মূল কনটেন্টে যান

সন্তান অন্যকে বুলি করলে কী করবেন: কী বলবেন, কীভাবে শোধরাবেন, স্কুলের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবেন

ছোট করে উত্তর

সন্তান অন্যকে বুলি করলে কী করবেন? কথাটা শোনা কঠিন, কিন্তু প্রথম ধাপগুলো পরিষ্কার: শান্ত থাকুন, স্কুল থেকে তথ্য জেনে নিন, আর লজ্জা না দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। পরিষ্কার বলুন এটা বন্ধ করতে হবে, ক্ষতি পোষাতে সাহায্য করুন, আর পেছনের কারণ খুঁজুন: দেখে শেখা, দলে মেশা, রাগ, বা নিজেই বুলিংয়ের শিকার হওয়া। কয়েক সপ্তাহেও না থামলে সাহায্য নিন।

ParentMind টিমের লেখা১২ মিনিটের পড়া

লেখাটি শুনুন

১৫ মিনিট শোনার · আপনার ডিভাইসের কণ্ঠে পড়া

এক নজরে

কাদের জন্য
৬–১৬ বছর বয়সী সন্তানের বাবা-মা, যাঁরা জেনেছেন বা সন্দেহ করছেন যে সন্তান স্কুলে, কোচিংয়ে বা অনলাইনে অন্যকে খেপায়, কষ্ট দেয়, দল থেকে বাদ দেয় বা কাউকে নিশানা বানায়
মূল কথা
  • বুলিং হলো কম ক্ষমতার কাউকে ইচ্ছা করে বারবার কষ্ট দেওয়া; যে বাচ্চা বুলি করে, তার দরকার শক্ত সীমা আর সাহায্য, কোনো তকমা নয়।
  • শান্ত থাকুন, আগে তথ্য জানুন, তারপর নিরিবিলি সময়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন; তার কথা শুনুন, কিন্তু অজুহাত মেনে নেবেন না।
  • শাস্তির চেয়ে ক্ষতি পোষানো বেশি জরুরি: আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া, জিনিস ফেরত দেওয়া বা বদলে দেওয়া, আর অনলাইনে করা ক্ষতি মুছে ফেলা।
  • আপনি আর স্কুল ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ বুলিং চললে, বা এর সঙ্গে মারামারি, নিষ্ঠুরতা বা সন্তানের নিজের কষ্টের লক্ষণ থাকলে সাহায্য নিন।

সন্তান অন্যকে বুলি করলে কী করবেন, এই প্রশ্নের সামনে কোনো বাবা-মা-ই দাঁড়াতে চান না। খবরটা হয়তো আসে ক্লাস টিচারের ফোনে, অন্য কোনো অভিভাবকের মেসেজে, বা ক্লাসের গ্রুপ চ্যাটের একটা স্ক্রিনশটে। প্রথমে ধাক্কা লাগতে পারে, স্কুলের ওপর রাগ হতে পারে, বা লজ্জা লাগতে পারে।

যে বাচ্চারা বুলি করে, তারা খারাপ বাচ্চা নয়। বুলিং একটা আচরণ, আর বাসা ও স্কুলের বড়রা শান্তভাবে, দৃঢ়ভাবে, একসঙ্গে সামলালে বেশিরভাগ বাচ্চা তা বদলাতে পারে। প্রথম মুহূর্তের চেয়ে পরের কয়েক দিনে আপনি কী করেন, সেটাই বেশি জরুরি।

নিচে পাবেন: কোন বয়সে বুলিং কেমন দেখায়, বাচ্চারা কেন বুলি করে, প্রথমে কী করবেন আর কী বলবেন, স্কুলের সঙ্গে কাজ, ক্ষতি পোষানো, অনলাইন বুলিং, বাসায় সহমর্মিতা শেখানো, ৭ দিনের পরিকল্পনা আর কখন বাড়তি সাহায্য নেবেন।

