মূল কনটেন্টে যান

গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন: কখন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যাবেন

ছোট করে উত্তর

গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হয়: যোনিপথে অল্প বা বেশি যেকোনো রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, ৩৭ সপ্তাহের আগে পানি যাওয়া, আর বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া। অনেক রক্ত, খিঁচুনি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
গর্ভবতী মা আর তাঁর পরিবার: গর্ভের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রসব, আর প্রসবের পরের কয়েক সপ্তাহ
মূল কথা
  • কিছু লক্ষণে এখনই ৯৯৯-এ কল করতে হয়: অনেক রক্ত যাওয়া, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
  • আরও কিছু লক্ষণে দিন হোক বা রাত, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হয়: অল্প রক্ত বা দাগ দেখা, জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা, তীব্র পেটব্যথা, ৩৭ সপ্তাহের আগে পানি যাওয়া, বা ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া।
  • প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি শেষ হয় না: প্রসবের পরের কয়েক সপ্তাহে অনেক রক্ত যাওয়া, খিঁচুনি আর জ্বরও বিপদ চিহ্ন।
  • হাসপাতাল, রাতে যাওয়ার গাড়ি আর দুই-তিনজন রক্তদাতা আগেই ঠিক করে রাখুন, আর সব একটা জন্ম পরিকল্পনা কার্ডে লিখে রাখুন।

গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন হলো গর্ভকালে, প্রসবের সময় বা প্রসবের পরের কয়েক সপ্তাহে এমন কিছু পরিবর্তন, যার জন্য পরের চেকআপ পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না। বেশিরভাগ গর্ভাবস্থা ভালোভাবেই কাটে, আর বেশিরভাগ ব্যথা বা দুশ্চিন্তা জরুরি অবস্থা নয়। কিন্তু অল্প কয়েকটা লক্ষণে এখনই হাসপাতালে যেতে হয়, কখনো এক ঘণ্টার মধ্যেই; আর এগুলো আগে থেকে জেনে রাখা পরিবারের জন্য সবচেয়ে কাজের প্রস্তুতিগুলোর একটা।

এই পাতায় পুরো তালিকা এক জায়গায় দেওয়া আছে, কী করতে হবে সেই অনুযায়ী ভাগ করে: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান, বা আজই ডাক্তার দেখান। গর্ভাবস্থা, প্রসবের সময় আর প্রসবের পরের সপ্তাহগুলো, পথে কী করবেন, আর দরকার পড়ার আগেই পরিবারকে কীভাবে তৈরি রাখবেন, সবই আছে। পাতাটা সেভ করে রাখুন, আর যিনি আপনার পাশে থাকবেন তাঁকেও পাঠিয়ে দিন।

গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন: পুরো তালিকা, কী করবেন সেই অনুযায়ী

নিচের বিপদ চিহ্নগুলো কী করতে হবে সেই অনুযায়ী সাজানো, কারণ বিপদের মুহূর্তে সমস্যার নাম জানার চেয়ে কী করবেন তা জানা বেশি জরুরি। এর কয়েকটা এমন অবস্থা থেকে হতে পারে যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খারাপের দিকে যায়, যেমন অনেক রক্তক্ষরণ বা রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া; তাই দ্রুত ডাক্তার দেখানো দরকার।

৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

  • যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব।
  • খিঁচুনি।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

দিন হোক বা রাত, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান

  • অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও।
  • প্রচণ্ড মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যাওয়া।
  • তীব্র বা না-কমা পেটব্যথা; প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা। অজ্ঞান হয়ে গেলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া, অথবা সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি।
  • ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না, আর আগে বাচ্চাকে নড়ানোর চেষ্টা করবেন না।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা।
  • এক পায়ে ব্যথা, লাল হয়ে ফুলে যাওয়া। সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।

আজই ডাক্তার দেখান

আজই ডাক্তার দেখান

  • এত বমি যে এক দিন ধরে পানিও পেটে থাকছে না, বা প্রস্রাব খুব কম হচ্ছে।
  • শেষের দিকে হাত-পায়ের তালুতে চুলকানি।
  • প্রস্রাবে জ্বালা বা ব্যথা।

ক্ষতির চিন্তা, বা কেউ আঘাত করলে

  • নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: শান্ত থাকুন, পাশে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন, না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
  • বাড়িতে কেউ মারধর বা হুমকি দিচ্ছে: এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।

বেশিরভাগ দিন মন খারাপ বা ভয় লাগলে সেটাও চেকআপে মুখ ফুটে বলুন। এটা অনেকেরই হয়, এটা দুর্বলতা নয়, আর সাহায্য তাড়াতাড়ি শুরু হলে সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

