মূল কনটেন্টে যান

গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার: কোনটা ক্ষতিকর নয়, কোনটা এড়িয়ে চলবেন

ছোট করে উত্তর

গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার বা প্রচলিত ধারণার বেশিরভাগই, যেমন গ্রহণের নিয়ম, সন্ধ্যার পর বাইরে না যাওয়া বা নজর থেকে বাঁচানোর চেষ্টা, নিরীহ পারিবারিক প্রথা। কয়েকটা ক্ষতি করতে পারে: বাচ্চা ছোট রাখতে কম খাওয়া, পুরো সময় বিছানায় শুয়ে থাকা, চেকআপ বাদ দেওয়া, আর বিপদ চিহ্ন দেখেও বাসায় অপেক্ষা করা। প্রথার স্বস্তিটুকু রাখুন, ঝুঁকিটা বাদ দিন, আর হাসপাতালে যেতে কখনো দেরি করবেন না।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
গর্ভবতী মা আর তাঁর পরিবার, বিশেষ করে যৌথ পরিবারে, যেখানে মুরুব্বিরা ভালোবেসে নানা পুরোনো ধারণার কথা বলেন
মূল কথা
  • গ্রহণের সময় ঘরে থাকা, নজর থেকে বাঁচাতে কাজলের টিপ বা সাধের অনুষ্ঠান নিরীহ, যতক্ষণ এগুলো তাঁর খাবার কমায় না বা চিকিৎসায় দেরি করায় না।
  • বাচ্চা ছোট রাখতে কম খাওয়া, পুরো সময় বিছানায় শুয়ে থাকা আর চেকআপ বাদ দেওয়া মা ও বাচ্চা দুজনেরই ক্ষতি করতে পারে।
  • বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে কোনো প্রথার জন্য হাসপাতালে যেতে দেরি করা চলবে না; জরুরি লক্ষণগুলো এই পাতার ওপরের দিকেই দেওয়া আছে।
  • মুরুব্বিদের সঙ্গে তর্কের চেয়ে সম্মান রেখে বলা একটা কথা আর ডাক্তারের পরামর্শ সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার বা প্রচলিত ধারণাগুলো সাধারণত আসে ভালোবাসা থেকে: শাশুড়ি বলেন গ্রহণের সময় বাইরে যেও না, নানি কালো সুতো বেঁধে দেন, খালা বলেন কম খাও, ডেলিভারি সহজ হবে। এর প্রায় সবকিছুর পেছনে থাকে মা আর বাচ্চাকে রক্ষা করার ইচ্ছা।

এসব ধারণার অনেকগুলোই নিরীহ, আর মানলে পরিবারে স্বস্তিও আসে। কয়েকটা ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সেগুলো তাঁর খাবার কমায়, তাঁকে বিছানায় আটকে রাখে, বা চেকআপ আর হাসপাতালে যাওয়ায় দেরি করায়। এই লেখায় প্রচলিত ধারণাগুলো আলাদা করে দেখানো হয়েছে, মুরুব্বিদের কী বলবেন তা দেওয়া আছে, আর আছে সেই জরুরি লক্ষণগুলো, যেগুলো দেখলে কোনো প্রথার জন্য দেরি করা চলে না।

আগে জরুরি লক্ষণগুলো: বাসার কেউ যা-ই বিশ্বাস করুন, এগুলো দেখলে দিন হোক রাত হোক, এখনই হাসপাতালে যেতে হবে। পুরো তালিকা আছে এই পাতার শেষে আর গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।

গর্ভাবস্থার জরুরি লক্ষণ

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

আমাদের পরিবারে গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার আর প্রচলিত ধারণা এত গুরুত্ব পায় কেন?