আমার সন্তান কি বুলি করছে? ৬ থেকে ১৬ বছরে বুলিং কেমন দেখায়

সন্তান বুলি করছে, এই সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে দেখে নিন আসলে কী ঘটেছে। বুলিং হলো এমন কষ্ট দেওয়া আচরণ, যা ইচ্ছা করে, বারবার, কম ক্ষমতার কাউকে লক্ষ্য করে করা হয়। একবারের মারামারি বুলিং নয়, কিন্তু একই বাচ্চাকে বারবার খেপানো, কষ্ট দেওয়া বা দল থেকে বাদ দেওয়া বুলিং, সন্তান একে মজা বললেও।

কোন বয়সে বাচ্চার বুলি করা সাধারণত কেমন দেখায়, আর কী কাজে দেয়
বয়সসাধারণত যেমন দেখা যায়যা কাজে দেয়
৬–৮ বছরধাক্কা দেওয়া, টিফিন বা খেলনা কেড়ে নেওয়া, বাজে নামে ডাকা, “তোকে খেলায় নেব না”স্পষ্ট নিয়ম, ভালো কথা বলার অনুশীলন, টিফিনের সময় কাছাকাছি একজন বড় মানুষ
৯–১২ বছরচেহারা বা কথার টান নিয়ে হাসাহাসি, গুজব ছড়ানো, একজনকে দল থেকে বাদ দেওয়া, প্রথম বাজে মেসেজঅন্য বাচ্চাটার কেমন লেগেছে তা নিয়ে কথা, ক্ষতি পোষানো, দলে কার কথায় চলছে তা খেয়াল করা
১৩–১৬ বছরগ্রুপ চ্যাট, এডিট করা ছবি, হুমকি, ছোটদের র‍্যাগিং, যৌন ইঙ্গিতের মন্তব্যশক্ত সীমা, ফোনের নিয়ম, অনলাইনেও ক্ষতি পোষানো, আর স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

জড়িত হতে দলের নেতা হতে হয় না: সঙ্গে হাসা বা নিষ্ঠুর পোস্ট শেয়ার করাও কষ্ট বাড়ায়। আপনার সন্তান নিজেই বুলিংয়ের শিকার হলে পড়ুন শিশু স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হলে কী করবেন।

বাচ্চা কেন অন্যকে কষ্ট দেয়, বুলি করে?

যে বাচ্চা বুলি করে, তার কাছে সাধারণত এর একটা কারণ থাকে, আচরণটা ভুল হলেও। কারণটা খুঁজে পেলে শুধু আচরণ নয়, মূল জায়গাটাতেও কাজ করা যায়:

  • দলে মেশা: এক বাচ্চাকে নিয়ে মজা করা দলে যোগ দেওয়াটা নিজে নিশানা হওয়ার চেয়ে নিরাপদ মনে হতে পারে।
  • দেখে শেখা: বড় কাজিন, ভাইবোন, বড়রা, বা এমন ভিডিও যেখানে নিষ্ঠুরতাকে মজার দেখানো হয়, বাচ্চারা তা থেকেই শেখে।
  • নিজেই বুলিংয়ের শিকার: কেউ কেউ স্কুলে, কোচিংয়ে বা বাসায় নিজের সঙ্গে যা ঘটছে, তা-ই অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়।
  • বড় অনুভূতি: রাগ, হিংসা, পরীক্ষার চাপ বা বাসার ঝামেলা দুর্বল কোনো বাচ্চার ওপর গিয়ে পড়তে পারে; পড়ুন শিশুর রাগ কমানোর উপায়।
  • ক্ষমতা আর মনোযোগ: বুলি করে চট করে শক্তিশালী দেখানো বা নজর কাড়া যায় বলে মনে হতে পারে।
  • সহমর্মিতা এখনো তৈরি হচ্ছে: কিছু বাচ্চা সত্যিই থেমে ভাবেনি অন্যজনের কেমন লাগছে।

এর কোনোটাই আচরণটাকে ঠিক বানায় না, তবে প্রতিটি কারণ দেখিয়ে দেয় কোন ধরনের সাহায্য কাজে দিতে পারে।