প্রসবের সময় বিপদ চিহ্ন: কখন হাসপাতালের দিকে রওনা দেবেন

প্রসবের সময়ের বিপদ চিহ্ন বুঝতে কী দেখছেন তার সঙ্গে কত সপ্তাহ চলছে তাও জরুরি। ৩৭ সপ্তাহের আগে প্রসব শুরু হওয়া মানে আগেভাগে প্রসব, আর তালিকার দুটো লক্ষণে তখন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হয়। ৩৭ সপ্তাহ থেকে প্রসবব্যথা শুরু হলে বা পানি ভাঙলে পরিকল্পনা সহজ: যে হাসপাতালে ডেলিভারি হবে, সেখানে চলে যান।

  • ৩৭ সপ্তাহের আগে: নিয়মিত পেট শক্ত হওয়া বা ব্যথা, নিচে চাপ লাগা। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৭ সপ্তাহের আগে: যোনিপথে পানি বা তরল যাওয়া। যেকোনো সময়: সবুজ, বাদামি বা দুর্গন্ধযুক্ত পানি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • ৩৭ সপ্তাহ থেকে: নিয়ম করে ব্যথা আসা, বা পানি ভেঙে যাওয়া। যে হাসপাতালে ডেলিভারি হবে সেখানে চলে যান; পথ দূরের হলে বা জ্যাম থাকলে দেরি না করে আগেভাগে রওনা দিন।
  • প্রসবের যেকোনো পর্যায়ে: অনেক রক্ত যাওয়া, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • বাড়িতে প্রসবব্যথা চলছে তো চলছেই, কিন্তু বাচ্চা হচ্ছে না: এটাও বাংলাদেশে শেখানো বিপদ চিহ্নগুলোর একটা। হাসপাতালে যান; বাড়িতে বসে অপেক্ষা করবেন না।

প্রশিক্ষিত ধাত্রীর সাহায্যে বাড়িতে ডেলিভারির পরিকল্পনা থাকলেও এই পাতার যেকোনো লক্ষণ মানে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল। প্রসবব্যথা শুরুর আগেই ধাত্রী আর পরিবারের সঙ্গে এ ব্যাপারে একমত হয়ে নিন, যাতে বিপদের মুহূর্তে কাউকে তর্ক করতে না হয়।

প্রসবের পর: প্রথম কয়েক সপ্তাহে মায়ের বিপদ চিহ্ন

বাচ্চা হয়ে গেলে অনেক পরিবার নিশ্চিন্ত হয়ে যায়, অথচ মায়ের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকির কিছু সময় আসে জন্মের ঠিক পরেই। প্রথম ৬ সপ্তাহ মায়ের শরীরের দিকে, আর পুরো প্রথম বছর তাঁর মনের দিকে খেয়াল রাখুন। নতুন মা প্রায়ই নিজের কষ্টের কথা সবার শেষে বলেন, তাই খেয়াল রাখার দায়িত্ব পরিবারের।

প্রসবের পর: কী করবেন

  • এক ঘণ্টা বা তার কম সময়ে প্যাড ভিজে যাওয়া, বড় চাকা রক্ত: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • খিঁচুনি; চোখে ঝাপসাসহ প্রচণ্ড মাথাব্যথা; হঠাৎ মুখ-হাত ফোলা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • জ্বর, কাঁপুনি, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, পেটে চাপ দিলে ব্যথা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • এক পা ব্যথা-লাল-ফোলা: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন।
  • সেলাইয়ের জায়গা লাল, গরম, পুঁজ বা খুলে যাওয়া: পুঁজ বের হলে, দুর্গন্ধ হলে বা খুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; শুধু লাল বা গরম হলে আজই ডাক্তার দেখান।
  • স্তন লাল, গরম, ব্যথা আর জ্বর: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
  • নিজের বা বাচ্চার ক্ষতি করার চিন্তা; অন্যরা দেখে না এমন কিছু দেখা বা শোনা; খুব এলোমেলো আচরণ; কয়েক দিন একদম ঘুম নেই: এখনই সাহায্য নিন; কারও বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন। কেউ একজন তাঁর পাশে থাকুন।
  • দুই সপ্তাহ বা বেশি দিন বেশিরভাগ সময় মন খারাপ, হতাশা বা দুশ্চিন্তা: একটা পরিকল্পনা করুন আর কয়েক দিনের মধ্যে ডাক্তার দেখান।

