বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয়: স্বামী-স্ত্রী দুজনের ৩ মাসের প্রস্তুতি
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয় সবচেয়ে সহজ হয় প্রায় তিন মাস ধরে দুজনের একসাথে করা একটা পরিকল্পনায়। দুজনে মিলে চেকআপ করান, আর ডাক্তারকে ফলিক এসিড, টিটি টিকা আর থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষার কথা জিজ্ঞেস করুন। ঘর ধোঁয়ামুক্ত রাখুন, টাকা আর ছুটির পরিকল্পনা করুন, আর ১ বছর চেষ্টা করেও না হলে (৩৫ বা বেশি বয়সে ৬ মাস) ডাক্তার দেখান।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- যে দম্পতিরা বাচ্চা নেওয়ার কথা ভাবছেন, প্রথম সন্তান হোক বা আগে সন্তান থাকুক
- মূল কথা
- চেষ্টা শুরুর মোটামুটি তিন মাস আগে থেকে শুরু করুন: দুজনে মিলে একবার চেকআপ, আর ফলিক এসিড, টিটি টিকা ও থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন।
- প্রস্তুতি দুজনেরই: স্ত্রীর মতো স্বামীর স্বাস্থ্য, ধূমপান আর পাশে থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
- বাস্তব দিকগুলো আগেই গুছিয়ে নিন: টাকা, অফিসের ছুটি, ঘরের সাহায্য, আর পরিবারকে কতটা জানাবেন।
- ১ বছর চেষ্টা করেও না হলে ডাক্তার দেখান, বয়স ৩৫ বা বেশি হলে ৬ মাস পরেই; পিরিয়ড খুব অনিয়মিত বা বন্ধ থাকলে আরও আগে।
বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয় কী, এই প্রশ্নটা প্রায়ই শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর একান্ত আলাপ থেকে, তারপর আসে চারদিক থেকে পরামর্শের ঢল। সামনের কয়েক মাসের মধ্যে সন্তান নেওয়ার কথা ভাবলে, এখনকার একটু পরিকল্পনা গর্ভাবস্থার প্রথম সপ্তাহগুলোকে দুজনের জন্যই শান্ত আর স্বাস্থ্যকর করতে পারে।
লম্বা নিয়মের তালিকা লাগবে না। যা সবচেয়ে কাজে দেয় তা বেশ সহজ: দুজনে মিলে একবার চেকআপ, ডাক্তারকে কয়েকটা প্রশ্ন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই একটু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, আর টাকা, অফিস ও পরিবার নিয়ে একটা বাস্তব পরিকল্পনা। নিচে পাবেন: তিন মাসের পরিকল্পনা, ডাক্তারকে কী জিজ্ঞেস করবেন, পরিবারের চাপ সামলানোর কথা, ৭ দিনের শুরু, আর কখন ডাক্তার দেখাবেন।
বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয়: কেন তিন মাস আগে থেকে শুরু করবেন?