সন্তান অন্যকে বুলি করলে কী করবেন: প্রথম কয়েক দিনের ধাপ

প্রথম কয়েক দিনে আপনার প্রতিক্রিয়াই সবচেয়ে জরুরি। এই ধাপগুলো ক্রমানুসারে চেষ্টা করুন:

  1. যিনি জানালেন, তাঁর সঙ্গে শান্ত থাকুন। ধন্যবাদ দিন, পুরো কথা শুনুন, আর সেখানেই তর্ক করবেন না বা সন্তানের পক্ষ নেবেন না।
  2. তথ্য জেনে নিন: কী ঘটেছে, কতবার, কবে থেকে, কে কে জড়িত, আর অন্য বাচ্চাটা এখন কেমন আছে।
  3. শান্ত কোনো সময়ে সন্তানের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলুন। তার দিকের কথা জানতে চান, আর মাঝখানে না থামিয়ে শুনুন, কিছু অংশে সন্দেহ হলেও।
  4. পরিষ্কার করে বলুন: “যা হয়েছে, সেটা বুলিং, আর এটা এখনই বন্ধ।” “ও তো মজা ছিল” বলে কথা শেষ করতে দেবেন না।
  5. অন্যজনের দিকটা দেখতে সাহায্য করুন: “সবাই যখন হাসছিল, ওর কেমন লেগেছিল বলে তোমার মনে হয়?”
  6. ক্ষতি পোষানোর একটা উপায় আর ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে ছোট একটা ব্যবস্থা ঠিক করুন, যেমন অনলাইনে বুলিং হলে কিছুদিন ফোনের সময় কমানো।
  7. সন্তানকে জানান এরপর কী হবে: আপনি স্কুলের সঙ্গে কথা বলবেন, আর কিছুদিন রোজ খোঁজ নেবেন।

সন্তানকে যা বলতে পারেন

  • আমি তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু যা হয়েছে সেটা ঠিক হয়নি।
  • শুরু থেকে বলো কী হয়েছিল। আমি শুনছি।
  • তোমার কাছে হয়তো মজা মনে হয়েছে। ওর কাছে কিন্তু মজা ছিল না।
  • বুলি করা এখন থেকেই বন্ধ। চলো, কীভাবে ঠিক করা যায় ভাবি।
  • কেউ যদি তোমাকে এসবে টানে, আমাকে বলতে পারো। বললে তোমাকে বকব না।
  • আমি জানি তুমি ভালো ব্যবহার করতে পারো। আমি নিজে দেখেছি।

সন্তানকে মারবেন না, চিৎকার করবেন না, লজ্জাও দেবেন না, বিশেষ করে অন্যদের সামনে। শারীরিক শাস্তি সাধারণত শেখায় যে শক্তিশালী মানুষই জেতে, আর আপনি ঠিক এই শিক্ষাটাই বদলাতে চান; পড়ুন না মেরে শাসন করার উপায়।

স্কুলে সহপাঠীকে মারে বা খেপায়? স্কুলের সঙ্গে কাজ করবেন যেভাবে

স্কুলের সঙ্গে মিলে কাজ করাই সাধারণত বুলিং থামানোর সবচেয়ে দ্রুত পথ, কারণ বেশিরভাগ বুলিং হয় বাবা-মায়ের চোখের আড়ালে: টিফিনের সময়, স্কুলভ্যানে, বারান্দায়, কোচিংয়ে।

  1. শোনার মন নিয়ে মিটিংয়ে যান, পক্ষ নেওয়ার জন্য নয়। শিক্ষকেরা কী দেখেছেন, জানতে চান।
  2. বাসায় যা জেনেছেন তা বলুন, পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে মনে হলে সেটাও।
  3. জিজ্ঞেস করুন অন্য বাচ্চাটাকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হচ্ছে, আর আপনার সন্তানকে স্কুল কী সাহায্য দিতে পারে, যেমন বসার জায়গা বদলানো বা একজন শিক্ষক যিনি নিয়মিত খোঁজ নেবেন।
  4. বাসা আর স্কুলের জন্য একটাই পরিকল্পনা ঠিক করুন, আর মোটামুটি এক সপ্তাহ পর আবার কথা বলার দিন।
  5. বিষয়টা গোপন রাখুন: অন্য পরিবারের সঙ্গে স্কুলের মাধ্যমেই কথা বলুন, যদি না তাঁদের ভালো করে চেনেন আর দুই পরিবারই শান্ত থাকে।

