মূল কনটেন্টে যান

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ? কেন হয় আর কী করবেন

ছোট করে উত্তর

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ হওয়া ৫–১১ বছরে খুব সাধারণ: সারাদিন নিজেকে সামলে রাখা ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত বাচ্চা বাসায় এসে ভেঙে পড়ে, কারণ বাসাতেই সে সবচেয়ে নিরাপদ বোধ করে। বাসায় ফেরার শান্ত রুটিন প্রায়ই কাজে দেয়: পানি আর নাশতা, চুপচাপ সময়, আর কিছুক্ষণ কোনো প্রশ্ন নয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ দিন এমন চললে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন।

ParentMind টিমের লেখা১৩ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৬ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৫–১১ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাদের বাচ্চা স্কুলে শান্ত, কিন্তু বাসায় ফিরে কাঁদে, চিৎকার করে বা একদম চুপ হয়ে যায়
মূল কথা
  • স্কুলের পরে মেজাজ খারাপ মানে প্রায়ই বাচ্চা সারাদিন নিজেকে সামলে রেখেছে; এর মানে এই নয় যে স্কুল বা বাসায় কিছু ভুল হচ্ছে।
  • খিদে আর ক্লান্তিই সাধারণত মূল কারণ, তাই যেকোনো প্রশ্নের আগে পানি আর পেট ভরার মতো নাশতা।
  • নাশতা, ২০–৩০ মিনিট চুপচাপ সময় আর কোনো প্রশ্ন নয়: বাসায় ফেরার এমন চেনা রুটিনে অনেক বাচ্চা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসে।
  • স্কুলের পরপরই কোচিং থাকলে সামলে ওঠার সময় থাকে না; মাঝে আসল খাবার আর একটু বিশ্রাম প্রায়ই কাজে দেয়।

স্কুলে বাচ্চা শান্ত, অথচ বাসায় ঢুকতেই কান্না, চিৎকার, দরজা ধাক্কা, বা একদম চুপ? এমনটা শুধু আপনার বাসাতেই হয় না। স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ হওয়া ৫–১১ বছর বয়সে খুব চেনা ব্যাপার, আর এটা আপনার লালন-পালনের চেয়ে বরং লম্বা একটা দিনের কথাই বেশি বলে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিয়ম মেনে, নিজের পালার অপেক্ষা করে, চুপচাপ বসে থেকে আর ছোটখাটো কষ্ট মনে চেপে রেখে বাসায় ফেরার সময় অনেক বাচ্চার আর একটুও ধৈর্য বা শক্তি বাকি থাকে না। বাসাই সেই জায়গা, যেখানে সে নিশ্চিন্তে ভেঙে পড়তে পারে। তাই বলে মারা বা বেয়াদবি ঠিক নয়, কিন্তু কী কাজে দেবে সেটা বদলে যায়: আগে খাবার, বিশ্রাম আর শান্ত পরিবেশ, প্রশ্ন পরে।

নিচে পাবেন: কেন এমন হয়, ঠিক সেই মুহূর্তে কী করবেন, বাসায় ফেরার শান্ত রুটিন, স্কুলের কথা কীভাবে জানবেন, কোচিং কীভাবে মেলাবেন, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন সাহায্য নেবেন।

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ হয় কেন?

স্কুল থেকে এসে খিটখিটে বাচ্চার পেছনে সাধারণত একটা বড় সমস্যা থাকে না; কয়েকটা সাধারণ কারণ একসাথে জমে যায়। এর বেশিরভাগই শরীর আর দিনটার সাথে জড়িত, আপনার সাথে নয়।

