এসএসসির পর কোন গ্রুপে পড়বে: বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা না মানবিক?
ছোট করে উত্তর
এসএসসির পর কোন গ্রুপে পড়বে, এই সিদ্ধান্ত সন্তানের হয়ে নয়, সন্তানের সঙ্গে মিলে নিলেই সবচেয়ে ভালো হয়। মিলিয়ে দেখুন সে কী ভালোবাসে, নবম-দশম শ্রেণি জুড়ে কোন বিষয়ে ভালো করেছে, আর কোন গ্রুপ কোথায় নিয়ে যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা সাধারণত এইচএসসিতে যেকোনো গ্রুপে যেতে পেরেছে, কিন্তু উল্টোটা নয়; এ বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
লেখাটি শুনুন
১৪ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া
এক নজরে
- কাদের জন্য
- মোটামুটি ১৫–১৭ বছরের সন্তানের বাবা-মা, যাঁদের সন্তান এইচএসসির জন্য গ্রুপ বাছাই করছে, বিশেষ করে পরিবার আর সন্তানের মত না মিললে
- মূল কথা
- সবার জন্য কোনো একটা গ্রুপ সেরা নয়: বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা আর মানবিক, প্রতিটা থেকেই ভালো পড়াশোনা আর ক্যারিয়ারের পথ আছে।
- সন্তান কোথায় মানিয়ে নিতে পারবে, তা নিয়ে একটা পরীক্ষার ফল বা আত্মীয়ের পরামর্শের চেয়ে নবম-দশম শ্রেণি জুড়ে তার আগ্রহ আর নিয়মিত দক্ষতা সাধারণত বেশি বলে।
- গ্রুপ বদলের নিয়ম বছরভেদে বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে এ বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
- যে সিদ্ধান্তে সন্তানের নিজের মত আছে, তার জন্য সে প্রায়ই বেশি খাটে: আগে শুনুন, নিজের দুশ্চিন্তা খোলাখুলি বলুন, আর একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন।
সন্তানের এসএসসি সবে শেষ, আর পরিবারের সব আলোচনা ঘুরেফিরে বিজ্ঞান নাকি ব্যবসায় শিক্ষা, সেখানে গিয়ে ঠেকছে? এসএসসির পর কোন গ্রুপে পড়বে, এটা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রথম বড় সিদ্ধান্তগুলোর একটা। ব্যাপারটা বিশাল মনে হতে পারে, আর আত্মীয়রাও জোর গলায় মত দিতে পারেন। তবে যে গ্রুপ যার সঙ্গে মানায়, বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী সেখানে ভালো করে, আর প্রতিটা গ্রুপ অনেক পরিবার যতটা ভাবে, তার চেয়ে বেশি পথ খুলে দেয়।
নিচে পাবেন: প্রতিটা গ্রুপে কী থাকে, গ্রুপ বদলের প্রচলিত নিয়ম, আগ্রহ, দক্ষতা আর ক্যারিয়ার কীভাবে মিলিয়ে দেখবেন, পরিবারের স্বপ্ন আর সন্তানের ইচ্ছা না মিললে কী করবেন, কীভাবে কথা বলবেন, ৭ দিনের পরিকল্পনা, আর কখন চাপের জন্য বাড়তি সাহায্য নেবেন।
বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা না মানবিক: কোন গ্রুপে কী থাকে
এইচএসসিতে বেশিরভাগ কলেজে তিনটা প্রধান গ্রুপ থাকে। বিষয়ের তালিকা কলেজভেদে আলাদা আর বদলাতেও পারে, তাই এটা মোটা দাগের ধারণা হিসেবে নিন, আর প্রতিটা কলেজের তালিকা দেখে নিন:
| গ্রুপ | প্রধান বিষয় | প্রায়ই মানায় যে সন্তানের সঙ্গে | যেদিকে যাওয়া যায় |
|---|---|---|---|