শিক্ষককে যা বলতে পারেন

  • জানানোর জন্য ধন্যবাদ। বিষয়টা মেটাতে আমি সাহায্য করতে চাই।
  • আপনি কী কী দেখেছেন, কতবার, একটু বলবেন?
  • চলুন একটা পরিকল্পনা ঠিক করি, আর আগামী সপ্তাহে আবার কথা বলি।

ক্ষতি পোষাতে সন্তানকে সাহায্য করবেন যেভাবে

শাস্তির চেয়ে ক্ষতি পোষানো বেশি শেখায়, কারণ এতে সন্তান পরিস্থিতি ভালো করতে সত্যিকারের কিছু করে। এতে অন্য বাচ্চাটাও বেশি নিরাপদ বোধ করে।

  • আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া, যখন সন্তান বোঝে সে কী করেছে। শিক্ষকের মাধ্যমে ছোট একটা চিঠি বা নিরিবিলিতে দুটো কথা সাধারণত ক্লাসের সবার সামনে জোর করে সরি বলানোর চেয়ে ভালো।
  • নেওয়া বা ভাঙা জিনিস ফেরত দেওয়া বা বদলে দেওয়া, পারলে হাতখরচ থেকে।
  • অনলাইনের ক্ষতি মোছা: পোস্ট আর ছবি মুছে ফেলা, আর অন্য বাচ্চা ও স্কুল রাজি থাকলে একই গ্রুপে একটা ভালো মেসেজ।
  • পরের কয়েক সপ্তাহে কোনো ভালো কাজ, যেমন যাকে বাদ দিয়েছিল তাকে খেলায় নেওয়া, বা ক্লাসে সাহায্য করা।
  • বাসায় যত ভালো আচরণ দেখেন, আর স্কুল থেকে যা শোনেন, প্রতিটার প্রশংসা করা।

অনলাইন বুলিং: যখন আপনার সন্তানই পোস্ট করছে

বাচ্চার অনলাইন বুলিং হতে পারে ক্লাসের গ্রুপ চ্যাটে হাসাহাসির মেসেজ, এডিট করা ছবি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বা গেমে দল বেঁধে কাউকে আক্রমণ। এটা খুব দ্রুত ছড়ায় আর মোছা কঠিন, তাই দেরি না করে ব্যবস্থা নিন।

  • সন্তানের পাশে বসে একসঙ্গে পোস্ট, ছবি বা মেসেজগুলো মুছে ফেলুন।
  • কিছুদিনের জন্য ফোনের নিয়ম ঠিক করুন: রাতে ফোন শোবার ঘরের বাইরে, আর গ্রুপ চ্যাট নিয়ে নিয়মিত কথা।
  • অনলাইনের কথা অন্যের কাছে কেমন লাগে, তা নিয়ে আলাপ করুন: সেখানে গলার স্বর নেই, মুখ নেই, আর স্ক্রিনশট থেকে যায়।
  • সন্তান যদি অন্য কোনো বাচ্চার একান্ত বা আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে থাকে বা ছড়ানোর হুমকি দিয়ে থাকে, শান্ত থাকুন, কিন্তু বিষয়টা গুরুতর: যেখানে যেখানে পাঠানো হয়েছে, সব জায়গা থেকে ছবিটা মুছে ফেলা নিশ্চিত করুন, নিজে কখনো কপি বা ফরোয়ার্ড করবেন না, আর সেদিনই স্কুলকে জানান, যাতে অন্য বাচ্চার পরিবারকে জানানো যায়। নিজের সন্তানের জন্যও সাহায্য নিন। কোনো বড় মানুষ ছবিটা চেয়ে থাকলে, তুলে থাকলে বা ছড়িয়ে থাকলে সেদিনই স্থানীয় থানায় জানান; কেউ এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • সেটিংস আর পরিবারের নিয়মের জন্য পড়ুন অনলাইন নিরাপত্তা আর সাইবার বুলিং।