গর্ভাবস্থার প্রথম কয়েক সপ্তাহেই বাচ্চার শরীর গড়ে উঠতে শুরু করে, প্রায়ই তখনো মা জানেনই না যে তিনি গর্ভবতী। তাই চেষ্টা শুরুর আগের মাসগুলো গুরুত্বপূর্ণ: এই সময়ে কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা, ওষুধগুলো ডাক্তারকে দেখিয়ে নেওয়া, বাকি থাকা টিকা দেওয়া আর অভ্যাস বদলানো যায়, যাতে গর্ভাবস্থা একটা ভালো অবস্থা থেকে শুরু হয়।
প্রথম বাচ্চা নেওয়ার প্রস্তুতি হোক বা পরের সন্তানের, তিন মাস মোটামুটি যথেষ্ট সময়: একটা চেকআপ, ডাক্তার যেসব পরীক্ষা করতে বলেন, আর কয়েকটা অভ্যাস গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। এটা কোনো বাঁধা সময়সীমা নয়। আপনারা যদি এর মধ্যেই চেষ্টা শুরু করে থাকেন, বা আগেই জেনে যান যে আপনি গর্ভবতী, তাহলে যেখানে আছেন সেখান থেকেই শুরু করুন।
| মাস | দুজনের জন্য | জেনে রাখুন |
|---|---|---|
| প্রথম মাস | দুজনে মিলে ডাক্তার দেখান। স্বাস্থ্যের কাগজপত্র নিয়ে যান, যে ওষুধ খান তার তালিকা করুন, আর নিচের প্রশ্নগুলো জিজ্ঞেস করুন। | নিয়মিত কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না; আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। |
| দ্বিতীয় মাস | ডাক্তার যেসব পরীক্ষা আর টিকার কথা বলেন, সেগুলো করিয়ে নিন। ঘর ধোঁয়ামুক্ত করুন, আর দুজনে মিলে প্রতিদিন হাঁটা শুরু করুন। | কোনো টিকা নিলে জিজ্ঞেস করুন, চেষ্টা শুরুর আগে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে কি না। |
| তৃতীয় মাস | টাকা, ছুটি আর ঘরের সাহায্যের পরিকল্পনা করুন। পরিবারকে কী আর কখন বলবেন, দুজনে মিলে ঠিক করুন। | দুজনেই প্রস্তুত মনে করলে চেষ্টা শুরু করুন; প্রায়ই কয়েক মাস সময় লাগে। |
গর্ভধারণের আগে করণীয়: চেকআপ আর ডাক্তারকে কী জিজ্ঞেস করবেন
গর্ভধারণের আগের চেকআপ মানে চেষ্টা শুরুর আগে একজন গাইনি ডাক্তার বা আপনাদের পারিবারিক ডাক্তারের কাছে একটা সাধারণ ভিজিট। পারলে দুজন একসাথে যান: সন্তান আসে দুজনের থেকেই, কিছু প্রশ্নও দুজনেরই। এই ধাপগুলো এক ভিজিটের জন্য সহজ একটা চেকলিস্ট হিসেবে কাজে দেবে।
- কাগজপত্র গুছিয়ে নিন: টিকার কার্ড, রক্তের গ্রুপের রিপোর্ট, পুরোনো প্রেসক্রিপশন, আর আগের অসুখ বা গর্ভাবস্থার রিপোর্ট।
- দুজনের যে কেউ যত ওষুধ, ভেষজ বা কবিরাজি টোটকা আর সাপ্লিমেন্ট খান, সব একটা তালিকায় লিখে ডাক্তারকে দেখান। নিয়মিত কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
- দীর্ঘমেয়াদি কোনো অসুখ থাকলে জানান, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা বা মৃগী। অনেক অসুখই গর্ভাবস্থায় ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, আর আগে থেকে পরিকল্পনা করলে সুবিধা হয়।
- ফলিক এসিড নিয়ে জিজ্ঞেস করুন: চেষ্টা শুরুর আগে থেকেই খাওয়া উচিত কি না, আর কোন ট্যাবলেট কতটুকু আপনার জন্য ঠিক। এটা ঠিক করবেন আপনার ডাক্তার; আমরা এখানে মাত্রা বলি না।
- জিজ্ঞেস করুন, আপনার টিটি টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না। বাংলাদেশে মেয়েদের প্রায়ই কিশোর বয়স থেকে বা গর্ভাবস্থায় এই টিকা দেওয়া হয়, তাই কার্ড থাকলে সাথে নিন।