| বিজ্ঞান | পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান আর উচ্চতর গণিত; প্রচুর অঙ্ক আর ব্যবহারিক কাজ | জিনিস কীভাবে কাজ করে তা জানতে ভালোবাসে, অঙ্কে নিয়মিত ভালো, আর ভারী পড়ার চাপ সামলাতে পারে | মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি; পরে ব্যবসা বা মানবিকের অনেক বিষয়েও |
| ব্যবসায় শিক্ষা | হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স, ব্যবস্থাপনা আর মার্কেটিং; নিয়মিত সংখ্যা নিয়ে কাজ | বাস্তব জীবনের হিসাব, টাকাপয়সা, গুছিয়ে কাজ করা বা ব্যবসা ভালো লাগে | ব্যবসা, হিসাববিজ্ঞান, ব্যাংকিং, মার্কেটিং, অর্থনীতি আর নিজের ব্যবসা |
| মানবিক | ইতিহাস, পৌরনীতি, অর্থনীতি, ভূগোল, যুক্তিবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়; প্রচুর পড়া আর লেখা | পড়া, লেখা, বিতর্ক, মানুষ আর সমাজ নিয়ে আগ্রহী | আইন, সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, সমাজবিজ্ঞান, ভাষা, শিল্পকলা আর সরকারি চাকরি |
এসএসসির পর কলেজই একমাত্র পথ নয়। কেউ পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা, কারিগরি বা ভোকেশনাল কোর্স, মাদ্রাসার পথ, বা এ লেভেল বেছে নেয়। প্রতিটার ভর্তির নিয়ম আলাদা, আর প্রতিটা থেকেই ভালো কাজের পথ আছে।
এসএসসির পর কি গ্রুপ বদলানো যায়? সাধারণত যে নিয়ম থাকে
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে গ্রুপ বেছে নিয়ে সেই গ্রুপেই এসএসসি দেয়, আর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রুপের নিয়ম একাধিকবার বদলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর এইচএসসি ভর্তির নিয়মে:
- এসএসসিতে বিজ্ঞান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা সাধারণত বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক, যেকোনোটা বেছে নিতে পেরেছে।
- ব্যবসায় শিক্ষা আর মানবিকের শিক্ষার্থীরা সাধারণত এই দুই গ্রুপের মধ্যে বদলাতে পেরেছে, কিন্তু বিজ্ঞানে যেতে পারেনি।
- কলেজে আসন সাধারণত এসএসসির ফলের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তাই কোন কলেজে কত জিপিএ লাগে, তা কলেজভেদে আলাদা।
- নতুন গ্রুপ মানে নতুন বিষয় একদম শুরু থেকে: যেমন অঙ্কে দুর্বল কেউ ব্যবসায় শিক্ষায় গেলে শুরুতে হিসাববিজ্ঞান কঠিন লাগতে পারে।
নিয়ম, তারিখ আর ন্যূনতম জিপিএ বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে এ বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি আর প্রতিটা কলেজের নোটিশ দেখে নিন।
এসএসসির পর কোন গ্রুপে পড়বে: আগ্রহ, দক্ষতা আর ক্যারিয়ার মিলিয়ে দেখা
দশম শ্রেণির পর কোন বিভাগ নেবে, তা কীভাবে ঠিক করবেন? ভালো সিদ্ধান্ত সাধারণত সেখানেই, যেখানে তিনটা জিনিস মেলে: সন্তান কী ভালোবাসে, কীসে ভালো, আর ভবিষ্যতে কোথায় যেতে চায়। এই ধাপগুলো তিনটাই একসঙ্গে দেখতে সাহায্য করে:
- আগ্রহ দিয়ে শুরু করুন: কোন ক্লাসের জন্য সন্তান অপেক্ষা করে, শখের বশে কী পড়ে বা দেখে, আর কোন ধরনের সমস্যার সমাধান করতে ভালো লাগে, জিজ্ঞেস করুন।
- সময় ধরে দক্ষতা দেখুন: নবম-দশম শ্রেণি জুড়ে অঙ্ক, বিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান বা ভাষার নম্বর একটা পরীক্ষার চেয়ে বেশি বলে, সেটা ভালো হোক বা খারাপ।