আমাদের বাসায়: বাচ্চারা কী দেখে শেখে, আর সহমর্মিতা শেখানো

মানুষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয়, বাচ্চারা তা বেশিরভাগই শেখে বাসায়, দেখে দেখে। আমাদের পরিবারে খুব চেনা কিছু অভ্যাস একবার নরমভাবে ভেবে দেখার মতো:

  • চেহারা নিয়ে ডাকনাম: “কালো”, “মোটা”, “বাট্টু” বলে আদর করে ডাকলেও বাচ্চা শেখে, চেহারা নিয়ে খেপানো চলে।
  • “ছেলেরা তো এমনই”: মুরুব্বিরা অনেক সময় ছেলেদের রুক্ষ আচরণ হেসে উড়িয়ে দেন। ছেলে আর মেয়ে, দুজনের কাছেই ভালো ব্যবহারের একই প্রত্যাশা রাখুন।
  • বড়রা অন্যদের সঙ্গে কেমন কথা বলেন: গৃহকর্মী, ড্রাইভার বা দোকানদারের সঙ্গে আমরা কীভাবে কথা বলি, বাচ্চারা খেয়াল করে। সম্মান দিয়ে কথা বললে বাচ্চাও সম্মান শেখে।
  • ভাইবোন আর কাজিন: পারিবারিক অনুষ্ঠানে বড় কাজিন বা ভাইবোন ছোটজনকে বারবার খেপালে সেটাও বুলিং; আত্মীয়দের সামনেও নরমভাবে থামান।
  • তুলনা: নম্বর বা চেহারা নিয়ে কাজিন বা সহপাঠীর সঙ্গে সারাক্ষণ তুলনা করলে কিছু বাচ্চা নিজেকে বড় দেখাতে অন্যকে ছোট করে।
  • সহমর্মিতা শেখানো: খাবার টেবিলে গল্প, নাটক বা দিনের ঘটনা নিয়ে জিজ্ঞেস করুন, “ওর কেমন লেগেছিল বলে তোমার মনে হয়?”, আর নিজের অনুভূতিও সহজ কথায় বলুন।

স্কুল থেকে ফোন আসার পর ৭ দিনের পরিকল্পনা

প্রতি সন্ধ্যার ছোট একটা নোট দেখিয়ে দেয় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে কি না। এক লাইন লিখুন: স্কুল থেকে কোনো খবর, সন্তান কী বলল, কোন ভালো কাজটা চোখে পড়ল, আর সন্তানকে কেমন লাগল।

  1. দিন ১: শান্ত থাকুন, স্কুলের কথা শুনুন, তথ্য জেনে নিন। নিরিবিলি সময়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন।
  2. দিন ২: সন্তানের সঙ্গে মিলে ঠিক করুন কীভাবে সে ক্ষতি পোষাবে, আর কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  3. দিন ৩: ক্লাস টিচারের সঙ্গে দেখা করুন, একটা পরিকল্পনা আর আবার খোঁজ নেওয়ার দিন ঠিক করুন।
  4. দিন ৪: কিছু অনলাইনে ঘটে থাকলে একসঙ্গে ফোন আর গ্রুপ চ্যাট দেখে নিন।
  5. দিন ৫: সহমর্মিতা বাড়াতে একটা কিছু করুন: একটা গল্প, অনুভূতি নিয়ে আলাপ, বা একটা ভালো কাজের পরিকল্পনা।
  6. দিন ৬: স্কুল কেমন গেল জিজ্ঞেস করুন, আর একটা ভালো কাজ খেয়াল করে মুখে বলুন।
  7. দিন ৭: দিন ১-এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন, আর শিক্ষকের কাছে খোঁজ নিন। যা কাজে দিল, চালিয়ে যান; কিছুই না বদলালে স্কুলের কাছে বাড়তি সাহায্য চান।

সন্তান বুলিং করছে: কখন বাড়তি সাহায্য নেবেন?

