা সিদ্ধান্ত, যাতে সেদিন পরিবার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

ডেলিভারির প্রস্তুতি কখন থেকে শুরু করব?

মোটামুটি ২৮ সপ্তাহের মধ্যে করে ফেলা ভালো। তাতে শেষের ব্যস্ত সপ্তাহগুলোর আগেই রক্তদাতা খোঁজা, রাতের যানবাহন যাচাই আর টাকা আলাদা করার জন্য কয়েক সপ্তাহ হাতে থাকে, আর কোনো কোনো বাচ্চা সম্ভাব্য তারিখের আগেই চলে আসে। ডাক্তার আগেভাগে ডেলিভারির কথা বললে, বা বাপের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আরও আগে শুরু করুন। ৩৬ সপ্তাহের চেকআপে পরিকল্পনাটা হালনাগাদ করুন।

ডেলিভারির আগে কী কী প্রস্তুতি নিতে হয়?

আটটা জিনিস: ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ আর তিনি কত সপ্তাহের; হাসপাতাল, এর নম্বর আর ঠিকানাসহ; ডাক্তার বা মিডওয়াইফ; রাতের যানবাহন, এমন চালকসহ যিনি যেকোনো সময় আসবেন; কে সঙ্গে যাবেন আর কে বড় বাচ্চাদের দেখবেন; তাঁর রক্তের গ্রুপ আর দুই-তিনজন রক্তদাতা; আলাদা করে রাখা টাকা; আর কাগজপত্র: এনআইডি, চেকআপ কার্ড, রিপোর্ট আর রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট।

ডেলিভারির জন্য রক্তদাতা আগে থেকে ঠিক রাখতে হয় কেন?

কারণ প্রসবের সময় বা পরে বেশি রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত রক্ত লাগতে পারে, আর রাতের বেলা অচেনা হাসপাতালে একই গ্রুপের রক্তদাতা খুঁজে পেতে যে সময় লাগে, পরিবারের হাতে হয়তো তা থাকে না। তাঁর গ্রুপের দুই-তিনজন আত্মীয় বা বন্ধু, যাঁরা আগেই রাজি হয়েছেন আর যাঁদের নম্বর কার্ডে আছে, পুরো পরিকল্পনার সবচেয়ে কাজের অংশগুলোর একটা।

ডেলিভারির খরচ জমানো: কত টাকা আলাদা রাখা উচিত?

নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক নেই। সরকারি হাসপাতাল, প্রাইভেট ক্লিনিক আর শহরভেদে খরচ অনেক আলাদা, নরমাল আর সিজারেও আলাদা। আপনার বাছাই করা হাসপাতালে দুটোর খরচই জেনে নিন, সঙ্গে যানবাহন, ওষুধ আর কয়েক দিনের খাবারের খরচ যোগ করুন, আর সেই টাকা এমন আলাদা জায়গায় রাখুন যেখানে কেউ হাত দেবে না; জরুরি অবস্থার জন্য একটু বাড়তিও রাখুন।

নরমাল ডেলিভারি নাকি সিজার, তা কি আগে থেকে ঠিক করা যায়?

আপনি কী চান তা ডাক্তারকে বলতে পারেন, আর মনের সব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারেন; কিন্তু শেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে গর্ভাবস্থা আর প্রসব কেমন যাচ্ছে তার ওপর, আর ডাক্তার প্রসবের আগে বা প্রসবের সময় সিজারের পরামর্শ দিতে পারেন। কাজের উত্তর হলো দুটোর জন্যই প্রস্তুত থাকা: এমন হাসপাতাল যেখানে দুটোই হয়, যেকোনোটার জন্য টাকা, আর বেশি দিন থাকার মতো গোছানো ব্যাগ।

ডেলিভারির জন্য বাপের বাড়ি গেলে প্রস্তুতি কেমন হবে?

পুরো পরিকল্পনা ওই এলাকার জন্য করুন, শুধু নিজের বাসার জন্য নয়: সেখানকার হাসপাতাল, রাতে আসবেন এমন স্থানীয় চালক, আর কাছাকাছি থাকেন এমন রক্তদাতা। কখন যাওয়া নিরাপদ, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, আর শেষ কয়েক সপ্তাহের আগেই চলে যান। চেকআপ কার্ড আর সব রিপোর্ট সঙ্গে নিন, আর সেখানে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কার্ডটা শেয়ার করুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থা (১–৪০ সপ্তাহ): আরও গাইড

গর্ভাবস্থা: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।