- দুজনের থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষার কথা জিজ্ঞেস করুন, বিশেষ করে কোনো পরিবারে কারও থ্যালাসেমিয়া থাকলে, বা আপনারা রক্তের সম্পর্কে আত্মীয় হলে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বাহক হলে বাচ্চা থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাতে পারে, তাই আগে জানলে ডাক্তারের সাথে ভালোভাবে কথা বলার সময় পাবেন।
- দুজনের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখুন, আর জিজ্ঞেস করুন আর কোন রক্ত বা প্রস্রাবের পরীক্ষা ডাক্তার আপনাদের জন্য দরকার মনে করেন।
আগে সন্তান থাকলে, স্বাস্থ্য নির্দেশনা হলো একটি জন্মের পর পরের গর্ভধারণের আগে অন্তত ২ বছর অপেক্ষা করা। আগের গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত বা সিজারের কথা ডাক্তারকে জানান, যাতে পরিকল্পনাটা আপনার ইতিহাসের সাথে মেলে।
বাচ্চা নেওয়ার আগের প্রস্তুতি: দুজনের অভ্যাস
বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই করণীয় আছে: এই অভ্যাসগুলো স্বামীর জন্যও। গর্ভধারণে তাঁর স্বাস্থ্য আর অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ, আর পুরো ঘর একসাথে বদলালে স্ত্রীর জন্যও বদলানো সহজ হয়।
- ঘর ভেতরে-বাইরে ধোঁয়ামুক্ত করুন। আপনাদের কেউ ধূমপান করলে, বা জর্দা, গুল বা তামাকসহ পান খেলে, ছাড়ার এটাই ভালো সময়; ডাক্তার এতে সাহায্য করতে পারেন।
- নিয়মিত, নানা রকম খাবার খান: ভাত বা রুটি, ডাল, মাছ, ডিম বা মাংস, সবুজ শাক আর মৌসুমি ফল। বিশেষ বা দামি খাবারের দরকার নেই।
- প্রতিদিন একটু নড়াচড়া করুন। সন্ধ্যায় বা ভোরে দুজনে মিলে জোরে হাঁটাও যথেষ্ট, আর এতে ঘুম আর মনও প্রায়ই ভালো থাকে।
- যেকোনো ওষুধ, ভেষজ টোটকা, বা অনলাইনে বা কবিরাজের কাছে বিক্রি হওয়া 'বাচ্চা হওয়ার ওষুধ' খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, আর কাজে বা শখে কড়া রাসায়নিক, কীটনাশক বা ভারী জিনিস তোলার ব্যাপার থাকলে সাবধান থাকুন; নিশ্চিত না হলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- দাঁতের যত্ন নিন: গর্ভাবস্থার সময়ের চেয়ে আগেই দাঁতের ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া সহজ।
- ঘুম আর মানসিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্রামের সময় রাখুন, আর দুশ্চিন্তা নিয়ে একে অপরের সাথে কথা বলুন।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা: টাকা, অফিস আর ঘরের সাহায্য
সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি শুধু স্বাস্থ্য নিয়ে নয়। যে পরিবারগুলো বাস্তব দিকগুলো আগেভাগে গুছিয়ে নেয়, তারা পরে, বিশেষ করে রাতে বা জরুরি অবস্থায়, প্রায়ই কম আতঙ্কে থাকে।
- টাকা: প্রতি মাসে একটু একটু করে চেকআপ, পরীক্ষা, ডেলিভারি আর জরুরি খরচের জন্য আলাদা করে রাখা শুরু করুন।
- অফিস: আপনার কর্মস্থলে মাতৃত্বকালীন ছুটির নিয়ম জেনে নিন; স্বামীও জেনে নিন ডেলিভারির সময় তিনি কয়েক দিন ছুটি নিতে পারবেন কি না।