আমাদের দেশে গর্ভাবস্থায় প্রচলিত ভুল ধারণা আর কুসংস্কারগুলো পরিবারের যত্ন নেওয়ারই একটা রূপ। মুরুব্বিদের মনে আছে এমন সময়ের কথা, যখন প্রসবে বিপদ হতো আর সাহায্য ছিল অনেক দূরে; তাই যে নিয়ম একসময় রক্ষাকবচ মনে হয়েছে, তাঁরা সেটা আঁকড়ে ধরে রাখেন। যৌথ পরিবারে গর্ভবতী মা প্রায়ই বাসার বড়দের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, আর শাশুড়ির কথায় না বলা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব মনে হতে পারে।

তাই উদ্দেশ্য তর্কে জেতা নয়; যা পরিবারকে স্বস্তি দেয় তা রাখা, আর যা ক্ষতি করতে পারে তা চুপচাপ বাদ দেওয়া। তিনটা প্রশ্ন দিয়ে প্রায় যেকোনো ধারণা যাচাই করা যায়:

  1. এতে কি তাঁর খাবার, পানি বা বিশ্রাম কমে যায়?
  2. এতে কি চেকআপে, বা কিছু ভুল মনে হলে হাসপাতালে যেতে দেরি হয়?
  3. এতে কি তাঁর শরীরে এমন কিছু লাগানো বা খাওয়ানো হয়, যাতে ডাক্তার সম্মতি দেননি, যেমন কোনো ভেষজ, তেল বা ঘরোয়া টোটকা?

তিনটার উত্তরই যদি “না” হয়, তাহলে ধারণাটা সাধারণত নিরীহ, নিশ্চিন্তে মানতে পারেন।

গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার ও সত্য: কোন ধারণা নিরীহ?

আমাদের পরিবারগুলোতে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় এমন ধারণাগুলো নিচে দেওয়া হলো, ওপরের তিনটা প্রশ্ন দিয়ে যাচাই করে।

আমাদের দেশে গর্ভাবস্থার প্রচলিত ধারণা, আর কী করবেন
প্রচলিত ধারণানিরীহ নাকি ক্ষতিকর?কী করবেন
সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণের সময় বাইরে যাওয়া, কাটাকাটি বা সেলাই করা নিষেধনিরীহপরিবার চাইলে মানুন। গর্ভবতী হোক বা না হোক, গ্রহণের সময় কারও সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়।
গ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া-পানি বন্ধকয়েক ঘণ্টা চললে ক্ষতিকর হতে পারেঘরে থেকেও তিনি স্বাভাবিকভাবে খেতে, পানি খেতে আর শুয়ে থাকতে পারেন।
গর্ভবতী মায়ের নজর লাগা ঠেকাতে কাজলের টিপ, কালো সুতো বা তাবিজনিরীহচেকআপের পাশাপাশি চলতে পারে, চেকআপের বদলে নয়।
সন্ধ্যার পর বাইরে যাওয়া নিষেধসাধারণ বেড়ানোর বেলায় নিরীহহাসপাতালের বেলায় এই নিয়ম খাটে না। রাতে বিপদ চিহ্ন মানে রাতেই যাওয়া।
প্রথম কয়েক মাস কাউকে না জানানোনিরীহতবু চেকআপ শুরু করুন, আর বাসার অন্তত একজন যেন জানেন।
এখন দুজনের খাবার খেতে হবেআধা সত্যদুজন মানুষের সমান খাবার লাগে না, তবে নিয়মিত, নানা রকম খাবার আর মাঝে মাঝে হালকা নাশতা লাগে।
কম খেলে বাচ্চা ছোট থাকবে, ডেলিভারি সহজ হবেক্ষতিকর হতে পারেকম খেলে প্রসব নিরাপদ হয় না, আর যে বাচ্চা ঠিকমতো বাড়ে না, জন্মের পর তার শুরুটা কঠিন হতে পারে।
কাঁচা হলুদ, দুধ, জাফরান বা ডাবের পানি খেলে বাচ্চা ফর্সা হয়ভুল ধারণাগায়ের রং আসে বাবা-মায়ের কাছ থেকে। সাধারণ খাবার হিসেবে এগুলো খাওয়া যায়; টোটকা হিসেবে বেশি খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
ডিম, মাছ, মাংস বা শাক খাওয়া নিষেধক্ষতিকর হতে পারেভালো করে রান্না করা হলে এগুলো তাঁর জন্য সবচেয়ে উপকারী খাবারগুলোর মধ্যে পড়ে।
আনারস বা পেঁপে খেলে গর্ভপাত হয়বেশিরভাগটাই ভুল ধারণাস্বাভাবিক পরিমাণে পাকা ফল স্বাস্থ্যকর খাবারেরই অংশ; অনেক ডাক্তার কাঁচা সবুজ পেঁপে এড়িয়ে চলতে বলেন।
পুরো গর্ভাবস্থা বিছানায় শুয়ে থাকতে হবেক্ষতিকর হতে পারেডাক্তার কোনো কারণে বিশ্রাম না বললে হালকা ঘরের কাজ আর অল্প হাঁটাহাঁটি সাধারণত ঠিক আছে।
পেটের আকার দেখে ছেলে না মেয়ে বোঝা যায়নিরীহ অনুমানঅনুমানের মজাটা থাকুক, কিন্তু প্রতিটা বাচ্চাই আদরের, আর এর জন্য তাঁর প্রতি আচরণ যেন কখনো না বদলায়।
আগেরবার সব ঠিক ছিল, তাই চেকআপ লাগবে নাক্ষতিকর হতে পারেপ্রতিটা গর্ভাবস্থা আলাদা; চেকআপে সমস্যা ধরা পড়তে পারে, যখন ব্যবস্থা নেওয়ার সময় থাকে।

