বাচ্চা কথায় কথায় কাঁদে: অভিমানী, নরম মনের শিশুকে বোঝার আর সাহায্য করার উপায়
ছোট করে উত্তর
বাচ্চা কথায় কথায় কাঁদে মানে সাধারণত তার মনটা নরম, অনুভূতি গভীর; সে দুর্বল বা ঢং করছে, তা নয়। ৪–১০ বছরে এটা খুবই সাধারণ। ক্লান্তি, খিদে আর বকা খাওয়ার অনুভূতিতে কান্না বেশি আসে। পাশে থাকুন, অনুভূতির নাম বলুন, কান্নাটা পার হতে দিন, তারপর একসঙ্গে সমাধান খুঁজুন। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন কান্না আর মন খারাপ থাকলে খতিয়ে দেখা দরকার।
লেখাটি শুনুন
১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- ৪–১০ বছরের যে বাচ্চা ছোটখাটো ব্যাপারে, বকা খেলে বা খেলায় হারলেই কেঁদে ফেলে, তার বাবা-মা
- মূল কথা
- যে বাচ্চারা অল্পতেই কাঁদে, তাদের অনেকে আসলে নরম মনের: গভীরভাবে অনুভব করে, অনেক কিছু খেয়াল করে, আর এখান থেকেই আসে তাদের মমতা।
- আগে মৌলিক জিনিসগুলো দেখুন: ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত বাচ্চা অনেক সহজে কাঁদে, বিশেষ করে স্কুল আর কোচিংয়ের পর।
- সেই মুহূর্তে পাশে থাকুন, অনুভূতির নাম বলুন, কান্নাটা পার হতে দিন, আর বাচ্চা শান্ত হলে তারপর সমস্যার সমাধান খুঁজুন।
- ছেলে-মেয়ে সবারই কাঁদার অনুমতি দরকার, আর দরকার সামলানোর সাহায্য; ‘কান্না থামাও’ বা ‘ছেলেরা কাঁদে না’ বললে অনুভূতি সামলানো সাধারণত আরও কঠিন হয়।
বাচ্চা কথায় কথায় কাঁদে: বিস্কুট ভেঙে গেলে, লুডুতে হারলে, একটু কড়া কথা শুনলে, বা কার্টুনে কারও কষ্ট দেখলে। ব্যাপারটা ক্লান্তিকর লাগতে পারে, আর দুশ্চিন্তা হতে পারে, স্কুলে কেউ খেপাবে কি না বা সে মানিয়ে নিতে পারবে কি না। ৪–১০ বছরের অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে ঘনঘন কান্না দুর্বলতার লক্ষণ নয়; এর মানে মনটা নরম, আর অনুভূতিগুলো এখনো সামলানোর দক্ষতার চেয়ে বড়। দক্ষতা যত বাড়ে, বেশির ভাগ বাচ্চার কান্না তত কমে।
নিচে পাবেন কেন কোনো কোনো বাচ্চা সব কিছুতে কাঁদে, কোন বয়সে কী সাধারণ, স্পর্শকাতর সন্তান আর বাড়তি সাহায্য দরকার এমন বাচ্চার পার্থক্য, সেই মুহূর্তে কী করবেন আর বলবেন, বকা দিলেই বাচ্চা কান্না করে কেন, মন সামলানোর কৌশল, ‘ছেলেরা কাঁদে না’ কথাটা, আর ৭ দিনের পরিকল্পনা।
বাচ্চা অল্পতেই কেঁদে ফেলে কেন?