- চিকিৎসা: কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যেতে পারেন, আর রাতে সেখানে কীভাবে পৌঁছাবেন, তা ভাবুন। সময় হলে আমাদের জন্ম পরিকল্পনা ও জরুরি কার্ড সব তথ্য এক পাতায় গুছিয়ে দেয়।
- ঘরের সাহায্য: গর্ভাবস্থায় আর প্রথম কয়েক মাসে কে পাশে থাকবেন তা নিয়ে কথা বলুন: পরিবারের কেউ, গৃহকর্মী, নাকি স্বামী তাঁর কাজের সময় একটু বদলাবেন।
আপনি চাকরি করলে, সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতির জন্য কাজ ছাড়ার দরকার নেই। লম্বা শিফট, রাতের ডিউটি, ভারী জিনিস তোলা বা রাসায়নিক নিয়ে কাজ থাকলে ডাক্তারকে জানান; আর গর্ভবতী হলে অফিসে কখন জানাবেন তা ভেবে রাখুন। অনেকে প্রথম চেকআপের পর জানান।
বাংলাদেশি পরিবারে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা: পরিবার, চাপ আর গোপনীয়তা
অনেক বাংলাদেশি পরিবারে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই প্রশ্ন শুরু হয়, 'সুখবর কবে দিচ্ছ?' আর চাপটা সাধারণত পড়ে স্ত্রীর ওপর। এই চাপ প্রায়ই ভালোবাসা থেকেই আসে, কিন্তু এতে একান্ত একটা সিদ্ধান্ত সবার সামনের বিষয় হয়ে যায়।
- সিদ্ধান্তটা আপনাদের দুজনের। কাউকে তারিখ জানাতে আপনারা বাধ্য নন, আর যতদিন চান পরিকল্পনাটা নিজেদের মধ্যে রাখতে পারেন।
- স্বামী নিজের পরিবারের সাথে কথা বলুন। পুত্রবধূর যেকোনো কথার চেয়ে ছেলের নরম একটা কথা বাবা-মায়ের কাছে প্রায়ই বেশি পৌঁছায়।
- গর্ভধারণ কখনো শুধু স্ত্রীর দায়িত্ব নয়। সমস্যা স্বামী-স্ত্রী যে কারও, বা দুজনেরই থাকতে পারে, তাই চেকআপ দুজনেরই, আর এতে কারও দোষ নেই।
- অনেক দম্পতির পরিকল্পনায় বিশ্বাসও জড়িয়ে থাকে, একসাথে দোয়া হোক বা কোনো আত্মীয়ের দেওয়া তাবিজ। ধর্মীয় প্রশ্নে পরিবারগুলো নিজেদের আলেমদের পরামর্শ মেনে চলেন; এই লেখা স্বাস্থ্য আর পরিকল্পনা নিয়ে।
- আত্মীয়দের মন্তব্যে ক্লান্ত লাগলে, ছোট্ট একটা নরম কথা বলে প্রসঙ্গ বদলে ফেলাই যথেষ্ট। নিজেদের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করার দরকার নেই।
যা বলতে পারেন
- শাশুড়িকে: "আম্মা, আমরা ভাবছি। সুখবর হলে আপনিই সবার আগে জানবেন।"
- স্বামী তাঁর মাকে: "আম্মা, এটা আমরা দুজন মিলে ঠিক করব। ওকে প্রতি মাসে জিজ্ঞেস কোরো না, এতে শুধু চাপ বাড়ে।"
- স্বামীকে: "এই মাসে আমরা একসাথে ডাক্তার দেখাতে যাই? তুমি সাথে থাকলে আমার ভালো লাগবে।"
- একে অপরকে: "সময় লাগলে সেটা কারও দোষ না। আমরা দুজন মিলে সামলাব।"
- জিজ্ঞেস করা আত্মীয়কে: "জিজ্ঞেস করার জন্য ধন্যবাদ। আমরা প্রস্তুত হলে নিজেরাই খবর দেব।"
গর্ভাবস্থা শুরু হলে স্বামীর কী কী করণীয়, তার পুরো তালিকা পাবেন গর্ভাবস্থায় স্বামীর করণীয় লেখায়।
বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয়: ৭ দিনের শুরু
- দিন ১: মোবাইল সরিয়ে রেখে দুজনে মিনিট বিশেক কথা বলুন: কবে থেকে চেষ্টা শুরু করতে চান, আর কার কী নিয়ে দুশ্চিন্তা।
- দিন ২: দুজনের জন্য চেকআপের সময় নিন, আর প্রশ্নগুলো লিখে ফেলুন (ফলিক এসিড, টিটি টিকা, থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ)।