বাসা আর স্কুল একসঙ্গে ব্যবস্থা নিলে, আর পেছনের কারণেও সাহায্য পেলে, বেশিরভাগ বাচ্চা বদলায়। কয়েক সপ্তাহ পরও বুলিং চললে, বা এই লক্ষণগুলো দেখেন, বাচ্চার ডাক্তার, স্কুলের কাউন্সেলর বা শিশু-মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কথা বলুন:

এসব দেখলে সাহায্য নিন

  • আপনি আর স্কুল ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে বুলিং চলছে, বা নতুন কাউকে নিশানা করছে।
  • মানুষ বা পশুপাখির প্রতি প্রায়ই নিষ্ঠুর, বা কাউকে কষ্ট দিয়েও একটুও খারাপ লাগে না বলে মনে হয়।
  • মারাত্মক আঘাত, অস্ত্র, কাউকে মারার হুমকি, বা জোর করে টাকা নেওয়া: সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর কেউ এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • সন্তান নিজেও হয়তো অন্যদের হাতে বুলিং, আঘাত বা চাপের শিকার, বা হঠাৎ কোনো মানুষ বা জায়গাকে ভয় পাচ্ছে: বিশ্বাস করুন, সেদিনই ব্যবস্থা নিন, আর এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।
  • বেশিরভাগ দিন রাগ, দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে বেশির ভাগ দিন মন খারাপ, বা বেঁচে থাকতে না চাওয়া বা নিজের ক্ষতি করার কোনো কথা। এমন কথা বললে শান্ত থাকুন, বাচ্চার কাছাকাছি থাকুন: এই মুহূর্তে বিপদ থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন; নইলে সেদিনই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।
  • রাগের মাথায় সন্তানকে মেরে বসতে পারেন বলে ভয় হয়, বা নিজেকে আর সামলাতে পারছেন না: আজই ভরসার কারও বা ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন, আর কেউ এই মুহূর্তে বিপদে থাকলে ৯৯৯-এ ফোন করুন।

বুলিংয়ের পর বদল সাধারণত আসে ধাপে ধাপে, আর ধাপগুলো সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। ParentMind আপনাকে প্রতিদিন কী হলো তা নোট করতে, বারবার যা হচ্ছে তা দেখতে আর গাইড পেতে সাহায্য করে: ParentMind কীভাবে কাজ করে।

বাবা-মায়েরা যা জানতে চান

বুলি করে মানে কি আমার সন্তান খারাপ মানুষ?

না। বুলিং একটা আচরণ, আপনার সন্তানের পরিচয় নয়। অনেক বাচ্চা কোনো না কোনো সময় বুলি করে, প্রায়ই দলে মিশতে, অন্যদের দেখে, বা মনের চাপ থেকে, আর বড়রা স্পষ্ট সীমা দিলে ও ক্ষতি পোষাতে সাহায্য করলে বেশিরভাগই বদলায়। বাসায় “বুলি” তকমা দেবেন না; সে কী করেছে আর এরপর কী আলাদা করবে, তা নিয়ে কথা বলুন।

বুলি করলে সন্তানকে কি শাস্তি দেব?

হ্যাঁ, ঘটনার সঙ্গে মিল আছে এমন শান্ত, ন্যায্য একটা ব্যবস্থা নিন, তবে মারধর বা লজ্জা নয়। অনলাইনে বুলিংয়ের পর কিছুদিন ফোনের সময় কমানো, বা ভাঙা জিনিসের দাম দেওয়া যুক্তিসংগত। সঙ্গে রাখুন ক্ষতি পোষানো আর পেছনের কারণে সাহায্য। কঠোর শাস্তি সাধারণত শেখায় শক্তিশালী মানুষই জেতে, আপনি যা চান তার ঠিক উল্টো।

যাকে বুলি করেছে, তার কাছে কি সন্তানকে ক্ষমা চাইতে বলব?