  • খিদে: টিফিন প্রায়ই অল্প, তাড়াহুড়ায় খাওয়া, বন্ধুর সাথে বদলানো, বা না খেয়েই ফেরত আনা; তাই স্কুল ছুটির সময় অনেক বাচ্চার পেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠিকমতো কিছু পড়েনি। খিদে পেলে বাচ্চার ধৈর্য অনেক তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়।
  • ক্লান্তি: ভোরে ওঠা, হইচইয়ের ক্লাসরুম, গরম আর যানজটে ধীরগতির ফেরা, সব মিলিয়ে শক্তি ফুরিয়ে যায়; বিশেষ করে ভোরবেলা শুরু হওয়া মর্নিং শিফটের পর। স্কুল শেষে খিদে আর ক্লান্তি একসাথে হলে মেজাজ খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
  • সারাদিন নিজেকে সামলে রাখা: স্কুলে বাচ্চাকে নির্দেশ মানতে হয়, চুপচাপ বসে থাকতে হয়, পালার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, ছোটখাটো কষ্ট গিলে ফেলতে হয়। বাসায় এসে সেই চেপে রাখা অনুভূতি বেরিয়ে আসাকে ইংরেজিতে অনেকে বলেন 'after school restraint collapse'। এটা একটা চেনা ধরনের বর্ণনা, কোনো রোগ নয়।
  • খুব তাড়াতাড়ি অনেক প্রশ্ন: গেটেই 'পরীক্ষা কেমন হলো? কত পেলে? টিফিন খাওনি কেন?' শুনলে বাচ্চার মনে হতে পারে, স্কুল এখনো শেষ হয়নি।
  • এমন কোনো কঠিন মুহূর্ত, যা সে এখনো বলেনি: বকা খাওয়া, বন্ধুর সাথে ঝগড়া, পরীক্ষা খারাপ হওয়া, বা কেউ খেপিয়েছে।
  • জায়গা বদলের ধাক্কা: এক জায়গা আর এক রকম নিয়ম থেকে আরেকটায় যাওয়া ছোটদের জন্য কঠিন, আর পরপরই হোমওয়ার্ক বা কোচিং থাকলে আরও কঠিন।

বয়স অনুযায়ী এই মেজাজ খারাপ দেখতে কেমন

বয়স অনুযায়ী: সাধারণত কেমন দেখায়, আর কী প্রায়ই কাজে দেয়
বয়সসাধারণত কেমন দেখায়কী প্রায়ই কাজে দেয়
৫–৭ বছর (কেজি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি)ছোট ব্যাপারে কান্না, কোল ছাড়তে না চাওয়া, ঘ্যানঘ্যান, মেঝেতে শুয়ে পড়া, ভাইবোনকে ধাক্কাআগে খাবার আর আদর, খুব কম কথা, একটু আগে ঘুম
৮–৯ বছর (তৃতীয়–চতুর্থ শ্রেণি)কথায় কথায় খেঁকিয়ে ওঠা, সব কিছুতে তর্ক, 'স্কুল ভালো লাগে না', দরজা ধড়াম করে বন্ধ করানাশতা আর একটু একা থাকার সুযোগ, নির্দিষ্ট চুপচাপ সময়, পরে পাশাপাশি বসে কথা
১০–১১ বছর (পঞ্চম–ষষ্ঠ শ্রেণি)চুপ হয়ে যাওয়া, নিজের ঘরে দরজা বন্ধ, বেয়াদবি, 'আমাকে একা থাকতে দাও'চুপ থাকাকে সম্মান করুন, পাশে নাশতা রেখে দিন, ঘুমের আগে বা হাঁটতে হাঁটতে গল্প

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চা কান্নাকাটি বা রাগ করলে কী করবেন

বাসায় ফিরে বাচ্চা রাগ দেখায়, বা ছুটির পর রিকশা বা গাড়িতে উঠেই চেঁচামেচি শুরু করে? মেজাজ খারাপ একবার শুরু হয়ে গেলে লক্ষ্য হলো বাচ্চার শরীর আর মনকে শান্ত হতে সাহায্য করা; তর্কে জেতা বা শিক্ষা দেওয়া নয়। ৫–১১ বছরের বেশিরভাগ বাচ্চার জন্য এই ধাপগুলো মানানসই।