প্রতিদিন তাঁর পাতে কী থাকা দরকার, দেখুন গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা লেখায়। নির্দিষ্ট কোনো খাবার নিয়ে পরিবারের দুশ্চিন্তা থাকলে লিখে রাখুন, পরের চেকআপে জিজ্ঞেস করুন।

গর্ভাবস্থার কোন প্রথাগুলো মা ও বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে?

খাবার কমানো বা বিছানায় আটকে রাখা ছাড়াও গর্ভাবস্থায় কুসংস্কারের কয়েকটায় পরিষ্কার কিন্তু নরম করে “না” বলা দরকার। এর কোনোটাই খারাপ উদ্দেশ্য থেকে আসেনি, তাই আস্তে আস্তে বুঝিয়ে বলুন:

  • কম খাওয়ানো। বাচ্চা ছোট রাখতে তাঁকে কম খাবার দেওয়া, বা সবার শেষে সবচেয়ে ছোট ভাগটা দেওয়া। যে বাচ্চা ঠিকমতো বাড়ে না, তার শুরুটা কঠিন হতে পারে, আর ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত মায়ের প্রসবের সময় শক্তি কম থাকতে পারে।
  • চেকআপ বাদ দেওয়া। আমাদের দেশে অন্তত ৪ বার চেকআপের পরামর্শ দেওয়া হয়, মোটামুটি ১৬, ২৪–২৮, ৩২ আর ৩৬ সপ্তাহে, আর অনেক ডাক্তার ৮ বার দেখাতে বলেন। আপনার সূচি ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার। দেখুন গর্ভকালীন চেকআপ লেখা।
  • আগে টোটকা, পরে হাসপাতাল। চিকিৎসায় যাওয়ার আগে ঘরোয়া টোটকা, তেল, ভেষজ বা পানি পড়া দিয়ে চেষ্টা করা। দোয়া আর ডাক্তার একসঙ্গে চলে; দোয়া পথেই পড়ে নেওয়া যায়।
  • সকাল বা অনুমতির জন্য অপেক্ষা। রক্ত যাওয়া, ব্যথা, পানি যাওয়া বা বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া রাতভর দেখে থাকার বিষয় নয়। বাসার যে কেউ যেন মুরুব্বির কথার অপেক্ষা না করে তাঁকে হাসপাতালে নিতে পারেন।