হ্যাঁ, যখন সে বুঝবে কী করেছে। আন্তরিক ক্ষমা চাওয়ায় থাকে কী কষ্ট দিয়েছে আর এরপর কী আলাদা করবে। কথাগুলো একসঙ্গে ঠিক করুন, আর সময়টা শিক্ষককে বেছে নিতে দিন। ক্লাসের সবার সামনে জোর করে বলানো সরি দুই বাচ্চাকেই লজ্জায় ফেলতে পারে; তার চেয়ে ছোট একটা চিঠি বা নিরিবিলিতে দুটো কথা প্রায়ই বেশি কাজে দেয়।

সন্তান অন্যকে নিয়ে হাসাহাসি করে, বলে “মজা করছিলাম”, তখন কী বলব?

মজা তখনই মজা, যখন সবাই হাসে, যাকে নিয়ে মজা সে-ও। জিজ্ঞেস করুন: “ও কি হেসেছিল? ও কি থামতে বলেছিল?” বুঝিয়ে বলুন, যে খেপানো চলতেই থাকে বা কষ্ট দেয়, তাকে যে নামেই ডাকা হোক, সেটা বুলিং। ঠিক করে নিন মজা কখনো কী নিয়ে হবে না: চেহারা, পরিবার, ধর্ম, বা এমন কিছু যা কেউ বদলাতে পারে না।

যাকে বুলি করেছে, তার বাবা-মায়ের কাছে কি নিজে ক্ষমা চাইব?

তাঁদের চিনলে আর দুই পরিবারই শান্ত থাকলে এটা কাজে দিতে পারে, তবে আগে স্কুলের মাধ্যমে এগোন। ছোট, আন্তরিক একটা মেসেজ, যেমন “আমার ছেলে যা করেছে, তার জন্য দুঃখিত; বাসায় আমরা এ নিয়ে কাজ করছি”, পরিস্থিতি সহজ করতে পারে। লম্বা ব্যাখ্যা দেবেন না, তাঁদের বাচ্চাকে দোষ দেবেন না, আর কোনো মিটিং হলে তা স্কুলকেই সামলাতে দিন।

সন্তান ছোট ভাই বা বোনকে বারবার কষ্ট দেয়, এটাও কি বুলিং?

হতে পারে। ভাইবোনের ঝগড়া স্বাভাবিক, কিন্তু একজন যখন একই ভাই বা বোনকে বারবার আঘাত করে, হাসাহাসি করে বা ভয় দেখায়, আর ছোটজন থামাতে পারে না, তখন একে বুলিং ধরেই এগোন: প্রতিবার থামান, ছোটজনকে নিরাপদ রাখুন, আর ক্ষতি পোষাতে শেখান। রোজকার ঝগড়ার জন্য পড়ুন ভাইবোনের ঝগড়া।

বাচ্চার মধ্যে সহমর্মিতা শেখানো যায় কীভাবে?

প্রতিদিন অনুভূতি নিয়ে কথা বলুন: আপনার নিজের, গল্প বা নাটকের চরিত্রের, আর বাস্তবের মানুষের। জিজ্ঞেস করুন “ওর কেমন লেগেছিল বলে তোমার মনে হয়?”, আর মন দিয়ে শুনুন। ভালো ব্যবহার চোখে পড়লে প্রশংসা করুন। বড়রা গৃহকর্মী, ড্রাইভার বা দোকানদারসহ অন্যদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন, বাচ্চারা তা থেকেও শেখে।

এই লেখাটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন; কেউ বিপদে থাকলে স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন।

স্কুলপড়ুয়া (৬–৯ বছর): আরও গাইড

স্কুলপড়ুয়া: সব গাইড

নিজের সন্তানের সাথে চেষ্টা করে দেখুন

ParentMind প্রতিদিনের একটি ছোট নোট রাখে আর দেখায় — আপনার সন্তানের নিজের সংখ্যায় — একটি পরিবর্তন কাজে লাগছে কি না।

বিনামূল্যে নাম লিখুন। ক্রেডিট কার্ড লাগবে না। আপনার তথ্য গোপন থাকবে।