  1. নিজের গলা নিচু আর ধীর রাখুন। আপনার শান্ত থাকাটাই বাচ্চার প্রথম ভরসা।
  2. আগে শরীরের চাহিদা মেটান: কোনো কথার আগে পানি আর পেট ভরার মতো নাশতা।
  3. কম কথা বলুন। দুই-এক কথায় অনুভূতিটার নাম দিন, তারপর থামুন: 'লম্বা দিন গেছে। তুমি ক্লান্ত, রেগেও আছো।'
  4. সবাইকে নিরাপদ রাখুন। ছোট ভাইবোনকে সরিয়ে নিন, আর শান্তভাবে মারা বা ছুড়ে ফেলা আটকান: 'মারতে দেব না।'
  5. কাছেই একটু শান্ত জায়গা দিন, যেমন ফ্যানের নিচে ঠান্ডা কোনো কোণ। বাচ্চা চাইলে পাশে থাকুন, একটু জায়গা চাইলে সামান্য সরে বসুন।
  6. অপেক্ষা করুন। খেয়ে একটু বিশ্রাম নিলে অনেক সময় কয়েক মিনিটেই মেজাজ নরম হয়ে আসে, যদিও কখনো কখনো বেশি সময় লাগে।
  7. কথা পরে। দিনের গল্প, বা কোনো বেয়াদবি নিয়ে কথা বলুন শান্ত সময়ে, যেমন রাতের খাবারের সময় বা ঘুমের আগে; আর মন-কষাকষি মিটিয়ে নিন: 'আজ বিকেলটা দুজনেরই কঠিন গেছে।'

যা বলতে পারেন

  • বাসায় চলে এসেছ। আগে একটু পানি খাও।
  • কিছু বলতে হবে না। আমি পাশেই আছি।
  • তুমি খুব রেগে আছো। কিন্তু বোনকে মারতে দেব না। এসো, আমার পাশে বসো।
  • আগে নাশতা। স্কুলের গল্প পরে শুনব, কেমন?
  • যখন মন চাইবে, বলো। আমি রান্নাঘরেই আছি।
  • আজ বিকেলটা কঠিন গেল, তাই না? কাল ফেরার পথেই একটা কলা খেয়ে নেবে?

ঝড়ের মুহূর্তে কীভাবে নিজেকে স্থির রাখবেন, আর বাচ্চাকে অনুভূতির নাম বলতে শেখানো নিয়ে আরও পড়ুন শিশুর আবেগ সামলাতে সাহায্য করার উপায় লেখায়।

স্কুলের পরে কী কাজে দেয়? নাশতা, চুপচাপ সময় আর কিছুক্ষণ কোনো প্রশ্ন নয়

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ কমানোর সবচেয়ে কাজের উপায় সাধারণত হলো, কিছু গোলমাল হওয়ার আগেই বাসায় ফেরার প্রথম ঘণ্টাটা পরিকল্পনা করে রাখা। চেনা একটা রুটিন বাচ্চার শরীরকে জানিয়ে দেয়: স্কুল শেষ, দিনের পরের কাজ একটু অপেক্ষা করতে পারে।