- শুধু পেশার নাম নয়, কাজটা খুঁজে দেখুন: ইঞ্জিনিয়ার, হিসাবরক্ষক, আইনজীবী, শিক্ষক বা ডিজাইনার হিসেবে কাজ করেন এমন মানুষের সঙ্গে কথা বলুন, তাঁদের দিন আসলে কেমন কাটে।
- পড়ার চাপ নিয়ে সৎ থাকুন: এইচএসসিতে বিজ্ঞান বেশ খাটুনির, আর অনেক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীকে পরে লম্বা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়। সন্তান পারবে কি না শুধু তা নয়, সে এটা চায় কি না, তাও জিজ্ঞেস করুন।
- প্রতিটা গ্রুপে এখন পড়ছে এমন এইচএসসির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলুন, যেমন বড় কাজিন বা প্রতিবেশী, তাদের স্বাভাবিক একটা সপ্তাহ কেমন যায়।
- একটা বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন: ফল বা কলেজে আসন আশানুরূপ না হলে কী করবেন, আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন।
- একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন, আর শেষ সিদ্ধান্তটা সন্তানকেই মুখে বলতে দিন। যে সিদ্ধান্ত নিজের, তার জন্য সন্তান প্রায়ই বেশি খাটে।
ডাক্তার না ইঞ্জিনিয়ার? সন্তানের পছন্দ ও বাবা-মায়ের ইচ্ছা না মিললে
আমাদের অনেক পরিবারে সন্তান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে, এই স্বপ্ন গভীরে বসানো। ক্যারিয়ার নিয়ে চাপ সাধারণত আসে ভালোবাসা আর নিরাপদ ভবিষ্যতের চাওয়া থেকে, কিন্তু সন্তান বিজ্ঞান নিতে না চাইলে, বা অন্য কারণে নিতে চাইলে, এই ফারাক সপ্তাহের পর সপ্তাহ তর্কে গড়াতে পারে।
- নিজের ভয় আর সন্তানের ভবিষ্যৎ আলাদা করুন: নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আসলে কী নিয়ে চিন্তিত, টাকা, সামাজিক মর্যাদা, নাকি নিরাপদ চাকরি, আর সেটা খোলাখুলি বলুন।
- জেনে রাখুন, চাপের দাম আছে: অপছন্দের গ্রুপে জোর করে পাঠানো সন্তান আগ্রহ হারাতে পারে, দুশ্চিন্তায় ভুগতে পারে, বা চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে কষ্ট পেতে পারে।
- নিরাপদ জীবনের অনেক পথ আছে, মনে রাখুন: হিসাবরক্ষক, আইনজীবী, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যাংকার আর ব্যবসায়ী, সব গ্রুপ থেকেই আসেন।
- একটা ন্যায্য যাচাই ঠিক করুন: সন্তান বিজ্ঞান নিয়ে দ্বিধায় থাকলে একসঙ্গে দেখুন অঙ্ক আর বিজ্ঞানের নম্বর, জীববিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞানে আগ্রহ, আর মেডিকেলের মতো লম্বা পড়াশোনা নিয়ে তার মনোভাব।
- কখনো ভয় দেখাবেন না, লজ্জা দেবেন না, তুলনা করবেন না: “তোমার কাজিন তো বিজ্ঞান পেয়েছে” এ ধরনের কথা সন্তানকে দূরে ঠেলে দেয়। আরও পড়ুন সন্তানকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা লেখায়।
আত্মীয় চাপ দিলে যা বলতে পারেন
- আমরা পরিবারের সবাই মিলে ঠিক করছি, ওর জন্য কোনটা মানাবে সেটাই দেখছি।
- ও খুব ভেবেচিন্তে ঠিক করেছে। ওর ওপর আমাদের ভরসা আছে।
- এখন সব গ্রুপেরই ভালো পথ আছে। ও যেটাই নিক, আমরা পাশে আছি।
সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলবেন যেভাবে