নবজাতকের নিজের বিপদ চিহ্নও আছে, যেমন দুধ না খাওয়া, খিঁচুনি, দ্রুত শ্বাস, বা প্রথম দিনেই গা হলুদ হয়ে যাওয়া। এগুলো নবজাতকের গাইডের সঙ্গে শিশু ও নবজাতকের পাতায় দেওয়া আছে। দুটো তালিকাই একই ফোনে রাখুন।

বিপদ চিহ্ন দেখলে কী করবেন: হাসপাতালে যাওয়ার পথে

  1. এখনই জন্ম পরিকল্পনায় ঠিক করা হাসপাতালে, অথবা যেখানে ডেলিভারি হয় এমন সবচেয়ে কাছের হাসপাতালে যান: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল বা মাতৃসদন। কমে কি না দেখার জন্য অপেক্ষা করবেন না।
  2. খিঁচুনি, অনেক রক্ত যাওয়া, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হলে সঙ্গে সঙ্গে ৯৯৯-এ কল করুন। নিজেদের গাড়ি তৈরি থাকলে রওনা দিন, ফোন সঙ্গে রাখুন।
  3. পথে মা বাঁ কাত হয়ে শুয়ে বা হেলান দিয়ে থাকবেন; শ্বাস নিতে কষ্ট হলে পিঠের নিচে কিছু দিয়ে উঁচু করে বসাবেন। কেউ একজন সারাক্ষণ তাঁর পাশে থাকবেন।
  4. গর্ভকালীন চেকআপের কার্ড (এএনসি কার্ড) আর রিপোর্টগুলো সঙ্গে নিন। ডাক্তারকে বলুন কত সপ্তাহের গর্ভ, বা জন্মের কত দিন হলো, আর কী দেখেছেন।
  5. রক্ত গেলে গাড়িতে বসেই রক্তদাতাদের ফোন করুন, যাতে তাঁরা হাসপাতালে চলে আসতে পারেন।
  6. একজন টাকা, ফোন আর চার্জার নেবেন; আরেকজন বাসায় বড় বাচ্চাদের কাছে থাকবেন।

যা বলতে পারেন

  • ৯৯৯-এ ফোনে: "আমার স্ত্রী ৩২ সপ্তাহের গর্ভবতী, অনেক রক্ত যাচ্ছে। আমাদের ঠিকানা …"
  • স্ত্রীকে: "আমি আছি। বাঁ কাত হয়ে শুয়ে থাকো। আমি তোমার পাশেই আছি।"
  • বাড়ির মুরুব্বিকে: "আম্মা, এই লক্ষণে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না। আমরা এখনই যাচ্ছি। আপনি একটু বাচ্চাদের দেখবেন।"
  • হাসপাতালের ডেস্কে: "উনি ৩০ সপ্তাহের গর্ভবতী। এই যে ওনার কার্ড। আজ দুপুর থেকে বাচ্চার নড়াচড়া কম।"
  • রক্তদাতাকে: "ভাই, আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি। ফোনটা খোলা রাখবেন, আপনাকে লাগতে পারে।"

দরকারের আগেই সেভ করুন: জন্ম পরিকল্পনা কার্ড

বিপদের সময় পরিবারের সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় কোথায় যাবে ঠিক করতে, রাতে গাড়ি খুঁজতে আর রক্ত জোগাড় করতে। তিনটাই কয়েক সপ্তাহ আগে ঠিক করে রাখা যায়। আমাদের বিনামূল্যের জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড আপনার পরিকল্পনা আর এই বিপদ চিহ্নগুলো একটা কার্ডে তুলে দেয়, যা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যায় বা ছাপিয়ে ফ্রিজে লাগিয়ে রাখা যায়। আপনি যা লেখেন তা কোথাও জমা থাকে না, কোথাও পাঠানো হয় না।

  • হাসপাতাল: নাম, ফোন নম্বর আর যাওয়ার পথ।
  • রাতে যাওয়ার ব্যবস্থা: গাড়ি, সিএনজিচালক বা অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর।
  • মায়ের রক্তের গ্রুপ, আর একই গ্রুপের দুই-তিনজন রক্তদাতা।
  • আলাদা করে রাখা টাকা, যা রাতেও কেউ হাতে পায়।
  • একটা ফাইলে: মায়ের এনআইডি, এএনসি কার্ড, রিপোর্ট আর রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট। ৯৯৯ আর হাসপাতালের নম্বর স্বামী-স্ত্রী দুজনের ফোনেই সেভ করে রাখুন।

ডাক্তার সবসময় জিজ্ঞেস করেন কত সপ্তাহ চলছে। ডেলিভারির তারিখের ক্যালকুলেটর দিয়ে একবার হিসাব করে কার্ডে ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ লিখে রাখুন। অনেক পরিবার ২৮ সপ্তাহের মধ্যে কার্ডটা বানিয়ে ফেলে; ডেলিভারির প্রস্তুতির গাইডে প্রতিটি ধাপ দেওয়া আছে।