  1. কয়েক মিনিটের মধ্যেই খাবার আর পানি। নাশতা আগে থেকেই তৈরি রাখুন: বিস্কুট বা চিপসের চেয়ে ফল, সেদ্ধ ডিম, রুটি-রোল বা দই-চিড়া বাচ্চার পেট অনেক ভালো ভরায়।
  2. ইউনিফর্ম বদলানো, হাত-মুখ ধোয়া, জুতা জায়গামতো রাখা: ছোট্ট একটা সংকেত যে স্কুল শেষ।
  3. মোটামুটি ২০–৩০ মিনিট চুপচাপ সময়: ফ্যানের নিচে শুয়ে থাকা, আঁকা, ব্লক, কমিক বা ছবির বই। অনেক পরিবার দেখে, এই সময়ে স্ক্রিনের চেয়ে শান্ত কোনো কাজ ভালো চলে, কারণ পরে স্ক্রিন বন্ধ করতে গেলেই আরেক দফা মেজাজ খারাপ শুরু হতে পারে।
  4. কিছুক্ষণ কোনো প্রশ্ন নয়: বাচ্চা খেয়ে একটু বিশ্রাম না নেওয়া পর্যন্ত নম্বর, ডায়েরি আর হোমওয়ার্কের কথা তুলে রাখুন।
  5. একটু কাছে থাকা: জড়িয়ে ধরা, পাশাপাশি বসা, বা কয়েক মিনিট খেলা। কোনো বাচ্চা কাছে থাকতে চায়; কেউ চায় আপনি কাছেই থাকুন, কিন্তু চুপচাপ।
  6. তারপর হোমওয়ার্কের আগে নড়াচড়া: বাইরে খেলা, বড় কারও সাথে ছাদে খেলা, বা বসার ঘরে একটু নাচ। ৫–১৭ বছরের বাচ্চার প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে জোরালো ছোটাছুটি দরকার।
বাসায় ফেরার প্রথম ঘণ্টা: একটা নমুনা রুটিন
কখনকী হবেযা এড়িয়ে চলবেন
স্কুল ছুটি বা বাসায় ঢোকাহাসিমুখ, জড়িয়ে ধরা, পানি আর নাশতানম্বর বা ডায়েরি নিয়ে প্রশ্ন
প্রথম ১০ মিনিটইউনিফর্ম বদলানো, হাত-মুখ ধোয়া, বসে খাওয়াস্ক্রিন আর হোমওয়ার্কের কথা
১০–৩০ মিনিটচুপচাপ সময়, একা বা আপনার পাশেকাজের ফরমাশ, উপদেশ, তুলনা
৩০–৬০ মিনিটচাইলে একটু গল্প, তারপর ছোটাছুটির খেলাকী কী ভুল হলো, তার লম্বা তালিকা
মোটামুটি এক ঘণ্টা পরেরোজকার নির্দিষ্ট সময়ে হোমওয়ার্কখিদে বা মন খারাপ নিয়ে হোমওয়ার্ক শুরু

বিকেলের বাকি সময়, খেলা থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত, মর্নিং আর ডে শিফটের নমুনা সময়সূচি পাবেন স্কুলগামী শিশুর দৈনিক রুটিন লেখায়।

মেজাজ খারাপ না করিয়ে স্কুলের কথা জানবেন যেভাবে

স্কুল থেকে ফিরে যে বাচ্চা কথা বলতে চায় না, সে সাধারণত কিছু লুকাচ্ছে না; তখন কথা বলার মতো শক্তিই তার আর থাকে না। বেশিরভাগ বাচ্চা খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরে মুখ খোলে, প্রায়ই ঘুমের আগে, গাড়িতে, বা রান্নায় আপনাকে সাহায্য করতে করতে।

  • 'স্কুল কেমন গেল?'-এর বদলে ছোট আর নির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন: 'টিফিনে কার পাশে বসেছিলে?'
  • জিজ্ঞেস করে দেখুন: 'আজ কী নিয়ে সবচেয়ে বেশি হাসলে?' বা 'আজকের সবচেয়ে কঠিন কাজটা কী ছিল?'
  • আগে নিজের দিনের একটু গল্প বলুন; বাচ্চারা প্রায়ই গল্পের জবাব গল্প দিয়েই দেয়।
  • মুখোমুখি না বসে পাশাপাশি থেকে কথা বলুন: কাপড় ভাঁজ করতে করতে, হাঁটতে হাঁটতে, বা খাওয়ার পরে ফেরার পথে।

এক কথার জবাবই যদি নিয়ম হয়ে যায়, ৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বাচ্চার জন্য আরও উপায় পাবেন উত্তর যখন শুধু 'ভালো' লেখায়।

স্কুলের পরপরই কোচিং থাকলে কী করবেন?