কলেজে ভর্তির আগে সন্তানের সঙ্গে আলোচনা উপদেশ বা রায়ের মতো শোনালে কিশোর-কিশোরীরা প্রায়ই চুপ হয়ে যায়; কেন, তা আছে ১৬–১৮ বছরের সন্তান লেখায়। এই অভ্যাসগুলো সাধারণত কথা চালু রাখে:
- শান্ত একটা সময় বেছে নিন, রেজাল্টের দিন বা তর্কের মাঝখানে নয়: চায়ের সময়, গাড়িতে বা হাঁটতে হাঁটতে কথা বলা প্রায়ই আনুষ্ঠানিক বৈঠকের চেয়ে ভালো কাজ করে।
- খোলা প্রশ্ন করুন, আর বলার চেয়ে বেশি শুনুন। চুপচাপ মুহূর্তগুলো থাকতে দিন; একটু থেমে থাকার পরই সন্তান প্রায়ই আসল কথাটা বলে।
- একসঙ্গে একটা সহজ তালিকা করুন: প্রতিটা গ্রুপ নিয়ে কী ভালো লাগে, কী দুশ্চিন্তা, আর কোথায় নিয়ে যেতে পারে।
- নিজের মত একবার বলুন, পরিষ্কার আর নরম করে, তারপর সন্তানকে উত্তর দিতে দিন। রোজ একই কথা বললে সাধারণত দুই পক্ষই আরও অনড় হয়ে যায়।
- সন্তান একদমই কথা বলতে না চাইলে, আবার কথা শুরু করার উপায় আছে কিশোর সন্তান কথা বলতে না চাইলে লেখায়।
সন্তানকে যা বলতে পারেন
- এটা তোমার ভবিষ্যৎ, তাই তোমার মতটাই সবচেয়ে জরুরি। তুমি কী ভাবছ, আমি বুঝতে চাই।
- কোন ক্লাসগুলো সত্যিই ভালো লাগে, কঠিন হলেও?
- আমি আমার দুশ্চিন্তার কথা খোলাখুলি বলব, তারপর তোমারটা শুনতে চাই।
- তুমি যেটাই বেছে নাও, আমি তোমার পাশে আছি। একটা বিকল্প পরিকল্পনাও একসঙ্গে করে রাখব।
- এখনই নিশ্চিত না হলেও সমস্যা নেই। চলো, এই সপ্তাহে আরও একটু খোঁজ নিই।
আমাদের বাসায়: জিপিএ ৫, কোচিং আর আত্মীয়দের পরামর্শ
এসএসসির পর কোন গ্রুপে পড়বে, আমাদের দেশে এই সিদ্ধান্ত খুব কমই শুধু বাবা-মা আর সন্তানের মধ্যে হয়। অনেক পরিবারের চেনা কয়েকটা চাপ:
- জিপিএ ৫-ই একমাত্র লক্ষ্য: ভালো ফল করা সন্তানকে প্রায়ই বলা হয়, বিজ্ঞানই একমাত্র “সম্মানজনক” পথ। ভালো ফল অনেক দরজা খোলে; কোন দরজা দিয়ে সন্তান হাঁটবে, তা ঠিক করে না।
- আত্মীয় আর প্রতিবেশী: পারিবারিক আড্ডায় ভালো উদ্দেশ্যের পরামর্শ জমে যেতে পারে। আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ দিন, আর সিদ্ধান্তটা নিজেদের বাসার ভেতরেই রাখুন।
- কোচিং সেন্টার আর ভর্তির বিজ্ঞাপন একটা পথকে জরুরি করে তুলতে পারে। যেকোনো বিজ্ঞাপনের আগে সন্তানের আগ্রহ দেখুন।
- মেয়ে আর ছেলে: মেয়েদের অনেক সময় বিজ্ঞান বা বাড়ি থেকে দূরে পড়তে যাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়, আর ছেলেদের ঠেলে দেওয়া হয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে। ছেলে হোক বা মেয়ে, সন্তানের আগ্রহকেই পথ দেখাতে দিন।
- খরচ: এইচএসসিতে বিজ্ঞান নিলে প্রায়ই বাড়তি টিউটর আর ভর্তি কোচিং লাগে। পরিবারের সামর্থ্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন, তবে সন্তানকে বোঝা মনে করাবেন না।
- পরীক্ষার বছরের তাড়াহুড়ো: ফলের কিছুদিন পরেই সাধারণত কলেজে আবেদন শুরু হয়, তাই সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়োয় নিতে হতে পারে। এসএসসি শেষ হওয়ার আগেই কথা শুরু করুন; পরীক্ষার বছরটা নিয়ে আছে এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার্থী সন্তানের পাশে থাকা লেখায়।
একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে ৭ দিনের পরিকল্পনা
এসএসসির পর কোন গ্রুপে পড়বে, তা ঠিক করতে একটা বড় তর্কের চেয়ে এক সপ্তাহের ছোট ছোট ধাপ সাধারণত বেশি কাজে দেয়। প্রতিদিন এক লাইন লিখুন: কী জানলেন, আর সন্তানকে কেমন দেখাল।
- দিন ১: সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন, কোন ক্লাস সবচেয়ে ভালো লাগে আর কোনটা সবচেয়ে কম; আপনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
- দিন ২: নবম-দশম শ্রেণির নম্বর একসঙ্গে দেখুন, বিষয় ধরে ধরে।
- দিন ৩: সন্তানের আগ্রহ আছে এমন তিনটা পেশার তালিকা করুন, আর কোন গ্রুপ থেকে সেখানে যাওয়া যায়।
- দিন ৪: সন্তান এখন এইচএসসিতে পড়ছে এমন একজনের সঙ্গে, বা পছন্দের পেশার কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলুক।
- দিন ৫: গ্রুপ বদলের নিয়মসহ এ বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি একসঙ্গে পড়ুন।
- দিন ৬: নিজের দুশ্চিন্তা একবার, শান্তভাবে বলুন, আর সন্তানেরটা শুনুন।
- দিন ৭: একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন, বিকল্প পরিকল্পনা লিখে রাখুন, আর একমত হওয়ার পরই আত্মীয়দের জানান।
কখন বুঝবেন গ্রুপ বাছাইয়ের চাপে বাড়তি সাহায্য দরকার
এই সময়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা আর কয়েকটা টানটান সন্ধ্যা স্বাভাবিক। নিচের কোনোটি দেখলে ডাক্তার, কাউন্সেলর বা ভরসার কোনো শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন:
এসব দেখলে সাহায্য নিন
- দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা। এমন কথা বললে শান্ত থাকুন, সন্তানের কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
- রেজাল্ট বা গ্রুপ বাছাই ঘিরে সন্তান কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে না বা খাচ্ছে না, বা প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে।
- সিদ্ধান্তের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্তান বন্ধু আর পরিবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে, বা বলছে সে আটকে গেছে।
- গ্রুপ নিয়ে তর্ক ভয় দেখানো, গায়ে হাত তোলা বা বাসায় কারও ভয় পাওয়া পর্যন্ত গড়ালে: তর্ক থামান, সবাইকে নিরাপদ রাখুন আর সেদিনই সাহায্য নিন; কেউ এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
- হঠাৎ বড় পরিবর্তন, যেমন ঘর থেকে বের হতে বা কারও সঙ্গে কথা বলতে না চাওয়া: নরমভাবে জিজ্ঞেস করুন, সে যা বলে বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
১৬ বছর বয়সে সন্তান যে গ্রুপ বেছে নেয়, সেটা লম্বা পথের একটা ধাপ মাত্র, আর তা নিয়ে শান্তভাবেই কথা বলা যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে আর বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে সাহায্য করে, যেমন রেজাল্টের আগে-পরে চাপ: ParentMind কীভাবে কাজ করে।
বাবা-মায়েরা যা জানতে চান
এসএসসির পর কোন গ্রুপ সবচেয়ে ভালো?