আমাদের পরিবারে: মুরুব্বিরা, রাতের বেলা আর "দেখি একটু"

  • "আমারও এমন হয়েছিল, কিছু হবে না।" মুরুব্বিরা ভালোবাসা আর নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই এ কথা বলেন। তাঁদের ধন্যবাদ দিন, তবু হাসপাতালে যান: বিপদ চিহ্ন যাচাই করেন ডাক্তার, অন্যের গর্ভের সঙ্গে মিলিয়ে নয়।
  • স্বামীর বাসায় ফেরা বা কারও অনুমতির জন্য অপেক্ষা করলে সময় নষ্ট হয়। এখনই ঠিক করে রাখুন, যিনি পাশে থাকবেন তিনিই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন আর পথে স্বামীকে ফোন করবেন। স্বামী বিদেশে থাকলে বাসার একজনের কাছে কার্ড আর টাকা থাকবে।
  • ডেলিভারির জন্য বাপের বাড়ি যাওয়া অনেকের প্রিয় রীতি। যাওয়ার আগে সেখানকার সবচেয়ে কাছের হাসপাতাল খুঁজে নম্বর সেভ করুন, আর মা-বাবাকে বিপদ চিহ্নগুলো জানিয়ে রাখুন।
  • রক্ত বা স্রাবের কথা বলতে লজ্জায় অনেক মা চুপ করে থাকেন। একটা সহজ শব্দ ঠিক করে রাখুন যা তিনি বলবেন, বা এই তালিকার একটা ছবি যেটা দেখিয়ে দিলেই হবে।
  • মা রোজা রাখুন বা না রাখুন, বিপদ চিহ্ন দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে। গর্ভাবস্থায় রোজা রাখার সিদ্ধান্ত পরিবার নেয় ডাক্তার আর নিজেদের আলেমের সঙ্গে কথা বলে।

মুরুব্বিদের গর্ভাবস্থা নিয়ে আরও কিছু বিশ্বাস থাকে, যেগুলো নিয়ে শান্তভাবে কথা বলা দরকার; গর্ভাবস্থায় কুসংস্কার নিয়ে আমাদের গাইডে কী বলবেন তা দেওয়া আছে। যে স্বামী এই তালিকা মুখস্থ রাখেন, তিনি মায়ের সবচেয়ে বড় সুরক্ষাগুলোর একটা; দেখুন গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয়।

পরিবারকে তৈরি রাখার ৭ দিনের পরিকল্পনা

গর্ভাবস্থার বিপদ চিহ্ন জানা সবচেয়ে কাজে লাগে তখনই, যখন বাসার সবাই জানে আর পরিকল্পনা তৈরি থাকে। এই সপ্তাহে প্রতিদিন একটা ছোট কাজ করুন।

  1. ১ম দিন: স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে একবার জোরে জোরে তালিকাটা পড়ুন। একে অপরকে জিজ্ঞেস করুন, কোন লক্ষণগুলো আগে জানা ছিল না।
  2. ২য় দিন: হাসপাতাল ঠিক করুন। ফোন করে জেনে নিন সেখানে দিনরাত ডেলিভারি হয় কি না, আর ৯৯৯-এর সঙ্গে নম্বরটা দুজনের ফোনে সেভ করুন।
  3. ৩য় দিন: রাতে যাওয়ার ব্যবস্থা ঠিক করুন: গাড়ি, ফোন করলে আসবেন এমন চালক, বা সিএনজির নম্বর। জ্যামে কতক্ষণ লাগে তাও লিখে রাখুন।
  4. ৪র্থ দিন: মায়ের রক্তের গ্রুপ জেনে নিন, আর একই গ্রুপের দুই-তিনজন আত্মীয় বা বন্ধুকে রক্তদাতা হতে অনুরোধ করুন।
  5. ৫ম দিন: টাকা আলাদা করে রাখুন, আর এনআইডি, এএনসি কার্ড আর রিপোর্ট দিয়ে একটা ফাইল বানিয়ে দরজার কাছে রাখুন।
  6. ৬ষ্ঠ দিন: জন্ম পরিকল্পনা কার্ডটা বানিয়ে যাঁরা পাশে থাকবেন তাঁদের পাঠিয়ে দিন, মায়ের বাবা-মাসহ।
  7. ৭ম দিন: একবার মহড়া দিন: "রাত ২টায় হলে কে ফোন করবে, কে গাড়ি চালাবে, কে বাচ্চাদের কাছে থাকবে?" যেটা অস্পষ্ট লাগল, সেটা ঠিক করে নিন।

গর্ভাবস্থায় অনেক ছোটখাটো পরিবর্তন আসে, আর এক মুহূর্তের দুশ্চিন্তায় নয়, কয়েক দিন ধরে দেখলে সেগুলো ভালো বোঝা যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে। তবে এই পাতার কোনো বিপদ চিহ্ন দেখলে নোট নয়: সঙ্গে সঙ্গে রওনা দিন।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

গর্ভকালীন ৫টি বিপদ চিহ্ন কী কী?