অনেক পরিবারে বাচ্চা স্কুল থেকে সরাসরি কোচিং বা টিউটরের কাছে যায়, মাঝে হয়তো শুধু এক প্যাকেট চিপস। তখন মেজাজ খারাপটা দুপুর ১টার বদলে আসে সন্ধ্যা ৭টায়, বা দেখা দেয় কোচিংয়ে যেতে না চাওয়া হিসেবে।

  • স্কুল আর কোচিংয়ের মাঝে আসল খাবার রাখুন, শুধু দোকানের নাশতা নয়।
  • যেকোনো বাড়তি ক্লাসের আগে অন্তত ২০ মিনিট বিশ্রাম রাখুন, তাতে একটু দেরি হলেও।
  • কোচিং দিনের আরেকটু পরে, বা সপ্তাহে কম দিনে সরানো যায় কি না জিজ্ঞেস করুন, বিশেষ করে নিচের ক্লাসের বাচ্চার জন্য।
  • সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত একটা বিকেল বাড়তি ক্লাস ছাড়া রাখুন।
  • পুরো দিনটা হিসাব করুন: স্কুল, যাতায়াত, কোচিং আর হোমওয়ার্ক। বেশিরভাগ দিন খেলা বা বিশ্রামের সময়ই না থাকলে চাপটা সম্ভবত বেশি।

বাড়তি ক্লাস আসলে কাজে দিচ্ছে কি না, আর কীভাবে ভালো টিউটর বাছবেন, তা পাবেন কোচিং ও প্রাইভেট টিউটর লেখায়।

আমাদের বাসায় স্কুলের পরের সময়: গরম, যানজট, মুরুব্বি আর গৃহকর্মী

আমাদের দেশে স্কুলের পরের সময়টার নিজস্ব কিছু চাপ আছে, আর বাসায় ছোট কয়েকটা পরিবর্তনে অনেকটা চাপ কমে আসতে পারে।

  • গরম আর যানজট: বাসায় ফিরতে এক ঘণ্টা বা তারও বেশি লেগে যেতে পারে। পানি আর নাশতা সাথে দিন, আর পথটা প্রশ্নের বদলে চুপচাপ বা গান গেয়ে কাটান।
  • দরজায় দাদা-দাদি বা নানা-নানি: ভালোবাসা থেকেই মুরুব্বিরা অনেক সময় দরজাতেই নম্বরের খোঁজ নেন। নরমভাবে পরিকল্পনাটা জানান, 'আগে নাশতা, খবর পরে', আর তাঁদের একটা কাজ দিন, যেমন ফল কেটে দেওয়া।
  • গৃহকর্মী: বাচ্চা ফেরার সময় গৃহকর্মী বাসায় থাকলে তাঁকে রুটিন আর নাশতার তালিকা দেখিয়ে দিন, আর বলে রাখুন, গোলমাল হলে বকাঝকা না করে আপনাকে ফোন করতে।
  • ভাইবোনের আলাদা শিফট: দুপুরে ফেরা ছোটজন আর বিকেল ৫টায় ফেরা বড়জন, দুজনেরই নিজস্ব চুপচাপ সময় আর নিজের একটা কোণ দরকার।
  • চাকরিজীবী বাবা-মা: কিছু বাচ্চা সন্ধ্যায় বাবা বা মা ফেরা পর্যন্ত নিজেকে ধরে রাখে, তারপর ভেঙে পড়ে। ঘরে ঢুকেই ফোন আর কাজের আগে দশ মিনিট শান্তভাবে একসাথে থাকা প্রায়ই কাজে দেয়।
  • দুপুরের লোডশেডিং: হাতপাখা, মুখ মোছার জন্য ঠান্ডা ভেজা কাপড় আর ছায়াঘেরা ঘর থাকলে বিদ্যুৎ ছাড়াও চুপচাপ সময়টা কাটানো যায়।

শান্ত বিকেলের জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা

একবারে একটা জিনিস বদলান, আর প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: কখন মেজাজ খারাপ হলো, বাচ্চা কী খেয়েছিল, কতক্ষণ চলল, আর কী কাজে দিল।