- দিন ৩: কাগজপত্র গুছিয়ে নিন, আর দুজনে যত ওষুধ ও টোটকা খান তার তালিকা করুন।
- দিন ৪: দুজনে মিলে বদলানোর মতো একটা অভ্যাস বেছে নিন, যেমন ধোঁয়ামুক্ত ঘর বা সন্ধ্যায় হাঁটা, আর আজই শুরু করুন।
- দিন ৫: চেকআপ আর ডেলিভারির খরচের জন্য আলাদা একটা সঞ্চয় শুরু করুন, অল্প হলেও।
- দিন ৬: পরিবারকে কী বলবেন তা নিয়ে একমত হোন, আর কেউ জিজ্ঞেস করলে বলার মতো একটা নরম কথা ঠিক করে রাখুন।
- দিন ৭: সপ্তাহটা ফিরে দেখুন: কী হয়ে গেল, কোনটা কঠিন লাগল, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে কী করবেন।
চেষ্টা শুরু করলে, মাসিক চক্রের কোন সময়টা সবচেয়ে ভালো তা বুঝতে পড়ুন গর্ভধারণের উপযুক্ত সময়, আর পিরিয়ড দেরি হলে কী করবেন তা আছে পিরিয়ড মিস হওয়ার কত দিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট লেখায়।
বাচ্চা নেওয়ার আগে বা চেষ্টার সময় কখন ডাক্তার দেখাবেন
বেশিরভাগ দম্পতির চেষ্টা শুরুর আগে একটা চেকআপের বেশি কিছু লাগে না। তবে এই লক্ষণগুলো থাকলে অপেক্ষা না করে ডাক্তার দেখান:
এসব হলে ডাক্তার দেখান, হাসপাতালে যান বা ৯৯৯-এ কল করুন
- ১ বছর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ হয়নি, বা বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ৬ মাস: দুজনেই ডাক্তার দেখান।
- পিরিয়ড খুব অনিয়মিত, কয়েক মাস ধরে বন্ধ, বা খুব ব্যথা হয়: চেষ্টা শুরুর আগেই ডাক্তার দেখান, এক বছর অপেক্ষা করবেন না।
- দুজনের কারও দীর্ঘমেয়াদি অসুখ থাকলে, নিয়মিত ওষুধ খেলে, বা পেটে বা প্রজনন অঙ্গে অপারেশন হয়ে থাকলে: চেষ্টা শুরুর আগে ডাক্তার দেখান।
- দুজনের কারও দুই সপ্তাহ বা বেশি দিন বেশিরভাগ সময় মন খারাপ, হতাশা বা দুশ্চিন্তা থাকলে, বা পরিবারের চাপ অসহ্য লাগলে: ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। সাহায্য দম্পতিদেরও প্রাপ্য।
- নিজের ক্ষতি করার বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার চিন্তা: বিশ্বাস করেন এমন কারও কাছে থাকুন; এখনই বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ কল করুন, না হলে সেদিনই ডাক্তার দেখান।
- যোনিপথে অনেক রক্ত যাওয়া, অথবা রক্তের সাথে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান ভাব, যখন আপনি গর্ভবতী হতে পারেন: ৯৯৯-এ কল করুন, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
- পজিটিভ টেস্টের পর: অল্প রক্ত বা দাগ দেখা গেলেও, বা প্রথম দিকে পেটের এক পাশে ব্যথা বা কাঁধের ডগায় ব্যথা হলে: সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান। সব লক্ষণ আছে গর্ভাবস্থায় বিপদ চিহ্ন লেখায়।
বাচ্চা নিতে চাইলে করণীয়গুলো দুজনের একসাথে করার কাজ, আর ছোট ছোট ধাপে করলে হালকা লাগে। ParentMind সন্তান আসার পরের বছরগুলোর জন্য: প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে। দেখুন ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
বাচ্চা নেওয়ার কত মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত?