বাংলাদেশে শেখানো গর্ভকালীন ৫টি বিপদ চিহ্ন হলো: যোনিপথে রক্ত যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখার সঙ্গে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বেশি জ্বর, আর প্রসবব্যথা অনেকক্ষণ ধরে চলা বা ব্যথা শুরু না হয়েই পানি ভেঙে যাওয়া। এর যেকোনোটা দেখলে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে শেখানো হয়। ওপরের পুরো তালিকায় আরও লক্ষণ আছে, যেমন বাচ্চার নড়াচড়া কমে যাওয়া আর শ্বাসকষ্ট, আর কোনটায় কত তাড়াতাড়ি যেতে হবে তাও বলা আছে।

গর্ভাবস্থায় কখন হাসপাতালে যাবেন?

দিন হোক বা রাত, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান যদি অল্প রক্ত বা দাগ দেখা যায়, ৩৮° সে. বা বেশি জ্বর আসে, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা হয়, হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে যায়, তীব্র পেটব্যথা হয়, ৩৭ সপ্তাহের আগে পানি যায় বা নিয়মিত ব্যথা ওঠে, অথবা ২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া কমে যায়। অনেক রক্ত, খিঁচুনি, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান হলে ৯৯৯-এ কল করুন।

গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে রক্ত গেলে কি জরুরি?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। অনেক রক্ত, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব থাকলে ৯৯৯-এ কলও করুন। প্রথম দিকে পেটের এক পাশে বা কাঁধের ডগায় ব্যথা হলেও, রক্ত যাক বা না যাক, সঙ্গে সঙ্গে যান। চেকআপের কার্ড সঙ্গে নিন, আর কত সপ্তাহ চলছে তা বলুন।

পেটের বাচ্চা কম নড়লে কী করব?

২৪ সপ্তাহের পর বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বন্ধ মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না, আর খাবার, ঠান্ডা পানি বা শুয়ে থেকে আগে বাচ্চাকে নড়ানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিটি বাচ্চার নড়াচড়ার নিজস্ব ধরন থাকে; সেই ধরন বদলানোটাই আসল লক্ষণ, কয়বার লাথি দিল সেটা নয়।

গর্ভাবস্থার জরুরি অবস্থায় কি ৯৯৯-এ কল করা যায়?

হ্যাঁ। ৯৯৯ বাংলাদেশের জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর, আর কল করতে টাকা লাগে না। বলুন যে তিনি গর্ভবতী, কত সপ্তাহ চলছে, কী দেখছেন আর আপনারা কোথায় আছেন। নিজেদের গাড়ি তৈরি থাকলে বসে অপেক্ষা করবেন না: হাসপাতালের দিকে রওনা দিন, ফোন সঙ্গে রাখুন।

ডেলিভারির পর মায়ের বিপদ চিহ্ন কী কী?

ডেলিভারির পর এক ঘণ্টা বা তার কম সময়ে প্যাড ভিজে গেলে বা বড় চাকা রক্ত গেলে, খিঁচুনি, চোখে ঝাপসাসহ প্রচণ্ড মাথাব্যথা, হঠাৎ মুখ-হাত ফোলা, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে ৯৯৯-এ কল করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। জ্বর, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, এক পা ব্যথা-ফোলা (সাথে শ্বাসকষ্ট থাকলে ৯৯৯), বা সেলাইয়ের জায়গায় পুঁজ এলে বা খুলে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।

গর্ভাবস্থায় খুব মাথাব্যথা হলে কি বিপদ?

প্রচণ্ড মাথাব্যথা, বা মাথাব্যথার সঙ্গে চোখে ঝাপসা বা আলোর ঝলক দেখা, অথবা হঠাৎ মুখ বা হাত ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান, কারণ এটা রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। মাথাব্যথা বারবার হলে বা দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারকে জানান; প্রতিটি গর্ভকালীন চেকআপে রক্তচাপ মাপা হয়।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

গর্ভাবস্থা (১–৪০ সপ্তাহ): আরও গাইড

গর্ভাবস্থা: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।