যে বাচ্চা সহজেই কাঁদে, তার পেছনে সাধারণত একসঙ্গে একাধিক কারণ থাকে। সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো:
- স্বভাব। কিছু বাচ্চা জন্ম থেকেই সব কিছু বেশি গভীরভাবে অনুভব করে। ছোট পরিবর্তন, অন্যের মন-মেজাজ আর অন্যায় তারা খেয়াল করে, আর জোরালোভাবে সাড়া দেয়।
- ক্লান্তি। ঘুম কম হলে ছোটখাটো কষ্ট সামলানোর শক্তিও কমে যায়। ২৪ ঘণ্টায় ৩–৫ বছরের বাচ্চার ১০–১৩ ঘণ্টা আর ৬–১২ বছরের বাচ্চার ৯–১২ ঘণ্টা ঘুম দরকার; দেখুন বয়স অনুযায়ী শিশুর ঘুম।
- খিদে। টিফিন থেকে দুপুরের খাবার, বা স্কুল থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত লম্বা ফাঁক থাকলে কান্না তাড়াতাড়ি আসে।
- অনুভূতি শব্দের চেয়ে বড়। যে বাচ্চা এখনো বলতে পারে না ‘আমার হতাশ লাগছে’ বা ‘এটা অন্যায় হলো’, সে প্রায়ই তার বদলে কাঁদে।
- বকা খাওয়ার অনুভূতি। নরম মনের বাচ্চা অনেক সময় ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে শোনে ‘তুমি খারাপ’ হিসেবে, তাই বকা দিলেই কান্না চলে আসে।
- পরিবর্তন আর হতাশা: পরিকল্পনা বদলে যাওয়া, খেলায় হারা, বন্ধুর অন্য কারও সঙ্গে খেলা।
- ভেতরের কোনো কারণ। স্কুল নিয়ে দুশ্চিন্তা, নতুন ভাইবোন, বাসা বদল, বা বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা অনেক সময় ছোট ব্যাপারে কান্না হয়ে বেরিয়ে আসে।
- কাঁদলে কী পাওয়া যায়। কাঁদলেই যদি কাজ থেকে ছুটি মেলে বা ‘হ্যাঁ’ পাওয়া যায়, কান্না অভ্যাস হয়ে যেতে পারে। এটা শেখা, ঢং বা চালাকি নয়, আর স্থির প্রতিক্রিয়ায় এটা বদলাতে পারে।
এত কান্না কি স্বাভাবিক? ৪ থেকে ১০ বছরে কান্না
অনেক বাচ্চার ক্ষেত্রে, হ্যাঁ। কান্না অনুভূতি বের করে দেওয়ার স্বাভাবিক একটা উপায়, আর বয়সের সঙ্গে এর ধরন বদলায়। মোটামুটি একটা ধারণা:
| বয়স | যা সাধারণ | যা কাজে দেয় |
|---|---|---|
| ৪–৫ বছর | ‘না’ শুনলে, হেরে গেলে, ক্লান্ত হলে বা পরিকল্পনা বদলালে কান্না; সাধারণত কয়েক মিনিটেই থেমে যায় | আদর, অনুভূতির জন্য সহজ কয়েকটা শব্দ, একটু নাশতা বা বিশ্রাম |
| ৬–৭ বছর | বকা, অন্যায়, কঠিন মনে হওয়া পড়া বা বাদ পড়ে যাওয়ায় কান্না | অনুভূতির নাম বলা, খেলায় হারা অনুশীলন, কঠিন কাজ ছোট ছোট ধাপে ভাগ করা |
| ৮–১০ বছর | সবার সামনে কান্না কমে, স্কুল থেকে ফিরে বাসায় বাড়ে; বন্ধু, খেপানো বা নম্বর নিয়ে কষ্ট; কান্না নিয়ে লজ্জা | নিরিবিলিতে আদর, সমাধান না দিয়ে মন দিয়ে শোনা, নিজের বেছে নেওয়া সামলানোর উপায় |
বাচ্চা সব কিছুতে মন খারাপ করে, ৮ বছর বয়সেও সহজে কাঁদে? সেটা সাধারণত এখনো স্বাভাবিকের মধ্যেই পড়ে, বিশেষ করে ক্লান্ত থাকলে বা কিছু নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে। সবচেয়ে জরুরি হলো ধারাটা: ধীরে ধীরে কমতে থাকা কান্না আশার কথা; বাড়তে থাকা কান্না, বা মন খারাপের সঙ্গে কান্না, খতিয়ে দেখার মতো।
আমার বাচ্চা কি খুব স্পর্শকাতর?