মোটামুটি তিন মাস আগে থেকে শুরু করা ভালো। এতে দুজনে মিলে চেকআপ, ডাক্তার যেসব পরীক্ষা বা টিকার কথা বলেন সেগুলো, আর ধোঁয়ামুক্ত ঘরের মতো কয়েকটা অভ্যাস গুছিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়া যায়। এর মধ্যেই চেষ্টা শুরু করে থাকলে বা গর্ভবতী হয়ে গেলে, পেরিয়ে যাওয়া মাসগুলো নিয়ে চিন্তা করবেন না: এখনই চেকআপের সময় নিন, আর যেখানে আছেন সেখান থেকে শুরু করুন।
বাচ্চা নেওয়ার আগে ডাক্তারকে কী কী জিজ্ঞেস করব?
জিজ্ঞেস করুন: ফলিক এসিড (চেষ্টা শুরুর আগেই খাওয়া শুরু করবেন কি না, আর কতটুকু), আপনার টিটি টিকা সম্পূর্ণ কি না, দুজনের থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ, আর দুজনের কারও খাওয়া কোনো ওষুধ বদলাতে হবে কি না। দীর্ঘমেয়াদি অসুখ, আর আগের গর্ভাবস্থা, গর্ভপাত বা সিজারের কথাও জানান। কিছু যেন বাদ না পড়ে, তাই প্রশ্নগুলো লিখে নিয়ে যান।
বাচ্চা নেওয়ার আগে স্বামীরও কি চেকআপ দরকার?
হ্যাঁ, এতে সুবিধা হয়। থ্যালাসেমিয়া বাহক পরীক্ষা আর রক্তের গ্রুপ দুজনেরই জানা দরকার, আর গর্ভধারণে স্বামীর স্বাস্থ্য, ওষুধ, ধূমপান ও তামাকের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। একসাথে গেলে দায়িত্বও ভাগ হয়: সব প্রশ্ন স্ত্রীকে একা বয়ে বেড়াতে হয় না, আর ডাক্তারও দুজনের কথাই শোনেন। পরে যদি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগে, তখনও দুজনকেই দেখানো হয়।
এক সন্তানের পর আরেকটি বাচ্চা নিতে কত দিন অপেক্ষা করা উচিত?
স্বাস্থ্য নির্দেশনা হলো একটি জন্মের পর পরের গর্ভধারণের আগে অন্তত ২ বছর অপেক্ষা করা। এতে মায়ের শরীর সেরে ওঠার সময় পায়, আর বড় সন্তানও সময় পায়। সিজার, গর্ভপাত বা কঠিন ডেলিভারি হয়ে থাকলে আপনার জন্য কী ঠিক তা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, আর ততদিন কীভাবে বিরতি রাখবেন তা নিয়েও কথা বলুন।
বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করছি, এটা কি পরিবারকে জানানো উচিত?
শুধু যদি আপনারা চান। কেউ কেউ পরিবারের পাশে থাকা পছন্দ করেন; কেউ গোপন রাখতে চান, কারণ প্রতি মাসের প্রশ্নে চাপ বাড়ে। দুটোই ঠিক। দুজনে মিলে ঠিক করুন, আর স্বামীর পরিবারের প্রশ্নের উত্তর স্বামীই দিন। 'আমরা প্রস্তুত হলে নিজেরাই খবর দেব', এটুকু বলাই যথেষ্ট।
বাচ্চা নেওয়ার প্রস্তুতির সময় কি চাকরি চালিয়ে যাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বেশিরভাগ নারী কাজ চালিয়ে যান। আপনার কাজের কথা ডাক্তারকে জানান, বিশেষ করে রাতের শিফট, লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকা, ভারী জিনিস তোলা, বা রাসায়নিক ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ থাকলে, যাতে তিনি পরামর্শ দিতে পারেন। কর্মস্থলের মাতৃত্বকালীন ছুটির নিয়ম আগেই জেনে নিন, আর ঘরের কাজ কীভাবে ভাগ হবে তা স্বামীর সাথে মিলে ঠিক করুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