মুরুব্বি পুরোনো নিয়মে জোর দিলে কী বলবেন

সম্মান পেলে আর আলোচনায় জায়গা পেলে বেশিরভাগ মুরুব্বি নরম হন। শুধু তথ্যের চেয়ে এই ধাপগুলো প্রায়ই বেশি কাজে দেয়:

  1. ধন্যবাদ দিয়ে শুরু করুন। মুখে বলুন, আপনি জানেন পরামর্শটা ভালোবাসা থেকেই আসছে।
  2. নিরীহ প্রথাগুলো খোলাখুলিই মানুন, যাতে মুরুব্বি দেখেন আপনি সব কথা ফেলে দিচ্ছেন না।
  3. যেটা ক্ষতি করতে পারে, সেটা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে তাঁর কথাটা আনুন: “আমি পড়েছি” বলার চেয়ে “ডাক্তার বলেছেন” বেশি গুরুত্ব পায়।
  4. স্বামী নিজের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলুন। পুত্রবধূর চেয়ে ছেলের কথা সাধারণত সহজে শোনা হয়।
  5. পরের চেকআপে মুরুব্বিকে সঙ্গে নিন, বা ফোনে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করতে বলুন।
  6. একটা কথা আগেই ঠিক করে নিন: জরুরি অবস্থায় কেউ অনুমতির অপেক্ষা করবে না।

মুরুব্বিদের যা বলতে পারেন

  • আম্মা, জানি আপনি ভালোবেসেই বলছেন। আমরা এটা মানব, আর ডাক্তার যা বলেছেন সেটাও করব।
  • ডাক্তার বলেছেন ওকে কম না, ভালো করে খেতে হবে। মাছটা ওর পাতেই থাকুক।
  • গ্রহণের সময় আমরা ঘরেই থাকব, তবে ও স্বাভাবিকভাবে খাবে, পানিও খাবে।
  • এই লক্ষণগুলোর কোনোটা দেখলে দিন হোক রাত হোক, আমরা সোজা হাসপাতালে যাব। দোয়া পথেই পড়ে নেব।
  • চলুন, পরের চেকআপে আমরা সবাই মিলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করি।
  • স্বামীকে: “আম্মার সাথে কথা বলার সময় তুমি একটু পাশে থাকবে? তোমার কথা উনি সহজে মানেন।”

আমাদের পরিবারে: ধর্মবিশ্বাস, সাধ আর বাপের বাড়ি

আমাদের অনেক পরিবারে ধর্মবিশ্বাস গর্ভাবস্থারই অংশ: সহজ প্রসবের জন্য দোয়া, রোজ রাতে দোয়া পড়া, মুরুব্বিদের দোয়া। এগুলো চেকআপ আর হাসপাতালের চিকিৎসার পাশাপাশি স্বচ্ছন্দে চলে, আর অনেক পরিবার দুটোই করে।

  • সাধ: পরিবারের সুন্দর একটা আয়োজন। অনুষ্ঠানটা ছোট আর তাঁর জন্য আরামদায়ক রাখুন: ঠিকমতো খাবার, হেলান দেওয়ার মতো চেয়ার, আর পরে একটু শুয়ে থাকার সময়।
  • ডেলিভারির জন্য বাপের বাড়ি যাওয়া: অনেক মায়ের জন্য বড় স্বস্তি। কখন যাওয়া নিরাপদ, ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, আর হাসপাতালের পরিকল্পনা করুন ওই এলাকার জন্য, শুধু নিজের বাসার জন্য নয়।
  • গায়ের রং, ছেলে না মেয়ে, বা তাঁর শরীর নিয়ে মন্তব্য: তাঁর সামনে নরমভাবে থামিয়ে দিন। মানুষ যতটা ভাবে, এসব কথা প্রায়ই তার চেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
  • রাতের পরিকল্পনা: কোন হাসপাতাল, রাতে কীভাবে যাবেন আর কে নিয়ে যাবেন, এখনই ঠিক করুন। আমাদের বিনামূল্যের জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড বিপদ চিহ্নসহ সবকিছু একটা কার্ডে তুলে দেয়, পরিবারের সবার মোবাইলের জন্য।