‘খুব স্পর্শকাতর বাচ্চা’ কথাটা স্বভাবের একটা বর্ণনা, কোনো রোগ নয়। নরম মনের, স্পর্শকাতর বাচ্চা প্রায়ই:
- ছোট ছোট খুঁটিনাটি, রুটিনের পরিবর্তন আর অন্যের মন-মেজাজ খেয়াল করে।
- ন্যায়-অন্যায়, বকা আর অন্যের কষ্ট নিয়ে খুব বেশি অনুভব করে, কার্টুনের চরিত্রের কষ্টেও।
- জোরে আওয়াজ, ভিড়, খসখসে জামা বা খুব ব্যস্ত দিনে অস্বস্তি বোধ করে।
- নতুন মানুষ আর নতুন জায়গার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় নেয়।
- প্রায়ই দয়ালু, চিন্তাশীল, আর কেউ কষ্ট পেলে তাড়াতাড়ি টের পায়।
নরম মন ঠিক করার মতো কোনো সমস্যা নয়। লক্ষ্য এমন বাচ্চা নয়, যে কখনো কাঁদে না; লক্ষ্য এমন বাচ্চা, যে গভীরভাবে অনুভব করেও আবার সামলে উঠতে পারে। নতুন মানুষের সামনে লজ্জাই যদি বড় দুশ্চিন্তা হয়, দেখুন লাজুক বাচ্চাকে সাহায্য করার উপায়।
বাচ্চা কথায় কথায় কাঁদে? সেই মুহূর্তে যা করবেন
- শান্ত থাকুন, কাছে যান। আপনার শান্ত গলা আর শরীরের ভঙ্গিই কাঁদতে থাকা বাচ্চার ভরসার জায়গা।
- কয়েকটা শব্দে অনুভূতির নাম বলুন: ‘খেলাটা শেষ হয়ে গেল, তাই তোমার মন খারাপ।’ অনুভূতির আরও শব্দ পাবেন শিশুর আবেগ সামলাতে সাহায্য করার উপায় লেখায়।
- কান্নাটা নিজের মতো পার হতে দিন। জড়িয়ে ধরুন, কোলে নিন, বা চুপচাপ পাশে বসে থাকুন; কোনো কোনো বাচ্চা একটু একা থাকতে চায়। ‘কান্না থামাও’ বা ‘এটা কিছুই না’ বলবেন না।
- একসঙ্গে শ্বাস নিন: ফুলের গন্ধ নেওয়ার মতো টেনে, মোমবাতি নেভানোর মতো ফুঁ, ধীরে ধীরে তিনবার।
- বাচ্চা শান্ত হলে একসঙ্গে সমাধান খুঁজুন: ‘এখন কী করলে ভালো লাগবে?’ নতুন একটা বিস্কুট, আরেক দান খেলা, বা কালকের জন্য একটা পরিকল্পনা।
- পরে সামলে ওঠাটা খেয়াল করে বলুন: ‘তোমার খুব কষ্ট হচ্ছিল, তবু তুমি নিজেকে শান্ত করে ফেলেছ।’
যা বলতে পারেন
- তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি পাশেই আছি।
- কাঁদলে কোনো সমস্যা নেই। কেঁদে হালকা হও, তারপর আমরা একসঙ্গে ঠিক করব।
- তোমার কাছে ব্যাপারটা অন্যায় মনে হয়েছে, তাই না?
- চলো, ফুলের গন্ধ নিই আর মোমবাতি নেভাই। আরেকবার।
- জড়িয়ে ধরব, নাকি শুধু পাশে বসে থাকব?
- তুমি নিজেকে শান্ত করে ফেলেছ। কঠিন ছিল, তবু তুমি পেরেছ।
আগে অনুভূতি, পরে সমাধান।
বকা দিলেই বাচ্চা কান্না করে? নরম মনের বাচ্চার ভুল ধরিয়ে দেবেন যেভাবে
অনেক নরম মনের বাচ্চা ভুল ধরিয়ে দিলেই কেঁদে ফেলে, কারণ কড়া গলা তার কাছে এক মুহূর্তের জন্য আপনার ভালোবাসা হারানোর মতো লাগে। ভুল তো ধরিয়ে দিতেই হবে; কীভাবে দিচ্ছেন, তফাতটা সেখানেই।
- ঘরের ওপাশ থেকে না ডেকে কাছে যান, গলা নামিয়ে কথা বলুন।
- বাচ্চাকে নয়, কাজটা নিয়ে কথা বলুন: ‘দুধ পড়ে গেছে। চলো, কাপড় আনি’, ‘তুমি এত অসাবধান!’ নয়।
- ছোট করে আর আলাদা করে বলুন, মেহমান বা কাজিনদের সামনে কখনো নয়।
- কান্নার মধ্যেও নরমভাবে নিয়মে অটল থাকুন: ‘বুঝতে পারছি তোমার খারাপ লাগছে। তবু নিয়মটা একই থাকবে।’
- একটু পরেই আবার কাছে টানুন: একবার জড়িয়ে ধরা বা একসঙ্গে ছোট একটা কাজ বুঝিয়ে দেয়, সম্পর্কটা ঠিক আছে।
কড়া কথা আর তকমা ধীরে ধীরে বাচ্চার নিজের সম্পর্কে ধারণা নষ্ট করে দিতে পারে; বিস্তারিত আছে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় লেখায়।
নরম মনের বাচ্চাকে মন সামলাতে শেখানোর উপায়
মন সামলানোর কৌশল শেখা হয় শান্ত সময়ে, কাজে লাগে কঠিন সময়ে। ৪–১০ বছরের নরম মনের বাচ্চাদের জন্য কাজে দেয় এমন কয়েকটা:
- অনুভূতির মাপ: ‘এটা ছোট কষ্ট, মাঝারি, নাকি বড়?’ ছোট কষ্টে ছোট প্রতিক্রিয়া; বাচ্চা ধীরে ধীরে পার্থক্যটা বুঝতে শেখে।
- শান্ত হওয়ার জায়গা: এক কোণে একটা কুশন, জানালার পাশে একটা চেয়ার, বা নরম পুতুল আর রং-পেনসিল রাখা একটা বাক্স।
- হারতে শেখা: লুডু, ক্যারম আর সাপলুডু নিরাপদ জায়গা, যেখানে হতাশ হয়েও আবার চেষ্টা করা যায়।
- খেলার ছলে কঠিন মুহূর্তের মহড়া: ‘কেউ টেডির জায়গা নিয়ে নিলে টেডি কী বলতে পারে?’