সবার জন্য কোনো একটা গ্রুপ সেরা নয়। যারা অঙ্ক আর জিনিস কীভাবে কাজ করে তা ভালোবাসে, আর ভারী পড়ার চাপ সামলাতে পারে, তাদের জন্য বিজ্ঞান; যারা সংখ্যা, টাকাপয়সা আর গুছিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে, তাদের জন্য ব্যবসায় শিক্ষা; আর যারা পড়তে, লিখতে, বিতর্ক করতে ভালোবাসে, তাদের জন্য মানবিক। সেরা গ্রুপ সেটাই, যা সন্তানের আগ্রহ আর নিয়মিত দক্ষতার সঙ্গে মেলে, আর যার পরের পথ নিয়ে বাস্তব একটা পরিকল্পনা আছে।
মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থী কি এইচএসসিতে বিজ্ঞান নিতে পারে?
সাম্প্রতিক বছরগুলোর ভর্তির নিয়মে সাধারণত না। এসএসসিতে বিজ্ঞান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা সাধারণত যেকোনো গ্রুপ বেছে নিতে পেরেছে, আর ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের শিক্ষার্থীরা এই দুইয়ের মধ্যে বদলাতে পেরেছে, কিন্তু বিজ্ঞানে যেতে পারেনি। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তের আগে এ বছরের একাদশ শ্রেণির ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
সন্তান বিজ্ঞান নিতে চায় না, কিন্তু আমরা চাই ডাক্তার হোক, কী করব?
আগে কারণটা শুনুন: পড়ার চাপ, অঙ্কে দুর্বলতা, অন্য কোনো স্বপ্ন, নাকি ব্যর্থ হওয়ার ভয়? নিজের কারণগুলোও খোলাখুলি বলুন, তারপর একসঙ্গে তথ্য দেখুন, যেমন বিজ্ঞানের নম্বর আর জীববিজ্ঞানে আগ্রহ। জোর করে গ্রুপ চাপিয়ে দিলে প্রায়ই উল্টো ফল হয়, আর নিরাপদ, সম্মানজনক অনেক ক্যারিয়ার ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক থেকেও শুরু হয়।
মানবিক নিলে কি সন্তানের ভবিষ্যৎ সীমিত হয়ে যায়?
অনেক পরিবার যতটা ভয় পায়, ততটা নয়। মানবিক থেকে আইন, সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা, সমাজবিজ্ঞান, ভাষা, সরকারি চাকরিসহ আরও অনেক পথে যাওয়া যায়। তবে মেডিকেল আর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো কিছু দরজা বন্ধ হয়, তাই যে সন্তান সত্যিই সেদিকে যেতে চায়, তাকে এটা ভেবে দেখতে হবে। যে পড়তে, লিখতে আর ভাবতে ভালোবাসে, তার জন্য মানবিক প্রায়ই খুব ভালো সিদ্ধান্ত।
এসএসসির পর কলেজ ছাড়া আর কী করা যায়?
কলেজের পাশাপাশি আরও কয়েকটা পথ আছে: পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা, যাতে সাধারণত মোটামুটি চার বছর লাগে, কারিগরি আর ভোকেশনাল কোর্স, মাদ্রাসার পথ, বা কোনো কোনো পরিবারের জন্য এ লেভেল। প্রতিটার ভর্তির নিয়ম আলাদা, আর প্রতিটা থেকেই ভালো কাজ বা আরও পড়াশোনার পথ আছে। সন্তানের আগ্রহ নিয়ে কথা বলুন, আর প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের এখনকার বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
সন্তান ভুল গ্রুপ বেছে নিলে কী হবে?
এতে খুব কমই পথ শেষ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিষয়ে একাধিক গ্রুপের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে, আর অনেকেই এইচএসসির পর, এমনকি স্নাতকের পরও দিক বদলান। প্রথম টার্মে সন্তান অখুশি থাকলে খুঁজে দেখুন কোনটা কঠিন লাগছে, দুর্বল বিষয়ে বাড়তি সাহায্য দিন, আর তাড়াতাড়ি কলেজের সঙ্গে কথা বলুন। নম্বরের পাশাপাশি তার মনের অবস্থাও খেয়াল করুন।
এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।