বাসার প্রচলিত ধারণা নিয়ে ৭ দিনের পরিকল্পনা

প্রেগন্যান্সি ক্যালকুলেটর দিয়ে তিনি কত সপ্তাহের, তা বের করে নিন, যাতে জানেন পরের চেকআপ কবে। তারপর দিনে একটা করে ছোট পদক্ষেপ নিন, আর প্রতি সন্ধ্যায় বাসায় কী হলো লিখে রাখুন।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। খাবার, বাইরে যাওয়া, বিশ্রাম আর গ্রহণ নিয়ে তাঁকে যত নিয়ম মানতে বলা হচ্ছে, সব লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: তিনটা প্রশ্ন দিয়ে প্রতিটা নিয়ম যাচাই করুন। কোনটা নিরীহ আর কোনটা ক্ষতিকর হতে পারে, দাগ দিন।
  3. দিন ৩: নিরীহগুলো খোলাখুলি মানুন, আর মুরুব্বিকে জানান যে আপনারা মানছেন।
  4. দিন ৪: আজ তিনি কী খেলেন লিখে রাখুন: তিন বেলা খাবার আর নাশতা, যার বেশিরভাগে মাছ, ডিম, মাংস বা ডাল আছে।
  5. দিন ৫: যে ধারণাটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তা, সেটা বেছে নিন। পরের চেকআপের জন্য লিখে রাখুন, বা ডাক্তারের চেম্বারে ফোন করুন।
  6. দিন ৬: পরিবারের সবাই মিলে জরুরি লক্ষণগুলো পড়ুন, আর ঠিক করুন রাতে যে কেউ তাঁকে হাসপাতালে নিতে পারবেন।
  7. দিন ৭: সপ্তাহের নোটগুলো পড়ুন। তিনি কি আগের চেয়ে ভালো খাচ্ছেন, বিশ্রাম পাচ্ছেন? কোথাও কি এখনো কষ্ট হচ্ছে? পরের আলোচনার পরিকল্পনা করুন।

কখন সাহায্য নেবেন: গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন

বাসায় যে প্রথাই থাকুক, এই লক্ষণগুলো সবার আগে। জন্ম পরিকল্পনায় লেখা হাসপাতালে যান, অথবা কাছের যে হাসপাতালে ডেলিভারি হয় সেখানে। চেকআপ কার্ড সঙ্গে নিন।

গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • এক পায়ে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে: আজই ডাক্তার দেখান।
  • শেষের দিকে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি: আজই ডাক্তার দেখান।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা: আজই ডাক্তার দেখান।
  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: শান্ত থাকুন, তাঁর কাছে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন; না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • বাড়িতে কেউ মারধর বা হুমকি দিচ্ছে: এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।

গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার বা প্রথার মধ্যেও থাকে পরিবারের ভালোবাসা; সবচেয়ে নিরাপদ পরিবার সেই ভালোবাসা ধরে রাখে, আর কিছু ভুল মনে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

গ্রহণের সময় গর্ভবতী মায়ের কি বাইরে যাওয়া নিষেধ?

গ্রহণের কারণে বাচ্চার কোনো ক্ষতির কথা জানা নেই, তাই পরিবার চাইলে ঘরে থাকা একটা নিরীহ প্রথা। আসল কথা হলো, ওই সময়টায় তিনি যেন স্বাভাবিকভাবে খান, পানি খান আর বিশ্রাম নেন, আর কেউ যেন সরাসরি সূর্যের দিকে না তাকান, কারণ তাতে যে কারও চোখের ক্ষতি হতে পারে। গ্রহণের সময় কোনো বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

গর্ভাবস্থায় কম খেলে বাচ্চা ছোট হয়, ডেলিভারি সহজ হয়: এটা কি সত্যি?