  1. দিন ১: কিছুই বদলাবেন না। সময়, শেষ কখন কী খেয়েছিল, আর কী থেকে শুরু হলো, লিখে রাখুন।
  2. দিন ২: স্কুল ছুটির সময় পানি আর পেট ভরার মতো নাশতা তৈরি রাখুন।
  3. দিন ৩: ২০–৩০ মিনিট চুপচাপ সময় যোগ করুন, আর সব প্রশ্ন তার পরের জন্য তুলে রাখুন।
  4. দিন ৪: বিকেলে বাসায় যারা থাকেন, দাদা-দাদি, নানা-নানি আর গৃহকর্মীসহ সবাইকে পরিকল্পনাটা জানান।
  5. দিন ৫: হোমওয়ার্ক সরিয়ে নিন বিশ্রাম আর খেলার পরে, আর ঘুমের সময়টা দেখে নিন: ৬–১২ বছরের বাচ্চার ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার, আর ৫ বছরের বাচ্চার ১০–১৩ ঘণ্টা।
  6. দিন ৬: ছুটির দিনে খেয়াল করুন, স্কুল না থাকলে বাচ্চা কেমন থাকে; আর একসাথে মজার কিছু করুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। মেজাজ খারাপ কি কম হলো, বা কম সময় থাকল? যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন, পরের সপ্তাহে আরেকটা জিনিস বদলান।

আগে শরীরের খিদে মেটান, তারপর দিনের খোঁজ নিন।

— ParentMind-এর একটি নীতি

কখন বুঝবেন মেজাজ খারাপের পেছনে আরও কিছু আছে?

বেশিরভাগ সময় খাবার, বিশ্রাম আর নিয়মিত রুটিনে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ কমে আসে। তবে কিছু লক্ষণ বোঝায় যে অন্য কিছু চলছে, আর সেগুলো গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

এসব দেখলে শিক্ষক বা ডাক্তারের সাথে কথা বলুন

  • খাবার, বিশ্রাম আর শান্ত রুটিনের পরও কয়েক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্কুলের বেশিরভাগ দিনে মেজাজ খারাপ হয়, বা দিন দিন তা আরও লম্বা আর তীব্র হচ্ছে।
  • কয়েক সপ্তাহ ধরে স্কুলের বেশিরভাগ সকালে পেট ব্যথা, কান্না বা বাসায় থাকার জন্য অনুনয়; দেখুন বাচ্চা স্কুলে যেতে চায় না।
  • বিছানায় যথেষ্ট সময় থাকার পরও বাচ্চা বেশিরভাগ দিন খুব ক্লান্ত থাকে, বা জোরে নাক ডাকে আর ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে থেমে যায়।
  • বুলিং, আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, কোনো শিক্ষক বা টিউটরকে ভয় পাওয়া, বা ব্যাখ্যা ছাড়া দাগ বা আঘাত: বাচ্চার কথা বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন। যে বড় মানুষ বাচ্চাকে মারে, তার কথা স্থানীয় থানায় জানান; বাচ্চা এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে মন খারাপ, সবার থেকে গুটিয়ে থাকা, বা আগে যা ভালো লাগত তাতে আর আগ্রহ না থাকা।
  • বাচ্চা নিজের ক্ষতি করে বা বেঁচে থাকতে না চাওয়ার কথা বলে: শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

প্রতিটা দিন একই রকম মনে হলে বিকেলের ধরনগুলো সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চার মেজাজ খারাপ হওয়া কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, ৫–১১ বছরের অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রেই এটা খুব সাধারণ, বিশেষ করে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে, ছুটির পরে আর পরীক্ষার সপ্তাহে। সারাদিন নিজেকে সামলে রাখা বাচ্চা প্রায়ই বাসায় এসে ভেঙে পড়ে, কারণ বাসায় সে নিরাপদ বোধ করে। খাবার, পানি, চুপচাপ সময় আর কম প্রশ্ন সাধারণত কাজে দেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ দিন এমন হলে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন।

বাচ্চা স্কুলে ভালো, কিন্তু বাসায় এত খারাপ আচরণ করে কেন?