- পরিবর্তনের আগে জানিয়ে দিন: ‘আর পাঁচ মিনিট পর পার্ক থেকে যাব।’ হঠাৎ কিছু হলে নরম মনের বাচ্চার জন্য তা বেশি কঠিন।
- মৌলিক জিনিসগুলো ঠিক রাখুন: নিয়মিত ঘুমের সময়, আর স্কুল থেকে ফিরেই একটু নাশতা।
আমাদের বাসায়: ‘ছেলেরা কাঁদে না’, অভিমান আর তুলনা
ছেলেরা কাঁদলে কী বলবেন
আমরা অনেকেই ‘ছেলেরা কাঁদে না’ শুনে বড় হয়েছি, প্রায়ই ভালোবাসা থেকেই বলা, ছেলেকে শক্ত করে তোলার জন্য। কিন্তু কাঁদতে দিলে ছেলে দুর্বল হয়ে যায় না। যে ছেলে নিজের কষ্টের কথা বলতে পারে, রাগ আর চাপ সামলানো তার জন্য প্রায়ই সহজ হয়, আর সে শেখে, শক্ত মানুষেরও অনুভূতি থাকে। মেয়েকে যা বলতেন, ছেলেকেও তা-ই বলুন: ‘কাঁদলে কোনো সমস্যা নেই। আমি আছি।’ বাবা যখন নিজের অনুভূতির কথা বলেন (‘নানু যখন অসুস্থ ছিলেন, আমারও খুব কষ্ট হয়েছিল’), ছেলে প্রায়ই তখনই সবচেয়ে ভালো শেখে।
অভিমানী বাচ্চা
অভিমানী বাচ্চা কাছের মানুষের কাছে কষ্ট পেলে চুপ হয়ে যায়, মুখ ভার করে থাকে বা কেঁদে ফেলে, যেমন বাবা-মা কথা দিয়ে ভুলে গেলে বা কাজিনের প্রশংসা করলে। নরম করে অনুভূতিটার নাম দিন (‘তোমার মনে হয়েছে আমি তোমাকে ভুলে গেছি’), একটু সময় দিন, আর মিটিয়ে নেওয়ার কাজটা নিজেই করুন: কথা রাখুন, বা ১০ মিনিট একসঙ্গে কাটান। অভিমান নিয়ে খেপালে কষ্টটা সাধারণত আরও বাড়ে।
তকমা, তুলনা, মেহমান আর কোচিং
‘ছিঁচকাঁদুনে’, বা মেয়েদের ‘ন্যাকা’ বলার মতো তকমা সাধারণত গায়ে লেগে যায়, আর ‘কখনো কাঁদে না’ এমন কাজিনের সঙ্গে তুলনায় বাচ্চার কষ্ট সাধারণত বাড়ে; আত্মীয়দের নরমভাবে বলুন এগুলো বাদ দিতে। মেহমানদের সামনে কান্না এলে সবার সামনে চুপ করানোর বদলে বাচ্চাকে নিরিবিলি একটা ঘরে নিয়ে যান। অনেক কান্না আসে স্কুল, কোচিং আর হোমওয়ার্কের লম্বা দিন থেকে, বা নম্বরের দুশ্চিন্তা থেকে: ‘নম্বর যা-ই হোক, তুমি কত খেটেছ, আমি দেখেছি।’
অল্পতেই কেঁদে ফেলা বাচ্চার জন্য ৭ দিনের পরিকল্পনা
- দিন ১: খেয়াল করুন। প্রতিবারের কান্না লিখে রাখুন: কখন, ঠিক আগে কী হয়েছিল, কতক্ষণ চলল, আর কী কাজে দিল। ঘুম আর খাওয়ার কথাও লিখুন।
- দিন ২: ধরনটা খুঁজুন। ক্লান্ত বা ক্ষুধার্ত সময়ে কান্না বেশি হলে একটা জিনিস বদলান: একটু আগে ঘুম, বা স্কুল থেকে ফিরে নাশতা।
- দিন ৩: প্রতিবার তিন ধাপের প্রতিক্রিয়া অনুশীলন করুন: কাছে যাওয়া, অনুভূতির নাম বলা, অপেক্ষা করা।
- দিন ৪: শান্ত সময়ে একটা শান্ত হওয়ার কৌশল শেখান, যেমন ফুল-মোমবাতির শ্বাস, বা ছোট-মাঝারি-বড় কষ্টের মাপ।