না। কম খেলে প্রসব নিরাপদ হয় না, আর যে বাচ্চা ঠিকমতো বাড়ে না, জন্মের পর তার শুরুটা কঠিন হতে পারে। তাঁর দরকার নিয়মিত খাবার: ভাত বা রুটি, ডাল, মাছ, ডিম বা মাংস, সবজি আর ফল, সঙ্গে দুই বেলার মাঝে হালকা নাশতা। যদি এত বমি হয় যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, আজই ডাক্তার দেখান।

গর্ভাবস্থায় কোনো খাবার খেলে কি বাচ্চা ফর্সা হয়?

না। বাচ্চার গায়ের রং আসে বাবা-মায়ের কাছ থেকে, কোনো খাবারে তা বদলায় না: কাঁচা হলুদ, দুধ, জাফরান বা ডাবের পানি, কোনোটাতেই না। খাবারের অংশ হিসেবে স্বাভাবিক পরিমাণে এগুলো খাওয়া যায়। প্রতিটা গায়ের রংই সুন্দর, আর বাচ্চার রং নিয়ে মন্তব্য মাকে কষ্ট দিতে পারে। কোনো ভেষজ বা টোটকা বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।

প্রথম তিন মাস গর্ভধারণের খবর গোপন রাখা কি ঠিক?

হ্যাঁ। অনেক পরিবার আত্মীয়দের জানানোর আগে কিছুদিন অপেক্ষা করে, এটা একান্তই নিজেদের সিদ্ধান্ত। তবে দুটো ব্যাপার জরুরি: প্রথম চেকআপ আগেভাগে করান, কারণ অনেক ডাক্তার মোটামুটি ১২ সপ্তাহের মধ্যে দেখতে চান; আর বাসার অন্তত একজন যেন জানেন, যাতে বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে সাহায্য করতে পারেন। স্বামী, মা বা ভরসার কোনো ভাবি হলেই যথেষ্ট।

গর্ভবতী মায়ের কি সারাদিন শুয়ে থাকা উচিত?

বেশিরভাগ গর্ভবতী মায়ের বেলায়, না। ডাক্তার কোনো কারণে বিশ্রাম না বললে হালকা ঘরের কাজ, অল্প হাঁটা আর স্বাভাবিক দিনযাপন সাধারণত ঠিক আছে, আর তাতে ভালোও লাগতে পারে। তাঁর দরকার আসল বিশ্রাম: দুপুরে একটু শোয়া, ভারী কাজে সাহায্য, আর কেউ যেন তাঁকে ভারী জিনিস তুলতে বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলার পাশে দাঁড়াতে না বলেন। ২৮ সপ্তাহ থেকে তিনি কাত হয়ে ঘুমাবেন।

গর্ভাবস্থায় ধর্মীয় রীতি আর ডাক্তারের পরামর্শ কি একসঙ্গে মানা যায়?

হ্যাঁ। নামাজ, বাচ্চার জন্য দোয়া আর মুরুব্বিদের দোয়া চেকআপ আর হাসপাতালের চিকিৎসার পাশাপাশি সহজেই চলে, আর অনেক পরিবার দুটোই করে। গর্ভাবস্থায় রমজানের রোজার মতো ধর্মীয় প্রশ্নে পরিবারগুলো সিদ্ধান্ত নেয় নিজেদের ডাক্তার আর নিজেদের আলেমের সঙ্গে কথা বলে। নিরাপত্তার জন্য একটাই নিয়ম জরুরি: বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাওয়া, দোয়া পথেই পড়ে নেওয়া যায়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থা (১–৪০ সপ্তাহ): আরও গাইড

গর্ভাবস্থা: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।