প্রায়ই এর কারণ, বাসাকে সে নিরাপদ মনে করে। স্কুলে নিয়ম মানতে আর অনুভূতি চেপে রাখতে বাচ্চাকে অনেক খাটতে হয়; বাসায়, সবচেয়ে ভরসার মানুষদের কাছে এসে সেই চেষ্টা থেমে যায়, আর অনুভূতিগুলো বেরিয়ে আসে। এর মানে এই নয় যে স্কুলে সব ঠিক আর আপনি ব্যর্থ। সাধারণত এর মানে, স্কুলের পরে বাচ্চার দরকার খাবার, বিশ্রাম আর শান্তভাবে বাসায় ফেরার সুযোগ।

স্কুল থেকে ফিরে এমন ভেঙে পড়া কতক্ষণ, আর কতদিন চলে?

একবারের মেজাজ খারাপ প্রায়ই কয়েক মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে কেটে যায়, বিশেষ করে নাশতা আর চুপচাপ সময়ের পরে। নতুন শিক্ষাবর্ষ বা নতুন ক্লাসের প্রথম কয়েক সপ্তাহে, লম্বা ছুটির পরে আর পরীক্ষার ব্যস্ত সপ্তাহগুলোতে এটা সাধারণত বেশি দেখা যায়, আর বাচ্চা মানিয়ে নিলে প্রায়ই কমে আসে। কয়েক সপ্তাহ শান্ত রুটিনের পরও না কমলে শিক্ষকের সাথে কথা বলুন।

স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চাকে কী নাশতা দেব?

এমন কিছু, যা পেট ভরায় আর সাথে একটু প্রোটিনও দেয়: দুধের সাথে কলা, সেদ্ধ ডিম আর ফল, ডিম বা সবজির রুটি-রোল, দই-চিড়া-কলা, বা খুব খিদে নিয়ে ফিরলে অল্প ভাত-ডাল। আগে পানি দিন। চিপস, মিষ্টি আর কোমল পানীয় অল্প সময়ের জন্য খিদে মেটায়, কিন্তু প্রায়ই একটু পরে আবার ক্লান্তি ফিরিয়ে আনে।

স্কুল থেকে ফিরে বেয়াদবি করলে কি শাস্তি দেওয়া উচিত?

সাধারণত ঠিক সেই মুহূর্তে নয়। আগে সবাইকে নিরাপদ রাখুন আর পরিস্থিতি শান্ত হতে দিন; ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত বাচ্চার কানে লম্বা উপদেশ সাধারণত ঢোকে না। খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পর অল্প কথায় আলোচনা করুন কী হয়েছিল, আর পরের বার কীভাবে বলা যায়। শাস্তি বা লজ্জা দিলে বিকেলগুলো সাধারণত আরও কঠিন হয়, আর পরে শান্তভাবে কথা বললে বাচ্চা শেখে।

স্কুলের দিনে মেজাজ খারাপ হয়, কিন্তু ছুটির দিনে হয় না কেন?

সাধারণত কারণ, চাপটা স্কুলের দিনেরই: ভোরে ওঠা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা আর নিজেকে সামলে রাখা, অল্প টিফিন আর ফেরার পথের ধকল। ছুটির দিনে শান্ত থাকা একটা ভালো লক্ষণ: খাওয়া আর বিশ্রাম ঠিক থাকলে বাচ্চা অনুভূতি সামলাতে পারে। এই ধরনটা কাজে লাগান: স্কুলের রাতে ঘুম ঠিক রাখুন, স্কুল ছুটির পরপরই নাশতা দিন, আর বাসায় ফেরার প্রথম ঘণ্টাটা শান্ত রাখুন।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

স্কুলপড়ুয়া (৬–৯ বছর): আরও গাইড

স্কুলপড়ুয়া: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।