- দিন ৫: বাসার বড়দের সঙ্গে কথা বলুন: ‘ছিঁচকাঁদুনে’-র মতো তকমা নয়, ‘ছেলেরা কাঁদে না’ নয়, আর সবার মুখে একই কয়েকটা আদরের কথা।
- দিন ৬: এমন একটা খেলা খেলুন, যেখানে বাচ্চা হারতেও পারে, আর হারটা কীভাবে সামলাল, তার প্রশংসা করুন।
- দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন: কতবার কান্না, কতক্ষণ চলল, আর কত তাড়াতাড়ি সামলে উঠল। যা কাজে দিয়েছে তা রাখুন।
কখন কান্না খতিয়ে দেখা দরকার?
মন সামলানোর দক্ষতা বাড়ার সঙ্গে বেশির ভাগ নরম মনের বাচ্চার কান্না কমে আসে। তবে বাচ্চা কথায় কথায় কাঁদে, তার সঙ্গে নিচের কোনোটি দেখলে বাচ্চার ডাক্তার, শিশু-মনোবিজ্ঞানী বা স্কুলের সঙ্গে কথা বলুন:
এমন হলে সাহায্য নিন
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন বাচ্চার মন খারাপ, খিটখিটে বা কান্নাভেজা, বা আগের পছন্দের কাজেও আর আনন্দ নেই।
- হঠাৎ পরিবর্তন: হাসিখুশি বাচ্চা হঠাৎ কাঁদুনে, ভীত, আঁকড়ে থাকা বা চুপচাপ হয়ে গেছে, বা হঠাৎ নির্দিষ্ট কোনো মানুষ বা জায়গাকে ভয় পাচ্ছে। আলতো করে জিজ্ঞেস করুন, বাচ্চা যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- দুশ্চিন্তার সঙ্গে এমন কান্না, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে রোজকার জীবন আটকে দিচ্ছে: স্কুলে যেতে না চাওয়া, স্কুলের আগে পেটব্যথা, বা ঘুমের সমস্যা। দেখুন শিশুর দুশ্চিন্তা।
- ব্যথা, জ্বর, খিদে কমে যাওয়া, ওজন কমা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির সঙ্গে কান্না: ডাক্তার দেখান; বাচ্চাকে খুব অসুস্থ মনে হলে সেদিনই।
- আওয়াজ, জামা, খাবারের ধরন বা রুটিন বদলানোয় এত জোরালো প্রতিক্রিয়া যে রোজকার জীবন আটকে যায়, সঙ্গে কথা বলা, খেলা বা বন্ধুত্বে পার্থক্য: বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কি না, ডাক্তারকে দিয়ে দেখিয়ে নিন।
- বাচ্চা নিজেকে আঘাত করে, বা রাগের মাথায়ও মরে যেতে চাওয়ার কথা বলে: শান্ত থাকুন, তার কাছাকাছি থাকুন। এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
বাচ্চা কথায় কথায় কাঁদে মানে প্রায়ই সে গভীরভাবে অনুভব করে, আর সময় আর স্থির আদরে সেটাই তার শক্তি হয়ে উঠতে পারে। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে সাহায্য করে, যেমন কখন কান্না আসে আর কী কাজে দিল, যাতে ধরনগুলো সহজে চোখে পড়ে; ParentMind কীভাবে কাজ করে দেখুন।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
আমার ৮ বছরের বাচ্চা এত সহজে কাঁদে কেন?
৮ বছরেও সহজে কাঁদা সাধারণ ব্যাপার, বিশেষ করে নরম মনের বাচ্চাদের। সাধারণ কারণগুলো হলো স্কুলের লম্বা দিনের ক্লান্তি, বন্ধুদের সঙ্গে ঝামেলা, খেপানো, নম্বরের দুশ্চিন্তা আর বকা খাওয়ার অনুভূতি। অনেক ৮ বছরের বাচ্চা স্কুলে কান্না চেপে রাখে, বাসায় এসে বের করে দেয়। ঘুম ঠিক রাখুন, তাড়াহুড়ো করে সমাধান না দিয়ে শুনুন, আর দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিন মন খারাপের সঙ্গে কান্না হলে খতিয়ে দেখুন।
স্পর্শকাতর সন্তানকে কীভাবে শাসন করব?
নরমভাবে আর ছোট করে। কাছে যান, গলা নামান, আর বাচ্চাকে নয়, কাজটা নিয়ে কথা বলুন: ‘রং পড়ে গেছে। চলো, একসঙ্গে মুছে ফেলি।’ ভুল ধরিয়ে দিন আলাদা করে, কান্না এলেও নরমভাবে নিয়মে অটল থাকুন, আর একটু পরেই একবার জড়িয়ে ধরে বা একসঙ্গে ছোট একটা কাজ করে আবার কাছে টানুন। স্পর্শকাতর বাচ্চার সাধারণত নরম নিয়ম দরকার হয় না; দরকার নরম করে বলা।
ছেলেকে কি ‘ছেলেরা কাঁদে না’ বলা উচিত?
না বলাই ভালো। মেয়েদের মতো ছেলেরাও কষ্ট আর ভয় পায়, আর লুকাতে বললে অনুভূতি চলে যায় না; প্রায়ই তা রাগ বা চুপ হয়ে যাওয়া হয়ে বেরিয়ে আসে। ছেলেকে কাঁদতে দিন, অনুভূতির নাম বলুন, আর শান্ত হতে সাহায্য করুন। যে ছেলে নিজের অনুভূতির কথা বলতে পারে, বড় হতে হতে চাপ সামলানো তার জন্য প্রায়ই সহজ হয়।
বাচ্চা কি মনোযোগ পাওয়ার জন্য কাঁদে?
কখনো কখনো বাচ্চা কিছুটা মনোযোগ পেতেও কাঁদে, আর সেটাও একটা সত্যিকারের প্রয়োজন, চালাকি নয়। কাঁদলেই যদি নিয়মিত ‘হ্যাঁ’ পাওয়া যায় বা কাজ থেকে ছুটি মেলে, কান্না অভ্যাস হয়ে যেতে পারে। অনুভূতিটাকে আদর দিন, নিয়মটা রাখুন, আর শান্ত সময়েই প্রচুর মনোযোগ দিন, যাতে মনোযোগ পেতে বাচ্চার কান্নার দরকার না পড়ে।
নরম মনের বাচ্চার কান্না কি বড় হলে কমবে?
বড় হতে হতে, অনুভূতির শব্দ শিখে আর শান্ত হওয়ার অনুশীলন করে বেশির ভাগ বাচ্চার কান্না কমে আসে, প্রায়ই প্রাইমারি স্কুলের শেষ দিকে তা বেশ চোখে পড়ে। নরম মনটা অনেক সময় থেকেই যায়, আর তাতে সমস্যা নেই: অনেক নরম মনের বাচ্চা বড় হয় যত্নশীল, অনুভবী মানুষ হয়ে। লক্ষ্য এমন বাচ্চা, যে গভীরভাবে অনুভব করেও সামলে উঠতে পারে; এমন নয়, যে কখনো কাঁদে না।
নরম মনের বাচ্চাকে কীভাবে সাহায্য করব?
মৌলিক জিনিস দিয়ে শুরু করুন: যথেষ্ট ঘুম, নিয়মিত নাশতা, আর পরিবর্তনের আগে জানিয়ে দেওয়া। সেই মুহূর্তে কাছে যান, অনুভূতির নাম বলুন, আর কোনো সমাধানের আগে কান্নাটা পার হতে দিন। শান্ত সময়ে একবারে একটা করে কৌশল শেখান, যেমন ধীরে শ্বাস নেওয়া বা ছোট-মাঝারি-বড় কষ্টের মাপ; আর না কাঁদার নয়, সামলে ওঠার প্রশংসা করুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।







